-
***** তোমাকে ছোঁয়ার অপরাধে ****
★★ চিঠি ★★
নাহার সুলতানা ময়না।
“মম” মেধাবী, সুন্দরি,ও উচ্চবিত্ত পরিবারের একমাত্র আদরের দূলালী অন্ধের জষ্ঠি বলাও চলে।
কলেজে যাওয়া আসার পথে প্রতি দিন একটা ছেলে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
ওর অসস্থি লাগে। পিছন দিকে একটা ছেলে পাচায় থাবা দিয়ে পালিয়ে যায়, মম ফিরে তাকিয়ে দেখে সেই ছেলেটা, এগিয়ে গিয়ে থপাস করে কসিয়ে একটা থাপ্পর মেরে ফিরে আসে।
ছেলের নাম “সাজু ” কালো কুৎচিত নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের ছেলে। মার খেয়ে হজম করে যায় নিঃশব্দে। গরিবের আত্নসম্মান বোধ থাকতে নেই। মনে মনে মম কে অনেক ভালোবাসে। এক পলক দেখার আশায় রাস্তায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে কখন আসবে। মমর সৌন্দর্য দূু্র থেকে উপভোগ করা যায়, কিন্তু কাছে আসার আগেই ঝলসে যায়।
কিন্ত অবাধ্য মন দেখার আসায় পর দিন এসে দাড়ায়,কলেজ ছুটি অজস্র লোকের ভিরে বকাটে ছেলেরা মমর উড়না টেনে দৌড় দেওয়ার সময় সাজুর হাতে আটকে যায় উড়না, ফিরে তাকিয়ে দেখে সেই কুৎসিত ছেলেটা,
হাতে জুতা খুলে পাবলিক সহ ওকে বেদম গন ধূলাই দেয়। সাজু চিৎকার করে বলছে আমি কিছু করিনি, কিন্তু কেহ তার কথা শুনেনি।
পর দিন মমর বাবার দল বলেরা এসে সাজুর গলা টিপে অনেক মারদর ঘর ভাংচুর করে চলে যায়, গরিবের চিৎকার কেউ শুনেনা।
মম কে ভালোবাসে এই কথাটা বলার সাহস নেই, কিন্ত মম ওকে ভুল বুঝতেছে, ওর ভুল ভাঙ্গাতে হবে, এই ভেবে একটা চিঠিতে সব লিখে নিয়ে যায় মমর বাসায়, ওকে দেখে রাগে সবাই আগুন হয়ে আছে, ঘার ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দেয়, ওর কথা কেউ শুনেনি এমন মার মারল একি বারে হাসপাতালে,
থেকে তিন মাস পর ফিরলো বাসায়, পড়া লিখা করতে পারনি এদিকে পরিক্ষা কি লিখবে।আজ এইচ এস সি ফাইনাল পরিক্ষা, কলেজে এলো সীটে বসলো ঘার ফিরে তাকাতেই দেখলো পাশের সীটে মম, এতো আনন্দ তার চোখে মুখে যেন আকাশের চাদঁ ওর কাছে ছোঁয়া অপেক্ষায়।
প্রশ্ন হাতে পেলো কিন্ত কিছুই মনে পরছে না,
এতো দিন পড়া হয়নি, মমকে ইশারায় ডাকছে মম লিখছে ফিরে তাকানোর সময় নেই।
সাজু একটু কাছে এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ইশারা দিচ্ছে, নুংরা ইঙ্গিত ভেবে চীৎকার দিলো, স্যার এসে ওকে বের করে দিলো মার দোর করে। সাজুকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দিলো। বাড়িতে জায়গা হলোনা সাজুর, সব সত্যঘটনা লিখে একটা চিঠি আবার মমর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলো,
এমন সময় মমকে রাস্তায় পেলো, হাত বাড়িয়ে দিতে গেলো চিঠি,
কত গুলো ছেলে এসে মমকে তুলি নিয়ে যাচ্ছিলো সাজু, মমর সম্মান বাচাতে ঝাপিয়ে পরল, অনেক ক্ষণ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, এক পর্যায়ে ছিটকে পড়ল মম,কোথাও একটা ধাক্কা লেগে অন্ধ হয়ে গেলো। আর এদিকে সাজু ছুরির আঘাতে মৃত্যর দিকে ঢলে পরল।
এক মাস পর চোখ খুল্ল মম তাকিয়ে দেখে হাসপাতালে। ওর মনে পরল সাজুর কথা, জানতে চাইল,সাজু কেমন আছে কোথায় আছে? মমর মা হাতে একটা নীল খামে মোড়ানো
একটা চিঠি দিলো মমর হাতে।★ প্রেয়সী মম ★
লিপির প্রারম্ভে আমার এই অভিপ্রায় টুকু অপ্রত্যাশিত ভাবে তোমার কাছে এই লিখা।
দুর থেকে শুধু ভালো লাগাটাই উপভোগ করতাম, এটাও কেড়ে নিলে চেয়ে থাকার অপরাধে। গরীবের, কুৎসিত ছেলে বলে তোমাকে ভালোলাগার পরিণতি এই হলো, দুঃখ নেই আজ হলেও তুমি জানবে সেদিন আমি নই অন্য কেউ থাবা দিয়ে ছিলো।তোমার ওড়না টা বখাটেদের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিলাম তোমাকে আবৃত দেখবো বলে।
তার প্রতিদানে তোমার বাবার লোকেরা গলা টিপে কথা বলার শক্তি কেড়ে নিলো।
সুস্থ হয়ে পরিক্ষার হলে পড়ার সুযোগ হয়নি, কিছুই কমন পড়েনি,। ডাকার অক্ষমতায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে ইশারায় বলছিলাম খাতাটা দেখাও।
আর তোমাকে ছোঁয়ার অপরাধে আজ চলে গেলাম নাফেরার দেশে। না চোখের জল নয় দুটি চোখ দিয়ে গেলাম এটাই তোমার শাস্তি তোমাকে ছুঁয়ে রইলাম।
ইতি, তোমার হিতৈষী * সাজু -★
থপাস করে পড়ে গেলো হায় কি করলাম না বুঝে।
বাবা কে কথা দিয়েছিলো কারো প্রেমে পড়বেনা
কিন্তু এটা কথা দেয়নি যে কারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেনা।
সাজুর বাবা মার হাত ধরে চলে গেলো সাজুর শুন্যতায়।
প্রতি দিন একটা চিঠি লিখে রেখে আসে কবরে
★ সাজু, আমি ভালোবাসি তোমায় মরনের পরে তোমারি হবো আর এখনও তোমারি রইলাম। তোমার মম★3 Comments-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 28 June 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
Friends
Emon Rahman
@emonrahman
শিপন সরকার
@shepon
শরীফ খান
@sharifkhan
identity client service
@identityclientservice
Saro
@saro
শ.ম.ওয়াহিদুজ্জামান
@sharifmuhammadwahiduzzaman
Md. Nur Alam (এইচ. এম নুর আলম)
@nuralam
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
জিসান মাহমুদুল হাসান
@mxesun



শেষটা বেশি সুন্দর। আপনার নিয়মিত উপস্থিতির আশায় থাকলাম।