-
অনুভূতির স্নিগ্ধ পরশ
কখনো চিন্তার দর্পণ আমাদেরকে ভুলিয়ে দেয় আত্মঅনুভূতিগুলোও। ফলে আমরা তখন যেন জীবনকে মনে করে বসি একটি দর্শন, যা গবেষণা করে জয় করতে হবে—একটি গাণিতিক প্যাটার্ন, যার সব সহজ সূত্রে সমাধান হওয়ার নয়। কিন্তু জীবন কি এতটাই অনুর্বর, শুষ্ক, যে চিন্তার জ্যামিতিতে তার সব সমাধান হয়ে যাবে? যুক্তির আড়ালে কি পাওয়া যাবে সব রহস্যের জবাব?
চিন্তার জগতের সাথে জীবনের যোগসূত্র আছে, তবে ঠিক অতটুকু নয়—যতটুকু হলে চিন্তাকেই সমাধানের বিকল্প পথ ধরে নেওয়া যায়। জীবনের বৈচিত্র এখানেই যে, জীবন নানা রঙে সজ্জিত; তাই জীবনের গল্প সুন্দর হয় এবং জীবনের ছবি আঁকা শিল্পীর রঙ-তুলিতে জীবনের গভীরতা অনুভব করা যায়।
জীবনে চিন্তার যেমন একটি বিশাল জগত আছে, অনুভূতিরও ভিন্ন একটি জগত রয়েছে। বিচিত্র বর্ণমালার অনুভূতি জীবনকে সদা আনন্দমুখর করে রাখে এবং জীবনের সজীবতাকে প্রাণবন্ত ও জীবন্ত রূপে উপস্থাপন করে। রাগ, অভিমান, অভিলাষ—এগুলোও জীবনের অনুপম চরিত্র।
যেভাবে হাসি, আনন্দ, দুঃখ ও পরিতাপে জীবনের ব্যাপ্ততা পরিলক্ষিত হয়, সেভাবে মনে হয়—জীবনের এ বিচিত্র ছবিগুলো যেন জীবন-আকাশের রংধনু। আর জীবন যেন সে রংধনুর পথ ধরে অবিরাম চলমান, ঘড়ির কাঁটার মতো। লাল পথ ক্রসিং করে করে সবুজের পথে হাঁটে; এভাবে হলুদ, নীল—হরেক রঙের উপর দিয়ে পথচলার অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয় জীবনের। একেকটা ধাপ পেরিয়ে জীবন শিখে নেয় আত্মবিশ্বাস এবং অসাধ্য সাধন করার অনুপম ইচ্ছা। তখন নজরুলের মতো বলে ওঠে—
বল বীর, বড় উন্নত মম শির…।
জীবনের বৈচিত্র্যময় এই অনুভূতিগুলোর বাহিরের আলো-আঁধারির মতো যেন আমি এক চলন্ত প্রকৃতি। হাসি আর আনন্দগুলো যদি দিন হয়, তাহলে দুঃখ আর বেদনাগুলোকে রাত বলতে অসুবিধা কোথায়? এবং বেদনার যাতনায় চোখ বেয়ে পড়া নোনা জলগুলো যেন ঝর্ণার ভূমিকায় অবতীর্ণ। সে অশ্রুতে ভাসা বুক যেন মহাসাগর, যেখানে জমে আছে আমার—হ্যাঁ, আমার শত বছরের কান্না; আমার অতীতের অশ্রুপাতের দীর্ঘধারা।
নিশির নিশিতে গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরবতাগুলো যেন শূন্যতার তসবির হয়ে আছে। এভাবে অনুতাপে কেঁপে ওঠা আত্মারা কি ভূমিকম্প নয়? এবং জীবনে নেমে আসা মুসিবতগুলো ঝড়ো ঝঞ্ঝা থেকে কি কম?
এভাবে জীবনকে মিলানো যেতে পারে সহিষ্ণু মাটির সাথে। সয়ে যাওয়াসে মানুষটি কি মাটি হয়ে আছে সবার সামনে? উৎসব-আনন্দে জীবন যখন মুচকি হাসে, আনন্দের তরঙ্গদোলায় ভাসে—তখন জীবন কি বসন্ত নয়? এবং জীবনে সুখের এই ছোট ছোট উপলক্ষগুলো কি ফুলের পাপড়ি, গোলাপের গলি নয়? আর আনন্দের অলিন্দে দাঁড়িয়ে গাওয়া গানটা কি চিরচেনা বুলবুলির নয়?
দুঃখের সময়গুলো রাত হলেও, সেখানে চাঁদ হয়ে প্রভুর পক্ষ থেকে আসে সান্তনার পরশবাণী—যদি ধৈর্যের সাথে জীবনের সে কঠিন মুহূর্ত যাপন করা যায়। সূরা “والضحى” পড়লে এ বাস্তবতা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে—
والضحى والليل اذا سجى
ما ودعك ربك وما قلى
সুখ-দুঃখের অবস্থাকে চিত্রাঙ্কন করে বলা হচ্ছে—যাকে পেলে সব কিছু পাওয়া যায়। তিনি যদি সাথে থাকেন, তবে চিন্তা কিসের? যাকে ঘিরে জীবনের এই ঈদ-আয়োজন—দুঃখের সে কঠিন মুহূর্তে যদি তিনি পাশে থাকেন, তবে জীবন ধন্য।
من وجد الله فماذا فقد
ومن فقد الله فماذا وجدআল্লাহকে যে পেল তার আর কি আর আছে বাকি।
আল্লাহ ছাড়া সবই যেন এ জীবনে ফাঁকি।
এজন্য তীরের আঘাতে জর্জরিত হয়েও বলা যায়—
فزت ورب الكعبة
আসুন, জীবনকে অনুভব করি—জীবনের অনুপম অনুভবে স্নিগ্ধ হয়।9 Comments-
-
অনুভূতি আর যুক্তির এই টানাপোড়েন নিয়ে বেশ বিপাকে আছি ভাই! আপনার লেখাটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিল! ভালোবাসা নেবেন!
-
সব মিলিয়ে—এটা একটা রিফ্লেকটিভ, স্পিরিচুয়ালি রুটেড লেখা, যেখানে অনুভূতির গভীরতা আছে; শুধু এক্সিকিউশনে সামান্য টিউনিং করলে এটা সত্যিকারের “high-impact piece” হয়ে উঠবে।
-
Friends
Jawata Afnan Yasha
@jawataafnanyasha
Dalia Al Mim
@daliaalmim
Mina Bulbul Hossain
@minabulbulhossain
কাজী আনিসুল হক
@kajeanisulhaque
অসীম রহমান
@ashim_rahman
I am new writer
@par888
sumon islam
@sumonislam
Khan Hoque
@khanhoque
আরশিয়া কায়া
@arshiyakaye

আপনার এই লেখাটি আমাদের যান্ত্রিক জীবনকে নতুন করে অনুভব করতে শেখায়। মুগ্ধ হলাম!