Profile Photo

Nehal NibirOffline

  • nehalnibir
  • Profile picture of Nehal Nibir

    Nehal Nibir

    3 months ago

    দ্বিতীয় রূপ
    ১.
    আমি আজকে মেকাপ ছাড়া বেরিয়েছি , দেখো তো আমাকে কেমন কালো লাগছে?
    আহ! তুমি সবসময় সাদা কালো নিয়ে চিন্তিত কেন ! তুমি মেকাপ ছাড়াই সুন্দর।
    আল্লাহ আমাকে কেন এত কালো বানালো?
    সুস্মিতা সবসময়ই সাদা কালোর চিন্তায় ডুবে থাকে, নিজের গায়ের রং নিয়ে ইনফিরিওর কমপ্লিক্সিটিতে ভোগে।
    দেখো সুস্মিতা আমি তোমার মুখের রং দেখে প্রেমে পড়িনি, তুমি যেমন আছো তেমনই আমার চোখে সুন্দর। সৌন্দর্যের ভ্যারিয়েবল তো রং নয় তার আচার ব্যবহার , আশেপাশের মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা সব মিলিয়ে সে সুন্দর হয়।
    ওই যে তারা শংকরের কবি উপন্যাসে আছে না একটা লাইন
    ‘কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ ক্যানে।
    না তুমি একটা অসহ্য নীল, তোমার সামনে মন খারাপ করেও থাকা যায় না। আচ্ছা নীল আজ আর সময় নেই আমাকে বাসায় পৌছে দাও।

    সুস্মিতাকে বাসায় পৌছে দিয়ে নীলের আসতে দেরী হয়ে গেল।

    ২.
    মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল নীলের। ঘুম ঘুম চোখে কোনোমতে চোখ মেলে সে দেখল আয়নার সামনে শুভ্র পোষাকে দাঁড়িয়ে আছে শশ্রুমন্ডিত একজন সুদর্শন পুরুষ।
    তুমি কে ফেরেশতা? নীল জিজ্ঞেস করল।
    আমি কে সেটা তোমার জানার বিষয় না।
    তাহলে তুমি কেন এসেছ?
    সময় খুব সংক্ষিপ্ত , আমি তোমার দুটো ইচ্ছা পূরণ করতে পারব
    বলো তোমার ইচ্ছা ।
    ও আচ্ছা তুমি আলাদীনের জ্বীন?
    আমি আলাদীনের জ্বীন কিনা সেটাও তোমার জানার বিষয় না।
    বলো তোমার ইচ্ছা।
    কিছুক্ষণ ভেবে নীল বলল, আমার ভালোবাসার মানুষটার গায়ের রঙ কালো এই নিয়ে ওর মন খুব খারাপ থাকে।
    ঠিক আছে তোমার ইচ্ছা পূরণ করা হবে,
    তবে এখন কেবল তোমার প্রথম ইচ্ছা পূরণ করা হবে।
    ঠিক আছে।

    ৩.
    সকাল সকাল সুস্মিতার ঘুম ভেঙ্গে গেল।
    দাত ব্রাশ করার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সুস্মিতা অবাক চোখে তাকিয়ে রইল, বহুকাল আগে নারশিশাস যেভাবে জলের দিকে অপলক নয়নে তার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে ছিল।

    ৪.
    বেশ কয়েকদিন হলো সুশ্মিতার কোনো দেখা নাই, নীল ফোন করলো,
    হ্যালো সুস্মিতা
    নীল আমি খুব ব্যস্ত
    ও আচছা
    রাখি
    আচ্ছা ঠিক আছে।
    নীলের বুকটা খচখচ করতে লাগল।

    ৫.
    ক্যাম্পাসে সুস্মিতার দেখা পেল নীল সুস্মিতা তাদের ক্লাসের সবচেয়ে সুদর্শন ছেলেটির সাথে গল্পরত। নীলের ভালো লাগল না।
    নীল সুস্মিতাকে জিজ্ঞেস করল
    কি সুস্মিতা তোমাকে ফোনেও পাই না, দেখা করতে বললে দেখাও করো না, সমস্যা কি আপনার।
    কেন আপনার সাথে দেখা করব ?
    কেন আপনার সাথে ফোনে কথা বলব? কোনো কারণ ছাড়া।
    সুস্মিতা এসব কি বলছো তুমি আমার ভালোবাসার মানুষ।
    আপনি আমার সিনিয়র ভাই , শুধু নোট শীটের আদান প্রদান হয় এর বাইরে তো আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আপনার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?
    সুস্মিতা!
    শুনেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের রঙটার দিকে তাকান কি কৃষ্ণ বর্নের আপনি।
    কালো চামড়ার পুরুষকে ভালোবাসব সংসার করব আমার সন্তান সন্ততি হবে কালো , এটা তো আমার কাম্য নয়।
    নীল কোনোভাবে তার অশ্রু সংবরণ করে, একরাশ অভিমান নিয়ে ফিরে আসলো।

    ৬.
    মাঝরাতে নীলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। আবার সেই শশ্রুমন্ডিত সুদর্শণ পুরুষের আগমন।
    বলো তোমার ২য় ইচ্ছা , সময় খুব সংক্ষিপ্ত ।
    তুমি আমার প্রথম বরটা ফিরিয়ে নাও এটাই আমার ইচ্ছা।

    ৭.
    সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সুস্মিতা আতকে উঠলো।
    না এটা হতে পারে না।
    তার মুখমন্ডল আগে যতটা কালো ছিল এখন সেই কালোর ঘনত্ব আরো গভীর হয়েছে। যেন কোনো শিল্পী তাকে সৃষ্টি করার সময়ে ভুল করে কালচে বাদামী রং কম ব্যবহার করেছিল এখন পুনরায় পুরু রঙ্গের প্রলেপ দিয়ে তার ভুল সংশোধন করেছে।

    ৮.
    সুস্মিতা নীলকে পিছন থেকে ডাকছে। কিন্তু নীল তার দিকে ঘুরেও তাকাল না , কেন তাকাবে সুস্মিতার সাথে তো তার কোনোকালে কোনো সম্পর্কই ছিলো না তাছাড়া কাক দেখে দিন শুরু করা কোনো কাজের কথা না।

    2
    2 Comments
Skip to toolbar