Profile Photo

পি.কে. সরকারOffline

  • PKSarker
  • Profile picture of পি.কে. সরকার

    পি.কে. সরকার

    4 months, 3 weeks ago

    চেনা মানুষের অচেনা রূপ…

    “মানুষ চেনা”– এক অর্জনীয় যোগ্যতা এবং প্রত্যাশার ফাঁদ;
    জীবনের একটা সত্য এই যে, আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের সাথে মেলামেশা করি—পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, বন্ধুত্বে, সমাজে। কিন্তু এই মেলামেশার মধ্যে লুকিয়ে থাকে একটা অদৃশ্য যুদ্ধ: মানুষকে চেনার যুদ্ধ। “মানুষ চিনতে পারাও একটি যোগ্যতা, যে যোগ্যতার ব্যাপক ঘাটতি আমার মাঝে… এই ঘাটতিতে নব নব অভিজ্ঞতা যুক্ত করছে।” এই কথাটা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটা আমাদের সকলের জীবনের একটা সার্বজনীন সত্য।
    মানুষ চেনা কেন এত কঠিন? কারণ মানুষ স্থির নয়। মানুষ বদলায়—সময়ের সাথে, পরিস্থিতির সাথে, স্বার্থের সাথে। আজ যে মানুষটা তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে, কাল সে হয়তো অন্যরকম হয়ে যেতে পারে। আমরা প্রায়শই চেহারা দেখে, কথা শুনে, প্রথম ছাপে বিচার করে ফেলি। কিন্তু চেহারা বা প্রথম ছাপ মানুষের আসল রূপ নয়—এটা শুধু একটা মুখোশ। বিপদে পড়লে, স্বার্থের সময়ে, চাপের মুহূর্তে আসল মানুষটা বেরিয়ে আসে। তখনই বোঝা যায়, যাকে আমরা চিনেছি বলে ভেবেছিলাম, সে আসলে কতটা অচেনা ছিল।
    এই অচেনা মানুষের সাথে আমরা প্রত্যাশা জড়িয়ে ফেলি। “এই মানুষটা এমন করবে না”, “সে আমার জন্য এটা করবেই”, “আমি যা দিয়েছি তার প্রতিদান পাবই”—এই প্রত্যাশাগুলো আমাদের মনে গেঁথে যায়। কিন্তু যখন প্রত্যাশা ভাঙে, তখন হতাশা আসে। আর এই হতাশা থেকে জন্ম নেয় রাগ, অভিমান, দূরত্ব। মনোবিজ্ঞান বলে, অপূর্ণ প্রত্যাশা (unmet expectations) আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে অস্থিরতা, উদ্বেগ, এমনকি সম্পর্কের ভাঙনও ঘটে। “যদি পরিহার না করেন, তবে… আর একটি নতুন অভিজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত আছেন তো?” এখানেই লুকিয়ে আছে জীবনের একটা গভীর শিক্ষা।
    প্রত্যাশা পরিহার করা মানে সবকিছু ছেড়ে দেওয়া নয়। এটা মানে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া। আমরা যখন মানুষকে “যেমন আছে” তেমনি গ্রহণ করতে শিখি, তখনই হতাশা কমে। প্রত্যাশা রাখব, কিন্তু সেটা নমনীয় রাখব। জানব যে, মানুষ নিখুঁত নয়—তারা ভুল করে, স্বার্থ দেখে, বদলায়। এই স্বীকৃতি আমাদের মুক্ত করে। আমরা আর নিজেকে দোষ দিই না যে “আমি কেন চিনতে পারলাম না”। বরং প্রত্যেকটা হতাশা থেকে শিখি—একটা নতুন অভিজ্ঞতা যোগ হয়।
    সামাজিক দিক থেকে দেখলে, এই যোগ্যতার অভাব আমাদের সমাজকে আরও বিভক্ত করে। আমরা অতি দ্রুত বিচার করি, লেবেল লাগাই, সম্পর্ক ভাঙি। কিন্তু যদি আমরা সবাই একটু ধৈর্য ধরে মানুষকে চেনার চেষ্টা করি, তাদের প্রত্যাশা না চাপিয়ে তাদের আসল রূপ দেখার সুযোগ দিই—তাহলে সমাজটা আরও সহানুভূতিশীল হবে। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার—সবকিছুতে গভীরতা আসবে।
    মানুষ চেনা একটা যোগ্যতা, যা অর্জন করতে হয়। এতে ভুল হবে, হতাশা হবে—কিন্তু প্রত্যেক ভুলই একটা শিক্ষক। প্রস্তুত থাকো নতুন অভিজ্ঞতার জন্য। কারণ জীবন তো থামে না—সে তোমাকে আরও চেনার, আরও বোঝার সুযোগ দেয়। আর সেই সুযোগগুলোকে গ্রহণ করলেই তুমি নিজেকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারবে।

    পি কে সরকার
    সহকারী শিক্ষক
    রামচন্দ্রপুর আদিবাসী সপ্রাবি
    রামচন্দ্রপুর, বাংলাদেশ।
    ১৫.০১.২০২৬ খ্রিঃ

    6
    4 Comments

পি কে সরকার

 

“পি.কে. সরকার — শব্দের ভেতর মানবতা ও সমাজের গভীরতম সত্য খুঁজে চলা এক সমকালীন বাংলা লেখক।”

Skip to toolbar