Profile Photo

Rathy rathyOffline

  • rathyrathy
  • Profile picture of Rathy rathy

    Rathy rathy

    2 weeks, 1 day ago

    এই
    গহীন রাজ্যের রাণী
    পর্ব 1: লীলা

    এরশাদ সকাল সাড়ে আটটায় এসে কলিং বেল টিপছে।রুমি দরজা খুলে টাকা দিয়ে ওকে বিদায় করে দিলো।লীলা দোতলা থেকে নেমে এসে বলছে,”পেপার বিল দিয়েছ,এরশাদ এসেছিল,না।”রুমি বলল,”জে আফা,ট্যাকা দিছি তেনরে।” লীলা মুচকি হাসি দিয়ে কিছু বলবে এমন সময় আবার ও কলিং বেল বেজে উঠল।কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে লীলা দরজা খুলল।
    মাথায় কলো টুপি পড়ে ভদ্রলোক,কোর্ট,প্যান্ট আছে,মুখে অল্প দাড়ি। লীলা ভয় পাবার মেয়ে নয়।সে মুচকি হেসে বলল,” ভেতরে আসুন।বসুন,তা কেমন আছেন?আগে কোথাও দেখিনি তো।”লোকটা তার হাতে থাকা ফুল ও চকলেট লীলাকে দিয়ে বলল,”ভালো আছি।আমি চাই সবাই যেন ভালো থাকে।তাই এসেছি।”লীলা তার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে।জানতে চায়,উনি কি করেন? ভদ্রলোক বলেন,”পেশা আমার কলম যুদ্ধ।আমি লিখতে ভালোবাসি।সবাই বলে,মি,সেন।আপনিও তাই বলবেন। তিন তলা নাকি ভাড়া হবে?একটু ঘুরে আসি,কেমন থাকার জায়গা।” লীলা বলল,”হুম,ঠিক আছে।”
    লোকটার সাথে যায় না সে।বিশ মিনিট পরে এসে বললেন,”হুম,ঠিক আছে।খুব ভালো লাগল।আমার জরুরি কাজ আছে।আজ যেতে হবে।কেমন।”লোকটির যাবার সময় লীলা জানতে চায়,ভাড়া কে আসছে,সে নাকি অন্য কেউ?
    কিছুই বলে না সে,আবার মুচকি হেসে বলে,”কেউ না কেউ তো আসবেই।” সে চলে গেলে রুমি তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করে।লীলা মুখে কিছু বলে না। তিন তলা তাহলে একটু মুছে নিতে হবে।
    বিকেলে রুমি আর লীলা যায়।রুমিকে দিয়ে ঘর ঝাড়ু দেওয়ায়,হঠাত্ একটা লাল টুকটুক ডায়েরি।তাতে,সাদা অক্ষরে বড় বড় করে লেখা,”Listen to me.Hello,Lila.”সেই সাথে রক্তমাখা চাকু,একটা পেন্সিল,একটা পেন ড্রাইভ।রুমি আর লীলা দুইজন ই হতবাক।চোখ বড় বড় করে ওরা দেখে।রুমির কণ্ঠে অভিমান,”আমি কয়েছিলাম না,বেডা পাক্কা বদমাইশ।হাসে কেমবা,মন কয়,চোর।চোখ দুইডা দেখছেন,মনে আয় নিশা খায়।হের এই কাম।” লীলা কিছুই না বলে,চাকু ধুয়ে বাকি সব রেখে দিলো।বিকেলের মত ঘর সাফ করল।দোতলার একটা ঘর,যা কিনা লীলা তালা দিয়ে রেখেছে।আজ ও কাউকে সে যেতে দেয় না।তার বিশ্বাস ছোট মায়ের ঘর ওটা।সেখানে অন্য কেউ গেলে সে রাগ করবে,আর লীলার সাথে কথা বলবে না।এটা সে চায়না।এজন্য মা এর সব জিনিস ঐ ঘরে,তার শাড়ি গুলো ও ধুয়ে রাখা হয়েছে।ছোট মা যখন আসে,তখন লীলা হাটার শব্দ শুনতে পায়।সে খুশি থাকলে শাড়ি পড়ে দেখে নিজেকে।লীলা সব ই জানে।চাবি তার হাতে।রুমি বা কেউ যায় না সেইখানে।লীলা খুব সচেতন।বাবা বিদেশ থাকে।তার চাচা চাচির সাথে থাকে সে।কিন্তু,ছোট মার ঘরের চাবি দিতে নারাজ সে।এই নিয়ে লীলা ঝগড়া ও করেছে তাদের সাথে।”তোমরা কেন বুঝ না,ছোট মা আসে,আমার সাথে কথা বলে।বিশ্বাস না হলে কিন্তু আমি চলে যাব।” তারপরে,আর কেউ কিছুই বলে নি ওকে।নিজের বাড়িতে বেশ ভালই আছে লীলা।খাচ্ছে,ঘুমচ্ছে,ছোট মায়ের সাথে কথা বলছে।

    পর্ব 2:মহিম

    শান্তির পল্লী,ছোট্ট গ্রাম।বিয়ের উত্সব চলছে।মহিম একজন মেধাবী এবং কৌতূহলী ছাত্র।ওর জীবনে আছে বাবা, ছোট্ট বোন,প্রেমিকা নীরা।
    বিয়েতে সে আর ছোট্ট বোন এসেছে।বাবার কাছে এসব মানেই সময় নষ্ট,সে কোন বিয়ে বড়ি যায়ই না।গ্রামে এলো 5 বছর পরে।ভালো লাগছে তার।এখানে বৃষ্টির রিমঝিম হাওয়া,ধানক্ষেত এর সবুজ, উদার মনের সবাই।চাচার সাথে তার সম্পর্ক খুব ই ভালো।নীরা আর চাচা এই দুইজন ই মহিমের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।মহিম পুকুর পাড়ে ঘুরে আসে মাঝেমধ্যে।করিম বখশ একদিন তাকে বসিয়ে বলছে,”এই গেরামে তুমি নতুন আইচ নি,হোন,হূঠ কইরা এনে অনে যাইতে নাই।কিছু আইলে কি হবে?তুমি আবার কিছু মনে করবা কি না,সেজন্যি কই না।”মহিম বলে ওঠে,”আমি সাইকোলজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র।ভয় পাই না।আপনাদের ভয়ের কারণ আমাকে বলেন,দেখি সমাধান করতে পারি কি না।”করিম এবার মাথা চুলকে বলে ,”কি আর কমু।সুরুজ মিয়ার বৌ পিরিতি করেছিল এক পোলার লগে।হে একদিন কাম থিকা আইসা দেহে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।তাই,এহেনে দিনে অহন গেলেও রাইটে অহে না কেউ।বুঝছ নি,পোলা?”
    মহিম একটু মাথা নাড়ায়,আর কিছুই বলে না।আলাপ শেষে করিম বখশ চলে গেল।মহিম ভাবল,দেখি তো সুরুজ মিয়ার অতৃপ্ত আত্মা আমায় কি বলে।কিন্তু এই তীব্র গরমে সে মৃদু বাতাস ছাড়া তেমন কিছুই পেল না।তাকে রাতে বের হতে না দেওয়ার এটাই তাহলে কারণ।পরের দিন সে পান বিড়ির দোকানে গেলো, চা খেতে খেতে বলছে,”আপনাদের একটা কথা বলি।সুরুজ মিয়ার কারণে নাকি পুকুর পাড়ে যাওয়া নিষেধ।এটা কেনো আপনারা মেনে চলেন?আমাকে কি বলা যায় না?” কদম আলী আর মুতসির যা বলল,তাতে মহিমের এটুকু বোঝা হয়ে যায় যে,এত ভয় তাদের মধ্যে একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলে এসেছে।আচ্ছা,সে গত রাতের মত আজ ও গেল সেই নিষিদ্ধ পুকুর পাড়ে।গিয়ে বসে থাকল চুপ করে।ঝি ঝি পোকা ডাকে,গান শোনা যাচ্ছে।সুরুজ আলী ও কি শুনতে পাচ্ছে?জানতে চায় সে।ঘন জঙ্গল,সে ধীরে ধীরে ওখানেই যাচ্ছে।যেতে যেতে দেখে একটা সাদা রঙের কাপড়,নকল চুল।দেখে হাসি পেল তার।এত বোকা সবাই।কিন্তু,এই যে শয়তান সুরুজ আলীর কথা বলে একটা ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে,এতগুলো মানুষ,সব তার হাতের পুতুল।এটা কি সে বলতে পারবে?মহিম তার চাচার সাথে কথা বলে।সব শুনে সে বলে,এগুলো বললে করিম বখশ তার সাথে ঝগড়া করবে।সে আজ আছে কাল নেই।মহিম চুপ হয়ে যায়।বিয়ে তার চাচাত বোনের।সব ঝলমলে,আলোকিত।কিন্তু,কোথায় যেন সব থেকেও কিছুই নেই।এদিকে,মিন্টু মিয়া এসে মহিমের চাচার কাছে নালিশ করে,”তুমার ভাতিজা রে কউ বেশি জানি না বুজে।গত রাইটে সুরুজ মিয়ার আত্মা আইসা করিম সাবরে ভয় দেহৈচে।কইছে,রাইতে অহনে আর কেউ গেলে আমাগো মাইরা ফালাবে।”মন্টুর এই কথা শুনে বিয়ে বাড়িতে ই হৈ চৈ শুরু হলো।সবাই চেচামেচি করতে লাগল,মহিমকে গ্রাম ছাড়তে বলে।অগত্যা বিয়ে খেয়ে কোনমতে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে মহিম।

    পর্ব 3: রহস্যের কিনারায় লীলা

    “এই যে রুমি,রাতের খাবার দিয়ে যাও”।লীলার এহেন গলা রুমির কাছে পরিচিত।সে প্রতিদিনের মতো নাশতা নিয়ে যায়।লীলার চাচা,চাচি খুব ভালো।লীলা যা বলে তাতেই রাজি হয়ে যায়।
    ছোট মা তাকে যে গান গেয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিত,সেইটা ঐ বন্ধ ঘরের সামনে সে গায়,সেই রাতে ছোট মা তার সপনে এসে জানায়,যে,গান নাকি খুব ভালো হয়েছে।শুধু তাই নয়,যে কোনো খবর আগে ছোট মা ই তাকে দেয়।একবার বলেছিলেন,”লীলা,তোমার বাবা ভালো নাই।খবর নাও।” ফোন করে দেখে বাবা আসলেই ভালো নেই,হার্টের অসুখ বেশি।নিজের মাকে সেভাবে পায়নি এই লীলা।আজ রাতে একটা খেয়াল হলো,আচ্ছা,মি,সেন যে ডায়েরি আর যা দিয়েছেন,একটু দেখি।লীলা প্রথমে পেন ড্রাইভ টা চেক করে।খুব ভালো গান।2 টা গান।গলাটা তার ছোট মায়ের গানের গলার মতই।ডায়েরি খুলে দেখে সব সাদা পৃষ্ঠা,পেন্সিল ও এমনেই সাধারণ।
    কেন,মি,সেন এমন করলেন?তিনি কি ভাড়া জন্য আসেন নি?কি চান উনি?
    কাল দাওয়াত আছে নীরাদের বাসায়।জি,লীলার চাচাত বোন নীরা।চাচা আর লীলা যাবে।সকালে চাচা লীলাকে ডেকে তুলে,”ওঠ,ওঠ,যেতে হবে।নীরা ফোন করেছিল।”তো,যেতে যেতে দুপুর বার বাজল।বেশি লোক না,এই কিছু 25,30 জন।নীরা মহিমের সাথে লীলার পরিচয় করিয়ে দেয়।লীলা মহিমকে চেনে না।লীলার চাচার বন্ধুর মেয়ে নীরা।নীরাকে নিয়ে গতকাল রাতে ফোনে কথা হয়েছিল।নীরা মহীনের কথা বলেছে। ইশারা করে লীলাকে দেখাল নীরা।তারা তিনজন খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলো।
    কোনো এক শুক্রবার বিকেলে ওরা তিনজনই ঘুরতে বের হলো।ফুচকা খেতে খেতে কথা হচ্ছিল।মহিম লীলা কে বলছে,”তোমার ছোট মাকে তুমি খুব মিস করো,না?উনি তোমাকে খুব ভালোবাসতেন।”লীলা সহজভাবে উত্তর দিলো,”না,আমি কেন ছোট মা কে মিস করব।উনি তো আমার ঘরেই থাকেন।আমার সাথে কথা ও বলেন।ওনার সব প্রিয় জিনিসই আমি ঐ ঘরে রেখে দিয়েছি।”মহিম জানতে চায়,ছোট মা আসলে কে?কিভাবে ওদের মধ্যে কথা হয়,এগুলো।লীলা তাও সুন্দর করে বলল,”আমি হবার পরে আমার মা মরে যায়।আমি তাকে দেখিনি।বাবা আবার বিয়ে করেন।উনার সাথে আমি জীবনের বারো বছর কাটিয়েছি।উনি কখন ও আমাকে সতিনের সন্তান হিসেবে নেননি।আমাকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব করতেন,ঘুমের সময় গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। তারপর,একদিন ঘরেই মরে ছিলো,ওনার ব্লিডিং বেশি হয়েছিল কি না,আমি স্কুলে ছিলাম,বাবা অফিসে।ডক্টর এসে দেখেন,উনি মরে গেছেন।”মহিম বলল,”তোমরা কথা বল কিভাবে?”লীলা বলে,”কথা বলতে চাইলে উনি আমাকে ডেকে নেন।যা বলেন তাই শুনতে হয়।
    আবার,যখন উনি শাড়ি,হাতের চুড়ি এগুলো পরেন আমি সেই আওয়াজ শুনতে পাই।উনি কে কোথায় আছে,কেমন আছে সব বলতে পারে ”
    মহিম পুরো গল্প শুনে খুব ভালো বলল।ছোট মায়ের সাথে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে মহিম,”তাহলে আমিও কথা বলে দেখি একটু?”লীলা একটু নড়েচড়ে বসেছে এবার,”আমি ছাড়াওনার কথা কেউই শুনতে পায় না,আগেও বলেছি।আর,আমাকে এখানে কেন এনেছ?চাচা কি সব বলেছে।তোমরা আর ভালো হতে পাড়লে কোথায়?আচছা ,থাক।আমি আসি।আর এরকম ডেকো না আমাকে,কেমন।”লীলা কি সব বিড়বিড় করতে করতে চলে গেল।নীরা শুধু লীলার যাওয়ার পথের পানে তাকিয়ে থাকে।
    লীলা বসায় গিয়ে একদম ফ্রেশ হয়ে,মি,সেনের সেই দেওয়া জিনিসগুলো দেখতে থাকে।কে এই ভদ্রলোক?সেদিনের পরে আর তো এলেন না।ছোট মায়ের ঘর থেকে পানি বর্ষণ এর মত আওয়াজ আসছে।”আচ্ছা,আমি কি সত্যিই সাইকো?না,সবাই ভুল বলে।মোটে ও না।মহিমের সাথে আরো কথা বললে ও কি একটা যুক্তি দেখাত তাই চলে এলাম।যাই হোক,মি,সেন কি আসবেন আর?”লীলার মনে এই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। এখন সে জিনিসগুলো দেখবে।একটা ডায়েরি,তাতে কিছুই লেখা নেই।তা কি করে হয়? এই প্রশ্নের উত্তর লীলা চায়।ওটা হাতে নিয়ে এপিঠ ওপিঠ দেখে ।রুমি চা বানিয়ে ফেলেছে।লীলাকে দিতে এলো,”আফা,লন,চা আনছি।খান।”লীলা মুচকি হেসে বলল,”রেখে দাও।” তো,চা খেতে খেতে ডায়েরি দেখা লীলা।অনেক পাতা সাদা,কিছুই লেখা নেই।কিন্তু,একটা পাতায় হালকা করে,খুব আবছা করে পেন্সিল দিয়ে লেখা “মরার পরেও ভালবাসা যায়।” শুধুই এইটুকু।আর কিচ্ছু না।রক্ত মাখা চাকু ও একবার দেখে নীলো।কি বলতে চেয়েছিল সে? ফোন বেজে উঠল।”হায়,আমি মহিম বলছি।তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নি।আমি একটু কৌতূহলী বটে,কিন্তু কারুর কষ্ট বা পার্সোনাল বেপারে নাক গলানো আমি নিজে ও পছন্দ করি না।তুমি খুব সহজ সরল মেয়ে।কষ্ট পেলে মাফ কর।সরি।” লীলা একটু চুপ করে থেকে বলল,”ভুল বুঝতে পেরেছেন,ঠিক আছে।কিন্তু ছোট মা কে নিয়ে কিছুই বলা যাবে না।সে এতগুলো দিন আমার সাথে আছে।বিশ্বাস করুন বা না করুন।এখন রাখছি।কাজ আছে।”
    ঐ তালা দেওয়া ঘরের সামনে গিয়ে ছোট মায়ের কথা শুনছে লীলা।একটু পরে ঘুমিয়ে পরে।মহিম একটা মেসেজ দিয়েছে তাকে ,সকালে উঠে দেখে সে।তেমন কিছুই না “Good Morning, Lila.”
    লীলা জবাব একটু কড়া সুরে দিলো,”আমাকে এসব বলতে হবে না।এসব বলার জন্য নীরা আছে তো।” মহিম আবার বলে,”কে বলেছে?নীরা আমার জাস্ট বন্ধু।”লীলা কোন জবাব না দিয়েই মুখ ধুতে চলে গেলো।আজ কেনাকাটা আছে।বান্ধবীর জন্মদিন।স্কুলে,কলেজে একসাথে পড়েছে।সকালের নাশতা করে চাচার কাছে গিফ্ট কেনার জন্য টাকা চায়।দাওয়াত দিয়েছে এক সপ্তাহ আগে।

    পর্ব 4: মি,সেন
    মি,সেন ইজি চেয়ারে বসে আছেন।হাতে একটা চায়ের কাপ।পেপার পড়ছেন। অর্পা আর ওনার 30 বছরের সংসার।আজ তারা নতুন বাসায় যাচ্ছেন ভাড়া থাকতে।সব গুছিয়ে নিচ্ছে।ইব্রাহিম কে দিয়ে সব মালামাল তুলে নিচ্ছে।পিক আপ করে সব নিচ্ছে ওরা।ইব্রাহিম,মনজু,সখিনা এদেরকে আগেই পাঠিয়েছে সব গুছিয়ে দেওয়ার জন্য।মনজু ফোন করে বলল,”হয়ে গেছে মালিক।চলে আসেন।সব পরিপাটি করে সাজিয়ে দিয়েছি।”মনজু তার অফিসে কাজ করত।ছেলে হিসেবে খুব ভালো।অত ফর্সা না হলেও চেহারায় মায়া আছে।মি,সেন বৌ,মেয়ে প্রফুল্ল,কুষাণ একসাথে চলল গড়িতে করে নতুন বাসায়।প্রফুল্ল মেডিকেলে পরে,কুষাণ সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।এই নিয়ে ওদের সংসার।নতুন বাসায় গিয়েই মুরুব্বি গোছের লোকটা কে আদাব দিলেন মি,সেন।সে এই বাসায় আগেও এসেছিল,লীলার সঙ্গে কথা বলেছে।তার সঙ্গে আলাপের এক সময়ে বলে ফেলেন,”আমি এর আগেও এসেছিলাম।আপনার ভতিজী ছিলো।আপনাদের তিনতলা আমি ঘুরে দেখেছি,বেশ ভালো।”কুশল বিনিময় শেষে উপরতলায় গেলেন মি,সেন।বন্ধুর জন্মদিন পালন করে লীলা চলে এলো। চাচা তাকে নতুন ভাড়াটে সম্পর্কে বললেন।মি,সেন নাম শুনে লীলা একটু চুপ হয়ে গেলো।যাই হোক,দোতলায় উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নীলো।মি,সেনের সঙ্গে পরে কথা বলবে লীলা।বিকেলের দিকে প্রফুল্ল,মি,সেন আর তার চাচা বসে বসে চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিল।লীলা গিয়ে মি,সেনকে আদাব দিয়ে বসল।প্রফুল্ল লীলাকে দেখে বলে উঠে,”হায়,কেমন আছ?তুমি লীলা না?বাবা তোমার সাথেই কথা বলেছিলেন।” লীলা ও কথা বলল।কিছুক্ষণের মধ্যেই দুইজনের মধ্যে ভাব জমে গেলো।
    পরের দিন কার্ড হাতে একটা ছেলে এলো,চাচার সাথে কথা বলে চলে গেলো।বসলেন না,”বহন যাইব না।কাম আছে অহন।আরো বাড়ি বাড়ি যাইতে আইব।” পরে চাচার সাথে কথা বলে লীলা জানে যে,ঐটা আসলে মহিম আর নীরার বিয়ের কার্ড।মহিমকে লীলার ভালো লাগে না।চাচা জানাল পনেরো দিন পর ওদের বিয়ে।লীলা এমনিই ওসব বিয়ে বাড়ি যায় না।
    মি,সেন একা একা চা খাচ্ছিলেন।বেঞ্চে বসে।লীলা তার সাথে কথা বলতে গেল,”ওরকম সাদা একটা ডায়েরি,পেন্সিল,চাকু,পেন ড্রাইভ কেন দিয়ে গেছিলেন? বলুন না।আমি কিছুই মনে করিনি।” লোকটা মুচকি হেসে বলল,”আমি কেন দিতে যাব।তোমার ছোট মা আছে না,উনি আমাকে দিতে বললেন।” লীলার চোখ বড় বড় হয়ে গেল,”আপনি ওনাকে চেনেন? উনি তো বেচে নেই।” মি,সেন তার কথায় যুক্তি দিলেন,”সে তোমাকে খুব ভালোবাসত,না?আমিও তার জীবনে ছিলাম,একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।ধর্ম ভিন্ন হওয়ার জন্য বিয়ে হয়নি আমাদের।তোমার বাবা ছিলেন ধনী।হ্যান্ডসাম।সে তোমাকে হিংসে করেনি,মানে তোমার বাবাকে সে ভালবাসতে পারেনি।আমি জানি।”লীলা বলল,”তিনি অনেক ভালো ছিলেন।এভাবে বলবেন না।”মি, সেন আবারো বলেন,”ওটা ভালোবাসা নয়,ওটা হচ্ছে সংসার।যেখানে 90%মেয়েরা জীবন্ত লাশ।আমি এই যে,তার কথামত জিনিসগুলো দিলাম তোমায়,রাগ হয়নি?” লীলা রাগী নয়।শুধু মাথা নাড়ল একটু,সে রেগে নেই। “গুড,কিন্তু তুমি এই যে,গুমরে থাকো,ঐ বন্ধ ঘরের সামনে কথা বলো,গান কর,এগুলো নিয়ে সে কিছু বলেছে।এসব কম কম কর।আর,তাকে এক ঘরে আটকে রেখে কি কর তুমি?” লীলা বলল,”তিনি কি রেগে আছেন? আমি তাকে আটকে রাখতে চাইছি না।ঐটা তার ঘর।অন্য কেউ গেলে সে রেগে যায়,আমাকে বকে দেবে।আমার সাথে ঐ ঘর থেকে ই কথা বলেন ছোট মা।কে বলেছে আমি তাকে আটকে রাখি?”
    মি,সেন হেসে বলেন,”ঠিক আছে।খুব ভালো।লেখাপড়া কতদূর হল?”
    লীলা বলছে,” মাস্টার্স এ পরছি। দুআ করবেন।” তিনতলা থেকে প্রফুল্ল বাবা বাবা বলে ডাকছে,মি, সেন চলে গেলেন। লীলা সেই ঘরের সামনে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,”ছোট মা,তুমি কি কষ্ট পাও?তাহলে দরজা খুলে দিচ্ছি আমি। কথা বলছ না যে আমার সাথে।”চাবি নিয়ে এলো লীলা।লীলার বাম পাশে শাড়ি পড়া এক মহিলার ছায়া।পেছনে মি,সেন।অবাক চোখে দেখছেন সব,এ ছায়া কার?একটু পরে লীলা হেসে বলল,”নাহ,ছোট মা বলল,ভালো আছেন।দরজা বন্ধ থাক।কিছু লাগলে বলো,কেমন।”লীলা খুশি মনে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মি,সেন।কিছুই না বলে নিজের রুমে চলে যায় মেয়েটি।

    গল্প টা পড়ে কেমন লাগে বলবেন,প্লিজ।

    1 Share
Skip to toolbar