-
নাগরিক শ্মশানে শব্দহীন পাঠাগার
গ্রাম আজ শহর হয়েছে,
বুক চিরে তার ছুটেছে কালো পিচের পথ।
হাসপাতাল, থানা আর আদালত—
ইটের পাহাড়ে জমেছে নাগরিক কোলাহল।
কলকারখানার ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে আকাশ,
পার্ক আর থিয়েটারে জমেছে বিনোদনের মেলা;
চিঠি আদান-প্রদানে জেগে আছে ডাকঘর।অফিসগুলো আভিজাত্যের দম্ভে ঝকঝকে,
দামি আসবাব আর টাইলসের শীতল চাউনি।
শীত কি গ্রীষ্ম—বোঝার সাধ্য নেই কারো,
ঘরে ঘরে এখন কৃত্রিম বাতাসের দাপট।
মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাও আজ বিত্তের অহঙ্কারে স্ফীত,
কেবল ওই পুরনো লাইব্রেরিটি ধুঁকছে নিঃসঙ্গ একাকী।ধুলোর পুরু আস্তরণে ঢাকা পড়েছে অক্ষরের ঘ্রাণ,
জীর্ণ বইগুলো এখন উইপোকাদের রাজপ্রাসাদ।
কালেভদ্রে কেউ হয়তো মরচে ধরা তালাটি খোলে,
পাড়ার চঞ্চল তারুণ্য ওপথে পা বাড়ায় না ভুল করেও।
যিনি আগলে রাখতেন এই জ্ঞানের বাতিঘর,
সেই জরাগ্রস্ত দাদু আজ দশ বছর শয্যাশায়ী;
তার শীর্ণ দেহ আর পাঠাগারের দেয়াল—দুইই আজ ধূসর।সবার মনোযোগ থেকে নির্বাসিত এই জ্ঞানগৃহ,
আধুনিক জীবনের কাছে এ যেন এক অপ্রয়োজনীয় বোঝা।
ঘরটি এখন এক জরাজীর্ণ ভগ্নস্তূপ,
যদিও এই নিঃঝুম গোরস্তানেও মাঝে মাঝে কোলাহল জাগে;
জীবন্ত লাশের মতো পড়ে থাকা এই ঘরখানাকে
বৎসরের শেষে কিছু অনুদানের কাফন পরানো হয়।1 Comment
Friends
ইব্রাহিম ইবনে ইদ্রিস
@ibrahim
Emar
@emarkaji2k26
BONI AMIN
@boniamin
মো আবু জার হোসেন
@abujar
Shariful islam Sumon
@sharifulislamsumon
মারওয়া জান্নাত মাইশা
@maisha27
Walid Forhad
@walidforhad
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor


কবিতার শেষ দুটি লাইন যেন হৃদয়ে চাবুকের মতো লাগে—
“জীবন্ত লাশের মতো পড়ে থাকা এই ঘরখানাকে / বৎসরের শেষে কিছু অনুদানের কাফন পরানো হয়।”