Profile Photo

ইব্রাহিম ইবনে ইদ্রিসOffline

  • Ibrahim
  • স্মৃতিময় এক ঈদ।

    সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে; ধুলো জমে না সেখানে—বরং সময় যত এগোয়, ততই যেন চকচকে হয়ে ওঠে। আজ এমনই এক ঈদের গল্প শোনাব, যেটা শুধু ঈদের দিন ছিল না, ছিল জীবনের এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়।
    ‎সময়টা ছিল ২০২৫ সাল, অর্থাৎ গত বছর। ১৯শে রমাদান মাদ্রাসার ছুটি হয়। ২০শে রমাদান সন্দ্বীপে আসা। আস্তে আস্তে রমাদান শেষ হয়ে গেল। চারদিকে চলছে ঈদের প্রস্তুতি। পরিবারের জন্য, নিজের জন্য শপিংয়ে ব্যস্ত সবাই। দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। তার মানে, আগামীকাল ঈদ। সবাই আনন্দে আত্মহারা। চারদিকে উৎসবের আমেজ।
    ‎ঈদের দিন সকালে আমাদের বাড়ির পুরুষরা সবাই এক রঙের পাঞ্জাবি, মহিলারা এক রঙের জামা আর শাড়ি পরে আনন্দে মেতে উঠেছে। যেহেতু ছোটবেলা থেকে পাঞ্জাবি পরার অভ্যাস নেই, তাই পাঞ্জাবি কেনা হয়নি। আমিই শুধু একমাত্র ব্যক্তি, যে সাদা জুব্বা পরিহিত ছিলাম।
    ‎সাধারণত ঈদ ছাড়া সবার একসাথে একত্রিত হওয়া সম্ভব হয় না। বিভিন্ন জন বিভিন্ন পেশায় লিপ্ত—কেউ পড়ালেখা করে, কেউ আবার চাকরি করে। কেউ সন্দ্বীপেই বসবাস করে, আর কেউ চট্টগ্রাম শহরে। তাই সাধারণত সবার দেখা-সাক্ষাৎ কম হয়। ঈদ উপলক্ষে এবার ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়। ছাগল জবাই করে বিরিয়ানি রান্না করা হয়। এক দারুণ আনন্দ!
    ‎ঈদের নামাজ শেষ করে সবাই একসাথে মুরুব্বিদের কবর জিয়ারত করি, তারপর একসাথে ফটোশুট। সবাই এক রঙের পাঞ্জাবি পরলেও, আমি যেহেতু সাদা জুব্বা পরেছিলাম, তাই সবার মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলাম আমি। অসাধারণ এক অনুভূতি! একসাথে ঘুরাঘুরি, একসাথে নাস্তা—মোটকথা, এক উৎসবমুখর ঈদ ছিল।
    ‎আছরের নামাজ পড়ে নানাবাড়ি গেলাম। মামা-মামির সঙ্গে দেখা করে গেলাম নানু-নানার কবর জিয়ারত করতে। সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠল।
    ‎ঐ ঈদের সবচেয়ে বড় শূন্যতা ছিল আব্বুর অনুপস্থিতি। তিনি তখন প্রবাসে ছিলেন। ঈদের দিনে তাঁর মুখটা দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা কোথায় যেন বুকের ভেতরে গেঁথে রইল। যত আনন্দই হোক, তাঁর অভাব যেন সবকিছু ফাঁকা করে রাখছিল।
    ‎এখনকার ঈদগুলোতে সেই আনন্দ আর নেই। দাদিও চলে গেছেন—মানে, তিনি এখন আল্লাহর মেহমান। গত ঈদেও তাঁকে মিস করেছি। ঈদ মানেই ছিল দাদির হাতে রান্না করা মজাদার সব রেসিপি আর পরিবারজুড়ে ভালোবাসার গন্ধ। এখনকার ঈদে না আছে সেই দাদির আদর, না আছে তাঁর হাতের রান্নায় ভরা সেই প্রাণের উষ্ণতা।
    ‎তবুও সেই ঈদের দিনটা আজও বুকের গহীনে অমলিন। একটা ঈদ—যে ঈদ শুধু একটা উৎসব ছিল না; ছিল অনুভব আর ভালোবাসার উজ্জ্বল আলো। ঈদ আসে, ঈদ যায়, কিন্তু কিছু ঈদ হৃদয়ে গেঁথে থাকে চিরকাল…

    ‎-ইব্রাহিম ইদ্রিস
    ‎সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।

Skip to toolbar