Profile Photo

অয়ন আবদুল্লাহOffline

  • ayoNabdullah140
  • Profile picture of অয়ন আবদুল্লাহ

    অয়ন আবদুল্লাহ

    4 days, 8 hours ago

    একটি সাদা মানিব্যাগ
    অথবা একজন সান্তাক্লজ

    ১.
    সকাল ৮টার সময় ঘুম ভাঙলো সাঈদুর রহমান শান্তর। ঝটপট উঠে পড়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর কালো টাই ঝুলিয়ে রুম থেকে বের হয়েই দেখতে পেলো খাবার টেবিলে নাশতা সাজাচ্ছেন মা রাশেদা কামাল। বাবাকেও দেখতে পেলো শান্ত। খাবার টেবিলে বসেই পত্রিকা পড়ছেন নিমগ্ন চিত্তে।
    রাশেদা স্বামীর প্লেটে আটার রুটি, ডিম ভাজি আর আলুভাজি তুলে দিয়ে বললেন, এই, পত্রিকাটা এবার রাখো তো! খেয়ে নাও আগে।
    এই রাখছি।
    পত্রিকা নামিয়ে রাখতেই শান্তকে দেখতে পেলেন সাদিকুর রহমান।
    কি রে শান্ত। আজও ইন্টারভিউ আছে নাকি?
    হ্যাঁ বাবা, তোমার আজ অফিস নেই? বলে শান্ত এগিয়ে এলো খাবার টেবিলে।
    সাদিক সাহেব রুটি ছিড়তে ছিড়তে বললেন, শরীরটা ভালো লাগছে না রে। আজ ছুটি নিয়েছি।
    শান্ত উদবিগ্ন স্বরে বললো, কই দেখি? জ্বর টর বাধালে নাকি আবার?
    বা হাত দিয়ে বাবার কপালে হাত দিলো শান্ত।
    হুম… জ্বরই তো মনে হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে নেয়া লাগবে।
    রাশেদা বললেন, চিন্তা করিস না তো। তোর ডাক্তার কাকাকে ফোন দিয়েছি। আসছে সে। তুই খেয়ে নে। দাঁড়া, তোকেও বেড়ে দিচ্ছি।
    আরে মা, তুমি বসো তো। আমি নিজেই নিতে পারবো।
    শান্ত জোর করে মাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে, নিজেও বসলো। এরপর প্লেটে নাশতা নিয়ে খেতে শুরু করলো।
    সাদিক সাহেব ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ কোন কোম্পানি থেকে ডেকেছে?
    হ্যানসন গ্রুপ। নতুন কোম্পানি।
    বিদেশি কোম্পানি মনে হচ্ছে?
    হ্যাঁ বাবা। বাংলাদেশে ওরা নতুন ঠিকই। তবে অনেক দেশে আগে থেকেই কাজ করছে।
    রাশেদা শুকনো মুখে বললেন, ফ্রড বা জালিয়াত না তো! বিদেশি কোম্পানি শুনলেই কেমন জানি ভয় করে।
    স্ত্রীর কথায় সাদিক সাহেব বললেন, আরে… ভয় পাওয়ার কী আছে? শুনলে না… শান্ত বললো, অনেক দেশেই কাজ করছে। তার মানে… বেশ বড় কোম্পানি।
    এরপর শান্তকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন পোস্টে এপ্লাই করেছিস?
    কমিউনিকেশন ম্যানেজারের পোস্টে।
    আচ্ছা। টেনশন করিস না বেশি। তোর স্কিল তো খারাপ না। হয়ে যাবে মনে হয়।
    দোয়া করো বাবা।
    আল্লাহ ভরসা।

    ২.
    সাইন্সল্যাবে প্রচুর জ্যাম। সকাল সাড়ে ৯টায় ভয়াবহ জ্যামে বসে গরমে সেদ্ধ হচ্ছে শান্ত। টাইয়ের নটটার জন্য গরমটা যেন আরো বেশি লাগছে। খুলতেও পারছে না। এর মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠলো ওর।
    হ্যালো।
    হ্যালো, তুমি কোথায়?
    ফোন দিয়েছে সাফা। এত সকালে ফোন দেয়ার কারণ কী? মেয়েটা তো ১১টার আগে ঘুম থেকে ওঠেই না।
    আমি ফুলের বাগানে আছি।
    ওপাশ থেকে সাফার বিস্মিত কণ্ঠ শোনা গেলো।
    ফুলের বাগান মানে?
    মানে হচ্ছে মালঞ্চ বাসে আছি আমি। মালঞ্চ মানে হচ্ছে ফু…
    ওকে থামিয়ে সাফা বললো, মালঞ্চের মানে আমি জানি। তোমাকে আর তরজমা করে বোঝাতে হবে না। তো কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
    আর কি… ইন্টারভিউ।
    ও। আচ্ছা। বেস্ট অব লাক।
    থ্যাঙ্কিউ। কিন্তু, তুমি এত সকাল সকাল আজ ফোন দিলে যে?
    ঘুমিয়েই ছিলাম। কিন্তু একটা স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে গেলো। ভাবলাম তোমাকে ফোন দিয়ে স্বপ্নের কথাটা বলি।
    শান্ত একটু হেসে বললো, বেশ ইন্টারেস্টিং গল্প মনে হচ্ছে! বেশ শুনবো। ইন্টারভিউটা শেষ করে ফোন দিচ্ছি তোমাকে।
    ওকে।
    কল কেটে দিলো সাফা। বাস গন্তব্যে চলে এসেছে। ফোনটা পকেটে ভরে নেমে গেলো শান্ত একবুক প্রত্যাশা নিয়ে।

    ৩.
    এক বিখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা আধুনিক ১২ তলা ভবনের ১১ এবং ১২ তম ফ্লোরে হ্যানসন গ্রুপের অফিস। হ্যানসন গ্রুপ সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠান। এশিয়া, ইয়োরোপ, আফিকার বিভিন্ন দেশে এদের অফিস ও ব্যবসা রয়েছে। এরা মূলত স্টেশনারি এবং কম্পিউটার পার্টস নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে এরা এসেছে বছরখানেক হলো। ইতোমধ্যে নিজস্ব কারখানা সেটআপও করে ফেলেছে। এখন চলছে লোকবল নিয়োগের কাজ।

    বেশ সুসজ্জিত আর পরিপাটি অফিস। লোকজনেরও অভাব নেই। শান্ত রিসেপশনের সুন্দরি মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলো।
    মেয়েটি একটা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, হ্যালো স্যার। হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?
    মেয়েটির ইংরেজি বেশ ঝরঝরে এবং মিষ্টি। শুনতে ভালোই লাগে। আনিস একটু ভদ্রোচিত হাসি দিয়ে বললো, আমি এসেছিলাম ইন্টারভিউয়ের জন্য।
    মেয়েটি হয়তো শান্তকে কোনো বায়ার বা ডিলার ভেবেছিলো। শান্তর কথা শুনে নিরাসক্ত কণ্ঠে বললো, ও, আচ্ছা… কোন পোস্টের জন্য?
    কমিউনিকেশন ম্যানেজার।
    নাম?
    সাঈদুর রহমান শান্ত
    মেয়েটি একটা প্যাডে শান্তর নাম লিখে একটা দরজা দেখিয়ে বললো, ইন্টারভিউ হচ্ছে ৩ নম্বর রুমে। আপনি বসুন। আপনার সিরিয়াল কল হলে ওই রুমে যাবেন।
    আনিস একটা সোফায় আয়েশ করে বসলো। চারিদিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো, আহা!! চাকরিটা হয়ে গেলে…

    ৪.
    ইন্টারভিউ বোর্ডে মাত্র একজন প্রশ্নকর্তাকে দেখা গেল। একটা মাঝারি সাইজের বার্নিশ করা টেবিলের ওপাশে বসে আছে লোকটি। বয়সের তুলনায় বেশ গম্ভীর। লোকটির পরনে নীল রঙের একটা ব্লেজার। ভেতরের শার্টটার রঙও একই। বয়স আনুমানিক চল্লিশ হবে। চশমা পরে, তবে সেটা এখন নামানো আছে টেবিলের উপর। চোখের নিচের চামড়া কুঁচকানো। ফ্রেঞ্চকাট দাড়িটা মুখের সাথে খাপ খায়নি।

    শান্ত রুমে ঢুকতেই গম্ভীর কণ্ঠে লোকটি বললো, প্লিজ বি সিটেড।
    শান্ত বসলো। লোকটি একটা ফাইল নিয়ে পড়তে লাগলো। ওখানে শান্তর সিভিটা আছে।
    হুম… আপনার রেজাল্ট তো ভালোই শান্ত সাহেব।
    থ্যাংকিউ স্যার।
    তবে জানেন কী… এই ধরনের কাজে শুধু একাডেমিক জ্ঞান থাকলে হয় না। বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতারও দরকার হয়।
    শান্ত এবললো, জি স্যার। তবে অভিজ্ঞতা তো তখনই হবে, যখন আমি কাজ করার সুযোগ পাবো। আমি মাত্রই গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। এখন কাজ খুঁজছি।
    তবে আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে কিন্তু বলা আছে, অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
    জি স্যার। তবে, অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করা হবে না, এমন কথাটাও তো লেখা ছিলো না।
    লোকটির গাম্ভীর্যের মুখোশে হালকা চির ধরলো। মৃদু হেসে বললো, আপনার কথাবার্তা বেশ স্বতস্ফুর্ত, শান্ত সাহেব। ঠিক আছে, ইন্টারভিউ শুরু করা যাক। বাই দা ওয়ে, আমার নাম রাকিবুল হোসেন।
    ৩ মিনিট ধরে কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিষয়ক ৩/৪টা প্রশ্ন করলো রাকিবুল হোসেন। এরপর জিজ্ঞেস করলো, আপনি এই জব কেন করতে চান শান্ত সাহেব?
    অফকোর্স বেঁচে থাকার তাড়নায়, স্যার। জবটা আমার পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রয়োজন।
    নাথিং এলস।
    শান্ত একটু হেসে বললো, স্যার… আমি সোজাসাপ্টা কথা বলতেই পছন্দ করি। অন্য যে কেউ আপনার এ প্রশ্নের জবাবে অনেক তৈলমর্দন করে উত্তর দিতে পারে। কিন্তু আমি সেটা করবো না। হ্যাঁ স্যার, আমি আমার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই এই চাকরিটা করতে চাই। আর যেহেতু এই চাকরির উপরেই আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে, তাই আমি একাগ্র নিষ্ঠার সাথেই কাজ করবো। যেন কোনো ব্যর্থতার জন্য চাকরিটি হারাতে না হয়।
    তা, এখন তো জব নেই আপনার। খরচ কীভাবে সামলাচ্ছেন?
    টিউশনি করাই স্যার।
    কয়টা করান?
    ৩টা।
    চলে?
    জি, কোনোমতে চালিয়ে নেই। কিন্তু, স্যার আমার মনে হয় না, এই চাকরির সাথে আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সম্পর্ক আছে।
    শান্তর কথা শুনে রাকিবুল হোসেন একটু ভেবে বললো, ওয়েল… শান্ত সাহেব। আপনি অনেক বেশি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড। আপনার এই সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যেসটা ভালো হলেও, কর্পোরেট লেভেলে কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যাই হোক, আপনার সাথে কথা বলে বেশ ভালো লাগলো। আপনি এখন আসুন। সিলেক্ট হলে আমরা যোগাযোগ করবো।
    শান্ত বুঝতে পারলো, এই কথার অর্থ হচ্ছে… ওর চাকরিটা হবে না। এমন কথা আগেও শুনেছে ও। তবে কেউই ওর সাথে যোগাযোগ করেনি। কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে উঠে পড়লো শান্ত। বেরিয়ে এলো ইন্টারভিউ রুম থেকে।

    ৫.
    ইন্টারভিউ শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে গেল। ওখান থেকে বের হয়ে বাসায় গেলো না শান্ত। বিষন্ন মন নিয়ে সাফার সাথে দেখা করতে এলো ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে। একটা রেস্টুরেন্টে বসে কথা বলছে ওরা। সাফা অনেক সান্ত্বনা দিলেও, মনের কালো মেঘ সরছে না শান্তর।
    আরে বাবা, এত হতাশ হচ্ছো কেন? দেখো, তোমাকে ওরা ডাকবে। ভেঙে পড়ো না তো!
    শান্ত মাথা নেড়ে বললো, মনে হয় না ডাকবে। আমার সোজাসাপ্টা কথা যে ওই লোকের ভালো লাগেনি, বুঝে গেছি।
    কেন? আমার তো ভালোই লাগে।
    সবাই তো আর সাফা চৌধুরী নয়।
    আচ্ছা, শোনো… মন খারাপ করো না। কী খাবে বলো।
    প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইছে সাফা। শান্ত বুঝতে পারে। কিন্তু প্রসঙ্গ পালটে দিলেই কি অবস্থা পালটে যাবে?
    বাবার রিটায়ার্মেন্টের সময় চলে আসছে। আর মাত্র ২ মাস বড়জোর। এরপর কী হবে? পেনশনের টাকায় মায়ের ওষুধ, অনন্তর পড়াশোনা, সংসারের খরচ সবটা কী সামাল দেয়া যাবে? নিজেদের বলতে কিছুই নেই আমাদের সাফা। কোথায় দাঁড়াবে আমাদের সংসার?
    অনন্ত শান্তর ছোট ভাই। শান্তর মতোই মেধাবী। কুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।
    সাফা শান্তর হাতের উপর নিজের হাত রেখে বললো, বাবাকে বলবো?
    শান্ত তুমুল বেগে মাথা নেড়ে বললো, না সাফা। আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো। কারো দয়া নিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পেতে হবে আমাকে। আমি তোমাকে বা আংকেলকে ছোট করছি না। আবার নিজেকে মহৎ করারও চেষ্টা করছি না। দেখতে চাই, ভাগ্য শেষ পর্যন্ত আমার কপালে কী লিখেছে। একদিন হয়তো আমাদের বিয়ে হবে, সংসার হবে। তখন যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু বজায় থাকে।
    ধরো শেষ পর্যন্ত হলো না। তখন কি বাবাকে বলবো?
    শান্ত হেসে বললো, বলতে পারো। তবে আমার মনে হয়, আমার এই সাহায্য না চাওয়ার সিদ্ধান্তকে আংকেলও সমর্থন করবেন। আংকেলের স্বভাব তো আমার জানা। অনেকটা আমারই মতো।
    সাফা চটপট করে বললো, ঠিক আছে। এবার বলো কী খাবে?
    যা ইচ্ছে অর্ডার করো। বিল তো আর দিতে পারবো না। তাই তোমার পছন্দই আমার পছন্দ।
    সাফা মুচকি হেসে অর্ডার করলো।
    এবার বলো, কী স্বপ্ন দেখেছো।
    সাফা হেসে বললো, অনেক ফানি একটা স্বপ্ন।
    বলো, শুনি।
    দেখলাম, তোমার বিয়ে হচ্ছে। বিয়ে হচ্ছে আরেকটা মেয়ের সাথে। ডিজে মিউজিক চলছে… আর আমি সেই মিউজিকের তালে তালে নেচে বেড়াচ্ছি। হি হি হি…
    এটা ফানি স্বপ্ন?
    কেন? তোমার কাছে ফানি লাগছে না?
    শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বললো, জি না। এটা মোটেও ফানি স্বপ্ন না। এটা হচ্ছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।
    আমার তো বেশ মজা লেগেছে।
    শান্ত কিছু বললো না। ওর মনটা আবার বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে।

    ৬.
    বিকেল বেলা। রমনা পার্কের কিছুটা নিরিবিলি এক জায়গায় এসে ধপ করে একটা সিমেন্টের বেঞ্চে বসলো সাঈদুর রহমান শান্ত। হাতের কালো ফাইলটা রাখলো পাশে। একটা অশ্বত্থ গাছ ছায়া বিছিয়ে রেখেছে আশপাশের অনেকখানি সবুজ ঘাসের অঞ্চল ঘিরে। গাছের মাথায় একটা হাঁড়িচাচা চিক চিক করে ডাকছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে ভাসছে কদমফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ।

    তবে প্রকৃতির এই নির্মল রূপ শান্তর মনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলছে না এই মুহূর্তে। আজও একটা ইন্টারভিউ ছিলো ওর। এটাও হবে না, বেশ বুঝতে পেরেছে শান্ত। উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করেছে, যেই বিষয়ে প্রশ্ন করা দরকার, সেই বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। বাংলাদেশের আয়তন কত?
    উগান্ডার রাজধানীর নাম কী?
    ব্রাজিলে কোন শষ্য ভালো হয়?
    বাংলাদেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি কোথায়?
    চিনের প্রাচীরের দৈর্ঘ কত?
    এইসব উদ্ভট প্রশ্ন করে শেষে বলে, ঠিক আছে আপনি আসুন! রেজাল্ট পরে জানিয়ে দেয়া হবে!
    কোনো মানে হয় এসবের? শান্ত বুঝতে পারে, আগে থেকেই লোক নেয়া হয়ে গেছে ওদের। এই ইন্টারভিউ স্রেফ লোক দেখানো ব্যাপার। ওদিকে হ্যানসন গ্রুপ থেকে এখনও কোনো জবাব আসেনি। চিন্তায় ভারী হয়ে আসছে মাথাটা। এক বছর ধরে চেষ্টা করার পর এখন শান্তর মনে হচ্ছে, শালার এই জীবনটা রেখে আর লাভ কী? মরে গেলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়। হ্যাঁ, বাবা, মা আর সাফা হয়তো প্রথমে কিছুদিন কাঁদবে, দুঃখ পাবে। তারপর একদিন সব আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সাফা বিয়ে করে ফেলবে, আর বাবা-মা নিজেদের নিয়ে বাঁচবে। মাঝখান থেকে ওর এই ব্যর্থ জীবনের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে সবাই।
    আজ ছিল গত আট মাসের মধ্যে ওর ত্রিশ তম ইন্টারভিউ। আর বরাবরের মতোই এবারও শান্ত ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়ে ভগ্ন মন নিয়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ওর মনে হচ্ছিল, জীবনটা কী তাহলে একটা দীর্ঘ অপেক্ষার নাম?

    চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করেছিল সে। তখন কত স্বপ্ন ছিল!
    বাবা বলতো, একদিন তুই বড় অফিসার হবি। বাবা এখনও সে কথা বলেন। কিন্তু, কই… বড় অফিসার হওয়া তো দূর, ছোট কোনো পোস্টেও সুযোগ হচ্ছে না শান্তর। বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকারের মতো ওরও জুতোর শুকতলি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।
    মাথা নিচু করে অনেকক্ষণ ধরে এসবই ভাবছিলো শান্ত।

    বসতে পারি?
    ঝট করে মাথা তুলে শান্ত দেখলো কোত্থেকে যেন মাটি ফুঁড়ে এক পক্ককেশ বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। লোকটির পরনে ধবধবে সাদা কোট, সাদা শার্ট, সাদা, প্যান্ট আর সাদা জুতো। ঘড়ির লেদার স্ট্র্যাপটাও সাদা। মাথায় একটা ফেল্ট হ্যাট, সেটাও সাদা রঙের। লোকটার গায়ের রঙ ফর্সা। গালে চাপ দাড়ি, হাতে একটা সাদা ছড়ি। বয়স আনুমানিক পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বা তার একটু বেশিও হতে পারে।
    লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো, বসতে পারি? অনেকক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। একটু বসি?
    জি জি… বসুন। কোনো সমস্যা নেই।

    ৭.
    লোকটি ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তর পাশে বসে পড়লো।
    অনেক ধন্যবাদ বাবা। পা দুটো এবার একটু শান্তি পেলো।
    শান্ত মাথা নেড়ে বললো, কিন্তু এতো হেঁটেছেন কেন? তাও আবার এই গরমে স্যুট টাই পরে…
    আর বলো না বাবা। হুট করেই বের হতে হলো। একজনের সাথে জরুরি দেখা করতে হবে, উপরওলার হুকুম। ভাবলাম দেখা করার আগে একটু ঘুরে ঘুরে নানান জাতের গাছ দেখে নেই। শহরে তো এই পার্কগুলো ছাড়া আর কোথাও এত প্রজাতির গাছের দেখা পাওয়া যায় না।
    তো আপনার সেই লোক কোথায়, যার সাথে দেখা করতে এসেছেন?
    বৃদ্ধ লোকটি বললো, আছে। কাছাকাছিই আছে। তা বাবা, তোমার নাম কী?
    শান্ত। আপনার?
    রেদওয়ান। তো বাবা, তুমিও তো দেখছি কোট টাই পরে বসে আছো।
    শান্ত বললো, জি… একটা ইন্টারভিউ ছিলো দুপুরে। ওটা শেষ করে এলাম মাত্র।
    বাসায় না গিয়ে এখানে চলে এলে?
    জি।
    কেন?
    শান্ত কোনো জবাব দিলো না। কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রেদওয়ান বললেন, ইন্টারভিউ ভালো হয়নি?
    ইন্টারভিউ-ই হয়নি।
    মানে?
    রেদওয়ানের বিস্মিত প্রশ্নের জবাবে শান্ত বললো, আরে স্যার… যেই পোস্টের জন্য এপ্লাই করেছি, সেই বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি… আলতু ফালতু প্রশ্ন করে। আসলে, এরা আগে থেকেই লোক সিলেক্ট করে রেখেছে। ইন্টারভিউটা লোক দেখানো শো অফ আর কি… যত্তসব!
    কী করবে বাবা… এই বিশ্বসংসারটাই তো একটা শো অফের জায়গা। যে যত বেশি শো অফ করতে পারে, তার জনপ্রিয়তাও তত বাড়তে থাকে। এই যেমন আমাকেই দেখো। কত করে বুঝিয়েছি যে বস, আমাকে সাদা পোশাকে একদমই মানায় না। কিন্তু না, বসের নির্দেশ… সাদাই পরতে হবে। এটা নাকি অফিস ডেকোরাম। মানে হয় কোনো?
    আপনি চাকরি করেন কোথায়?
    আছি ইউনিভার্সেল গ্রুপে।
    এই বয়সে ফিল্ডে কাজ করতে আপনার অসুবিধা হয় না?
    বৃদ্ধ হেসে বললেন, তোমার কী আমাকে খুব বুড়ো মনে হচ্ছে?
    তা হচ্ছে বইকি।
    হুম। কিন্তু এনার্জি আমার অনেক বেশি। তোমাদের বয়সী ছেলেদেরও আমি ম্যারাথনে হারিয়ে দিতে পারি।
    শান্ত কিছু না বলে মুচকি হাসলো। রেদওয়ান বললেন, শোনো বাবা… জীবনকে নিয়ে হতাশ হয়ে লাভ নেই, অতো ভেবেও লাভ নেই। জীবন হচ্ছে নদীর স্রোতের মতো। এর সাথে জড়িত আছে, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ, সংসারের প্রতিটি প্রাণী। তুমি হয়তো সেই নদীর কূলে একটি ভাসমান নৌকা। সেই নৌকার মাঝি যতক্ষণ না হাল ধরবে, ততক্ষণ তোমাকে অপেক্ষা করতেই হবে। যাত্রার সময় হলেই শুধুমাত্র তুমি সেই স্রোতে ভাসতে পারবে, তার আগে নয়।

    শান্ত বললো, কিন্তু আমার এই নৌকার মাঝি তো আমিই… তাই না?

    বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললো, না বাবা। বললামই তো, তুমি হলে নৌকা। তোমার মাঝি হচ্ছে অন্য কেউ। যে তোমার হাল ধরবে, তোমাকে নিয়ে যাবে স্রোতে, পার করে নেবে লক্ষ্যে।
    তাহলে সেই মাঝিটি কে?
    মাঝিটি হলো তোমার কর্ম, তোমার বিশ্বাস, তোমার প্রচেষ্টা। তোমার ভেতরে যেই অন্য তুমিটি আছো, সেই মূলত তোমার চালক।
    শান্ত এইসব তত্ত্বকথার কোনো তল খুঁজে পেলো না। দ্বিধাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে রইলো বৃদ্ধের দিকে।
    রেদওয়ান বললেন, জানো বাবা, মানুষের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন আসে?
    জি না, জানি না।
    বৃদ্ধ হেসে বললেন, মানুষের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় তখন আসে, যখন মানুষ নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
    অর্থাৎ?
    অর্থাৎ, এই মুহূর্তে তুমি নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছো। হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছো। তোমার মুখ দেখে স্পষ্টই তা বোঝা যাচ্ছে।
    শান্ত নিজের বেকারত্বের কথা বলল। বারবার ব্যর্থ হওয়ার কথা বলল। সংসারের অনটনের কথা বলল।
    বলুন এখন, এতকিছুর পরে হতাশ না হয়ে উপায় আছে?
    রেদওয়ান মন দিয়ে সব শুনলেন। তারপর আবৃত্তি করে বললেন, সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।
    কিন্তু আশায় ভর করে কতদূরে যাবো? সাফল্য কী এই জীবনে ধরা দেবে না?
    শান্তর কথা শুনে বৃদ্ধ হেসে বললেন, শোনো বাবা, সাফল্য ঠিক লোকাল বাসের মতো। আমরা একটা বাস মিস করলেই অনেক আফসোস করি। আবার অনেক সময় সেই বাসেই উঠতে হবে, এমন পণ করে ধাক্কাধাক্কি করে ঠ্যালাগুতা খেয়ে, ঝুলতে ঝুলতে সেই বাসেই উঠার চেষ্টা করি। অথচ, পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করি না।
    শান্ত মৃদু হেসে বলল, কিন্তু স্যার, সমস্যাটা হচ্ছে আমি অনেকক্ষণ ধরে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। বাসই পাচ্ছি না।
    গুড, দাঁড়িয়ে থাকো। যে মানুষ অপেক্ষা করতে জানে, ভাগ্য তাকে একদিন পরিপূর্ণতা দিয়ে পুরস্কৃত করে। হাল ছেড়ো না। হতাশ হয়ো না।
    সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে পড়ছিল। রেদওয়ান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে পড়লেন।
    আচ্ছা বাবা, আমি উঠি। ফিরতে হবে।
    মানে? আপনার সেই লোকের সাথে দেখা করবেন না?
    আবার একদিন দেখা করবো।
    বৃদ্ধ রেদওয়ান চলে গেলেন। শান্ত বসে বসে ভাবতে লাগলো বৃদ্ধের কথাগুলো। বেশ আজব কিসিমের বৃদ্ধ। তবে কথা বলে চমৎকার! আজকালকার মটিভেশনাল স্পিকাররা যেভাবে কথা বলে, তেমনই। তবে শান্তর মন এখন অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে। সন্ধ্যে নেমে এসেছে শহরের বুকে। শান্ত উঠে দাঁড়িয়ে একবার আড়মোড়া ভাঙলো। এরপর নিচু হয়ে ফাইলটা তুলে নিতে গিয়েই দেখতে পেলো একটা মানিব্যাগ পড়ে আছে বেঞ্চের পায়ের কাছে।

    একটা সাদা মানিব্যাগ!

    ৮.
    এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো মানিব্যাগটা পরীক্ষা করলো শান্ত। রাত হয়ে গেছে। বাসায় আসার আগে একবার মানিব্যাগের ভেতরটায় শুধু চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলো শান্ত। ব্যাগের ভেতরের অবস্থা দেখে চট করে সে ওটা ফাইলের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে ও। তারপর পাক্কা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলো শান্ত বৃদ্ধের জন্য। যদি মানিব্যাগের খোঁজে আবার ফিরে আসে, সেই আশায়। কিন্তু আসেনি রেদওয়ান। পরে শান্ত বাসায় চলে আসে। রাতে খেয়ে দেয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। সাদিক সাহেব জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইন্টারভিউ কেমন হলো? ‘ভালো, বাবা’ বলে নিজের রুমে এসে ঢুকেছে ও। অবশ্য বাবার জ্বর কমেছে কি না সেটা জিজ্ঞেস করতে ভোলেনি ও।
    এখন ভালো আছি। জ্বর নেই। কালকে অফিস করবো।
    শান্ত আর কিছু না বলে রুমে চলে আসে। ছেলের এই গতিবিধি দেখে সাদিক সাহেবের মনে প্রশ্ন আসলেও কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।

    এই মুহূর্তে বিছানায় বসে চতুর্থবারের মতো টাকাগুলো গুনলো শান্ত। পনেরোটা নতুন কড়কড়ে হাজার টাকার নোট। নোটগুলো সামনে রেখে তাকিয়ে থাকলো ওগুলোর দিকে। পনেরো হাজার টাকা! খুব বেশি টাকা নয়। আবার খুব সামান্যও বলা যায় না। এই টাকা দিয়ে একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের অনায়াসে এক মাসের খরচ উঠে যাবে। মানিব্যাগে শুধু টাকাগুলোই পাওয়া গেছে। কিন্তু এর মালিকের কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
    শান্তর ধারনা, মানিব্যাগটা ওই বৃদ্ধ রেদওয়ানের। সম্ভবত ওঠার সময় পকেট থেকে পড়ে গেছে। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে এর ভেতরে বৃদ্ধের ঠিকানা, ফোন নাম্বার কিচ্ছু নেই। কোনো ভিজিটিং কার্ড বা কোনো কাগজের টুকরো পর্যন্ত নেই। আছে শুধু কড়কড়ে এই নোটগুলো। শান্ত চিন্তা করে বুঝতে পারছে না, এই ব্যাগ সেই বৃদ্ধের কাছে পৌঁছে দেবে কীভাবে? সাফাকে বিষয়টা জানানো দরকার। মা-বাবাকে জানায়নি, কারণ নইলে বুড়ো দুজন মানুষ অহেতুক টেনশন করবে। ভাববে, কার না কার টাকা শান্ত নিয়ে এসেছে! হয়তো কোনো ঝামেলায় পড়ে যেতে পারে। এইভাবে একটা অজ্ঞাত মানিব্যাগকে ঘরে আনা ঠিক হয়নি ওর।
    মোবাইলটা হাতে নিলো শান্ত। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। জেগেই আছে সাফা। শান্ত কল দিতেই রিসিভ করলো সাথে সাথে।
    হ্যালো।
    কী ঘুমাওনি?
    একটা মুভি দেখছিলাম। শেষ করে ঘুমাবো?
    আচ্ছা।
    তুমিও তো ঘুমাওনি দেখছি।
    ঘুম আসছে না।
    আরে! এত টেনশন করো না তো! চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
    সে জন্য না। অন্য কারণে ঘুম আসছে না।
    ওপাশ থেকে সাফার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ শোনা গেলো।
    কী হয়েছে! শরীর ভালো তো তোমার?
    শান্ত বললো, শরীর ঠিক আছে। তবে মনের ভেতর একটা দ্বিধা কাজ করছে।
    কী হয়েছে বলবে?
    হ্যাঁ, বলবো। তবে আজ নয়। কাল একবার দেখা করতে পারবে?
    পারবো। কোথায় আসতে হবে, বলো।
    শান্ত বললো, তোমাকে কোথাও আসতে হবে না। আমি তোমার বাসায় যাবো। সমস্যা নেই তো?
    কোনো সমস্যা নেই। আর থাকলেই বা কী? আমি কি সমস্যাকে ভয় পাই নাকি!
    শান্ত হেসে বললো, গুড। তাহলে এখন রাখছি। কাল বিকালে আসবো।
    ওকে। গুড নাইট।

    ফোন কেটে দিয়ে শান্ত আবার টাকাগুলোর দিকে তাকালো।
    ওর বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য কেমন যেন হু হু করে উঠল। আহা! কে জানে, টাকাগুলো হারিয়ে বুড়োটার মানসিক অবস্থাটা কী হয়েছে! হয়তো এগুলো ওর কোম্পানীর টাকা! যার সাথে দেখা করার কথা তাকে দেবার জন্যই সাথে নিয়ে এসেছিলো! ইশ… বুড়োর চাকরিটা হয়তো গেলো! নাহহ… মনটা ঐ বৃদ্ধের জন্য কেমন যেন করতে লাগলো শান্তর। সারা রাত ঘুম হলো না এইসব ভাবতে ভাবতে।

    ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়লো শান্ত। সকাল ১০টার দিকে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো।
    শান্ত, বাবা উঠে পড়! অনেক বেলা হলো! আর কত ঘুমাবি!
    শান্ত উঠে দেখলো টাকাগুলো বিছানার উপরেই পড়ে আছে। ঝটপট সেগুলো মানিব্যাগে ঢুকিয়ে ড্রয়ারের ভেতর রেখে দিলো। এরপর দরজা খুলে দেখলো মা দাঁড়িয়ে আছে।
    কি রে শান্ত! আজ এত বেলা করে ঘুমাচ্ছিস! শরীর ঠিক আছে তো?
    আমি ঠিক আছি মা। বাবা কই, অফিসে চলে গেছে?
    হ্যাঁ। তুই আয়, আমি নাশতা দিচ্ছি।
    ঠিক আছে। আসছি।

    (চলবে)

    3
    6 Comments
Skip to toolbar