-
========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
পর্ব নাম্বারঃ ১৩
——————————————————————————————————————
অর্পিতা ও তার কিছু বান্ধবী ভার্সিটি থেকে বের হলো। অর্পিতা হটাৎ দেখতে পেল কিছু দুরে আবীর দাড়িয়ে আছে। অর্পিতা দেখেও না দেখার ভান করে রইলো এবং হাটতে থাকলো। একটু পর তার মোবাইলটা বেজে উঠলো। সে মোবইলটা ব্যাগ থেকে বের করলো এবং সে দেখলো আবীর এর নাম্বার থেকে কল আসছে। কেন যেন এই প্রথম আবীর এর ফোন কল দেখে তার আজ খুব খুশি লাগছে। অর্পিতা ফোনটা রিসিভ করে বলল…
হ্যালো।
আবীর বলছে…. হ্যালো.. কেমন আছো অর্পিতা??
তোমার কি মনে হচ্ছে। আমি কি খারাপ আছি। আমি ভালো আছি।
ন.. না.. না.. আসলে তুমি কি বাসায় যাচ্ছো??
হ্যা। কেন তোমার কি মনে হয়? আমি কি কোথাও আড্ডা দিতে যাচ্ছি।
আবীর এর মুখটা আবার ফ্যাকাশে হয়ে গেল। মুডটা নষ্ট হয়ে গেল। বিষন্ন কন্ঠে আবার বলল…
বলছিলাম যে, চলনা আমরা কোথাও গিয়ে বসি।
ওরে বাবারে। সখ কত!!! আমার হাতে সময় নেই। আমি পারবো না।
ওকে …. তাহলে আমি তোমাকে বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসি।
বাসা আমি চিনি। দিয়ে আসতে হবে না। (একটু থেমে আবার বলল অর্পিতা) কোথায় যাবে??
আবীর হকচকিয়ে গেল এই কথা শুনে। সে কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না। সে বলে উঠলো।
আমি ঠিক বুঝলাম না।
দেখো মেজাজ গরম করবে না বলে দিলাম।
আবীর এর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে কিঞ্চিত হাসি মাখা কন্ঠে বলে উঠলো…..
তুমি যেখানেই যেতে চাইবে আমি ও সেখানেই যেতে চাইবো।
ওকে। তুমি তাহলে এক কাজ করো। ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে বসো। আমি আসছি।
আবীর এর বুকের ভেতর কেমন যেন কাপাকাপি শুরু করে দিল। সে উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলো।
আচ্ছা ঠিকাছে। আমি এখুনি যাচ্ছি।
ফোনটা কেটে দিয়ে আবীর খুব দ্রুত সেখানে চলে গেল। সে গিয়ে একটা ভালো টেবিল দেখে বসলো। পাশে জানালা। মৃদু হাওয়া আসছে। মনটা কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে। কেমন যেন নার্ভাস লাগছে। এবং সময় যত যাচ্ছে বুকটা বারে বারে কাপছে তার। মিনিট পাচেক এর মধ্যে চলে আসলো অর্পিতা। আবীর মুগ্ধ হয়ে শুধু দেখতে থাকলো তাকে। অর্পিতা এসে আবীর এর মুখোমুখি বসলো। আবীর বলে উঠলো…
বলো কী খাবে??
অর্পিতা অন্যদিকে তাকিয়ে কিছুটা অভিমানের সুরে বলল…
তার আগে বলো এতদিন কোথায় ছিলে??
কোথাও না তো। বাসায় ছিলাম।
দ্যাখো এইরকম ন্যাকা টাইপের কথা বলবে না।
আসলে হয়েছে কি। আমার চাচ্চুরা চলে গেল। সেখানেই আসলে একটু ব্যাস্ত ছিলাম। আর…….
আর কি বলো। থামলে কেন বলো।
আবীর একটু দীর্ঘনিঃস্বাস নিয়ে বলল….
আসলে তুমি বলেছিলে না। বাইক চালাবার কথা।
অর্পিতা আবীর এর দিকে হটাৎ বড় বড় চোখ করে বলল…
হুম তো….. এটার সাথে দেখা না করার কি সম্পর্ক??
আসলে এই কদিন আমি সাইকেল এবং বাইক চালানো শিখেছি।
অর্পিতা অবাক হয়ে বলল… বলো কি.. সত্য বলছো।
হুম। আর আজকে জানতে আসলাম, তোমার জন্য আর কি কি করতে হবে।
অর্পিতার চোখের কোনে পানি চলে আসলো। সে মুগ্ধ হয়ে আবীরকে দেখলো, আর ভাবতে থাকলো ছেলেটা তাকে কতটা ভালোবাসে। এত ভালোবাসা তাকে কেউ কোনদিন বাসেও নাই। হয়তো বাসতেও পারবে না। অর্পিতা অন্যদিকে তাকিয়ে নিজের চোখের পানি সামলে নিল। একটু সময় নিয়ে ধীর কন্ঠে বলল…
আবীর তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
হুম করো।
তুমি এত বছর ধরে আমার পেছনে ঘুরছো। অথচ আমি তোমাকে কত অপমান করেছি। তারপরেও তুমি আমার পেছনে কেন পরে আছো।
আবীর বড় একটা শ্বাস নিল। কিছুক্ষন এর জন্য চুপ হয়ে গেল। একটু সময় নিয়ে বলল…
আসলে সত্যি কথা বলতে জানো কি। আমি নিজেও জানি না। শুধু এতটুকু জানি তোমাকে আমার প্রচন্ড ভালো লাগে। আর এটা যদি ভালোবাসা হয়। তবে তাই। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো কিনা জানিনা। কিন্তু তোমার পছন্দের সবকিছু আমি করতে পারবো। শুধু এতটুকুই জানি।
আমি যা পছন্দ করি তুমি তাই করতে পারবে!! কিন্তু কেন করবে?
কারন তাতে তুমি খুশি হবে। আর তোমাকে পাই বা না পাই। তোমাকে খুশি করতে পারাটাই যেন আমার তোমাকে পাওয়ার শামিল।
তোমাকে না বলেছি কোন রকম ফিল্মি ডায়ালগ বলবে না। এসব আমার একদম পছন্দ না।
অবীর আবারও একটা বড় নিঃশ্বাস নিয়ে বলল…
দেখো অর্পিতা, এগুলো ফিল্মি ডায়ালগ না। সবকিছু আমার মনের চিন্তাধারা।
অর্পিতা কিছুক্ষন চুপ করে বসে রইলো। সে বুঝে উঠতে পারছে না সি কি বলবে। সে ভাবতে থাকলো। আবীর এর মত দ্বিতীয় আর কাউকে সে খুজে পাবে না। একমাত্র আবীর পারবে তাকে সারাটাজীবন হ্যাপি রাখতে। অর্পিতা যখন এসব ভাবছিল ঠিক তখনি আবীর আবার বলে উঠলো…
কি হলো অর্পিতা!! কিছু বলছো না কেন??
হুম। আচ্ছা আবীর আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো??
হুম করো।
তুমি আমার জন্য কি করতে পারবে?
তুমি যা বলবে। আমি তাই করতে পারবো।
দেখো আবীর, ভেবে চিন্তে বলো। আমি কিন্তু অনেক কঠিন কিছু বলতে পারি।
আহা বললাম তো, সব পারবো। শুধু তোমাকে ভুলতে বলো না। সেটা করতে পারবো না।
অর্পিতা এবার আরও কিছুটা সময় চুপ করে রইলো। কিছু একটা ভেবে আবার বলল…
তোমার বাবা মা কেমন আছে?
আবীর একটু মর্মাহত কন্ঠে বলল…
আসলে বাবার শরীরটা ভালো না। আর যত দিন যাচ্ছে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সেটা নিয়েই দুশচিন্তা।
কেন কি হয়েছে?
না তেমন কিছু না। বাদ দাও। এখন বলো তুমি যে, আমাকে আর কি কি করতে হবে।
নাহ। এখন নয়। আমি তোমাকে ফোন করে যেখানে আসতে বলবো সেখানে চলে এসো। এখন আমি যাই।
চলে যাবে। আর একটু বসো না প্লিজ।
অর্পিতা একটু মৃদু হাসি দিয়ে বলল…
আজ না। আর একদিন সময় নিয়ে আসবো। আর তুমিও উঠো আমাকে আমার বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসো।
আবীর যেন এবার আরও অবাক হয়ে বসলো। মনে হচ্ছে যেন সে আজ অন্য অর্পিতাকে দেখছে। এই অর্পিতা যেন তার জন্যই তৈরি হয়েছে। সে অনেক খুশি হয়ে গেল। তার মনের মধ্যে খুশির ফোয়ারা বইতে থাকলো। সে কিছু বুছে উঠতে পারছেনা। সে ভাবছে শুধু কি বাইক চালানো শিখাতেই কি অর্পিতা তার এত কাছে চলে এসেছে। আর যদি তার একটা বাইক থাকে। তাহলে তো অর্পিতা তাকে ভালোবেসে ফেলবে। সে আজই গিয়ে তার বাবাকে গিয়ে বলবে যেন তাকে একটা বাইকের ব্যবস্থা করে দেয়। আবীর এসব ভাবতে ভাবতে আবীর এর সাথে বেড়িয়ে পড়লো।।।To be continue…….
2 Comments
Friends
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Jannatun Nur
@jannatun-nur
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
Syed Farah
@syedfarah
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Alock
@alock
জে এস এম অনিক
@00anik
আজিজুর রহমান
@azizurrahman

আপনার লেখাটি একটি মিষ্টি প্রেমের গল্পের মতো, যেখানে আবীর আর অর্পিতার কথোপকথন এবং তাদের ভেতরের অনুভূতির দোলাচল খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।