-
রক্তের অক্ষরে লেখা উপাখ্যান
-তাজুল ইসলাম তন্ময়নিঝুম রাত, স্তব্ধ শহর, ছমছমে চারিধার,
হঠাৎ ছিঁড়ে গেল আঁধার চিরে দানবীয় হুঙ্কার।
‘অপারেশন সার্চলাইট’—শুরু হলো মরণখেলা,
হানাদারদের বিষাক্ত ছোবলে ভাঙলো সুখের মেলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তস্নাত আঙিনাপ্রথম আঘাত হানলো তারা জ্ঞানের পবিত্র আলয়ে,
জহুরুল হক হল কাঁপলো কামানের বিকট ভয়ে।
ঘুমন্ত সব তরুণ প্রাণ, মেধাবী আর প্রাণোচ্ছল,
বুলেটের আঘাতে নিভে গেল দীপ, ঝরলো চোখের জল।শিক্ষক যখন জ্ঞানের মশাল হাতে দাঁড়িয়ে দ্বারে,
ঘাতক দল পিষে দিল সব অমানবিক আচারে।
জগন্নাথ হলে চললো খুনের পৈশাচিক উৎসব,
মাটি খুঁড়ে গণকবর, নেই আর কোনো কলরব।
রোকেয়া হলের কান্নায় আকাশ হলো যে মেঘাচ্ছন্ন,
শিক্ষার প্রাঙ্গণ হলো এক লহমায় তছনছ আর ছিন্ন।
রাজারবাগের প্রথম প্রতিরোধঅন্যদিকে তখন রাজারবাগে বেজেছে যুদ্ধের রণধ্বনি,
বাঙালি পুলিশ ভাইয়েরা জানতো—এ এক কালযামিনী।
থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে নিয়ে বীর সেনানীরা জাগে,
মরণপণ লড়াই হলো তাদের মাতৃভূমির অনুরাগে।প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুললো তারা অসম এই যুদ্ধে,
ঘাতক বাহিনী থমকে গেল বাঙালির ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধে।
ট্যাঙ্ক আর ভারী কামানের মুখে বুক পেতে দিল তারা,
হলো শহিদ, তবু মানেনি হার—দেশের মুক্তিহারা।
ইতিহাসের অমর অধ্যায়একদিকে জ্ঞানের মশাল, অন্যদিকে বীরের সেই ঢাল,
রক্তে রঞ্জিত হলো ঢাকার রাজপথ, বড়ই অকাল।
বিশ্ববিদ্যালয় আর রাজারবাগ—দুটো ইতিহাসের বাঁক,
পঁচিশের কালো রাতে শুনিয়েছিল স্বাধীনতার ডাক।সেই রাতের প্রতিটি কণা আজও দেয় আমাদের সাক্ষ্য,
বাঙালিকে দাবায়ে রাখা ছিল অসম্ভব এক লক্ষ্য।
অশ্রু আর রক্তের দামে কেনা সেই বিষাদময় স্মৃতি,
পঁচিশের কালরাত্রি মানেই হার না মানার এক রীতি।1 Comment
Friends
মোহাম্মদ এরশাদ রিকাবদার
@ershad
হাসনাত সৌরভ
@hasnat21
মো: আশরাফুজ্জামান রাজিব
@rajib
মেহেদী হাসান
@mehadi
Noora Alam
@nooraalam
MD ARIFUL ISLAM
@kobiarifulislam
হেমায়েত হোসেন হিমু
@himu68hgmail-com
মো আলমগীর হোসেন
@alamgirsujan
মারুফ সরকার মুন্না
@maruf-sharker-munna


অসাধারণ।