-
“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”
✍️ দশ: ( সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ও লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি )
সব বাধা, ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝেও রবিন আর শৈলীর গল্পটা থেমে না গিয়ে বরং আরও গভীর হতে লাগল। সময় যেন প্রতিদিন তাদের নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছিল। কখনো পরিস্থিতির মাধ্যমে, কখনো মানুষের আচরণে, আবার কখনো নিজেদের নীরব সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে।
হাঞ্জার সরাসরি চাপ ধীরে ধীরে কমে এলেও তার কালো ছায়া পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। এবার সে সামনে থেকে আঘাত না করে আড়াল থেকে খেলা শুরু করল। ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা, গুজব ছড়ানো আর দুজনের মাঝে অদৃশ্য দূরত্ব গড়ে তোলাই হয়ে উঠল তার নতুন কৌশল।
একদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে রবিন লক্ষ্য করল, শৈলী আগের মতো নেই। কথা বলছে, হাসছেও মাঝে মাঝে, কিন্তু তার চোখের গভীরে যেন এক অদ্ভুত ক্লান্তি আর দ্বিধা বাসা বেঁধেছে।
রবিন নীরার মাধ্যমে বিষয়টা জানার চেষ্টা করল। কিন্তু স্পষ্ট কোনো উত্তর পেল না। শুধু একটা কথাই বারবার ফিরে এল—
“সবকিছু ঠিক আছে রবিন ভাই… কিন্তু আসলে কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই।”
এই কয়েকটি শব্দ রবিনকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিল।
পরদিন বিকেলে সে সিদ্ধান্ত নিল, সরাসরি শৈলীর সঙ্গে কথা বলবে।
স্কুলের সেই পুরোনো আমগাছটা আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চারপাশের বাতাস যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারী।
শৈলী ধীর পায়ে এসে দাঁড়াল তার সামনে। আজ সে অস্বাভাবিক শান্ত। না আগের মতো লাজুক, না আগের মতো প্রাণবন্ত। যেন দীর্ঘ সময়ের ভাবনা তাকে আরও পরিণত করে তুলেছে।
রবিন নরম গলায় বলল,
— “তুমি কি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছ, শৈলী?”
শৈলী কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাটির দিকে তাকাল।
— “লুকাচ্ছি না… শুধু বুঝতে চেষ্টা করছি।”
— “কী বুঝতে?”
সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল।
— “আমরা কি সত্যিই এই সমাজ আর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারব, রবিন? নাকি সারাজীবন এভাবেই লুকিয়ে, ভয় নিয়ে বাঁচতে হবে?”
প্রশ্নটা শুনে রবিন কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল।
উত্তরটা তার নিজের কাছেও খুব সহজ ছিল না।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল,
— “ভয় তো থাকবেই, শৈলী। কিন্তু আমরা যদি সেই ভয়কে জিততে দিই, তাহলে একদিন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভালোবাসার জন্য নয়, ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আফসোস করে।”
শৈলীর চোখে জল চিকচিক করে উঠল।
— “আমি তোমাকে হারাতে চাই না, রবিন। কিন্তু এই দমবন্ধ করা পরিবেশে নিজের জীবনটাকেও থামিয়ে রাখতে পারছি না।”
কথাগুলো রবিনের বুকের গভীরে গিয়ে আঘাত করল।
চারপাশে কিছুক্ষণ শুধু বাতাসের শব্দ।
তারপর সে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— “তাহলে চল, আমরা পালিয়ে না গিয়ে লড়াই করি। নিজেদের যোগ্য করে তুলি। এমন জায়গায় পৌঁছাই, যেখানে আমাদের সিদ্ধান্তের মূল্য থাকবে।”
শৈলী অনেকক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।
সেই চোখে ভয় ছিল, কষ্ট ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল বিশ্বাস।
ধীরে ধীরে সে মাথা নাড়ল।
কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়।
কোনো নাটকীয় শপথ নয়।শুধু এক নীরব সম্মতি।
সেদিন তারা বুঝেছিল, ভালোবাসা মানেই সারাক্ষণ হাত ধরে পাশে থাকা নয়। কখনো কখনো দূরে থেকেও একে অপরের প্রতি আস্থা ধরে রাখার নামই ভালোবাসা।
এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের ধরন বদলে গেল।
দেখা হতো কম, কিন্তু বোঝাপড়া বাড়ল।
কথা হতো কম, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা বেড়ে গেল।
রবিন মন দিল নিজের পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে।
শৈলীও নিজেকে আরও শক্ত করে গড়ে তুলতে শুরু করল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঞ্জাও বুঝে গেল, সত্যিকারের ভালোবাসাকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না। একসময় সে নিজেই তাদের জীবন থেকে দূরে সরে গেল।
এক সন্ধ্যায়, অনেকদিন পর শৈলী নীরাকে বলেছিল,
— “জানিস নীরা, আমি এখন আর ভয় পাই না। শুধু অপেক্ষা করতে শিখেছি।”
নীরা মুচকি হেসে বলেছিল,
— “অপেক্ষাই তো সবচেয়ে কঠিন ভালোবাসা, পাগলী।”
শৈলী আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
— “হয়তো… কিন্তু এটাই সত্যি।”
আর সেই সময় দূরে কোথাও নিজের পড়ার টেবিলে বসে রবিন ডায়েরির পাতায় লিখছিল—
“কিছু সম্পর্ক চোখে দেখা যায় না, শুধু দূর থেকে অনুভব করা যায়। ঠিক আমাদের মতো…” ❤️
গল্প চলমান …
1 Comment
Friends
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
মোহাম্মদ তোফায়েল হাছান
@mohammedtofaylgmail-com
Smsadek__
@smsadek__
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com

সুন্দর