Profile Photo

ইফফাত আরা ঐশীOffline

  • aishee@
  • Profile picture of ইফফাত আরা ঐশী

    ইফফাত আরা ঐশী

    2 months, 4 weeks ago

    আজ নারী দিবস।
    সবাই নারীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। আবারও বলা হচ্ছে—এই নারী না থাকলে পৃথিবীতে কিছুই সম্ভব নয়। নারী কারো মা, কারো বোন, কারো আত্মীয়।

    কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই সম্মান কি শুধু আজকের দিনের জন্য?

    সারা বছর এই নারীকেই নানা কথা শুনতে হয়। অনেক লেখক আছেন যারা নারীদের নিয়ে শিল্পচর্চা করেন। কবিতায় নারীর সৌন্দর্য, তার অঙ্গের সারমর্ম তুলে ধরা হয়। মানুষ সেই কবিতা পড়ে বাহবা দেয়।
    কিন্তু বাস্তবতায় সেই নারীকেই আবার হ্যারেজ করা হয়।

    সুন্দর করে নারীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়, অথচ ইনবক্সে বলা হয়—
    “আসুন, একটু হট রোমান্টিক আলাপ করি। কেউ জানবে না, বিশ্বাস রাখতে পারেন, সব কথোপকথন ডিলিট করে দেবো।”

    এ কেমন সম্মান?

    বাবার বয়সী মানুষও অনেক সময় ইনবক্সে হ্যারেজ করে। সবার সামনে ভালো মানুষের অভিনয় হয়তো করা যায়, কিন্তু সংকীর্ণ মন নিয়ে নিজেকে কতদিন লুকিয়ে রাখা যায়?

    ঘটা করে নারীদের নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় নারীর কারণেই নারী অসম্মানিত হয়। কেউ আছে অন্য এক নারীর সংসার ভেঙে দিয়ে নিজের আরাম–আয়েশের জীবন গড়ে তোলে। আবার কেউ আছে বিয়ে হওয়া পর্যন্তই নানান মতবাদ আর কটূকথা শুনতে হয়।

    এক নারী যখন অন্য নারীর জীবন দুর্বিসহ করে তোলে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই নারী দিবসের সার্থকতা কোথায়?

    ইসলাম ধর্মে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমাজে অনেক সময় সেই নারীকেই অসম্মানিত করা হয়। যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক—নারীকেই কথা শুনতে হয়।

    আমাদের সমাজে নারীদের নিয়ে ট্রল, হ্যারেজমেন্ট, ধর্ষণ, প্রতারণা—সবই আছে। এমনকি গর্ভধারিণী মাকেও অনেক সময় সম্মান দেওয়া হয় না। বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে থেকেও অনেক নারী সুখী হতে পারে না।

    আমার কষ্ট হয় সেই সব নারীদের জন্য—
    যারা মায়ের মমতা থেকে বঞ্চিত,
    স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত,
    শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার থেকেও রেহাই পায় না।

    অনেক জালিম পরিবার আছে, যারা নারীর প্রতি অমানবিক নির্যাতন চালায়। অত্যাচারী মানুষদের বিরুদ্ধে তেমন আওয়াজ ওঠে না, তবুও শেষ পর্যন্ত দোষটা নারীর ঘাড়েই চাপানো হয়।

    নারীর স্বাধীনতা নিয়ে পডকাস্ট হয়, প্রচারণা চলে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—নারীরা কি সত্যিই পূর্ণ সম্মান পাচ্ছে?

    অনেক পরিবারে ভাই–বোনের মধ্যেও বৈষম্য দেখা যায়। জমি–জমা নিয়েও ঝামেলা লেগেই থাকে। আমি কষ্ট পাই সেই সব নারীদের জন্য, যারা সত্যিকার অর্থে অত্যাচারিত।

    আমাদের পুরুষ সমাজও অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বের জায়গায় পিছিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে খুব একটা কথা হয় না; বরং নারীর ভুলগুলোই বেশি চোখে পড়ে।

    অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নারীরা বেশি হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়। অথচ সেই মানুষরাই আবার নারী দিবসে নারীদের সম্মান জানানোর কথা বলে।

    বিবাহিত বোনেরা যখন বলে—শ্বশুরবাড়িতে ইফতার, কাপড় কিংবা অন্যান্য সংরঞ্জাম পাঠাতে হবে—তখন কিছু পুরুষের আচরণ দেখে মনে হয় যেন তারা মেরুদণ্ডহীন হয়ে জন্ম নিয়েছে।

    বাংলার ভূখণ্ডে যেন ভণ্ডামির স্তূপ জমে গেছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় জন্মভূমি স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার স্বাধীনতা কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি? স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক কঠিন।

    অনেকে হয়তো বলবেন—আপনারা সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।
    না, আমরা নতুন কোনো অধিকার চাই না। যে অধিকার আছে, সেই অধিকার নিয়েই সম্মান ও মর্যাদার সাথে বাঁচতে চাই।

    আসলে পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেদের মন–মানসিকতা থেকে। পরিবার থেকেই নারীর প্রতি সদাচরণ, সম্মান ও বিনয় শেখাতে হবে। তবেই সমাজও পরিবর্তিত হবে।

    যেসব নারী প্রতারণা করে, তাদের বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

    আমার একটাই কথা—
    তোমরা মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের ভালোবাসো।
    তোমরা আল্লাহর কাছে খুবই মূল্যবান।
    নিজের প্রতি জুলুম করা থেকে বিরত থাকো।

    আজ সবার টাইমলাইনে নারীদের নিয়ে পোস্ট হবে।
    কিন্তু সত্যিকারের সম্মান তখনই হবে, যখন সেটা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে সারা বছরের আচরণে প্রকাশ পাবে।

    মনের অনুভূতি
    || ইফফাত আরা ঐশী ✍️

    —পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত
    (০৮/০৩/২০২৬)

    4
    2 Comments
Skip to toolbar