Profile Photo

মো: নাজমুল আখতারOffline

  • Faith
  • নগরে নাগর
    লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।

    রাত আটটার দিকে অফিস থেকে বের হলেও বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় দশটা বেজে যেত বা তার চেয়ে কিছুটা কম বেশি –
    নানা কাজে আর নানা প্রয়োজনে অফিসে ও বাহিরে কাজ করতে করতে অফিস ছুটির সময়টিতে শরীরটা বেশ ক্লান্ত হয়ে যেত। অফিস থেকে বের হয়ে আরেকটা যুদ্ধ রাস্তায় দীর্ঘ যানযট আর লোকজনের গ্যান্জামে ফুটপাত ধরে চলাচল করা খুবই দুরূহ হয়ে যেত। মনটা চাইলেও কারও সাথে দেখা করা বা কারে সাথে বসে গল্প করা বা চা পান করা এর কোনটায় সহজে হয়ে উঠে না। আর মাঝে মধ্যে হলেও সেটা অনেকটা কাকতালীয় ভাবে হয়ে যেত।

    এত সুন্দর করে, অল্প অল্প করে –
    ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রতিটি শব্দ বা বলতে গেলে প্রতিটি অক্ষর – অক্ষরের একদম নির্যাস শুদ্ধ উচ্চারণ করে পাবলিক প্লেসে কথা বলা সত্যিই সে এক অভূতপূর্ব। তার কথাগুলো যেন তার নিজস্ব শৈল্পিক ঢংঙ্গে মুখ থেকে উচ্চারিত হয়ে ভেসে আসছে।

    অটো রিক্সার দুই দুই চার সিটের এক সিটে একদম পাশে বসে হালকা হেলান দিয়ে মাথাটা খানিক গাড়ীর বাহুদ্বয়ের সাথে লাগিয়ে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বসে আছি আমি। এই যন্ত্রযান বাহন যে কখন আমার বাসার নিকট পৌছাবে সে ভাবনাই ভেবে যাচ্ছি। কিন্তু তার কথা বলার ভাষাগুলো ও শৈল্পিক উচ্চারণ আমার কানে ভেসে এসে নিজেকে নিজ থেকে রাঙ্গিয়ে দিচ্ছে..

    আমিতো তাকে দেখতে চাইনি !
    তার কথা আমি শুনতেও চাইনি
    কিন্তু কেন এমন হলো?

    বয়স কত হবে?
    ধারনা মতে সাতাশ আটাশ বা একটু কম বেশি। তবে তার যে ক্যারিশম্যাটিক কথা বলার কৌশল যে কেউই সহজেই তার কাছ থেকে প্রোডাক্ট ক্রয় করতে বাধ্য হবে। আর এই জিনসটাই তার কোম্পানী তাকে শিখিয়েছে। তার কথার পুরোটার সারমর্ম বুঝে যা আমি বুঝলাম।

    তবে তার একটি আদরের সন্তান রয়েছে। তার একমাত্র সন্তান সেই সকাল হতে রাত্রি পর্যন্ত তার নানুর কাছেই থাকে। মায়ের আদর রাতি আর ভোর সকাল ছাড়া তার ভাগ্যে বোধহয় হয়ে উঠে না।

    স্বামী তার?
    সেও নাকি চাকুরী করে কোন এক কোম্পানীতে।
    স্বামী স্ত্রী দু’জনেরও নাকি দেখা সাক্ষাত হয় রাত্রি রজনীতে ও ভোর বেলায়।

    ঢাকা শহরের জীবন যাত্রার মান এতটাই কি অস্বাভাবিক!
    নাকি আমাদের নিজস্ব চাওয়া পাওয়ার চাহিদাই বেশি অস্বাভাবিক? একটু না হয় কষ্ট করেই চলি –
    দুই তিন রুমের ফ্ল্যাট বাসা না হোক, অন্তত এক রুমের ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া নেই। তাও না হলে টিন শেডের কোন একটি ঘড় ভাড়া নেই।

    এগুলো আমি তার জন্য ভাবছি অথচ আমি নিজেও এগুলোর বাস্তব ভুক্তভোগী। খুব সাদা সিধে বা অতি কম খরচে বাঁচতে চাইলেও আসলে সেটা হয়ে উঠে না –
    খুব কাছের মানুষগুলোই সুযোগ সন্ধ্যানী হয়ে থাকে। নিজের অভাব অনাটন বা আর্থিক দূর্বলতা এগুলো যদি তারা যেনে যায় তবে কাছের মানুষই অবহেলা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

    আসলে আমরা প্রতিটি মানুষই বোধহয় এমনটা চাই। অন্য মানুষ যেন তার অধিনস্ত থাকে বা তাকে যেন তোসামধে সিক্ত করে। যার ফলে আমরা সবাই যে যার মত ছুটে চলতি কোন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায়..

    অভিনয় আমরা সবাই করি
    বাঁচার জন্যই নিজেকে বিক্রয় করি..

    4
    8 Comments
    • অটোরিকশার যাত্রায় ঢাকার যন্ত্রিক জীবনের গল্প।

    • আপনার এই লেখাটিতে যান্ত্রিক শহরের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এক করুণ সত্যকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন, যা পড়ার সময় রবার্ট ফ্রস্টের সেই বিখ্যাত ‘জীবন চলার পথে ক্লান্তি’র কথা মনে করিয়ে দেয়। বেঁচে থাকার তাগিদে অভিনয় করার এই নির্মম বাস্তবতা আপনি যেভাবে ব্যক্ত করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ, তবে বর্ণনায় কিছু জায়গায় আরও একটু বিরতি থাকলে পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী রেখাপাত করত। এই ব্যস্ত নগরের আড়ালে যে নীরব হাহাকার লুকিয়ে থাকে, আপনি খুব সুন্দর করে তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

    • শহরে আর ফোটেনা ফুল, শুধু ক্লান্তি টুকুই দেয় আশ্বাস!

    • আপনার লেখাটা পড়ে একদম ঢাকার ব্যস্ত জীবনের বাস্তব চিত্রটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো, খুব চমৎকার লিখেছেন।

Friends

Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
ashraf ali
@ashrafali1
Profile Photo
Md Shakhawat Hossen
@mdshakhawathossen
Profile Photo
FAM Farhad
@fmfarhad71gmail-com
Profile Photo
দীপান্বিতা পালিত
@dipannitachowdhury669gmail-com
Profile Photo
Md. Kamrul Hasan
@md-kamrulhasan
Profile Photo
kabir suhel
@kabirsuhel
Skip to toolbar