Profile Photo

Salman Bin farukOffline

  • salmanbinfaruk
  • Profile picture of Salman Bin faruk

    Salman Bin faruk

    2 months, 2 weeks ago

    গল্প: নীল জল।
    ✍️সালমান সিফু।

    একটা সময় এসে পুরোনো দুঃখ গুলো সব মুছেঁ যায়। নিয়তিকে মেনে নিয়ে আমরা জীবনকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে শুরু করি। তারপরও বুকের সেই পুরোনো চিন্ চিন্ ব্যথা সদা জাগ্রত থাকে। কারনে অকারনে তা জানিয়ে দেয়, তোমার অতীতেও আমি ছিলাম এখনও আছি। ছেড়ে যায়নি।
    আমরা ভালোবাসতে শিখি, কিন্তু ভালোবেসে ভালোবাসাকে ভালো রাখতে শিখিনা। অযত্নে আমাদের অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে যায়। হারিয়ে খুঁজি বারবার, কিন্তু তা আর আসেনা। আসে দুঃখ হয়ে, ঘন কালো মেঘ হয়ে। অঝর প্লাবনে ধুয়ে মুছেঁ দিয়ে যায় একটু একটু করে গড়ে তোলা স্মৃতির পাহাড়।

    নিকিলের জীবনে একটা নাম, শুধু স্মৃতি নয়, জীবনের একটা বিশেষ অধ্যায়। বলছি নীলিমার কথা। কোন এক গোধুলি ক্ষনে নিকিলের মোবাইলে একটা ম্যাসেজ, তার জীবনে নতুন কোনো প্রাপ্তির স্বপ্ন জাগায়। নীলিমার সাথে তারও পূর্বে নিকিলের পরিচয় না থাকলেও, ফেইসবুকে ফ্রেন্ড হিসেবে ছিলো। নীলিমার নানা পোস্টে নিকিলের চমৎকার কমেন্টগুলি, নীলিমার মনে লাগে। খুব গোছানো, কিছুটা রোমান্টিকতা মিশানো কমেন্টে নীলিমা যেনো প্রেমেই পরে যাচ্ছে।কিন্তু না দেখে একটা ছেলের জীবনে বিনা অনুমতিতে ঢোকে পরাটা চরম অন্যায়। জানা উচিত তার পরিচয়। যদিওবা প্রোপাইলে নিকিলের রিয়েল পিক ছিলো, তারপরও তার সম্পর্কে জানার জন্য নীলিমার কৌতুহল বেড়ে যায়। শত চিন্তার পর নিকিলের কাছে ম্যাসেজ টা পাঠাই। শুধু একটা ম্যাসেজ,

    ….হাই!
    প্রতুত্তরে কিছু না পেয়ে, বেমানান ভেবে নীলিমা আর কিছু লিখলোনা। ঠিক ২০ মিনিট পর নিকিলের একটা ম্যাসেজ আসে।
    …..হ্যালো!
    শুধু ‘হ্যালো ‘ এটা কোনো ম্যাসেজ হলো। আরও কিছু লিখা যেতো। নীলিমার এখন একটু ইতস্তত লাগছে। কি বলা যায়।
    …..কেমন আছেন?
    …….আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?
    ……..আলহামদুলিল্লাহ।
    অনেক্ষন কোনো ম্যাসেজ আসলোনা। নীলিমার এবার খুব রাগ হলো। ধুর,,, কোনো ম্যাসেজই দিবোনা। কোনো দাম দেই না বেটা। কি একটা পার্ট। অনেক সময় অপেক্ষার পর নীলিমার আর মন মানছেনা। এবার ম্যাসেজ দিলো,
    …..কি করেন?
    ……এইতো বসে আছি। আপনি?
    ……..same to you.
    …….আচ্ছা।
    আর কোনে ম্যাসেজ নেই। এইবার নীলিমার খুবই রাগ হলো।
    ….এই যে জনাব, আপনি শুধু প্রশ্নের উত্তর দিতে জানেন। কিছু লিখতে জানেন না? কমেন্টেতো আপনার রোমান্টিকতায় বাঁচা যায় না। এখানে এতো চুপচাপ কেনো। যেনো ভাঁজা মাছটাও উল্টিয়ে খাইতে জানেননা।নিজ থেকে ম্যাসেজ দিয়ে ভুল করলাম। মাপ করবেন।

    এইবার নিকিল কিছু লিখতে চাইলেও লিখলোনা। আর একটু অপেক্ষা করলো। নীলিমার নীল রূপ দেখতে আর একটু ধৈর্য্য ধারণ করলো। কোনো বিশেষ প্রাপ্তির জন্য একটু অপেক্ষা করতে হয়, ধৈর্য্য ধরতে হয় বিশেষ উপহারটির জন্য। নীলিমার ইচ্ছেটুকু অতিরিক্ত আবেগের প্রতিফলন বলা যায়। সম্পর্কে আমরা যতটুকু আবেগ রাখি, তার চাইতে বেশি রাখতে হবে বিবেককে জাগ্রত। কেননা, আবেগের আগমন যেমন ঘটে গমন টাও ঠিক তেমনি।
    নীলিমার নীল জলে ডুব দেওয়ার আগে নিকিলের নীরবতা যেনো বলে দেই, ” হঠ্যাৎ করে ভালোবাসায় নিমজ্জিত হওয়ার পূর্বে, ভালোবাসার নীল জলকে আগে ফিল্টারিং করে নেওয়া উচিত৷ যাতে তা স্বচ্ছ পানিতে পরিণত হয়। স্বচ্ছতায় সম্পর্ককে দৃঢ়তায় পরিণত করে।”
    দুইদিন অতিক্রমের পর নীলিমার একটা ম্যাসেজ আসে নিকিলের কাছে,
    …..কেমন আছেন?
    এইবার নিকিল সাথে সাথে seen করলো। প্রত্যুত্তরে,
    ……আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমম আছেন?
    …….আলহামদুলিল্লাহ। ঐদিনের ব্যবহারে দুঃখিত।আসলে এইভাবে কথা বলা আমার উচিত হয়নি। ক্ষমা করবেন।
    এইবার সঠিক জায়গায় এসেছে।কিছু লিখা যায় এখন।
    …..ক্ষমা চাওয়ার মত কিছু হয়নি। এই রকম হতেই পারে। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি?
    …..হুম। করেন।
    ……প্রেমে পরেছেন কারও?
    হঠ্যাৎ এমন প্রশ্নে নীলিমা একটু চিন্তায় পরে গেলো। কি বলা যায়,,
    ….হঠ্যাৎ এমন প্রশ্ন?
    ….. মাপ করবেন। আমি একটু স্ট্রেইটলি কথা বলতে পছন্দ করি। তাই আপনার মনিকোঠায় লোকানো প্রশ্নটা আমি খোলাসা করে দিলাম।
    ….. স্ট্রেইটলি কথা বলা মানুষকে আমার খুব পছন্দ। প্রেমে পরেছি একবারই। সুন্দর কথার প্রেমে পরেছি। কথা সুন্দর মানুষটার মনও বুঝি খুব সুন্দর। কখনও প্রেমে পরিনি, প্রথম প্রেমে পরেছি। তাই গোছানো ভাবে প্রেমের কথা বলতেই পারছিনা। আমিতো আর কবি নই, সুন্দর ভাষায় প্রেমের কথা বুজাবো। খুব বেশি বলে ফেললাম তাইনা। আমি আসলে মেয়েটাই এইরকম, একটু বেশি ফটর ফটর করি। সরি।🥴
    মেয়েটার এমন কথা শোনে নিকিলের খুব হাসি পাচ্ছে। মেয়েটাকে বাচাল বলা যায়না। বলা যায় সরলমনা। পেটের কথা না বলে শান্তি পাইনা। এমন মেয়েকে ভালোবাসা যায়। বিপদেও পরতে হয় বেশি। হুটহাট ভুল ভাল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়। তারপরও প্রথমের দিকে একটু সাবধানে কথা বলতে হবে। আবেগকে কন্ট্রোল করতে হবে।অতি আবেগ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেই।
    এইভাবে চলছে অনেকদিন। একটু আদটু কথা এখন ঘাড় হচ্ছে। যদিওবা প্রেম প্রেম ভাব, কিন্তু ঘটা করে এখনও প্রেম নিবেদন হয়নি। নিলিমার পাগলামি দিন দিন আরও বাড়ছে। মাঝের মধ্যে শাসনও করে ফেলে নিলয়কে। যেনো একচ্ছত্র অধিকার তাঁর। নিলয় প্রায়শই নিলিমাকে গল্প শোনায়। এতো গল্প কিভাবে মাথায় চলে আসে নিলয় বুঝতেই পারেনা। প্রেমে পরলে নাকি মানুষের কথা সুন্দর হয়ে যায়, আচরণ হয়ে যায় বিয়ে না করেও বিবাহিতের মতো। এই ধরুন শাসন করা, কোনো ছেলে ডিস্টার্ব করলে আগ্ বাড়িয়ে কথা বলা। পার্কে হাঠতে গেলে এমন ভাবে আচরণ করা যেনো স্বামী – স্ত্রী।
    তবে নিলয়ের টা একটু ভিন্ন। সে শুধু গল্প শেনায়। আর ঐ দিকে নিলিমা গল্প শোনে আরও প্রেমে মজে যায়।
    বর্তমান ফেইসবুক প্রেমগুলোকে মানুষ কম বিশ্বাস করে। আর যারা করে, তারা দুই পক্ষ হতেই জেনে শোনে সময় ব্যয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে করে। তবে সবার মনোভাব এক নয়।
    সময় যত বাড়ে নিলয়ও তার শক্ত মনকে আর ধরে রাখতে পারেনা, নিলিমার প্রেমে সেও হাবুডুবু খাওয়া শুরু করে।
    …………………….চলবে……………………………

    2 Comments
Skip to toolbar