Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ঃ ১১
    ——————————————————————————————————————

    প্রায় সপ্তাহ দুই হলো আবীর অর্পিতার সাথে যোগাযোগ করেনি। এই কয়দিনে আবীরকে দেখেওনি অর্পিতা। অর্পিতার এখন মনে হচ্ছে সে মনে হয় আবীরকে আসলেই ভালোবাসে। কিন্তু কিভাবে, কেন সে এতদিন বুঝতে পারেনি। কেন যেন আবীরকে খুব মিস করছে। এসব ভাবতে ভাবতে অর্পিতা মোবাইলটা হাতে নিল আবীরকে একটা ফোন কল করার জন্য। কিন্তু কি যেন চিন্তা করে আর দেয়া হলো না। কিন্তু আবীরতো এতদিন যোগাযোগ না করে থাকে না। তবে কি আবীর এর মধ্যে পরিবর্তন চলে এসেছে। আসতেই পারে। ছেলে খুবই মেধাবী, বড়লোক, স্মার্ট, হ্যান্ডসাম। সবকিছুই তো ঠিক আছে। সেই তুলনায় আমি ওর যোগ্য নই। ছেলেটাকে কি পরিমান জ্বালিয়েছি। সারাক্ষন শুধু বকাঝকা করেছি। কখনো একটু ভালো করে কথাও বলিনি। তাছাড়া ওর সাথে সেদিন যে মেয়েটা ছিল, সেও তো কম সুন্দরী নয়। অন্তত আমার থেকে অনেক বেশি সুন্দর।
    এসব ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই অর্পিতার চোখ থেকে পানি ঝড়া শুরু করলো। আজ তার বুকটা কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগছে। খুব ই্চ্ছে করছে আবীরকে খুব করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার দিয়ে বলতে, ”আবীর আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আর সেটা আমি আজ বুঝতে পারছি।” কিন্তু আজ আর তা হয়তো সম্ভব নয়। আবীর হয়তো আর তার আগের আবীরটা নেই। অর্পিতা শুধু ভাবতেই থাকলো। হটাৎ করে তার মনে হলো আচ্ছা আবীর এর আবার কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি তো। ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমি এসব কি ভাবছি। কিন্তু হতেও তো পারে।
    কেন যেন এখন তার খুব অস্থীর লাগছে। সে এখন কি করবে বুঝেই উঠতে পারছে না। সে চোখের পানি মুছলো। কি করা যায় সে ভাবতে শুরু করলো। মোবাইলটা হাতে নিল। হটাৎ মনে পড়লো তার ফ্রেন্ড রেশমার ছোট ভাইতো আবীর এর বন্ধূ। সে দ্রুত রেশমাকে ফোন দিল। রিং বাজছে আর এই প্রথমবার তার বুকটা কেমন যেন কেপে কেপে উঠছে। কি এক ভয় যেন তার উপর ভর করেছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে। সে নিজেও জানে না। অন্যদিকে রেশমাটা ফোন কল রিসিভও করছে না। কেন যেন মেজাজটা খুব গরম হচ্ছে। ফোনটা কেটে গেলে। রেশমা ফোনটা রিসিভ করলো না। অর্পিতা আবার ফোন করলো। রিং বেজেই যাচ্ছে। কিন্তু কেউ ওপাশ থেকে কেন রিসিভ করছে না। ওপর প্রান্ত থেকে হটাৎ রেশমার কন্ঠশর…
     হ্যালো অর্পিতা।
    অর্পিতা দ্রুততার সহিত বলতে গিয়ে থেমে গেল। সে মাথা ঠান্ডা রেখে শান্ত গলায় বলছে….
     কিরে রেশমা। কেমন আছিস। খবর কি তোর বলতো।
     এইতো রে ভালো আছি। আর একটু বিজি আছি আরকি। কিছু বলবি..??
     হুম.. আসলে তোকে না আমার একটা হেল্প করতে হবে। পারবি বন্ধু।
     আমি!! কি সাহায্য বলতো। দেখি পারি কিনা।
    অর্পিতা কিছুটা লজ্জা পাচ্ছিল। কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল। তারপর বলল….
     আসলে তোর ছোট ভাইকে আমার একটু প্রয়োজন ছিল।
     রবিনকে! আচ্ছা। কিন্তু কেন বলতো???
     Please রেশমা কোন কারন জিজ্ঞেস করিস না। আমি এই মুহুর্তে তোকে কিছুই বলতে পারবো না।
     আচ্ছা তুই লাইনে থাক। আমি ওকে ডেকে দিচ্ছি।
    অর্পিতার বুকটা কাপছে। প্রতি সেকেন্ড যাচ্ছে আর যেন তার বুকের ধুকধুকানি যেন বেড়েই যাচ্ছে। সে কিভাবে কতাটা বলবে সেটা যেন বুঝে উঠতে পারছে না। এসব ভাবতে ভাবতে ওপর প্রান্ত থেকে রবিনের কন্ঠ….. হ্যালো!
    অর্পিতা হাসি মুখ নিয়ে বলছে…. হ্যালো রবিন! কেমন আছো?
     ভালো আছি আপু। আপনি কেমন আছেন?
     ভালো। আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি আমার একটা হেল্প করে দিতে পারবে?
     কি হেল্প বলেন তো আপু।
     শোন। একটু গোপন কিন্তু । কাউকে কিছু বলা যাবে না। এক কথায় তুমি আর আমি জানবো।
    ক্ষনিকের জন্য রবিনের মাথায় যতসব উল্টাপাল্টা চিন্তা এসে ভর করছে। রবিন ভাবতে পারছে না কি এমন গোপন কথা। রবিন কিছুটা Exited হয়ে গেল। রবিন প্রশ্ন করলো….
     কি বলবেন আপু। বলেন তো!!
     আসলে ছোট ভাই তুমি। কিন্তু আমার জানা দরকার তাই বলছি….
    রবিন আরও এক্সাইটেড হয়ে বলল…. না না ঠিকাছে। আমি কাউকে কিছু বলবো না। আপনি কি চান বলেন। আপনার জন্য আমি সবই করতে পারবো। সবকিছু গোপন রাখবো।
     Thank you. আসলে তুমি শুধু আমাকে এটা বলো যে, আবীর কেমন আছে? ওর কোন কিছু হয়নি তো??
    রবিনের মনটা পুরোপুরি ভেংগে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে কতকিছু চিন্তা করে ফেলেছে। অথচ এই বিষয়!! সে মনটা খারাপ করে বলল….ওহ আবীর। ওর কিছুই হয়নি। ভালোই আছে।
     আচ্ছা ওর সাথে কি তোমার রোজ দেখা বা কথা হয়।
     নাহ্। রোজ হয়না।
     আজ হয়েছে??
     হুম বিকেলে দেখা হয়েছে।
    অর্পিতার ভেতরটা যেন কি এক যন্ত্রনা অনুভব করতে থাকলো। অর্পিতা আবার জিজ্ঞেস করলো।
     আচ্ছা আবির কি মন খারাপ করে বসে থাকে, নাকি হাসিখুশি থাকে ??
     নাহ। ও মন খারাপ করে থাকবে কেন। ওকে দেখে তো মনে হয়নি ওর মন খারাপ। বরং আজ ও সবচেয়ে বেশি খুশি মনে হল।
    অর্পিতা আর কিছু বলতে পারলো না। সে আর কথা না বলে ফোনটা কেটে দিল। সে এখন ধরেই নিয়েছে আবীর আর সেই আগের আবীর নেই। তার খুব কান্না পাচ্ছে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগছে। একেমন যেন এক ব্যাথা। মনে হচ্ছে হৃদয়টা কেউ ছুরি দিয়ে বার বার আঘাত করছে। তার চোখ দিয়ে পানি পরতে শুরু করলো। সে নিজেকে খুব গালাগাল দিতে লাগলো। কেন সে আবীর এর সাথে এতদিন খারাপ ব্যাবহার করেছে। এখন কেন সে নিজেকে সামলাতে পারছে না। সে এখন বুঝতে পারছে আবীর আসলে এতদিন কত পরিমান কষ্ট তার কাছ থেকে পেয়েছে। সে এই কথাটাই ভাবতেই যেন কান্না আরও বেড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে অনেক দিনের জমে থাকা পানি আজ ঝড়ে পরছে। হয়তো আজ থেকে কান্না করা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। যতই ভাবছে ততই চোখ দিয়ে পানি পরছে। কান্না পাচ্ছে আর কান্না পাচ্ছে।

    1
    2 Comments
    • সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝতে হলে সময়মতো তার মূল্য দিতে হয়।

Skip to toolbar