Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • ========================প্রেমেরই জখম==========================
    পর্ব: ০১
    লেখক: নাদিম হোসাইন।
    ——————————————————————————————————————
    আজকের সকালটাই অন্যরকম মনে হচ্ছে।। কিন্তু কেন অন্যরকম সেটা বুঝতে পারছি না। নাকি বোঝার চেষ্টা করছি না। আচ্ছা আজ সকালে তো হালকা বৃষ্টি হয়েছিল। তার জন্য কি আজকের সকালটা অন্যরকম। সবকিছুই গোলমেলে লাগছে কেন। কত কিছু যে ভাবছি, কিন্তু সবই উল্টাপাল্টা চিন্তা। কাল রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফল হলো এগুলো। এছাড়া আর কিছুনা। আজকে বাসটা আসতেও দেরি করছে। আর সেই বিষয়টিও খুব খারাপ লাগছে। অথচ অন্যান্য দিন এই বিষয়টি খুব স্বাভাবিক মনে হত আমার।। কেও কি আমাকে ডাকছে?? মনে তো হচ্ছে। কিন্তু মাথা ঘুরাতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু ধীরে ধীরে কন্ঠটা আরও কাছে চলে এসেছে। নিশ্চই এখন সে আমার একেবারে সামনে চলে এসেছে।
    => কি ব্যাপার শান্ত।। সেই কতক্ষন ধরে ডাকছি। তুমি কি শুনতে পাওনা নাকি!!
    => তুমি আজ বাস স্টপে।। আগে তো কখনও ‍দেখি নাই। আর আমি আসলে একটু অন্যমনস্ক ছিলাম তো তাই খেয়াল করিনি।।
    =>আহা!! আজ বাইকটা রেখে এসেছি। বাইক এর কিছূ কাজ করাতে হবে। তাই ভাইয়াকে বলেছি সে যেন বাইকটা সারিয়ে নিয়ে আসে।।
    শান্ত এর কাছে রবিনের কথাগুলো খুবই বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। কেন যেন তাকে বলতে ইচ্ছে করছে, ভাই তুই তোর এইসব বড়লোকি কথা আমার সামনে না বলে অন্য কোথাও গিয়ে বল। আমার ভালো লাগছে না। কিন্তু সেটা তো আর কা্রও মুখের উপর বলা যায়না।। রবিন আবার বলে উঠলো।
    => আচ্ছ শান্ত। কাল দেখলাম তুমি আর নিলু একসাথে দাড়িয়ে কি যেন নিয়ে সেই লেভেলের গল্প করছিলে।।
    শান্ত এর বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। সে যেন তার সকল প্রশ্নের উত্তর খুজে পেতে শুরু করেছে। কেন আজকের সকালটা তার কাছে অন্য সকল সকাল এর চেয়ে অনেক আলাদা মনে হচ্ছে। কারন ভার্সিটির মধ্যে যার সাথে কথা বলার জন্য তার ভেতরটা সবসময় ছটফট করতো, ঠিক সেই মানুষটি কাল নিজে থেকে তার সাথে কথা বলেছে। সেই বিষয়টি নিয়ে সারারাত নির্ঘুম রাত কেটে যায়। আর তাকে এক পলক দেখার জন্য হৃদয়টা যেন দুমরে মুচরে যাচ্ছে।। রবিন আবার বলছে,,,
    => কিরে ভাই কই হারায়ে গেলি??
    শান্ত নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলল, আরে নাহ। তেমন কোন কথা হয়নি। সে আমার কাছে এসে বলল সে কোন এক ব্যাচে নাকি প্রাইভেট পরবে। আর সেখানে নাকি তারা নিজেরা ক্লাসের বেস্ট ছাত্র আর ছাত্রীদের নিয়ে শুরু করতে চাইছে। এই আরকি।
    => তাহ তুই কি বললি??
    শান্ত খেয়াল করলো রবিন তাকে তুমি থেকে সরাসরি তুই করে বলছে। শান্ত একটু বিরক্তি নিয়ে বলল, আমি বলেছি আমার প্রাইভেট এর প্রয়োজন পরবে না। আর যদি কখনও পরে তবে তাকে অবশ্যই জানাবো।। এইতো।।
    রবিন বলল, সামান্য এতটুকু কথাকি এতক্ষন ধরে বলছিলি।
    => নাহ। আর কিছু কনভারসেশন হয়েছে। কিন্তু তুমি এতকিছু কেন জিজ্ঞাসা করছো।।
    => আরে নিলু তো ছেলেদের থেকে একশ হাত দুরে থাকে।। আমি কখনো দেখি নাই কারও সাথে তেমন কথা বলতে। কিন্তু তোমার সাথে কাল যে পরিমান গল্প করছিল। কম করে হলেও ০৫ থেকে ০৭ মিনিট তো হবেই। তাই ভাবলাম কি এমন বিষয়।
    শান্তু যদিও বিষয়টি বুঝলো না। তবুও বললো, ও আচ্ছা।।
    রবিন একটু জোরে এবার শান্ত এর পিঠে একটা চাপর দিয়ে বলল, শান্ত আমি তোকে তুই করে বলছি আর তুই আমাকে তুমি তুমি করে বলছিস কেন??
    শান্ত মুখটা কলো করে পিঠে হাত দিয়ে বলল, নাহ এমনি।
    => শোন শান্ত। আমি কিন্তু বন্ধু হিসেবে অসাধারন। আজ থেকে তুই আমার ক্নোজ বন্ধূদের মধ্যে একজন।
    শান্ত একটু অবাক হয়ে রবিন এর দিকে তাকিয়ে ভাবছে। মাত্র কয়েকমিনিটের কাথার মধ্যেই সে একজনের ক্নোজ বন্ধূ হয়ে গেল। বিষয়টি কি বারাবারি হয়ে গেল না। নাকি ছেলেটা এমনি। তবে হলে মন্দ হয়না ।। কারন ভার্সিটির মধ্যে এখন পযর্ন্ত তার কোন ভালো বন্ধু হয় নাই। আসলে ভালো বন্ধু বাদ। তার তেমন কোন বন্ধু হয় নাই। অথচ এক মাস হয়ে গেল। রবিন আবার বলল,
    => কিরে তুই একটু পরপর কোথায় হারিয়ে যাস বলতো।
    => ক….ই। নাতো।।
    => ঐতো বাস চলে এসেছে। চল চ্ল।।
    রবিন শান্ত এর হাতটা টেনে বাসের দিকে রওনা করলো।। শান্ত এর ভেতরে কেমন যেন একটা ভালো লাগা কাজ করছে। এখন তার মনে হচ্ছে আসলে এমন একজন বন্ধু আসলেই খুব দরকার।। তার ভেতরে সকাল থেকে যে অস্স্তিবোধ কাজ করছিল সেটা একনিমিষেই কেটে গেল ।। দুজনেই বাসে উঠে পরলো। ব্যস্ত ঢাকার জানজট পেরিয়ে চলে যাচ্ছে বাস।। কখনো থামছে কখনো চলছে।।

    ২য় পর্ব আসবে খুব শিগ্রই……………………….

    2
    2 Comments
    • শুরুটা দারুন। কিন্তু একটু সাসপেন্স থাকলে ভালো হতো। পরের পর্বের জন্য উথাল পাথাল আকুতিটা কিন্তু মিসিং। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই এটা থাকবে। আপনার জন্য শুভকামনা।

Skip to toolbar