Profile Photo

Ashraful IslamOffline

  • ashrafulislam
  • Profile picture of Ashraful Islam

    Ashraful Islam

    1 month ago

    ++মরীচিকা++(১)

    বাদক নয়, নর্তক ও নয়।পল্লীর গীতিকে বর্ষনা করলে তেরে আসে এমন ছেলে মেয়েও বা ক জনের থাকে।গায়ের মতি মাস্টার চায়ের দোকানে কথাটা তুল্লেন। -মতি মাস্টার তুমি কার কথা কউ,বলে তেরে ওঠেন আক্কাস আলী।আক্কাস আলীর বুঝার বাকি নাই,সে যে আমাগো রতন।রতনইতো সেবার মোল্লা সাহেবের সাথে গ্যাঞ্জাম করছে।মোল্লা সাব কেন কইলো গান বাজনা এলাকার বাইরে, রতনতো আর গান গায় না, সে গায় পল্লীগীতি।মোল্লা সাবরে এই ভাবে বুঝায় রতন।সেই থেকে রতন আর মোল্লা সাহেবের দ্বন্দ্ব। এলাকার সবাই তখন থেকেই জানে, রতন গানের প্রেমিক। মতি মাস্টার যদি রতনের কথা কউ তুমার লগে আমার বুঝার আছে।আক্কাস আলীর ক্রোধ যেন বাড়তেই ছিল। কি হয়ছে আমাগো রতনের। মতি মাস্টার রতনের পক্ষ নিলেন। -আমার বাগানের আম,নিচু গাছের মশারি আর রম্ভার কান্দিটা কে নেয় জানো মিয়া।বছর দেড়েক রম্ভার কান্দিটা ছুয়েও দেখতে পারি না।বলতে বলতে ফুসে ওঠেন আক্কাস আলী। আক্কাস আলীর সাথে সূর মিলাচছেন অনেকে।কেউ বলছে সবজি খেতের শসা উদাও,কারো বাগানের কচি ডাব,কারো পুকুরের মাছ থেকে গাছের পাকা পেঁপে সবই তো রতনের কীর্তি।এলাকাবাসীর সন্দেহ যেন এইভাবেই প্রকাশ পায়।চায়ের দোকানে হট্রগোল বেঁধে গেল এই বলে, রতনকে আর গ্রামে রাখা যাবে না। ছোট্ট বেলায় এমন ভুল কে না করছ,মতি মাস্টারের এমন কথায় স্তব্দ এলাকাবাসী।প্রত্যেকে তাদের অতীত ইতিহাস ভাবনায় চুপ হয়ে গেল।চায়ের দোকান নিস্তব্ধ। মতি মাস্টার চায়ের দোকান থেকে বাসায়।রতন ডাকছে -মতি কাকা,ও মতি কাকা। ঘর থেকে বের হলো মতি মাস্টার। -কিরে,রতন নাকি। – হ্যাঁ, কাকা। তো কি মনে করে? আমায় নাকি গ্রাম থেইকা বের কইরা দিবো? তেমন কিছু না, চায়ের দোকানে নালিস আসলো।তুই গ্রাম ছাড়া হয়লে, গ্রামেই বা থাকবো কে। বল কই ছিলি? -কড়ই গাছের ডাল কাইটা দিলাম,কাকা।জমিরের মা খুব করে ধরলো, কয়ডা ডাল কাইটা দেনা বাপ। এমন কথা ফালাই কেমনে,যার কোনো সন্তান বা স্বামী নাই। জমিরের মার কেউ নাই,গত বছর রোড এক্সিডেনটে জমির মারা যায়।জমিরের বাবা তো বছর দশেক আগেই ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে নাই।সেই থেকে জমিরের মা একা।আছে প্রকাণ্ড এক বাগান আর ইট বের হওয়া এক পুড়ো বাড়ি।বাগানের ফল বিক্রি করেই বছর চলে।রতন এমনই, কারো আবদার ফেলতে পারে না। – তুই টাকা নিস, মতি মাস্টারের এই কথাটি যেন রতনের নীতি বিরোধী। -কিসের টাকা মানুষ কি শুধু টাকার জন্য কাজ করে। মতি মাস্টার গম্ভীর সূরে বলেন দেখ, তুই মানুষের কত উপকার করিস।কারো গাছের কাঁঠাল পাড়া,লিচু গাছে মশারি টানানো, নারকেল গাছ ছাঁটই করা ইত্যাদি অসাধ্য কাজ বিনা টাকাই করে দেস।কিন্তুু দুএকটা ফল খাস বলে তোর নামে কত মিথ্যা অপবাদ।তোকে গ্রাম থেকে পর্যন্ত বের করে দেবার চিন্তা আসে। তুই যদি কাজের বিনিময়ে টাকা নেস, এমন ফল হাজারটা কিনতে পারবি। -কি যে বল মতি কাকা।টাকা নিবো ক্যান।তারা যে আমায় ভালোবাসে।ভালোবাসার বিনিময় কি টাকা দিয়ে হয়। আজ যদি টাকা নিতি, তারা দুর্ণাম রটাতোই কিভাবে।তখন তাদের গাছে ফিরেও তাকাতে হতো না।চায়ের দোকানে শালিস বসানোর আগে দুবার ভাবতো। রতন যেন বলতে চাই, এই বিষয়ে তার অনধিকার।তার মন যেন কারো ভালোবাসা পাবার রীতিতে দুর্ণাম রটাতেও সুখ পায়। মতি কাকা তবে যাই।আমারতো স্কুলে যইতে হইবো। -আচ্ছা যা। মতি মাস্টার এমনই তাকে পেলে আর ছাড়তে চান না। রতন মতি মাস্টারের স্কুলেই পড়ে, অষ্টম শ্রেণিতে।প্রাথমিক পরীক্ষায় গোলডেন এপ্লাস পেয়েছে।তা থেকেই মতি মাস্টারের সাথে তার ভাব। রতনের বন্ধু বাহাদুর। একই শ্রেণিতে রতন আর বাহাদুর পড়াই একসাথেই স্কুলে যায়।রতন বাহাদুরের বাসায়। – কিরে বাহাদুর আসবি নে,স্কুলে যে দেড়ি হইয়ে যাই।তোর জন্য মাস্টার সাবের বকুনি খেতে পারবো নে। – আজতো বৃষ্টি।কি করে যায় বল।বাবা ছাতা নিয়ে গেছে। রতন যে বাহাদুরের যুক্তিগুলো আগেথেকেই চিনে। বাহাদুর প্রায়ই স্কুল কামাই দেয়।রতন যে তাই বাহাদুর কে নিয়েই যাবে। -চলে আই না বজ্জাত,আমার ছাতা আছে না।এক ছাতায় দুজন যাওয়া তেমন কি। চারদিকে দমকা বাতাস বয়ছে। আকাশ ঘন-ঘনই বজ্রপাতের জানান দিচ্ছে। বাহাদুর আর রতন কাধেঁ কাঁধ ঘেষে স্কুলের দিকে যাচ্ছে। ছাতার হাতলটা শক্ত করে ধরে রেখেছে বাহাদুর।যেন বাতাসে ছাতার দিক পরিবর্তনে একে অপরে ভিজে না যায়। বৃষ্টির তিব্রতা থাকায় কিছুটা ভিজতে হয় দুজনের। – বলছিলাম আজ যাবো নে রতন, তুইতো আনলি ।ছাত্রতো দূরের কথা দপ্তরি পর্যন্ত আসেনি। -দেখ না কিছুখন।কেউ না আসলে চলে যাব।বাড়ি তো দূরে না,তো কি আর আসে যায়। রতন কথাগুলো শেষ করে, কমনরূমে দুজনেই শরীর শুকাতে ব্যাস্ত।কমনরুম এমন যা সব সময়ই খোলা থাকে। মিনিট দশেষ পর ছাতা বন্ধ করার শব্দে দরজায় তাকালো রতন। -কে আসলোরে দেখতো বাহাদুর চেনস কি না। -হ্যাঁ এইতো আমাগো মতি স্যারের মেয়ে।শহর থেকে ট্রানসফার হইয়া এখানে আইসে। – তুই চেনস কেমনে? – চিনমুনা সে যে আমাগো পাড়ারই।তুইতো হাবা একটা, চিনবি কি কইরা। -কোন ক্লাসে পড়েরে? রতনের এমন প্রশ্নে ভ্যাবাচেকা খায় বাহাদুর। -তুই তো কোনো দিন মেয়ের দিকেই চাসনি। আজ এত গভীরতায় ডুব দিলি কারণ কি রে। -দুর ছাই,তেমন কিছু না।মতি স্যারের মেয়ে তাই বল্লাম। -আমাদের ক্লাসেরই। গত সাপ্তহে শহর থেকে আইসা মতি স্যার আমাগো ক্লাসে ভর্তি করাইয়া দিছে।সবার সাথেই তো পরিচয় হয়ছে।তুইতো সাপ্তাহ দেড়েক জ্বরেই ভুগছিলি।ক্লাসে আসলেই তো জানতি। -এখনো তো জ্বর জ্বর ভাব,তা নিয়াই স্কুলে আইসি।আচ্ছা মেয়ের নাম কি জানস? -মেঘলা।মতি স্যারের সাথে তর ভাব ভালো নষ্ট করিস না। -কি যে কছ বন্ধু। আমি এরকম নাকি।একসাথে পড়লে নাম জানাও তো দরকার।কোন কাজে কাকে লাগে তাও তো বলা যায় না। -মেঘলা দেখতে সুন্দর, পরিপাটি মেয়ে।তার প্রতি ভাব হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।বাহাদুরের এমন কথা যেন তীর বসাচ্ছে রতনের গায়ে। রতন কিছুই না বলে স্তব্দ দৃষ্টিতে, চাতক পাখির মতো মেঘলার দিকে চেয়ে রইল। বৃষ্টি থেমে গেল।মিনিট দশেক মধ্যে ছাত্র- ছাত্রীদের হট্রগোল কমনরুম থেকে শুনছে রতন। – চল রতন ক্লাসে যাই।বাহাদুরের প্রস্তাবে রতনও তার সাথে ক্লাসে।দপ্তরি আসল শিক্ষক আসলো ছাত্র- ছাত্রীরা আসছে এক যুগে। এমনি করিয়া স্কুল তার নামটির সংঙগা যেন পূরণ করছিল। সকল ছাত্র- শিক্ষক ঘন্টার প্রতিধবনিতে তাদের বিদ্যার ত্যাজ দেখাতে ব্যস্ত। ক্লাসটি ছিলো মতি স্যারের।মতি স্যার এমনই বৃষ্টি হোক কিংবা কালবৈশাখী কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না।ছাত্র জরিপ না টানিয়া সরকার যদি শিক্ষক জরিপ টানের তবে মতি স্যার সেই যাত্রায় সেরাতেই গন্য হবে।এমন স্যারের ছাত্র যারা তাদের কি আটকানোর সাধ্য আছে , হোক না ঘূর্ণিঝড় বা কালবৈশাখী। মতি স্যার হাতের ডাস্টার টেবিলে রাখল।লেকচার দিতেই ছুটির ঘন্টা বেজে গেল। স্কুলে হৈ চৈ পড়ে গেল।যে ছাত্র- ছাত্রীরা বিদ্যার ত্যাজে হাঁটু সমান জল সাতরাইয়া স্কুলে আসল,এই কি তার প্রতিদান।স্কুলে যেন হট্রগোল বেঁধে গেল।স্কুল ছুটি দিলো কেন।সবার যেন একই প্রশ্ন। শিক্ষাকরাও কেউ কেউ জানেন না, কেন আজ ছুটি। কিছুক্ষণপর শুনা গেল প্রকৃত রহস্য। – আমাগো হেডমাস্টারের পা ভাংসে।হাসপাতাল ভর্তি দপ্তরি সবাইকে এই ভাবেই বলতে লাগলেন। স্কুলের শোক ছাত্রের মাঝে আনন্দে পরিনত হলো।স্কুল ফাঁকি কে না চায়, কয়েক বছরে এমন সুযোগ একবারই আসে,ছাত্ররা একে অপরের সাথে তা বলা বলি করছিল। ছাত্ররা দলে দলে গান,কবিতা আর গীতির মাধ্যমে জয়ধ্বনি দিতে লাগল।স্কুলের অবস্থা এমন ছিল যেন আজ তার জন্ম বার্ষিকি।ছাত্রদের আনন্দের বাহ্যিক রূপ থাকলেও শিক্ষকদের আনন্দটুকু নিজীবতাই প্রকাশ পাইল।এত বড়ো দুর্ঘটনা,শোক যেন কারো চোখে মুখেও নেই।সবাই যেন শোককে শক্তিতে পরিনত করেছে।রতন – বাহাদুর কাঁধে কাঁধ রেখে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা।
    রচনায় :-আশরাফুল ইসলাম হিমেল (আলী আশরাফ)
    ধরন=সামাজিক উপন্যাস
    ছাত্র:-ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
    (ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস)

    1
    1 Comment
    • পুরো লেখাটা এক প্যারায় লিখিত। এটা ভালো লাগল, কোয়তূহল জাগালো, আর হ্যাঁ, লেখার স্বাদের উপরেও প্রভাব ফেলেছে মনে হয়। শহীদুল জহির, সুনীল এরকম নানা সফল এক্সপেরিমেন্ট করে গেছেন মনে হয়।

Skip to toolbar