-
মেহেদী মারুফ and
বিষণ্ন সুমন are now friends
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় চৌদ্দ)
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের নির্মাণস্থলে বিস্ফোরণের পর কয়েকটা দিন যেন অস্বাভাবিক ধীর গতিতে কাটল। পাহাড়ের বুকের যে জায়গাটায় কয়েক সপ্তাহ আগেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেশিনের শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন বেশিরভাগ সময় জুড়ে থাকে এক ধরনের ভারী নীরবতা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া কাঠামোর ওপর বৃষ্টির পানি জমে আছে, কোথাও ভাঙা কংক্রি…Read More3 Comments -
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় তেরো)
পরদিন সকাল থেকে মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের নির্মাণস্থলে অস্বাভাবিক ব্যস্ততা দেখা গেল। আগের রাতের ঘটনার পরও কোম্পানি কাজ বন্ধ রাখেনি, বরং যেন আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। সকালবেলার কুয়াশা পুরোপুরি কাটার আগেই মেশিনের শব্দ পাহাড়ের বুক কাঁপাতে শুরু করল। এক্সকাভেটরের লোহার দাঁত লালচে পাহাড়ি মাটির ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। ট্রাক একে…Read More3 Comments-
পাহাড়ের গহীন নির্জনতা আর রেজোয়ানের সুনিপুণ কৌশলের মিশেলে লেখা এই অধ্যায়টি টানটান উত্তেজনায় ভরপুর, বিশেষ করে রাতের নিস্তব্ধতায় কমান্ডোর সেই সতর্ক পদচারণার বর্ণনাটি পাঠকের মনে এক গভীর আবহ তৈরি করে। আপনার লেখনীতে পরিবেশের বর্ণনা যেভাবে ফুটে উঠেছে তা অত্যন্ত সজীব, তাই আপনি যদি রেজোয়ানের ভেতরের দ্বিধা বা তার অতীত জীবনের কোনো বিশেষ মুহূর্তের ক…Read More
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় বারো)
ভোর হওয়ার আগেই মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের নির্মাণস্থলে যে নীরবতা নেমে এসেছিল, তার মধ্যে পরাজয়ের একটা গন্ধ জুড়ে ছিল। আগের রাতের লোকগুলো কেউ ভালো করে ঘুমায়নি। কারও হাঁটুতে ব্যান্ডেজ, কারও কপালে শুকনো রক্তের দাগ, কারও চোখে রাতভর আতঙ্কের ছবি। অথচ সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার মেশিনের শব্দ জেগে উঠল। যেন কিছুই ঘ…Read More4 Comments -
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় এগারো)
বিকেলের শেষ দিকে মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের নতুন কাটা রাস্তা দিয়ে একটার পর একটা গাড়ি উঠতে দেখে শ্রমিকদের অনেকেই কাজ থামিয়ে তাকিয়েছিল। প্রথমে একটা কালো মাইক্রোবাস, তার পেছনে দুটো পিকআপ, সবশেষে আরেকটা জিপ। গাড়িগুলোর গায়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেই, ভেতরে বসে থাকা লোকগুলোকেও নির্মাণকাজের মানুষ বলে মনে হলো…Read More3 Comments-
বিষণ্ন সুমন, রহস্যময় পরিবেশ ও অভিজ্ঞ মানুষের নিপুণ কৌশলের বর্ণনা আপনার লেখায় দারুণ ফুটে উঠেছে, যা আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের গভীরে ধরে রেখেছে। আপনার লেখনীতে অরণ্যের ভয়ের আমেজ আর টানটান উত্তেজনা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো, আপনি আপনার এই সৃজনশীল যাত্রা চালিয়ে যান।
আপনি যদি সময় করে এই প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য লেখকদের কাজেও নিয়মিত ইত…Read More
-
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় দশ)
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের পাহাড়ি প্রকল্পে এবার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াল ভয়। প্রথম দিকে কয়েকজন পাহারাদার আহত হয়েছিল। দু-একজন পথ হারিয়েছিল। তারপর একজন রেজোয়ানকে চোখের সামনে দেখেও পর মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখেছিল। এসব ঘটনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে হয়ত কানাঘুষা ছিল, কিন্তু তারপরেও কাজ চলছিল। এখন আর সেই অবস্…Read More3 Comments-
আপনার এই সাবলীল বর্ণনাটি রহস্য এবং রোমাঞ্চের এক চমৎকার আবহ তৈরি করেছে, যা পাঠককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম। পাহাড়ের নীরবতা ও মানুষের মনে জমে থাকা ভয়ের এমন সূক্ষ্ম চিত্রায়ন সত্যই প্রশংসনীয়, যা অনেকটা রহস্যধর্মী উপন্যাস বা টানটান উত্তেজনার গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনি আরও লিখতে থাকুন, আপনার পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
-
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় নয়)
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের মালিক শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিলেন, ভয় দেখিয়ে শ্রমিক ধরে রাখা যাবে না। একদল চলে গেছে, আরেকদল যাওয়ার কথা ভাবছে। এদিকে রাতের পাহারায় আর লোক পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পাহাড়ের কাজ থামিয়ে রাখার মতো অবস্থাও নেই। তার ওপর প্রতিদিনের বিল, মেশিনের খরচ, রাস্তার কাজ, মালামাল আনা, শ্রমিকের মজুরি, সব মিলিয়ে…Read More4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনার অরণ্যের গহীন রহস্য আর রেজোয়ানের শান্ত ব্যক্তিত্বের যে বুনন আপনি তৈরি করেছেন, তা সত্যিই খুব আকর্ষণীয় এবং পাঠককে ধরে রাখার মতো একটি কাজ হয়েছে। পাহাড়ের প্রতিটা বাঁকে যে অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তা আপনি খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা গল্পটিকে একটি অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আপনি আপনার এই চমৎকার লেখনী চালিয়ে যান, আমরা আপনার পরবর্তী…Read More
-
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় আট)
শ্রমিকেরা একে একে চলে যাওয়ার পর মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের কাজ যেন হঠাৎ করেই ধীর হয়ে গেল। দিনের আলোয় বাইরে থেকে দেখলে অবশ্য তেমন কিছু বোঝার উপায় ছিল না। পাহাড়ের গায়ে মাটি কাটার মেশিন দাঁড়িয়ে আছে। নতুন রাস্তার পাশে বাঁশের খুঁটি পড়ে আছে। কাঠ আর পাথরের স্তূপ আগের জায়গাতেই আছে। অস্থায়ী শেডগুলোর চুলা থেকে ধোঁয়া উঠ…Read More4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনি অত্যন্ত নিপুণভাবে পাহাড়ের রহস্যময় পরিবেশ ও মানুষের মনের ভয়কে এই লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। রেজোয়ানের নিঃশব্দ উপস্থিতি এবং পাহারাদারদের সেই অস্থিরতার বর্ণনাগুলো পড়ার সময় চোখের সামনে যেন সিনেমার দৃশ্য ভেসে উঠছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, আপনার সাবলীল শব্দচয়ন পাঠকদের মনে এক দারুণ কৌতুহল তৈরি করে রাখবে।
-
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় সাত)
রাতের পর রাত কেটে যাচ্ছিল, আর মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের লোকজন ধীরে ধীরে একটা অস্বস্তিকর অবস্থার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠছিল। দিনের পাহাড় আর রাতের পাহাড় এক থাকলো না। সূর্য ওঠার পর যে ঢালটা সাধারণ একটা রাস্তা, দুপুরে যার ওপর দিয়ে শ্রমিকেরা হাসতে হাসতে ওঠানামা করে, সন্ধ্যা নামার পর সেই একই ঢাল অন্ধকারের মধ্যে…Read More6 Comments-
আপনার লেখনীতে রাতের পাহাড়ের রহস্যময় পরিবেশটি এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে “অন্ধকারের মধ্যে তারা যতটা দেখতে পাচ্ছিল, তার চেয়ে বেশি বরং দেখতে পাচ্ছিল না”—এই বাক্যটির মাধ্যমে আপনি ভয় ও অনিশ্চয়তার যে নিখুঁত আবহ তৈরি করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। আপনার গল্পের এই টানটান উত্তেজনাময় যাত্রায় চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েন এবং অরণ্যের প্রতি তাদের ভয়ের রূপান্তর বে…Read More
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় ছয়)
রিসোর্টে প্রথম ঘটনার পরের সকালটা অস্বাভাবিক নীরব ছিল। মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের নির্মাণ এলাকায় প্রতিদিন সকাল হলেই যে হৈচৈ শুরু হতো, সেদিনও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল না। শ্রমিকেরা ঘুম থেকে উঠে চা-সিগারেট খাবে, কেউ বাঁশ কাঁধে নিয়ে বের হবে, কেউ মাটি কাটার জায়গায় যাবে, মেশিনের ইঞ্জিন গর্জে উঠবে, ট্রাকের চ…Read More5 Comments-
অরণ্যের রহস্যময় পরিবেশ আর রেজোয়ানের চরিত্রচিত্রণ যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বেশ চমৎকার হয়েছে। “পাহাড় কখনো নিজের সব রহস্য একবারে প্রকাশ করে না”—এই লাইনটি যেমন গভীর, তেমনি পাঠকদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তোলার জন্য দারুণ একটি উপায়। আপনার লেখনীর এই রহস্যময় আবহে ডুবে থাকতে ভালো লাগছে, তাই কলম এভাবেই সচল রাখুন।
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় পাঁচ)
পরদিন থেকেই রেজোয়ানের চলাফেরায় একটা পরিবর্তন দেখা গেল। আগের দিনের ঘটনাটা তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, দিনের আলোয় দাঁড়িয়ে শক্তি দেখিয়ে এই লড়াই জেতা যাবে না। দুজন লোককে কয়েক সেকেন্ডে মাটিতে ফেলে দেওয়া তার কাছে কোনো বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু সেই ঘটনার পর যদি কোম্পানি তাকে প্রকাশ্যে ঝামেলাপ্রবণ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর…Read More4 Comments-
আপনার অরণ্যের এই রহস্যময় এবং ধীরস্থির বর্ণনাটি পড়ে খুব ভালো লাগল, বিশেষ করে ‘অন্ধকারের মধ্যে দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, বাঁশপাতার ঘর্ষণ, ছড়ার পানির শব্দ আর মাঝে মাঝে কোনো অচেনা পাখির ডাক শুনা যায়’—এই অংশটুকু যেন চোখের সামনে আস্ত একটা জঙ্গল তৈরি করে দেয়। আপনার বর্ণনায় পাহাড়ের নীরবতাকে যেভাবে একটি শক্তিশালী চরিত্রের মতো ফুটিয়ে তুলেছেন, ত…Read More
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় চার)
সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রেজোয়ানের ভেতরে অদ্ভুত একটা শান্তি নেমে এসেছিল। কয়েকদিন ধরে সে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন তার কাছে পরিষ্কার। জমির কাগজ তার নামে, সীমানার পুরনো নকশা তার হাতে, ভূমি অফিসে তার মালিকানা নিয়ে সরাসরি কোনো আপত্তি ওঠেনি, প্রশাসন সমস্যাটা জানে,…Read More4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনার লেখায় অরণ্য আর মানুষের সংঘাতের যে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন তা অসাধারণ, বিশেষ করে এই লাইনটি— “সবুজ পাহাড়ের বুকের মধ্যে সেই ক্ষত অনেক দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে”— অত্যন্ত গভীর এবং আবেগময়। পরিস্থিতির বর্ণনাগুলো খুবই স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত, যা পাঠকদের গল্পের সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করবে। আপনার পরবর্তী পর্বের জন্য শুভকামনা রইল, চমৎকার সব…Read More
-
আপনার গল্পের “পাহাড়ের বুক আরও কাটা হচ্ছে, নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে, মাটি সমান করা হচ্ছে” লাইনটি পড়ে মনটা সত্যিই খুব খারাপ হয়ে গেল। রেজোয়ানের শান্ত অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্বের এই লড়াইটা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি। সামনের পর্বগুলোতে রেজোয়ান কীভাবে নিজের জমি রক্ষা করবে, সেটা দেখার জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম।
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় তিন)
পরদিন সকালটা ছিল ভারী উজ্জ্বল। বর্ষার পরের আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ নেমেছিল শহরের ওপর। ডিওএইচএস-এর পরিচিত রাস্তায় গাছের পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটা ঝিলমিল করছিল। গেটের কাছে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়মিত তৎপরতা, রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া অফিসগামী গাড়ি, স্কুলের পোশাকে ছুটে চলা ছে…Read More3 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনি অত্যন্ত নিপুণভাবে রেজোয়ানের মানসিক দ্বন্দ্ব এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে, “আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, কিন্তু ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আবেগকে কিছুক্ষণ বাইরে রাখতে হয়”—আপনার এই পর্যবেক্ষণটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। আপনার লেখনীর এই পরিপক্বতা এবং চরিত্রের দৃঢ়তা প্রকাশের ধরণটি সত্যিই প্রশংস…Read More
-
বিষণ্ন সুমন, আপনি বেশ গুছিয়ে লিখেছেন এবং পুরো কাহিনীতে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল। বিশেষ করে “আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, কিন্তু ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আবেগকে কিছুক্ষণ বাইরে রাখতে হয়”—এই লাইনটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। চরিত্রগুলোর এমন বাস্তবসম্মত উপস্থাপনা গল্পটাকে আরও অনেক বেশি জীবন্ত করে তুলেছে, পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় রইলাম।
-
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় দুই)
রাতে ভালো ঘুম হয়নি রেজোয়ানের। খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে আসার পর ডিওএইচএস এর পরিচিত, নিরাপদ পরিবেশেও তার মনটা যেন পাহাড়েই পড়ে ছিল। জানালার বাইরে রাতের ঢাকা শান্ত। রাস্তার দুপাশে ছায়াঘেরা গাছ, নির্দিষ্ট দূরত্বে নিরাপত্তার আলো, গেটের কাছে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মী। মাঝেমধ্যে নিঃশব্দে কোনো গাড়ি ঢুকে যাচ্ছে, আবার কিছ…Read More5 Comments-
বিষণ্ন সুমন, রেজোয়ানের অন্তর্দ্বন্দ্বে ভরা এই চমৎকার বর্ণনায় আপনি বিশেষ করে “কাগজগুলো দেখতে দেখতে রেজোয়ানের মনে হলো, কেউ সরাসরি তার দলিলকে অস্বীকার করছে না” এই লাইনটির মাধ্যমে যে অস্থিরতা ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়, আপনি চাইলে আগামী পর্বে রেজোয়ানের অনুসন্ধিৎসু মনের আরও গভীরে গিয়ে তার দৃঢ়তাকে পাঠকদের সামনে আরও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরতে পারেন।
-
-
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) and
বিষণ্ন সুমন are now friends
-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় এক)
বিকেলের আলো তখনো পাহাড়ের গা ছেড়ে যায়নি। খাগড়াছড়ির শহর অনেক পেছনে পড়ে গেছে, আর পিচঢালা রাস্তার পরিচিত চেহারাটাও বেশ কিছুক্ষণ হলো বদলে গেছে সরু, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে।গাড়িটা ধীরে ধীরে ওপরে উঠছিল। রাস্তার এক পাশে পাহাড় উঠে গেছে ধাপে ধাপে, কোথাও মাটির ঢাল, কোথাও কালচে পাথরের খাঁজ, কোথাও আবার বাঁশঝাড় আর বুনো গাছ…Read More
5 Comments-
পাহাড়ি পথের বর্ণনা আর অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেলের দৃঢ় চরিত্রের মেলবন্ধনে গল্পটি অত্যন্ত সাবলীল ও মনোগ্রাহী হয়েছে, বিশেষ করে আপনার লেখা—”অরণ্যের ভেতরে ঢুকতেই বাইরের শব্দ ধীরে ধীরে কমে গেল”—অংশটি আমাকে যেন নিজেই সেই নিরিবিলি পাহাড়ে নিয়ে গেল। বর্ণনার এই নিখুঁত ভঙ্গি বজায় রেখে পরবর্তী পর্বগুলো সাজাতে পারলে পাঠকদের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে, তাই…Read More
-
আজই সেবা’র পেজে এই সিরিজটা দেখলাম। তখনই ভাবছিলাম, এই সিরিজটা তুলটে দেয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করবো। কিন্তু মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেলাম। আপনাকে ধন্যবাদ। পাহাড়, অরণ্য আর রহস্য সবমিলেয়ে জমজমাট একটা গল্পের আভাস পাচ্ছি।
-
-
রিটায়ার্ড কর্ণেল রেজোয়ান। চাকুরীতে থাকাকালীন খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একটা জায়গা কিনেছিলেন। ইচ্ছে ছিল অবসরে যাবার পর ওখানে একটা রেস্টহাউজ বানাবেন। পরিবার পরিজন নিয়ে এসে মাঝে মাঝে থাকবেন। কিন্তু, যখন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জায়গায় যান, দেখেন ওখানে এক রিসোর্ট কোম্পানীর সাইনবোর্ড ঝুলছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাহাড়ের এক পরাক্রমশ…Read More
4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনার লেখায় ‘নাইট ওলফ’-এর মতো একজন কমান্ডোর আত্মপ্রকাশের মুহূর্তটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। “বুঝতে পারলেন যা করবার নিজেকেই করতে হবে”—আপনার এই লাইনটি চরিত্রটির দৃঢ় মানসিকতার এক দারুণ বহিঃপ্রকাশ। এই গল্পের পরবর্তী অংশ পড়ার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, তাই আপনার লেখনী সচল থাকুক।
-
সীমানা পেরিয়ে
(পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্টার্ণ)অধ্যায় ৩০
র্যাঞ্চের ওপর সকাল নেমেছিল, কিন্তু সেই সকাল আর অন্য দিনের মতো ছিল না। সূর্য উঠেছিল যথারীতি, ঘাসের ডগায় আলো পড়েছিল, আস্তাবলের সামনে ঘোড়াগুলোকে পানি দেওয়া হচ্ছিল, দূরের মাঠে গবাদি পশু ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল, তবু পুরো জায়গাটার ওপর যেন অদৃশ্য একটা চাপ জমে ছিল। ভাঙা বেড়ার জায়গায় নতুন কাঠ বসানো হয়েছে,…Read More5 Comments -
সীমানা পেরিয়ে
(পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্টার্ণ)অধ্যায় ২৯
র্যাঞ্চের ওপর হামলা শেষ হওয়ার পরও বন্দুকের গন্ধ বাতাসে লেগে ছিল। দুপুরের সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়েছে, কিন্তু খোলা মাঠের ওপর ধুলো এখনও পুরোপুরি বসেনি। ভাঙা বেড়ার কয়েকটি খুঁটি মাটিতে কাত হয়ে পড়ে আছে। কোথাও কাঠের তক্তায় গুলির কালো দাগ, কোথাও ছড়িয়ে আছে ভাঙা জানালার কাচ। যে উঠোনে সকালে ঘোড়ার খুরের…Read More4 Comments -
সীমানা পেরিয়ে
(পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্টার্ণ)অধ্যায় ২৮
সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি মাথার ওপর ওঠেনি। র্যাঞ্চের ওপর নরম সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের ঠান্ডা বাতাস ধীরে ধীরে সরে গিয়ে তার জায়গা নিচ্ছে শুকনো উষ্ণতার। খোলা মাঠের ওপর হালকা কুয়াশার মতো একটা আবছা পর্দা ভাসছিল, যা সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছিল। দূরের পাহাড়গুলো নীলচে ধূসর হ…Read More4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনার লেখাটি প্রতিটি লাইনে এমন এক টানটান উত্তেজনা ও দৃশ্যের অবতারণা করেছে যে আমি পড়ার সময় একদম মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছিলাম। বিশেষ করে যুদ্ধের মাঝে মারদেকার মানসিক দোটানা এবং লারসেনের রক্তাক্ত হওয়ার দৃশ্যটি আপনার বর্ণনায় অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী হয়ে ফুটে উঠেছে। আপনি চাইলে আপনার লেখনীর এই গভীরতা বজায় রেখে চরিত্রের আবেগগুলো আরও একটু বিস্তারিত কর…Read More
-
বিষণ্ন সুমন, “বন্দুক শুধু শত্রুকে মারে না, বন্দুক মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে”—লারসেনের এই কথাটি আমার মনের ভেতর অনেকক্ষণ ধরে ঘুরছে, আপনার লেখাটি পড়তে পড়তে সত্যিই মনে হচ্ছিল আমি সেই র্যাঞ্চের ধুলোবালি আর উত্তেজনার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছি! মারদেকা কি শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের নেশায় বন্দুকের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে ফেলবে, নাকি সে লারসেনের মতো স…Read More
- Load More Posts
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Redowan Hussain
@redowanhussain
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Hashem Molla
@hashemmolla
Nusrat jahan
@shuha
রুবেল দে
@alexrubel630
Afra Anjum
@afraanjum
Sk Sagor
@sksagor
, মিঠুন কুমার ঘোষ
@mkghosh





বিষণ্ন সুমন, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা অরণ্যের নিস্তব্ধতা আর মানুষের তৈরি স্বপ্নের ভাঙন আপনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে আপনার এই বাক্যটি— “কখনো কখনো প্রতিপক্ষকে নিজের হিসাবের ওজনের ভারেই ভেঙে পড়তে দিতে হয়”—অসাধারণ একটি দার্শনিক উপলব্ধির জায়গা তৈরি করেছে। আপনি চাইলে এমন গভীর আবেগপূর্ণ কাহিনী আরও নতুন নতু…Read More