-
মানুষ আজ মহাকাশের দরজায় কড়া নাড়ছে। দূর নক্ষত্রপুঞ্জের রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত, অজানার অন্ধকারে আলো জ্বালাতে উদগ্রীব। প্রযুক্তির ডানায় ভর করে সে পৌঁছে যাচ্ছে এমন সব সীমান্তে, যেখানে একসময় কল্পনাও পৌঁছাতে পারেনি।
কিন্তু এই অগ্রযাত্রার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রশ্ন—
আমরা কি নিজেকেও আবিষ্কার করছি, নাকি নিজেকে হারিয়ে ফেলছি?
বিজ্ঞান বলে, মানুষের দেহ গঠিত নক্ষত্রের ধূলিকণা দিয়ে। অর্থাৎ আমরা নিজেরাই এক চলমান মহাবিশ্ব।
আমাদের ভেতরে আছে অনুভূতির গ্যালাক্সি, চিন্তার নক্ষত্রমালা, আত্মার এক অনন্ত বিস্তার।
অথচ এই ভেতরের মহাবিশ্বটাই আজ সবচেয়ে অবহেলিত।
আমরা গ্রহ আবিষ্কার করি, কিন্তু নিজের হৃদয়ের গ্রহগুলো অচেনাই থেকে যায়।
আমরা আলোর গতি মাপি, কিন্তু নিজের অন্তরের অন্ধকার দূর করতে ব্যর্থ হই।আজকের মানুষ আধুনিক—কিন্তু এই আধুনিকতা কতটা বাহ্যিক, আর কতটা অন্তর্গত?
আমরা প্রযুক্তিতে উন্নত, কিন্তু চরিত্রে কি উন্নত?
আমরা তথ্যসমৃদ্ধ, কিন্তু প্রজ্ঞায় কি সমৃদ্ধ?
আল্লামা ইকবাল রহিমাহুল্লাহ তাঁর কবিতায় কত সুন্দর ভাবে চিত্রাঙ্কন করেছেন।دوڑنے والے ستاروں کے گزرگاہوں کا
اپنے افکار کی راہوں میں سفر کر نہ سکےجس نے سورج کی شعاعوں کو گرفتار کیا
اپنی زندگی کی شب تاریک سحر کر نہ سکےবাংলা
নক্ষত্রের কক্ষপথে ঘুরছে তারা কেমন করে
কিন্তু আহ া পাইনি আজও জীবন পথের সঠিক দিশা।
সূর্য থেকে আলো নিয়ে যাদের প্রদীপ আপন ঘরে
কিন্তু দেখো জীবন মাঝে অন্ধকারের অমানিশা।অর্থাৎ মানুষ যদি নিজের চিন্তার জগতে ভ্রমণ করতে না পারে, তবে নক্ষত্রের পথচলা জানা কোনো অর্জন নয়।
যে সূর্যের আলোকে বন্দী করতে পারে, কিন্তু নিজের জীবনের অন্ধকার দূর করতে পারে না—তার জয় আসলে অসম্পূর্ণ।Thomas Edison বিদ্যুৎ বাতি আবিষ্কার করে পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন। তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে মানবতার জন্য এক বিরাট উপহার।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
আমরা কি সেই আলোকে নিজের জীবনের অন্ধকার দূর করতে ব্যবহার করেছি?
যিনি সূর্য, চন্দ্র, আকাশ ও বাতাস সৃষ্টি করেছেন—তাঁর প্রতি আমাদের মনোযোগ কতটুকু?
আমরা আলো আবিষ্কার করি, কিন্তু আলোর উৎসকে ভুলে যাই।
আমরা জ্ঞান অর্জন করি, কিন্তু জ্ঞানের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলি।প্রশ্ন হতে পারে যে স্রষ্টাকে ভুলে গেলে কি বা ক্ষতি।
তখন পবিত্র কুরআনের একটি গভীর সতর্কবাণী সামনে আসে
“نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ”
অর্থাৎ—তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে নিজেদের ভুলিয়ে দিয়েছেন।
এই আয়াত শুধু ধর্মীয় সতর্কতা নয়; এটি এক অস্তিত্বগত সত্য।
যখন মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে যায়, তখন সে নিজের প্রকৃত সত্তাকেও হারিয়ে ফেলে।আত্মবিস্মিতির আড়ালে হারিয়ে যায় সে নিজেও।আজকের বিশ্বে হিংসা, বিদ্বেষ, যুদ্ধ—এসব কেবল বাহ্যিক সমস্যা নয়; এগুলো আত্ম-ভুলে যাওয়ার ফল।
যে মানুষ নিজের ভেতরের আলো চিনতে পারে না, সে বাইরের অন্ধকারকেই নিজের বাস্তবতা মনে করে।মানুষের ভেতর যে মহাবিশ্ব বাস করে, তার রহস্য উন্মোচন করা আজ সবচেয়ে জরুরি।
নিজের গুণাবলী, নিজের দুর্বলতা, নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে পারলেই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।
যদি আমরা নিজেদের গড়ে তুলতে পারতাম—
তাহলে আজকের বিশ্বে এত বিভাজন, এত রক্তপাত, এত অমানবিকতা হয়তো থাকত না।
শেষ কথা
মহাবিশ্বের রহস্যের শেষ নেই—এটা সত্য।
কিন্তু তার থেকেও বড় সত্য হলো—
মানুষ নিজেই এক অনন্ত রহস্য।
আমরা যদি আকাশ জয় করি, কিন্তু নিজের আত্মাকে হারিয়ে ফেলি—
তবে সেই জয় আসলে পরাজয়।
তাই আজ দরকার এক নতুন যাত্রা—
মহাকাশের দিকে নয়,
নিজের ভেতরের দিকে।6 Comments
Friends
Jawata Afnan Yasha
@jawataafnanyasha
Dalia Al Mim
@daliaalmim
Mina Bulbul Hossain
@minabulbulhossain
কাজী আনিসুল হক
@kajeanisulhaque
অসীম রহমান
@ashim_rahman
I am new writer
@par888
sumon islam
@sumonislam
Khan Hoque
@khanhoque
আরশিয়া কায়া
@arshiyakaye



বর্তমান সময়ের যুদ্ধ আর বিভাজনের মূল কারণ হিসেবে আমাদের আত্মিক পতনকে খুব সুন্দরভাবে চিহ্নিত করেছেন। চমৎকার তথ্যবহুল একটি প্রবন্ধ।