Profile Photo

নীল চন্দ্র চাকমাOffline

  • nilchandra
  • চেংগী কাহিনী
    ২০১৮ সালের জুন মাস। সকালে ঘুম থেকে ঊঠার পর মোবাইলটা বাজছিল। কল রিসিভ করতেই ওদিক থেকে বলল, শুভ সকাল, ৩ বিজিবি পানছড়ি ব্যাটালিয়ন থেকে বলছি। দাদা, ভালো আছেন?আপনাকে একটু আমাদের সাহায্য করতে হবে। আমাদের ব্যাটালিয়নের প্রতিটি ক্যাম্পে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য স্যাটেলাইট ফিটিং করতে হবে। স্কুল বন্ধ। গ্রীষ্মকালীন আর রমজানের ছুটি চলছিল। আমিও তাই রাজী হয়ে গেলাম।
    প্রথমদিন শনখোলা পাড়া ক্যাম্পে কাজ করলাম।কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ- এভাবে দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ কাজ শেষ করে রাতটা ক্যাম্পেই কাটালাম।শনখোলা পাড়া আমার জন্মস্থান।আমার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই সেখানে থাকেন। চাইছিলাম তাদের সাথে গল্প গুজব করে আসব, কিন্তু ক্যাম্প থেকে অনুমতি পায়নি। রাতের বেলা বাইরে থাকলে ওনারা ব্যাটালিয়নে রিপোর্ট করতে পারবে না। প্রসঙ্গত শনখোলা পাড়া পাশাপাশি দুইটা।একটা পুরাতন শনখোলা পাড়া আর অন্যটা নতুন শনখোলা পাড়া। ১৯৬৪সালের কাপ্তাই বাঁধের উদ্বাস্তুরাই এই নতুন শনখোলা পাড়া গড়ে তোলেন। তখন এখানে প্রচুর শনের বন ছিল। তাই জায়গার নাম দেন শনখোলা আদাম। কিন্তু বর্তমানে আদাম হয়ে গেল পাড়া।
    একই সময়ে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে পাশাপাশি দুইটি ক্যাম্পের সৈনিক মাঝপথে মিলিত হয়ে আবার নিজ ক্যাম্পে ফেরত যায়। কোন অফিসার বা মালামাল নিরাপদে এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য এই পদ্ধতির নাম লিংক ।পরের দিন লিংক দেওয়া হল কচুছড়ি ক্যাম্পের সাথে আমাদের নেওয়ার জন্যে। সামনে পিছনে সৈনিক আমরা মাঝখানে সুরক্ষিত। আমার সাথে সহকারী ছিল কৃষ্ণ চাক্‌মা।
    ছোটবেলায় আমি শনখোলা পাড়া থেকে প্রায় প্রতিদিন দাদুর সাথে যেতাম পুজগাং পাড়ে আমাদের শস্যক্ষেতে।তখন কচুছড়ি ক্যাম্প ছিলনা।বাউমুয়া ছড়া নামক ছোট খাল। পেক্কুয়াছড়া (পলিমাটির নালা) মাছ কাঁকড়ার জন্য বিখ্যাত এই খালের পাশে এই কচুছড়ি ক্যাম্প। ব্যাটালিয়ন থেকে এর নামকরন হয় কচুছড়ি ক্যাম্প। অথচ কচুছড়ি নামে আশাপাশে কোন খাল নেই।পুজগাং থেকে পুর্বদিকে আরেকটা ছোট খাল, সেটার নাম খজেইছড়ি। এই কচুছড়িই খজেইছড়ির বিকৃত উচ্ছারন।যাক কচুছড়ি ক্যাম্পের কাজ শেষ করে দুপুরের খানা খেয়ে পরবর্তী লিংক বৌদ্ধমনি ক্যাম্প।
    পুজগাং খাল পার হয়ে বৌদ্ধমনি পাড়া। ঐ পাড়ার পুর্ব-দক্ষিনে সবচেয়ে উঁচু টিলার ঊপরে এই বৌদ্ধমনি ক্যাম্প।পাশে খজেইছড়ি খাল। তার উত্তর পাশেই শিলছড়ি।দুটি ছড়ি পাশাপাশি পুর্বদিক থেকে এসে পুজগাং-এ মিশেছে।
    ইতিহাসের নিরব স্বাক্ষী এই খজেইছড়ি ও শিলছড়ি খালদ্বয়।অনেক অনেক আগে চাকমা ও মারমাদের (মগদের) মধ্যে হানাহানি দ্বন্দ্ব চলছিল। মায়ানমারের ইতিহাস অনুসারে মগ রাজা মিত্থির (মেংগাদি) আমলে আনুমানিক ১৩৩৩-৩৪ সালে চাকমাদের বংশকে বিলুপ্ত করার জন্য হামলা করা হয়। চাকমারা মগদের সাথে পেরে উঠছিল না । সবাই মগদের ভয়ে পালাচ্ছিল তখন। মারমা বা মগরা যেখানে চাকমা পেতেন সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালাতেন। তখন চাকমাদের দূর্দিন চলছিল। ঘরে ও থাকতে পারেনা আর বনে ও লুকিয়ে থাকতে পারত না। ঘরে থাকলে মগে পায় আর বনে থাকলে বাঘে খায়।
    সেই সময়ে মগদের জনৈক সর্দার ওয়ালি মগ অত্র এলাকায় যত প্রাচীন চাকমা আদাম ছিল সব তচনচ করে দিয়েছিলেন।এই খালপাড়ে হাজার হাজার চাকমাদের মেরে ফেলা হয়েছিল। সেই লাসগুলো একসময় পচে সারা খালের পানি পুঁজের মতো ঘোলা করে দেয়।এই খালের পানি আগে নাকি স্বচ্ছ ছিল।সেই থেকে এই খালের নাম হয় পুজগাং। অর্থাৎ পুঁজের নদী।কথাগুলো আমার নয়। বলছিলেন আমার দাদু মঙ্গল চাকমা,যিনি আশি বছরের বেশি বয়সেও ফেরার পথে আমাদের সাথে গল্প করছিলেন।তিনি এখনো প্রতিদিন শনখোলা পাড়া থেকে পুজগাং-এ আসা-যাওয়া করেন।
    ওয়ালি মগ সর্দার এই খজেই ছড়ি মুখে তার সঙ্গীদের নিয়ে থাকার জন্য বাসা তৈরি করেছিলেন।এখনো এই জায়গাটার নাম ওয়ালি বাসা। এই ওয়ালি বাসার পাশে বর্তমান বৌদ্ধমনি ক্যাম্প।বৌধ মনি ত্রিপুরার নামে এই পাড়া। আমার বাবার আমলেও এর নাম ছিল ওয়ালি বাসা ক্যাম্প।
    সেই মগেরা পশ্চিমে এসে বালু নির্ভর স্বচ্ছ জলধারার খাল পাড়ের লোকদের নির্মমভাবে হত্যা করে নদীর জলে ফেলে দিয়েছিল। রক্তে রঞ্জিত খালের পানি। সেই থেকেই নাকি এর নাম হয় লোগাং।লো মানে রক্ত আর গাং মানে নদী। লোগাং মানে রক্তের নদী।লোগাং-পুজগাং মোহনার সামান্য নিচে খেদারছড়া খাল।এই তিন খালের মিলনে চেংগী নদীর উৎপত্তি ।
    বৌদ্ধমনি ক্যাম্প থেকে কাজ শেষে রওনা দিব ট্রিগ হাইট ক্যাম্প। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। সবে বৃষ্টি থেমেছে।বৌদ্ধমনিতে থাকলে জায়গা সংকট আর থাকলেও কোন কাজ নেই। পরের ক্যাম্পে গেলে পরদিন খুব সকালে কাজ করা যাবে, এই ভেবে ট্রিগ হাইট রওনা দিলাম।লিংক নেই অপরিচিত জায়গা। বৌদ্ধমনি পাড়া নিবাসী জনৈক বয়স্ক লোককে ডেকে আনলেন ক্যাম্প কমান্ডার লক্ষী দাস। বয়স্ক হলেও গাইড হিসেবে বেশ পটু তিনি। তার কথায় ভরসা পেয়ে রওনা দিলাম তিনজনে। হাঁটুর উপরে খালের পানিপথে হেঁটে কষ্টমনি পাড়া। আসলেই নামটা সার্থক হয়েছে কষ্টমনি পাড়ার, আসা-যাওয়া অনেক কষ্টের। কষ্টের জীবন নিয়েই পাড়ার লোকদের জীবন। এরপর পাহাড় বেয়ে উঠার পালা। সেকি পাহাড়! সোজা হয়ে দাঁড়ালে একহাত ব্যবধান মাথা থেকে পথের।সাথে অসংখ্য ছোট বড় জোঁক যেন সদ্য ঘুম থেকে জেগেছে আমাদের জড়িয়ে ধরার জন্য। পিঠে ব্যাগ আর দুইহাতে জোঁক ধরে ধরে ফেলে দিচ্ছি। ঠিক রাত সাড়ে আটটায় আমরা ট্রিগ হাইট ক্যাম্পে উঠলাম।যেন অবিচি নরক থেকে তাবতিংস স্বর্গে গমন।
    ছোটকাল থেকে শুনে আসছি ট্রিগাইড ক্যাম্প। কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি। ত্রিগাইড মানে বুঝতাম তিন সীমানা ক্যাম্প। এখনো অনেকেই ওইটায় মনে করেন। একদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, একদিকে বাংলাদেরশের পানছড়ির সীমান্ত আর অন্যদিকে দীঘিনালার সীমান্ত।ব্যাটালিয়নের খাতায় ট্রিগ হাইট মানে তিনগুন উচ্চতা। এই উপজেলায় যত ক্যাম্প আছে আছে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় এই ক্যাম্প।এখানে পৌঁছলে আপনার মনে হবে আসাটা সার্থক হয়েছে।জুন মাসে ও এখানে শীতের আমেজ পাবেন। ক্যাম্পের পাশে হরিণের ডাকে ঘুমিয়ে পড়বেন আর বনমোরগের ডাকে ঘুম ভাঙবে।
    রাতের আকাশে পুর্নচন্দ্র দর্শনের চেয়ে পশ্চিমে ডুম্বুর জলপ্রপাতের সৌন্দর্য্য অনেক বেশি।সাথে ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকটা ছোট ছোট শহর।পূর্বে দীঘিনালার মেঘমালা ভেসে আসা আপনাকে মেঘালয়ের পরশ ছুঁয়ে দেবে।সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে আমার মোবাইলের ক্যামেরাটা আর থামতে চায় না। কোন দৃশ্যকে বাদ দিতে চাই না। ক্লিক ক্লিক ক্লিক চলচেই।ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম এই মুহুর্তে আমি এইখানে। এমনও জায়গা হয় নাকি?হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে মেঘালয়, দার্জিলিং, হিমালয় দেখার চেয়ে এই তিন সীমানা ক্যাম্পের চৌকিতে বসে অপরূপ চট্টগ্রামকে উপভোগ করা কোটি গুনে শ্রেয়।সাজেক দর্শন ও হার মানবে এই ট্রিগ হাইট ভ্রমণ।
    সকালের নাস্তা খেয়ে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং করলাম বাংলাদেশের চ্যানেলের জন্য ৭৬ডিগ্রী, বিবিসি ওয়াল্ডের ৬৮ডিগ্রী আর সংগীত বাংলার জন্য ৮৩ডিগ্রী। সকল ক্যাম্পেই এই তিনটা স্যাটেলাইট ধরা।এরপর লিংক হবে ওয়াইন্টং ক্যাম্প। সহজ করে এলাকার লোকে বলে ওয়াইটং ক্যাম্প।এই নামটা অচেনা।বিজিবি আর বিএসএফ যেখানে মিলিত হয়ে বৈঠক করেন সেগুলির নাম মিট পয়েন্ট।এরকম অনেক মিটপয়েন্ট পার হয়ে যেতে হয়েছে আমাদেরকে। অনেকগুলো সীমান্ত পিলার ও দেখা হয়েছে।
    ওয়াইন্টং-এর পথে পথে প্রাকৃতিক বন আর জুম খেত। বড় বড় এলাকা জুড়ে গোটা বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া। কয়েকশত একরজুড়ে এক একটা প্রাকৃতিক বাঁশ বন।এক একটা মুলি বাঁশের আকার দুই হাতের আঙুল দিয়ে মুঠো করলেও বড় হয়। বাঁশের গায়ে শ্যাওলা জমে সাদা সাদা দাগ, যেন কারু করে ফুল আঁকা। ছোটবেলায় শুনেছি কাট্টনে (রোজগারের আশায় জঙ্গলে বাঁশ কাটতে যাওয়া) গেলে নাকি ফুলপড়া বাঁশ কাটে।আজ স্বচক্ষে দেখলাম ফুলপড়া বাশ। গরু-মহিষ পালনের জন্য এই বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।যাতে গরু-মহিষগুলো বেড়ার বাইরে যেতে না পারে।একবার ছেড়ে দিলে আর খোঁজ নিতে হয় না।ওইখানে মাসের পর মাস ঘাস খেয়ে পশুগুলো বেড়ে উঠে।প্রয়োজন হলে সেখান থেকে মালিকরা ধরে এনে বাজারে বিক্রি করে।সেই পশুগুলো যখন প্রথম লোকালয়ে আসে গাড়ি দেখলেই দৌড় মারে।সবাই দেখে বুঝে নেয় এগুলো মোনের গরু-মহিষ।
    দুপুর দুইটার দিকে ওয়াইন্টং ক্যাম্পে পৌঁছে আপ্যায়ন করা হল দুপুরের খাবার দিয়ে। খাওয়া শেষ হঠাত শীতের সকাল হাজির। যেন মাঘ মাসের ভোরবেলা।আমার থেকে দশহাত দূরের কাউকেই দেখা যায় না কুয়াশার কারনে।হাল্কা ঠান্ডা অনুভূতি, তবে শীতটা নেই।এরকম মেঘমালা দৈনিক কয়েকবার এসে গা ছুঁয়ে যায় এই ওয়াইন্টং ক্যাম্পে।ভাবছি আমি কি পৃথিবীতে আছি? নাকি অন্য গ্রহে?
    ক্যাম্পের সকলেই খুশিতে আত্মহারা।এতমাস পরে বিনোদনের একটা ব্যবস্থা হল। দেশি-বিদেশি অনেক টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারবেন এখন থেকে।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘর-বাড়ি , পরিবার-পরিজন ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষায় তারা এসেছেন চাকরির সুবাদে। বিকাল চারটার পরে নারাইছড়ি ক্যাম্পে বার্তা পাঠানো হল। লিঙ্ক হবে। ক্যাবল অপারেটর তার সহকারীকে নিয়ে নারাইছড়ি ক্যাম্পে আসবেন।
    ফিতে দিয়ে মাপলে দেড়শ গজ ও হবেনা। মাঝে একটি ছোট খাল। ক্যাম্প থেকে বের হয়েই সেই খাল পার হতে হবে। তারপর টিলা বেয়ে উপরে উঠতে হবে। ডাকলে শুনা যায়, দেখলে দেখা যায়,কিন্তু পার হতে গেলে চল্লিশ মিনিটের মতো সময় পার করতেই হবে।এগুলো পাহাড়ী এলাকার বৈশিষ্ট্য।যেন সাপ-লুডু খেলা। পা পিছলে পড়লেই আবার শুরু করতে হবে- যদি হাত-পা অক্ষত থাকে।
    আঁকাবাঁকা জঙ্গলের পথ ধরে হাঁটছি আর হাটছি।ঠিক যেন জিমের মিটারে দৌড়ানোর মতো।পথের পাশে একটা বড় জাম গাছ।বয়স তার কত কেউ জানে না ।তবে তার আকার বুঝা যায় হাতাহাতি করে চারজন চারদিকে জড়িয়ে ধরলেও কিছু বাকী থাকে।অসংখ্য জুমখেত আর রান্যা পেড়িয়ে নারাইছড়ি ক্যাম্প থেকে আসা বিজিবির লিংক ধরে ফেললাম।রাতের আঁধারে পৌঁছলাম কাঙ্ক্ষিত নারাইছড়ি ক্যাম্পে।রাতের খাবার খেয়ে ব্যারাকে যখন ঘুমোতে গেলামতখন রাত এগারোটা।
    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিস ফিটিং করে স্যাটেলাইট ধরলাম আর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের মনের খুশি উপভোগ করলাম।ওইদিন সকাল দশটায় কাজ শেষে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে নাস্তা করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আবার লিংক ,লিংক ,প্রতিটি ক্যাম্পের সাথে লিংক। ট্রিগ হাইটে দুপুরের খানাআবার লিংক। প্রসঙ্গত রমজান মাস হলেও আমাদের জন্য খাবার রান্না করে রাখা হয়।সর্বশেষ কচুছড়ি ক্যাম্প পর্যন্ত সেদিনের যাত্রা।
    দাদু মঙ্গল চাক্‌মা তার শস্যখেত পুজগাং থেকে ফিরছিলেন বিকালে।লোগাং-এর মাথা যেখানে লোগাং খালের জন্ম সেখানে একটা পুরনো বটগাছ।ক্লান্ত লোকজন সেখানে বটগাছের নিচে বসে গল্প গুজব করে নিজের চলার গতিকে শান দেয়। তিনি বললেন, অত্র এলাকা ত্রিপুরা রাজ্যের অধীনে ছিল।কাপ্তাই বাঁধের পর আমরা যখন বসতি দিতে আসি শুধু কয়েকটা ত্রিপুরা পরিবার ছিল এই পুজগাং এলাকায়।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকেই ভারতে চলে গেছে। আর এখন অনেক জায়গার নাম ও বিকৃত হয়েছে , পরিবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশ আমলে।এখন শনখোলা আদামকে শনখোলা পাড়া আর তাও বাদ দিয়ে লেখা হয় দুর্গামনি পাড়া।
    বাড়িতে ফেরার পর এতো সুন্দর একটা সফরের পরেও মনে প্রশান্তি পায়নি শুধু এটুকু ভেবে- “তাইতো, সত্যি অনেক পরিবর্তন হয়েছে চেঙ্গী এলাকার”।

    2
    1 Comment
    • ভালো লাগল খুব আপনার এই ঝরঝরে গদ্য। পুরনো নামগুলা হারিয়ে যাচ্ছে দেখে পাঠক আমারও খারাপ লাগল। আগের নামগুলার সাথে ইতিহাস জড়িয়ে আছে – নামগুলা টিকে থাকলে ইতিহাসও থাকে …

      “… এরপর পাহাড় বেয়ে উঠার পালা। সেকি পাহাড়! সোজা হয়ে দাঁড়ালে একহাত ব্যবধান মাথা থেকে পথের।…” – পাহাড় কতটা খাড়া – তার ব্যাখ্যা এমনভাবে আগে কখনও পাইনি। ভালো লাগল এই নতুন ব্যাখ্যা … আমি যা বুঝলাম, পথের উপর খাড়া হয়ে দাঁড়ালে আমার চোখের সামনে এক হাত দুরেই পথের সামনের অংশ। অর্থাৎ প্রায় ৬০ ডিগ্রি বা আরও বেশি কোন করে পথ সামনের দিকে উঠে গেছে … শুভেচ্ছা নিন !

Skip to toolbar