Profile Photo

মো. জাকির হোসেনOffline

  • zakir
  • Profile picture of মো. জাকির হোসেন

    মো. জাকির হোসেন

    3 months, 2 weeks ago

    রক্তমাখা শৈশব: রাষ্ট্র, সমাজ ও আমাদের ব্যর্থতার জবানবন্দি
    মৃত্যুপুরীতে শিশুদের আর্তনাদ—সভ্যতার মুখোশ খুলে যাচ্ছে একে একে
    মাদ্রাসার বাথরুমে ১০ বছরের শিশুর মরদেহ: নিরাপত্তাহীনতার নগ্ন বাস্তবতায় কাঁপছে দেশ
    একটির পর একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়—এটি এক ভয়ংকর সামাজিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং আমাদের নীরব বিবেকের সম্মিলিত জবানবন্দি।
    রামিসার কবরের মাটি এখনও শুকায়নি। মায়ের কান্না এখনও থামেনি। ঠিক সেই সময়েই রাজধানী ঢাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার হলো আরেকটি ১০ বছরের শিশুর নিথর দেহ।
    যে বয়সে শৈশব হওয়ার কথা ছিল রঙিন স্বপ্নে ভরা, সেই বয়সেই তাকে হারাতে হলো ভয়, নির্যাতন ও পৈশাচিকতার অন্ধকারে।
    সমাজের সামনে কঠিন প্রশ্ন
    আমরা কি সত্যিই একটি সভ্য সমাজে বাস করছি? নাকি এমন এক অন্ধকার বাস্তবতায়, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা আর কোনো অগ্রাধিকার নয়?
    রাস্তা, ঘর, স্কুল কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোনো জায়গাই আজ আর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
    যেখানে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি সবচেয়ে বেশি, সেখানেই যদি ভয়ংকর অপরাধ লুকিয়ে থাকে—তাহলে সেই সমাজের ভিত্তি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
    নীরবতার রাজনীতি ও ব্যর্থতা
    প্রতিটি ঘটনার পর আমরা শোক করি, প্রতিবাদ করি, মানববন্ধন করি—তারপর আবার নীরব হয়ে যাই।
    এই নীরবতা কেবল অসহায়তা নয়—এটি এক ধরনের সামাজিক অপরাধ, যা অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দেয়।
    রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার দায়
    কেন এখনও প্রতিটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি নেই? কেন শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর নয়? কেন বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে?
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে প্রতিটি নতুন শিশু মৃত্যু কেবল পরবর্তী ব্যর্থতার প্রস্তুতি।
    চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
    চুপ থাকা বন্ধ করুন। কারণ আপনার প্রতিটি নীরবতা কোনো না কোনো অপরাধীর জন্য নতুন সাহস, নতুন ঢাল এবং নতুন সুযোগ তৈরি করে—আর সেই সুযোগের মূল্য দিতে হয় একটি নিষ্পাপ শিশুর রক্ত দিয়ে।
    শিশুদের বাঁচানো কোনো আন্দোলন নয়, এটি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার শেষ পরীক্ষা।
    শেষ কথা
    ইতিহাস একদিন লিখবে—এমন এক সময় ছিল, যখন শিশুদের চিৎকারের চেয়েও সমাজের নীরবতা ছিল বেশি ভয়ংকর।

Skip to toolbar