Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    9 months, 2 weeks ago

    আমার দুই পুত্রের স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, বন্ধুদের মায়েদের সাথে আমার পরিচয় নেই। স্কুলে বা কোচিং-এ যেয়ে আমি বসে থাকিনা। কোচিং থেকে ছেলেদের আনতে গেলেও মা’রা যেখানে বসে, সেখানে আমি কোনো দিনও বসার জায়গা পাইনা। কারণ আমি পরে, অর্থাৎ ছুটির সময় আমার সন্তানকে নিয়েই চলে আসি। তাই আমার জন্য তাঁদের জায়গা বরাদ্দ নেই।

    তারপরেও যদি ২/১দিন একটু আগে যাই তবে মা’দের মধ্যে তাঁদের বাচ্চার পড়ানোর ধরণ শুনে আমার ভিতরে চাপবোধ হয়। যেমন- তাঁরা তাঁদের সন্তানদেরকে সূয্যি মামা জাগার আগে উঠিয়ে teacher-এর বাসায় নিয়ে যান, প্রাইভেট শেষে তারপর সেখান থেকে মা স্কুলে নিয়ে যান, স্কুল শেষ করে আর এক teacher এবং তারপর কোচিং। এরপর বাচ্চার কোচিং শেষ হয় রাত ৯.৩০ মিনিটে। তারপর বাসায় ফেরেন মা এবং বাচ্চা। স্কুল ড্রেস পড়ে সেই যে কাক ডাকা ভোরে বের হয় আর সব কাজ শেষে বাসায় ফিরে ড্রেস খোলার সময় সেই রাতে। মাঝে বাচ্চার খাওয়া চলে যানবাহনে, শুধু বাচ্চা কেন মা ও খেয়ে নেন রাস্তায়। সবচেয়ে করুণ অবস্থা হয় যদি তাঁর ছোটো ভাইবোন থাকে, কারণ তাঁকে সাথে নিয়েই এসব কিছু করেন মা। এসব শুনে আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। কি করে সম্ভব!! এটা কি কোন জীবন হলো?

    এই মারা কি কখনো শুনার বা জানার চেষ্টা করেন যে তাঁদের সন্তান কি চায়? এই মা কি একবারও ভেবে দেখেন তাঁর সন্তানের শৈশবটা কিভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, পড়াশুনা নামক দানবের হাতে পড়ে।

    যাক, প্রত্যেকটা বাবা-মা- ই চান তাঁর সন্তান যেন ভালো রেজাল্ট করে। তাঁর সন্তান যেন জীবনে একজন সফল ব্যাক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

    ১৯৭১ সালে এ দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানীরা এবং তাঁদের এ দেশীয় দোসররা সব বুদ্ধিজীবীদেরকে মেরে ফেলার মত জঘন্য কাজ করেছিল। আর আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশুন্য করার জন্য মেতে উঠেছে পাকিস্তানীদের পেতাত্মারা। যারা আমাদের সন্তানদের মেধা বিকাশে বাঁধা দিচ্ছে।

    তাঁদের এই কৌশল ধরতে পারছি কি আমরা? যদি পারতাম তবে তাঁরা তাঁদের জাল বিছাতে পারতোনা আমাদের মাঝে। এই যে মা’দের কিছু ঘটনা বল্লাম, যিনি সকাল, বিকাল, রাত কাঁটাচ্ছেন রাস্তা, স্কুল আর কোচিং সেন্টারে।

    এত কিছু সন্তানের জন্য করার পরেও মা, বাবার সন্তানের উপর আস্থা নেই। আস্থা নেই এই কারণে বলছি যে, তাঁরা পিইসি পরীক্ষার মত এত ছোট ক্লাশের পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্তানদেরকে দেন। কেন দেন? কেন তাঁরা ছুটছেন? গ্রেডের জন্য? কি লাভ এই গ্রেড দিয়ে? তাঁরা কি একবারের জন্য ভেবে দেখেছেন সন্তানের চোখে তাঁদের অবস্থান কোথায় নেমে যাচ্ছে?

    এই সন্তানকে তিনি হয়তো ভালো রেজাল্ট কিনে দিচ্ছেন, কিন্তু চিরদিনের জন্য সন্তানের ভিতরে বপন করে দিচ্ছেন দূর্নীতির বীজ। তাঁকে মেধাশুন্য করে দিচ্ছেন। আস্তে আস্তে সে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, সে অপেক্ষা করে থাকবে পরীক্ষার পূর্বরাতের আশায়। আমি জানি এরকম মা বাবার সংখ্যা বেশী নয়। তারপরেও জানি এটা অল্পও নয়।

    আমরা যদি আমাদের সন্তানের জন্য মাদককে “না” বলতে পারি তবে কেন আমরা শ্লোগান হিসেবে বলতে পারিনা –
    “তোমার মেধায় তুমি ধন্য,
    ফাঁস হওয়া প্রশ্নের দরকার নেই
    আমাদের কারো জন্য।”

    আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানদের সঠিক ও সুন্দর পথে মেধা বিকাশে সাহায্য করি। আমাদের দেশকে যারা মেধাশুন্য করার জন্য চেষ্টা করছে তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করি।
    ০৭/১২/২০১৭

    4
    2 Comments
    • শহুরে বা আধাশহুরে সমাজে মা-বাবার মধ্যে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং তার ফলস্বরূপ শিশুদের শৈশব ও নৈতিকতার যে পতন—তা নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar