Profile Photo

নাদিয়া রিপাত রিতুOffline

  • Ritu
  • শিশির কণা
    নাদিয়া রিপাত রিতু
    পর্ব -৭

    শায়লা- এলো শিশিরের রুমে ,,, শিশির কান্না করিস না,,,,
    শিশির মাকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো,,,,,

    শায়লা : আয়ান দেখে পেলবে এই ভাবে কান্না করিস না।তোর তো কোনো দোষ নেই।তুই তো চেষ্টা করেছিস রায়ান যখন তোর সাথে সংসার করতে চাইনা কি আর করবি।

    শিশির: আমি কি অন্যায় করেছি আমার সাথে এমন হলো,,,আমার সাজনো‌ সংসারটা এভাবে কেন নষ্ট হলো ।

    শায়লা: হয়তো তোর জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে,,,,রায়ান তোর যোগ্য না ,,,,,,

    আমি তোর চাচিদের ঘর থেকে আয়ানকে নিয়ে আসছি তুই ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে।

    অন্যদিকে সাদিয়া তার হাসবেন্ড সাকিবকে ভিডিও কল দিয়ে সবটা বললো।
    আমাকে দেখো একা পেলে রেখে চলে গেছে,,,

    সাকিব বললো আচ্ছা সাদিয়া আমি মার সাথে কথা বলবো তোমাকে একা পেলে গেলো কেন,,,,

    সাদিয়া: ওকে মাই কিউট হাসবেন্ড,,,,,,আমার জন্য ৫ হাজার টাকা দিও তো শপিং করবো ,,,,

    সাকিব: এই তো একমাস হলো আমি আসার আগে তোমাকে এতগুলো শপিং করে দিয়েছি এত টাকা কি করবে?আর আমাদের ঘরে বউদেরকে এত টাকা দেয়না যা লাগবে মাকে বলবে কিনে দিবে
    আর ভাবিকে তো এত টাকা দেয়নি।

    সাদিয়া: আমি তোমার ভাবি না বুঝেছো আমাকে মাসে  মাসে হাত খরচ দিবে,,,,আমার মাসে ফেসের জন্য অনেক প্রোডাক্ট কিনতে হয় ।আর ঐ গুলো এখানে পাওয়া যায় না অনলাইনে অর্ডার করতে হবে।

    সাকিব: ওকে আমি দিয়ে দিবো সাদু।

    দরজা কলিং বেল বেজে উঠল সাদিয়া দরজা খুলে দিল ।

    রেহেনা বললো এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে কি করছিলে।

    সাদিয়া: কিছু না মা,,,

    রেহেনা: যাও আমার জন্য একটু চা করে নিয়ে এসো মাথাটা ব্যাথা করছে।

    সাদিয়া: আমি চা বানাবো,,,,

    রেহেনা: আমাদের বাসায় কি কাজের লোক আছে যে চা করে দিবে,,,, তুমি বাড়ির বউ তুমি করবে এখন থেকে সব কাজ,,,

    সাদিয়া: চা করে আনে,,,,

    রেহেনা: এইগুলো কি চা করেছো না চিনি হয়েছে না রং হয়েছে,,,

    সাদিয়া:  আমি তো এভাবে চা করি মা আপনার খেতে হলে খান না হলে নিজে বানিয়ে খান।

    রেহেনা: শিশিরের সাথে  তো সারাদিন থাকতে ওর সাথে থেকে রান্নাটা তো শিখতে পারতে,,,,

    সাদিয়া: শিশির ভাবির থেকে শিখেছি তো মা যে যেমন তার সাথে তেমন করতে হবে ।
    এটা বলে চলে গেলো সাদিয়া রুমে,,,

    রেহেনা: যত বড় মুখ নয় তত বড়ো কথা এই মেয়েকে শিক্ষা দিতে হবে আমার সাথে লাগতে আসছে।

    অন্যদিকে শায়লা আয়ানকে আনতে গেলো,,,, আয়ান আসলো ঘরে এসেই বললো নানু মণি পাপ্পা কোথায়??

    শায়লা:ওরা তো চলে গেছে ,,, নানু ভাই

    আয়ান: আমাকে আর মাম্মা কে নিয়ে গেলো না কেন??

    শায়লা: তোমরা তো এখানে থাকবে তাই তো নিয়ে যায়নি,,,,,এখানে নানু মণির সাথে থাকবে কিছু দিন,,,,,

    আয়ান: পাপ্পাকে মিস করছি।

    শায়লা বললো আচ্ছা চলো আমরা আজকে পার্কে যাবো দোলনা চড়বো তোমাকে অনেক বেলুন কিনে দিবো।
    আয়ান: সত্যি বলছো নানু,,, মাম্মাকে বলে আসছি।

    শায়লা: না না কাউকে বলবে না শুধু তুমি আর আমি যাবো এটা তোমার আর আমার সিক্রেট।তোমার মাম্মাকে বলে যেতে দিবেনা,,,,সেটা কি ভালো‌ হবে বলো।

    আয়ান: ওকে সিক্রেট।

    এরপর শায়লা রায়ানকে নিয়ে পার্কে চলে গেলো।
    কিছুক্ষণ পর শিশির আয়ানকে খুঁজতে লাগলো,,,
    ওর কাজিনদের ঘরে ওরা বললো ও তো চলে গেছে অনেকক্ষণ হবে।
    শিশির চিন্তা করতে লাগলো আয়ান কোথায় গেলো সেটা নিয়ে।মাকে কল দিচ্ছে মার ফোন ঘরে বাজাচ্ছে মা তো ঘরে নেই।আয়ান কি মার সাথে আছে নাকি সেটা ও তো জানতে পারছেনা
    প্রায় সন্ধ্যা হতে চললো আয়ান,,,আর মা এখনো কারো দেখা নেই।
    হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো,,,,,,,
    শিশির দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখে মা আর আয়ান,,,, দাঁড়িয়ে,,,,,
    শিশির আয়ানকে জড়িয়ে ধরলো
    কোথায় চলে গেছিলে আমাকে না বলে কত খুঁজছি তোমাকে,,,,

    আয়ান বললো  মা দেখো নানু আমাকে কত গুলো বেলুন কিনে দিয়েছে,,,,

    শিশির: মা তুমি আমাকে বলে যাবেনা কত চিন্তা করছিলাম,,,,,
    শায়লা: তোর মন খারাপ ছিলো তাই তোকে আর বিরক্ত করিনি।

    (আজকের পর্ব  পড়ে কেমন হয়েছে রিভিউ দিন)

    4
    6 Comments
Skip to toolbar