Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    3 months, 3 weeks ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বারঃ শেষ পর্ব
    ——————————————————————————————————————
    চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। লোকমান সাহেব আজ গভীর ঘুমে মগ্ন। সন্ধ্যায় আজ তিনি তার ড্রাইভারকে নিয়ে তার বাংলোতে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি জানেন না কি হবে তার সাথে। কিন্তু দশটা বাজতেই তার গভীর ঘুম পায়। সে ঘুমিয়ে পরে। হটাৎ কিসের যেন আওয়াজ হচ্ছে। আওয়াজ এর শব্দ লোকমান সাহেবের কানে আসতেই তার ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। সে তাকিয়ে তার ঘড়িটার দিকে তাকালেন। রাত দুটো বিশ। কিসের যেন একটা আওয়াজ ভেসে আসছে। তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি ধীরে ধীরে উঠে বসলেন। তিনি কান খাড়া করে শব্দটা শোনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না। তিনি চুপচাপ বসে রইলেন। একটুপর তিনি বুঝতে পারছেন কেউ যেন তাকে ডাকছে। হ্যা আসলেই তো তাকে সাহেব বলে কেউ ডাকছে। কন্ঠটা খুব চেনা মনে হচ্ছে। একটু পর কন্ঠটা আরও স্পষ্ট হলো। তিনি এবার চিনতে পারছেন। এটা তো সখিনার কন্ঠ। কিন্তু সখিনার তো মৃত্যু হয়ে গেছে। তাহলে ডাকছে কে? তিনি আজ আর ভয় পাচ্ছেন না। তিনি বিছানা থেকে অনেক কষ্টে নেমে নিচে দাড়ালেন। তারপর রুম থেকে বের হলো। চারদিকে খুব অন্ধকার। কিছু দেখা যাচ্ছে না। আজ লোকমান সাহেব এর একটুও ভয় করছেনা। শুধু শোনার চেষ্টা করছে আওয়াজটা কোথা থেকে ভেসে আসছে। সখিনাকে তার বাংলোর পাশেই কবর দেয়া হয়েছে। সখিনার পাশের কবরটা তার হাসবেন্ড কুদ্দুস এর। কিন্তু একি আওয়াজটাতো মনে হচ্ছে ঐখান থেকেই ভেসে আসছে। তাহলে কি তারা তাকে ডাকছে। তাহলে কি আজ তিনি চিরতরে বিদায় নেবেন। নাকি আজও একটা ভয় তার ভেতরে বসিয়ে দেবেন। কি আছে তার কপালে। লোকমান সাহেব হটাৎ লক্ষ করলেন, কবরের পাশে দুজন বসে আছে। কারা তারা!! লোকমান সাহেব এইবার প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি দাড়াতে পারছিলেন না। তার বুকের ভেতরটা চিন চিন করে ব্যাথা করছে। তাহলে কি তার আজ হার্ট এট্যাক করে মৃত্যু হবে। এবার কবরের পাশে বসে দুজন মানুষ একসাথে তাকে ডাকলো।

     সাহেব।। ও সাহেব।। এইখানে আসেন।। এইখানে আসেন সাহেব।

    লোকমান সাহেব কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি তার বুকের উপর হাতটা চেপে ধরে রাখলেন। তারপর চোখটা বন্ধ করলেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তিনি ভাবলেন তিনি আজ আর পিছু ফিরে যাবেন না। যা হবার হবে। আজ তিনি তার এই ভয়ের মোকাবিলা করবেন। তিনি চোখ খুললেন। ধীরে ধীরে তার পা দুটো’কে সামনের দিকে বাড়ালেন। যা হবার হবে। তার মাথাটা হটাৎ ভারি হয়ে উঠছে। বুকের ব্যাথাটাও বাড়ছে। তিনি হাত দু’টো দিয়ে বুকে জোরে চেপে ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আজ তার সপ্নীল কারাগার থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছেন। তিনি জানেন না কি হবে আজ তার সাথে। তুবও তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন তো এগিয়ে যাচ্ছেন। আজ আর পিছু ফিরে যাবেন না।।

    সমাপ্ত

    1
    2 Comments
Skip to toolbar