-
“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”
✍️ তিন
চিঠির পর থেকে তাদের সম্পর্ক যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ে গেল। কথার চেয়ে বেশি কথা বলত তাদের চোখ—লাজুক, নীরব, কিন্তু গভীর, যেখানে না বলা অনুভূতিগুলো খুব সহজেই একে অপরকে ছুঁয়ে যেত।
পরদিন স্কুলে গিয়ে রবিনের মনটা অদ্ভুতভাবে অস্থির ছিল। বারবার নিজের অজান্তেই সে ভাবছিল—শৈলী কি চিঠির উত্তর দেবে? নাকি সবকিছু আগের মতোই নীরবতায় থেমে যাবে? এই অজানা অপেক্ষা তাকে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছিল। সে বারবার বারান্দার দিকে তাকাচ্ছিল, যদি একবার তাকে দেখা যায়।
অবশেষে টিফিনের সময়, দূর থেকে শৈলীকে দেখা গেল। সে তার বান্ধবীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল, হালকা হাসাহাসির ভেতরে নিজের মতো করে মিশে আছে। ঠিক তখনই হঠাৎ এক মুহূর্তের জন্য তাদের চোখে চোখ পড়ে গেল। সময় যেন থেমে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। শৈলী হালকা করে হাসলো—একটা ছোট্ট, লাজুক হাসি, যেখানে অনেক কিছু লুকানো ছিল।
এই ছোট্ট হাসিটুকুই রবিনের কাছে উত্তর হয়ে গেল। কোনো শব্দ লাগেনি, কোনো ব্যাখ্যা দরকার হয়নি—সবকিছু যেন চোখের ভাষাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
সেদিনই নীরার মাধ্যমে আরেকটি ছোট্ট বার্তা আসে—
“আজ স্কুল শেষে একটু থাকবা?”
রবিনের বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যায়। সেই কয়েকটা শব্দই তার পুরো দিনটাকে বদলে দেয়। সময় যেন আর কাটতেই চাইছিল না, প্রতিটি ক্লাস শেষ হওয়া মনে হচ্ছিল এক একটা দীর্ঘ অপেক্ষা।
স্কুল ছুটির পর, সবাই যখন একে একে চলে যাচ্ছিল, রবিন নির্ধারিত জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল—স্কুলের পেছনের সেই পুরোনো আমগাছটার নিচে। চারপাশ ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল, শুধু তার ভেতরের উত্তেজনা আর অপেক্ষা বাড়ছিল।
কিছুক্ষণ পর শৈলী ধীরে ধীরে সেখানে এসে দাঁড়ায়। তার চোখ নিচের দিকে, হাত দুটো জড়ানো—স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল সে ভীষণ নার্ভাস। বাতাসের মধ্যে একটা অদ্ভুত নীরবতা যেন তাদের ঘিরে ধরেছিল।
রবিন নরম গলায় বলে, “তুমি… আমার চিঠিটা পড়েছো?”
শৈলী মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়, কিন্তু কিছু বলে না। তার নীরবতা যেন শব্দের চেয়েও বেশি ভারী ছিল।
“তাহলে… কিছু বলবে না?” — রবিন একটু সাহস করে আবার জিজ্ঞেস করে।
শৈলী খুব আস্তে বলে, “সব কথা কি মুখে বলতে হয়?”
এই একটুকু বাক্যই যেন হাজারো কথার চেয়েও বেশি ছিল। সেখানে ছিল লজ্জা, অনুভূতি, আর এক ধরনের নীরব স্বীকৃতি—যা শব্দ দিয়ে বোঝানো যেত না।
রবিন হালকা হেসে বলে, “তাহলে আমি কি ধরে নেবো…?”
শৈলী এবার মুখ তুলে একবার তাকায়, তারপর আবার চোখ নামিয়ে ফেলে—
এই ছোট্ট চাহনিতেই উত্তরটা স্পষ্ট হয়ে যায়।
সেদিন থেকে শুরু হয় তাদের নতুন এক পথচলা—
লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করা, বারান্দায় চোখে চোখ রাখা, আর নীরার মাধ্যমে ছোট ছোট বার্তা আদান-প্রদান।
তাদের ভালোবাসা ছিল খুব সরল, খুব নির্ভেজাল—কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়, শুধু একে অপরকে দেখলেই মনে হতো দিনটা পূর্ণ হয়ে গেছে, আর বাকিটা পৃথিবী তখন আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো না।
লেখক-রনতান ত্রুত্তি
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
গল্প চলমান থাকবে…… See less4 Comments
Friends
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
মোহাম্মদ তোফায়েল হাছান
@mohammedtofaylgmail-com
Smsadek__
@smsadek__
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com



শব্দের চেয়ে চোখের ভাষা যে কত বেশি শক্তিশালী, তা এই পর্বে খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।