-
এক ক্লান্তিকর দুপুর। নদীর তীরে বসে এক জেলে ও তার সঙ্গী দীর্ঘ সময় ধরে মাছ ধরছিলেন। জাল ছুঁড়েছেন কতবার, কিন্তু কপালে একটিও মাছ জোটেনি। সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ল, তখন তাদের চোখেও হতাশার ছায়া নেমে এল।
ঠিক তখনই জেলের ছিপটি আচমকা নড়ে উঠল! হুড়োহুড়ি করে সে টেনে তুলল ছিপ, আর চোখ ভরে উঠল আনন্দে—একটি বড়, মোটা তাজা মাছ ধরা পড়েছে! সেটি এতটাই বড় ছিল যে দু’জনের রাতের খাবারের জন্য পুরোপুরি যথেষ্ট।
দুজনেই হাঁটতে লাগল বাড়ির পথে। চারপাশে নেমে এসেছে সন্ধ্যার নিঃশব্দতা। এমন সময় তারা দেখল, রাস্তার ধারে এক দরিদ্র মানুষ আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজছে। জেলে থমকে দাঁড়ালেন, এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
— “ভাই, আপনি এখানে কী করছেন?”
লোকটি লজ্জায় মুখ নামিয়ে বলল—
— “আজ কোনো কাজ জোটেনি, ঘরে খাবার নেই। আমার ছোট্ট মেয়েটা সারাদিন না খেয়ে আছে। তাই ভাবলাম, যদি কিছু খুঁজে পাই…”
জেলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধরা মাছটির দিকে তাকালেন, একটা শান্ত হাসি খেলে গেল মুখে। তিনি মাছটি লোকটির হাতে তুলে দিয়ে বললেন—
— “এটা নিয়ে যান। আপনার মেয়েকে খাওয়ান। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জন্য অন্য কিছু অপেক্ষা করছে। সৃষ্টিকর্তা কখনো আমাদের নিরাশ করেন না।”
লোকটি অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। চোখ ভরে উঠল অশ্রুতে। কাঁপা কণ্ঠে বলল—
— “আপনি জানেন না, আপনি আজ আমার জীবনে কী করেছেন। আমি প্রার্থনা করি, ঈশ্বর যেন আপনাকে অনেক গুণে ফিরিয়ে দেন।”
তবে জেলের সঙ্গী রাগে ফুঁসছিল—
— “তুমি কি পাগল? সারাদিন খেটে এই মাছ পেলাম, আর তুমি সেটা এমনিই দিয়ে দিলে! এখন না খেয়ে ঘুমাতে হবে!”
জেলে ধীরে ধীরে বললেন—
যার দরকার, তাকেই সাহায্য করা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, যখন তুমি নিঃস্বার্থভাবে কিছু দাও, সৃষ্টিকর্তা তার থেকেও বড় কিছু দিয়ে ফেরত দেন।”
সঙ্গী হতাশ মুখে মাথা নাড়ল। তারা দুজনে বাড়ি ফিরল খালি হাতে। রাত গভীর হল। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। জেলে দরজা খুলে তাকিয়ে অবাক—দাঁড়িয়ে সেই দরিদ্র লোকটি, কিন্তু এবার তার পরনে ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক, হাতে প্যাকেটভরা খাবার ও কিছু টাকা।
লোকটি হাসিমুখে বলল—
— “আপনি অবাক হচ্ছেন, তাই না? আমি আসলে গরিব নই। আমি এমন একজনকে খুঁজছিলাম, যিনি নিজের স্বার্থ ছাড়াও অন্যকে সাহায্য করতে পারেন। আপনি সেই মানুষ। আজ আপনি আমাকে ছুঁয়ে গেছেন। এ খাবার ও অর্থ আপনার প্রাপ্য, আর কাল থেকে আপনি আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। কারণ আপনি এমন একজন, যিনি সত্যিই বড় কিছু পাওয়ার যোগ্য।”
জেলের সঙ্গী হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর মাথা নিচু করে বলল—
— “তুমি ঠিকই বলেছিলে। আমি বুঝতেই পারিনি, কিন্তু আজ তুমি দেখিয়ে দিলে—বিশ্বাসই শক্তি। কিন্তু তুমি এতটা নিশ্চিত ছিলে কীভাবে?”
জেলে হেসে বলল—
— “কারো অভাব দূর করতে পারলে সেটাই আমার সুখ। আমি ভবিষ্যৎ দেখি না, তবে জানি, সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করলেই তিনি ঠিক পথ দেখান। তিনি আমাদের কখনো একা ফেলেন না।”
শিক্ষনীয়
যখন তুমি কারো মুখে হাসি ফোটাও নিঃস্বার্থভাবে, তখন সৃষ্টিকর্তা তোমার জন্য এমন সব আশীর্বাদ তৈরি করে রাখেন, যা তুমি কল্পনাও করতে পারো না।
Collected from Farhana Yasmin (Facebook)3 Comments
Friends
Kd Rezaul Karim Hira
@kdrkh2005
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
নীরব কবি
@nirobkobi
Shrabon
@shrabon1
তহমিনা পারভীন
@tohominaparvin
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
শিপ্রা সরকার
@shiprasarker
আজিজুর রহমান
@azizurrahman
রবিউন নাহার তমা
@rn-toma243gmail-com


তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 08 April 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!