Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    6 months, 1 week ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বারঃ ১৫
    ——————————————————————————————————————
    আবীর এখনও আসছে না। কেন আসছে না। নাকি আমি আগে চলে আসলাম। ধুর, আর কত সময় বসে থাকবো? পাক্কা ১০ মিনিট বসে আছে। কিন্তু ওর আসার কোন খবর নাই। ওকে কি একটা ফোন দিব! ধুর না, ফোন দেয়াটা কি ঠিক হবে!! কেন ঠিক হবেনা। At least আমি ওর হবু বউ। বাহ্ দারুন, এখনই হবু বউ ভাবছি। ওতো আমাকে ভালোবাসে, আর এখন কি আমিও ওকে ভালোবাসি?? হ্যা আমিও ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তু ওকে জানানো যাবে না। তাহলে Advantage নিবে। মনের কথা মনের মধ্যে রাখতে হবে। কিন্তু আমার আজকের সিদ্ধান্ত কি ও মেনে নিতে পারবে, যদি ও না পারে, তাহলে কি হবে? আচ্ছা আবিরটা এখনও আসছে না কেন?
    অর্পিতা বসে বসে এসব ভাবছে আর আবীর এর জন্য অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে আবীর ক্যাফেতে চলে এসেছে। দুজন বিপরীত মুখি হয়ে বসেছে। অর্পিতা আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলছে,
     কয়টা বাজে আবীর? কখন আসতে বলেছি আর তোমার এই আসার সময়। নাকি আমি আসতে বলেছি বলে সব শোধ নিচ্ছ।
    আবীর এর ঠোটের কোনে একটা কিঞ্চিত হাসি ফুটি উঠলো, আবীর বলল
     অর্পিতা আমি কি কিছু বলবো।
     কি বলবে? রাস্তায় জ্যাম ছিল। বাসায় কাজ ছিল…….
     অর্পিতা।।। আমার কথাটা আগে শোন। তুমি ঘড়ি দেখ। তুমি আমাকে চারটায় আসতে বলেছো। এখন তিনটা পঞ্চাশ বাজে।
    অর্পিতা ঘড়ির দিকে তাকালো। আসলেই তো । তবুও অর্পিতা বলে উঠলো।
     আমি তোমাকে পৌনে চারটা বলেছি। তুমি শুনতে ভুল করেছো।।
    আবীর এবার নিচের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে থাকলো। অর্পিতা বলল…
     কি ব্যাপার তুমি হাসছো কেন??
     নাহ্। হয়েছে কি, আমি আজ জানতে পারলাম যে আমার কানে সমস্যা রয়েছে। যাই হোক, তুমি বলো তো হটাৎ এতটা জরুরিভাবে তলব করার কারন টা কি??
     কেন তোমার কি তাড়া আছে। যদি তাড়া থাকে তাহলে চলো উঠি।
     আহা। আমি কি তা বলেছি। আচ্ছা Sorry.
    অর্পিতার এবার মুচকি হেসে দিল। তারপর সে বলল।
     আবীর তুমি সেদিন আমাকে বলেছ। আমার জন্য সব করতে পারবে। সেটা কি সত্য।
    আবীর তার ডানপাশের চোখের ভুরু কুচকে উত্তর দিল
     তোমার কি মনে হয়। আমি কি তোমাকে মিথ্যা বলেছি।
    অর্পিতা কিছুটা চুপ থেকে আবার বলল,,
     শোন, প্লিজ ভেবো বলো। আমি তোমাকে এমন কিছু বলব যেটা হয়তো তোমার রাখা পসিবল হবে না।
    আবীর একটু মুচকি হেসে বলল
     শোন অর্পিতা তুমি যেটা বলেছো সেটাই কিন্তু আমি সবসময় করার চেষ্টা করেছি। আর ভবিষ্যতেও তাই হবে তুমি যেটা বলবে।
    আবির এর কথা শেষ করার আগেই অর্পিতা বলে উঠলো….
     আমাকে আজকের বিয়ে করতে পারবে???
    আবীর অবাক হয়ে গেল। সে অর্পিতার মুখের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। অর্পিতা আবার বলল
     কি হলো, বলো।। তুমি আমাকে আজকে বিয়ে করতে পারবে কি না??
     অর্পিতা…… তুমি কি বলছো। তোমার মাথা কি ঠিক আছে!!!
     আমার মাথা ঠিক আছে। তাই প্রথমেই বলেছিলাম ভেবো বলো।
    আবীর চুপ করে রইলো। মাথা নিচু করে বসে রইলো। কি বলবে সে অর্পিতাকে। সে কল্পনাতেও ভাবতে পারেনি তাকে এমন কিছু বলবে। আবীর মাথা উচু করে বলল
     তুমি কি মজা করছো আমার সাথে।
     আমি মজা করছি না। আমি সিরিয়াস। তুমি এক্ষুনি সিদ্ধান্ত নাও।
     দেখো অর্পিতা এই মুহুর্তে আমার Family কে রাজি করাবো কিভাবে।
     আরে গাধাঁ। আমি কি বলেছি তুমি তোমার Family কে জানাও। আমারা কাউকে না জানিয়ে করে ফেলবো।
    আবীর এবার হেসে দিল। আবীর হেসে হেসে বলছে।
     অর্পিতা। আসলেই তোমার মাথা ঠিক নাই।
    অর্পিতা এবার একটু রেগে উঠলো। তার মেজাজটা একটু গরম হয়ে গেল। সে উঠে দাড়ালো। এবং বলল….
     আবীর আমি চলে গেলাম। তুমি আমার সাথে আর যোগাযোগ করবে না। আর হ্যা আমি আমার মোবাইল এর নম্বরটাও পরিবর্তন করে ফেলবো। দয়া করে আমার সাথে আর যোগাযোগ করবে না।
    আবীর একটু অস্থির হয়ে বলল
     Please অর্পিতা বসো। তুমি যেওনা। একটু বসো। একটু ভাবো। এটা সম্ভব কি করে।
     আবীর আমি জানিনা। তুমি বলেছো আমার জন্য তুমি সব করতে পারবে। আচ্ছা Bye ভালো থাকবে।
    অর্পিতা এগিয়ে যেতে লাগলো। আবীর বলে উঠলো।
     অর্পিতা অর্পিতা। শোন শোন, আমি তোমাকে আজকেই বিয়ে করবো।
    অর্পিতা দাড়িয়ে পরলো। আবীরও অর্পিতার সামনে এসে দাড়ালো। অর্পিতা আবীর এর দিকে তাকিয়ে বলল…..
     Are you serious, কোন মজা করছো নাতো।
     নাহ্। তবে আমাকে এক ঘন্টা সময় দাও। আমি আমার মাকে বলবো। কারন মা’কে আমি সবকিছু বলি। প্লিজ।।।
     তোমার মা যদি নিষেধ করে।
     মা কখনও আমাকে বাধা দিবে না। কারন মা তোমার ব্যাপারে সব জানে। মা তোমাকে খুব পছন্দ করে। তাছাড়া আমার পকেটে সেই পরিমান টাকাও নাই। মা’র কাছ থেকে টাকা আনতে হবে।
     আচ্ছা ঠিকাছে। যাও তবে এক ঘন্টা। মনে থাকে যেন।
     ওকে মনে থাকবে। কিন্তু বিয়ে করে তুমি কোথায় যাবে।
    অর্পিতা আবীর এর দিকে বড় বড় চোখ করে বলে উঠলো
     কোথায় যাবো মানে। আমি আমার বাসায় যাবো আর তুমি তোমার বাসায় যাবে।
    আবীর মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে বলল…
     আমরা কি বাসর ঘর করবো না।
    অর্পিতা এবার একটু হেসে বলল…
     জানিনা। তুমি যাও তো। পরে সব কথা হবে।
    অর্পিতা এবং আবীর দুজনেই বের হলো। দুজনের মধ্যেই এক অন্যরকম আনন্দ বিরাজ করছে। দুজনেই অনেকটা উত্তেজনা নিয়ে তারা বের হয়ে গেল।

    To Be Continued…..

    1
    2 Comments
    • অর্পিতা আর আবীরের কথোপকথনটি খুবই প্রাণবন্ত এবং মজার।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 04 December 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar