Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    6 months, 1 week ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বারঃ ১৪
    ——————————————————————————————————————
    লোকমান সাহেবের শরীর এখন প্রায় নিস্তেজ হয়ে আছে। এখন আর কোন দুঃস্বপ্ন তাকে ভর করেনা। কিন্তু তার মনের মধ্যের ভয়টা এখন তাকে কুড়ে কুড়ে শেষ করছে। রফিক সাহেব এসেছেন। প্রায় মিনিট পনেরো হয়েছে। লোকমান সাহেব তাকে ডেকেছেন। আজ রফিক সাহেব কোন বিরক্তি নিয়ে বসে নেই। কারন তার ছোটবেলার একমাত্র বন্ধু লোকমান এখন ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে হেটেঁ যাচ্ছেন। কিন্তু তার ডাক্তারী বিদ্যাও তাকে বাচাঁতে পারছেনা। নিরবতা ভেঙ্গে লোকমান সাহেব বললেন….
     কিরে তুই কি বিরক্ত হচ্ছিস??
    রফিক সাহেব ঠান্ডা আর শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,
     নাহ্। তুই কি যেন বলবি। সেটা বল আমাকে!!
    লোকমান সাহেব চোখ খুললেন এবং একটা দীর্ঘনিঃস্বাস ছাড়লেন। তারপর বললেন……
     তোর কি মনে আছে, (কিছুটা থেমে আবার বলতে শুরু করলেন) বিমল, রাজু, আসাদের কথা।
     হ্যা। কেন মনে থাকবে না।
     ওদের মৃত্যুর কারনগুলো তোর কি মনে আছে। (লোকমান সাহেবের কথাগুলো শেষ করতে খুব কষ্ট হলো।)
     হ্যা….। খুব মনে আছে। কিন্তু হটাৎ এসব কেন বলছিস??
     ওরা.. প্রত্যেকে খুব যন্ত্রনার মৃত্যুস্বাদ গ্রহন করেছে।
    একটু চুপ করে রইলেন রফিক সাহেব। মাথা নিচু করে রাখলেন কিছুক্ষন। তারপর বললেন….
     হুম্। ঠিক বলেছিস। কিন্তু ‍ওেদর মৃত্যুর কারনগুলো আমাকে এখনও ভাবিয়ে তোলে।
    লোকমান সাহেব কিছু সময় চুপ থেকে ভারি কন্ঠে বললেন…..
     আমার মৃত্যুটাও তোকে ভাবিয়ে তুলবে।
    রফিক সাহেব একটু অবাক হয়ে লোকমান সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বললেন
     মানে!! আমি তোর কথা ঠিক বুঝলাম না।
    লোকমান সাহেব আরও কিছুক্ষন চুপ করে বসে রইলেন। তারপর আবারও বলতে শুরু করলেন।
     মনে আছে তোর। কলেজ লাইফ শেষ করে তুই চলে গেলি দেশের বাহিরে MBBS করতে।
     হ্যা। সব মনে আছে। কিন্তু আজ এসব কেন বলছিস।
     তুই চলে যাবার পর আমি বিমল, আসাদ আর রাজু আমাদের পুরনো বাংলোতে একদিন রাত কাটিয়েছিলাম।
     হুম বুঝলাম। সেটাতো তোরা প্রায়ই কাটাতি। সেটা তো নতুন কিছু ছিল না তোদের জন্য।
     আমাদের বাংলোর পুরনো কেয়ারটেকার কুদ্দুস আর তার বউ সখিনার কথা মনে আছে তোর।
     খুব মনে আছে। কিন্তু কুদ্দুস যে এত জঘন্য ছিল সেটা কখনও বোঝা যায়নি।
    লোকমান সাহেব একটু রেগে গিয়ে বলে উঠলেন….
     কুদ্দুসকে কোন দিক থেকে জঘন্য বললি।
     যেই ব্যক্তি নিজের বউকে ব্যবসা করায় এবং তাকে খুন করে সে কখনও ভালো মানুষ বলে কি তোর মনে হয়।
    লোকমান সাহেব চোখ বন্ধ করে কিছু সময় চুপ করেই বসে রইলেন। তারপর একটু ঠান্ডা আর শান্ত কন্ঠে বললেন…..
     কুদ্দুস ভালো লোক ছিল। ও আসলেই ভালো লোক ছিল।
    রফিক সাহেব অবাক হয়ে বললেন…
     কিভাবে তিনি ভালো লোক ছিলেন। এসব কাজ কখনও কি কোন ভালো মানুষের কাজ হতে পারে??
    লোকমান সাহেব কেন যেন খুব বিরক্ত হয়ে গেলেন। তার কাছে কেন যেন এখন রফিককে খুব বিরক্ত লাগছে। বিরক্তি বোধ যেন এখন রাগে পরিণত হচ্ছে তার। লোকমান সাহেব বলছেন…
     রফিক তুই এখন যা। আমি তোর সাথে পরে কথা বলবো।
    এই কথায় রফিক সাহেব যেন কিছুটা অপমানিত বোধ করলেন। তিনি উঠে পড়লেন। রফিক সাহেব রুম থেকে বের হয়ে ড্রইংরুমে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন লোকমান সাহেবের স্ত্রী শানু বেগম সোফায় বসে আছেন। তিনি রফিক সাহেবকে বসতে বললেন। রফিক সাহেব বসতে চাননি। কিন্তু ভাবী কি এক কথা বলবে তাই বাধ্য হয়ে বসতে হলো। শানু ভাবী বলছেন…
     দেখুন ভাই। আপনার বন্ধুর উপর রাগ করবেন না। আসলে ও খুব যন্ত্রনায় ভুগছে।
     না ভাবী। আসলে ওর কথা বাদ দিন। আসলে ওর কপাল যে, ও আপনার মত স্ত্রী পেয়েছে।
    শানু বেগম এর চোখ কিছুটা ঘোলা হয়ে আসলো। কন্ঠটাও কিছুটা ভারী হয়ে উঠলো। ‍ূ
     আপনার বন্ধুর না বলা কথাগুলো আমি আপনাকে বলছি। তাহলে বুঝতে পারবেন ও কেন কাউকে কিছু বলতে পারছে না।
     বলুন শুনি কি কথা।
     আপনার বন্ধুকে যেই ফকির দেখিয়েছিলাম, পরবর্তীতে আমি একা ওনার কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে সব কিছু বলেছেন।
     ফকির!! ভাবী কি বলছেন!! কি বলেছে ফকির??
    শানু বেগম তার সেই ভারী কন্ঠে আবার বললেন…
     কলেজের পর ওরা ভার্সিটিতে যখন উঠলো, তখন ওরা চার বন্ধু মিলে ওদের পুরনো বাংলোতে যায়।
     হুম সেখানে আমরা প্রায়ই যেতাম।
     কিন্তু সেদিন সম্ভবত আপনি ছিলেন না।
     হুমমম। আমি তখন বিদেশে চলে গিয়েছিলাম। MBBS টা শেষ করতে গেলাম তখন আমি।
    শানু বেগম কিছুটা সময় নিয়ে আবার বললেন…
     শুনেছি সেখানে এক কেয়ারটেকার ছিল কুদ্দুস। ওর নাকি ফাঁসি হয়েছে।
     হ্যা আপনি ঠিকই শুনেছেন। আসলে কুদ্দুস মানুষ খুব খারাপ ছিলেন।
    শানু বেগম এর গলা দিয়ে যেন শব্দ বের হতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে, তার চোখের কোনে হটাৎ করেই পানি চলে আসলো। তিনি চোখ মুছতে মুছতে বললেন….
     আসলেই। কুদ্দুস এর জন্য আজ লোকমান মানে আমার স্বামী বেঁচে আছেন।
     ভাবী আপনার কথা ঠিক আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
     আপনার চার বন্ধু মিলে সেই রাতে কুদ্দুস এর বউ সখিনাকে রেপ করে ভাই। এবং সেই রাতে রেপ করা অবস্থায় সখিনা মারা যায়য়য়য়য়য়য়…….
    শানু বেগম মাথা নিচু করে তার ওরনায় মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। রফিক সাহেব অবাক হয়ে রইলেন। তিনি কি বলবেন বা কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। রফিক সাহেব বলছেন….
     ভাবি আপনি এসব কি বলছেন। এটা কি করে সম্ভব?? লোকমান তো এরকম না।
    শানু বেগম চোখ মুছতে মুছতে মাথা তুললেন। এবং চোখ মুছতে মুছতে বললেন….
     আসলে দেখুন ভাই। মানুষের উপর এর দিক দেখে কখনও তার ভেতরকার কথা বলা মুশকিল। আর কথায় আছে না, সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। সে না চাইতেও হয়ে গিয়েছে। হয়তো সে নাও করতে পারে কিন্তু সে সেই পাপকে প্রশ্রয় তো দিয়েছে।
     কিন্তু ভাবী কুদ্দুস এর শাস্তী কিভাবে হলো।
     আসলে কুদ্দুস তো গরিব ছিল। সে চাইলে কিছুই করতে পারতো না। তারা চার জন কুদ্দুস এর সন্তানের দায়িত্ব নেয়। এবং বাংলো বাড়িটি কুদ্দুস এর ছেলে এবং মেয়েকে দিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়।
     কিন্তু কুদ্দুস মেনে নিল কেন…??
     আচ্ছা আপনার কি মনে হয়, কুদ্দুস কি পারতো আপনার চার বন্ধুর সাথে।
     তা অবশ্যই ঠিক বলেছেন। কিন্তু ভাবী……..
    শানু বেগম রফিক সাহেবকে থামিয়ে নিজে বলতে শুরু করলেন…..
     আপনার বন্ধু আর বাচঁবে না। সে ..সে…….
    শানু বেগম আর কথা বলতে পারলো না। তিনি কান্না শুরু করলেন। রফিক সাহেব যেন বোবা দর্শক। তিনি কাকে কি বলবেন। কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। তবুও তিনি শান্তনা দেবার জন্য বললেন…..
     ভাবী প্লিজ কান্না করবেন না। দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
    শানু বেগম কান্নার পরিমান আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে বললেন…. নাহ্। আপনি জানেন তো ওর তিন বন্ধু কিভাবে মারা গিয়েছে। শুধু বাকি ছিল ও। কথায় আছে ভাই, পাপ ছাড়েনা তার বাপকেও…..
    কথা শেষ না করেই আবারও কান্না শুরু করলেন। রফিক সাহেব বেশ কিছুক্ষন চুপ করে বসে রইলেন। তার মাথায় এখন শুধু নানারকম কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। শানু বেগম আর কিছু বললেন না। তিনি কাদঁতে কাদঁতে চোখ মুছছেন এবং আবার কান্না করছেন। রফিক সাহেব খুব ভালো করে বুঝতে পারছেন, শানু বেগমের মানুষীক অবস্থা। এক সাথে দুইটি ঝড়। প্রথমত স্বামীকে হাড়িয়ে ফেলার ভয়। অন্যদিকে স্বামীর অপকর্ম। রফিক সাহেব যেন নিজেই মেনে নিতে পারছেন না।। তিনি শানু বেগম এর থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

    To be continue……

    1
    2 Comments
Skip to toolbar