Profile Photo

মোঃ আবুল কালাম আজাদOffline

  • অসমাপ্ত উপাখ্যান
    আজাদ সরকার

    ঈদের পর দিন,
    মনটা ভীষণ খারাপ লাগছিল
    কেউ ঈদের দাওয়াত তো দূরের কথা
    ফোনের মাধ্যমেও কেউ বলেনি ঈদ মোবারক
    পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
    হঠাৎ মনটা চাইছে
    শহরে পার্ক থেকে একটু ঘুরে আসি
    মনটা হয়তো ভালো লাগবে।

    কিছুক্ষণ পর হঠাৎই দেখি
    একজন আধবয়সী মহিলা
    চেনা চেনা মনে হচ্ছে তবুও,,,,
    কিছুই বললাম না
    শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি আর ভাবছি।
    ​সেই একই চোখ
    সেই চেনা চাহনি
    অথচ মাঝখানে তেইশটি ধূসর বছরের দেয়াল!
    রাস্তার ধুলো আর সময়ের স্রোত আমাদের দুজনকে
    দুই মেরুতে বসিয়ে দিয়েছে।

    মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুকটা যখন কেঁপে উঠেছিল
    ভেবেছিলাম হয়তো হৃদপিণ্ডের শব্দ সে শুনতে পাবে
    কিন্তু সে চাইল আমার পরিচয়।

    ​ভাইয়া, কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
    ​ঐ একটি শব্দে তেইশ বছরের সব জমানো আবেগ মুহূর্তেই যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেল।

    নিজের নাম,
    বাবার নাম,
    ঠিকানার ফিরিস্তি দিচ্ছিলাম যান্ত্রিক মানুষের মতো।
    ভয়ও হচ্ছিল,
    এ কি কোনো মায়া,
    নাকি নিয়তির নিষ্ঠুর রসিকতা?

    আমার রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর নাম
    যখন তার ঠোঁটে বিষণ্ণ সুরের মতো বাজছিল,
    আমি ক্ষোভে আর বিস্ময়ে ফেটে পড়তে চেয়েছিলাম।

    ​কিন্তু তখনই তার সেই পরিচিত হাসি!
    আরে মিয়া আমি………..।
    ​তারপর আর কোনো দেয়াল রইল না।
    মুহূর্তেই আমরা ফিরে গেলাম সেই
    হারানো দিনে।

    কেমন আছো?
    কী করছো?
    কটি সন্তান?
    জীবনের সব খতিয়ান খুলে বসলাম
    পথের ধারের সেই গোধূলিতে।

    সময় যে কখন ডানায় ভর করে উড়ে গেল
    টেরই পাইনি।
    দিনের আলো মুছে গিয়ে কখন যে চরাচরে সন্ধ্যার ছায়া নামল, আমাদের কারো খেয়াল ছিল না।

    ​হঠাৎ এশার আজানের ধ্বনি বাতাসে ভেসে আসতেই
    সম্বিত ফিরল।
    বাস্তবতা এক নিমিষেই সামনে এসে দাঁড়াল
    পাহাড়ের মতো।

    তাকে ফিরতে হবে
    অন্য এক ঠিকানায়
    অন্য এক মানুষের সংসারে।
    যেখানে আমি শুধুই এক অচেনা পথচারী
    বড়জোর পুরোনো কোনো স্মৃতি।

    ​সে চলে গেল।
    আমি দাঁড়িয়ে রইলাম অন্ধকারের ভেতর।
    যাওয়ার বেলায় সে নিয়ে গেল
    আমার নাম
    আমার পরিচয়,
    আর তেইশ বছর ধরে পুষে রাখা
    এক বিষণ্ণ হাহাকার।

    5
    3 Comments
    • কবিতার শেষটি এক গভীর হাহাকারের— “যাওয়ার বেলায় সে নিয়ে গেল / আমার নাম / আমার পরিচয়”

    • ভালো লাগল অনেকটা গদ্যের ফরম্যাটে এই কবিতা। অথবা, কবিতার ফরম্যাটে গদ্য – যেটাই বলেন। ভিতরের কাহিনী আকর্ষণ করে রাখল শূরু থেকে শেষ। অনুভূতিতে আপ্লুত হলাম । শুভেচ্ছা নিবেন।

Skip to toolbar