Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • প্রিয় তুহিন,
    আজ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি।
    ২০০১সালের আজকের দিনের তাপমাত্রা কত ছিলো সেটা আমার মনে নেই। তবে এটা খুব ভালো ভাবে মনে আছে যে, প্রচন্ড গরম ছিলো , কিন্তু ১২টার সময়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।রাজশাহীতে তো এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে।
    আগের রাতে অর্থাৎ ১০ তারিখ রাতে বড় ভাই আমাকে একটা লো ডোজের সিডেটিভ দিয়েছিলেন, কারণ গত কয়েক রাত ঘুম হচ্ছিলো না।
    ঘুম হবে কি করে তুহিন? বাসা ভর্তি লোক , আব্বা এতটাই অসুস্থ যে হাই ডোজের পেন কিলার দিয়ে তাঁকে রাখা হচ্ছিলো। বাসার কেউ রাতে ঘুমাতাম না, জেগে থাকতাম।
    তাই বড় ভাই আমাকে ঘুমের ঔষধ দিয়েছিলেন।এবং বলেছিলেন যে, তোমার সাউন্ড স্লিপ দরকার।
    এটাও মনে নেই যে, সে রাতে আমার ঘুম কেমন হয়েছিলো।
    খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। রাতে আমার সাথে স্বপ্না ছিলো। স্বপ্নার সাথেই পার্লারে গিয়েছিলাম। আজকে যে আমার বিয়ে , তাই সাজতে নিয়ে গিয়েছিলো।
    পার্লার থেকে আসার সময়েই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।
    বাসায় আসার পরে সবাই বলছিলেন যে , বিয়ের দিনে বৃষ্টি হওয়া সৌভাগ্যের ইঙ্গিত বহন করে।
    হায় এটা কি সৌভাগ্য! মাত্র ১৯ বছরের সংসার ছিলো আমাদের!
    তুমি থাকলে এবছরের শুরুতেই তোমার সাথে আমার ঝগড়া হতো। কারণ তুমি ক্যালেন্ডার দেখে, খুশিতে ১১তারিখে বাহিরে যাওয়ার প্লান শুরু করে দিতে। আমি বলতাম- কি বলো? দুদিন পরে তোমার ছেলের পরীক্ষা , আর আমরা বেড়াতে যাবো, ওকে নিয়ে?
    তোমার উত্তর কি হতো তা আমি বলে দিতে পারি। তুমি বলতে- পরীক্ষা হয়েছে তো কি হয়েছে? দুই/ তিন দিন না পড়লে কিছু ই হবে না। আর সাথে করে বই নিয়ে যাবে।
    তুমি হ্যাঁ আর আমি না, এই ভাবেই শুরু হয়ে যেত আমাদের ঝগড়া।
    অবশেষে প্রতিবারের মতো তুমিই জিতে জেতে , আর আমি হাজার বিরক্তি নিয়ে যেতাম বেড়াতে তোমার সাথে।
    তুহিন ,
    আমার, তোমার সাথে ঝগড়া করে হেরে যেতে খুব ইচ্ছে করে।
    সবাই মিলে ঘুরে বেড়াতে খুব ইচ্ছে করে।
    প্রতিদিনের সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
    তোমার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে খুব ইচ্ছে করে।
    আমার সমস্যাগুলো তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
    তোমার মতো সাহসী হতে খুব ইচ্ছে করে।
    খুটিনাটি সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
    তোমার ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে খুব ইচ্ছে করে।
    এমন হাজার হাজার ইচ্ছে আমার পূরণ হয় না। আমি কষ্টে থাকি তখন।
    আমি শুধু আমার কথাটা বললাম।
    তোমার ছেলেরাও এমন কষ্ট বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
    স্কুলে , কলেজে , ডাক্তারের কাছে, শপিং এ, ঈদে গ্রামের বাড়িতে না যেতে পেরে। এমন হাজারটা ইচ্ছা ওদের ও পূর্ণতা পায় না।
    আজ আমাদের বিয়ের ২৪ বছর।
    আর তুমি নেই ৫ বছর।
    তোমার হেনা
    ১১/০৫/২০২৫

Skip to toolbar