-
নায়িকা সংবাদ
লেখিকা:মোনালী
পর্ব:০২উমা ,শ্রাবণী , কষ্ণ ও গুরমিত চিত্রা এবং কিরণ কে নিতে আসে। কিরণ তুমি তো শ্রাবণী দির বাড়িতে যাচ্ছ?
আপাতত না, এখন আমি সোজা ইন্দ্রর বাড়িতে যাব ওখানে গিয়ে স্নান করব তারপর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে হোটেলে উঠব।
সপ্তডিঙ্গার শুটিং কি কাল থেকে শুরু করতে পারি। আসলে আমি চাইছি খুব দ্রুত কাজে ফিরতে।
সন্ধ্যায় পরিচালক দিবা রয় কে আসতে বলছি আর তোমাকেও হোটেলের ঠিকানা দিয়ে দিব ওর সাথে কথা বলি ও কি বলে শুনি তারপর তিনজন মিলে সিদ্ধান্ত নিব।
তুমি আবার ও ওনার সাথেই সিনেমা করবে। এত কিছুর পরও শিক্ষা হলো না তোমার।
প্লিজ উমা যা বোঝো না তা নিয়ে কথা বলো না।
আজকের পর থেকে তোমার সাথে আমার আর কোনো সিনেমা করার কোনো ইচ্ছে নেই কিরণ।
তাহলে আমাদের সিনেমা সপ্তডিঙ্গার কি হবে?
হয় বাতিল হবে আর দিবা দা যদি তোমার বদলে আমার সাথে আর আমার বদলে তোমার সাথে কাজ করতে চান তাহলে অন্য কোনো নায়ক বা নায়িকা কে নিয়ে হবে।
চললামকিরণের গাড়িতে:
শান্তি হয়েছে তোমার। চিত্রা নিজেই বলেছে ও আমার সাথে আর কাজ করবে না । ও আমার সাথে সিনেমা করবে না দেখে শান্তি পেয়েছ তো।
এমন তো না চিত্রা দির সাথে কাজ না করলে তুমি কাজ পাবে না।সেটা তো আমি একবার ও বলি নি।
নতুন প্রজেক্ট হাতে ছিল এত বড় একটা ঘটনার পর দ্রুত কাজে ফিরতে চাইছিলাম কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়,,,,চিত্রা বাড়ি ফিরে গুরমিত কে স্নান করিয়ে নিজে স্নান সেরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেয়। এরপর মোটামুটি মানের হোটেলে উঠে। ওখানেই দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ফোন ভাঙ্গে পরিচালক দিবা রয় এর ফোনে
চিত্রা কোথায় আছো বলতো
এই তো হোটেলে?
তুমি কি ফ্রি আছো?
হ্যাঁ গো
কেন বলতো?
হোটেলের ঠিকানা দাও আমি আসছি।
মিনিট কুড়ি পরে দিবা রয় চিত্রার রুমে এসে পৌঁছায়।
আমি জানি তোমার এই সময় মানসিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। কাজের মধ্যে থাকলে মন অনেকটাই ভালো হবে।
আমি তো কাজ করতে চাই দিবা দা কাল থেকে আবার শুরু করতে চাই। ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে তো।
তাহলে সপ্তডিঙ্গার ইউনিট রেডি করতে বলি।
সরি দিবা দা আমি কিরণের সাথে সিনেমা করতে চাইছি না।
কেন?
ওর স্ত্রী আমাকে জঘন্য ভাবে অপমান করেছে। তুমি যদি আমার সাথে কাজ করতে চাও তাহলে নিবিড় আছে জিতু আছে, দীপঙ্কর আছে ওদের অফার করতে পারো আর কিরণের সাথে কাজ করতে চাইলে ওর পছন্দের কাউকে নিয়ে পারো।
আচ্ছা ঠিক আছে ।
ও একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর তো তোমাকে বলতে ভুলেই গেছি প্রসুন চক্রবর্তী উনি ওনার নতুন সিনেমা যে তোমাকে নায়িকা হিসেবে লঞ্চ করতে চান তোমার কি কোনো আপত্তি আছে?
প্রসুন চক্রবর্তী ওনার সিনেমাতে আমাকে নায়িকা করতে চায় সিরিয়াসলি?
হ্যাঁ গো
আমি এখনি দাদা কে ফোন করছি কথা বলো।
প্রণাম দাদা আমি দিবা বলছিলাম আপনি বলছিলেন আপনার নতুন সিনেমা যে আপনি নায়িকা হিসেবে চিত্রাকে চান এই নিন ওর সাথে কথা বলুন।
হ্যালো কেমন আছেন
আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো বলো।
আচ্ছা শোনো কাল ঠিক দশটার দিকে তুমি সুপার কুল ইন্টাটেমেন্ট এর অফিসে চলে এসো ওখানে তোমার সাথে কথা হবে।
কি বললেন প্রসুন দা
বললেন কাল ওনার অফিসে যেতে।
বলছি যে আমার জন্য একটা ভাড়া বাড়ির আর একজন ন্যান্সির ব্যাবস্থা করে দিন না।
হয়ে যাবে।
পরদিন সকালে যথাসময়ে উপস্থিত হয় চিত্রা
চলে এসেছ।
আচ্ছা তোমাকে কাহিনী টা বলছি শোনো তারপর ছোট একটা অডিশন হবে এরপর ফটোশুট।
আর দুইদিন লাগবে সেটা তৈরি হতে দুদিন পর থেকে সুটিং।
চলো শুরু করা যাক।
প্রসুন চক্রবর্তী চিত্রা কে সিনেমার কাহিনী শোনান এরপর চিত্রা একটা ছোট অডিশন দেন ।
ফাটাফাটি
চলো এবার ফটোশুট শুরু করি।সুটিং এর কিছু অংশ:
সিনেমা: সেই জন্মের তুমিদৃশ্য: পুরোনো নদীর ঘাট | সন্ধ্যা
সূর্য ডুবে যাচ্ছে। নদীর পানিতে শেষ আলোটা ঝিলমিল করছে। নায়িকা মেঘলা একা ঘাটের সিঁড়িতে বসে আছে। হঠাৎ দূর থেকে একটি পুরোনো বাঁশির সুর ভেসে আসে।
মেঘলা চমকে উঠে চারদিকে তাকায়।
মেঘলা:“এই সুরটা… আমি আগে কোথায় শুনেছি?”
ঠিক তখনই পেছন থেকে নায়ক অর্ণব এসে দাঁড়ায়।
অর্ণব:“তুমি আবার এখানে?”
মেঘলা তার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকে।
মেঘলা:“অর্ণব, তোমাকে একটা কথা বলব?”
অর্ণব:“বলো।”
মেঘলা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে।
মেঘলা:“তোমাকে দেখলেই আমার মনে হয়… আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই চিনি।”
অর্ণব হেসে বলে,
অর্ণব:“হয়তো এই জন্মে আমাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল।”
মেঘলার চোখে পানি চলে আসে।
মেঘলা:“না… শুধু এই জন্মে না।”
অর্ণবের হাসি থেমে যায়।
মেঘলা:“আমি স্বপ্নে একটা নদী দেখি। এই ঘাটটা দেখি। আর একজন মানুষকে দেখি… যে আমাকে বলেছিল, ‘তুমি যেখানেই জন্ম নাও, আমি তোমাকে খুঁজে নেব।’”
অর্ণব স্তব্ধ হয়ে যায়।
হঠাৎ তার চোখের সামনে কয়েকটি ঝলক আসে: একই ঘাট, বহু বছর আগের পোশাক, তরুণ অর্ণবের মতো একজন যুবক, আর মেঘলার মতো এক তরুণী।
অর্ণব কাঁপা গলায় বলে,
অর্ণব:“মেঘলা এই কথাটা তুমি কীভাবে জানলে?”
মেঘলা তাকিয়ে থাকে।
মেঘলা:“কারণকথাটা আমি তোমাকে বলেছিলাম।”
CUT TO BLACK.
স্ক্রিনে লেখা ভেসে ওঠে:
“কিছু ভালোবাসা মৃত্যুতে শেষ হয় না.শুধু জন্ম বদলায়।”
সিনেমাতে প্রসূণের নাম থাকে অর্ণব আর চিত্রার নাম থাকে মেঘলা।
সিনেমা মুক্তির পাওয়ার সাথে সাথে হিট এর পর অলটাইম ব্লকবাস্টারের সাথে টানা একশ দিন সিনেমা হলে প্রদর্শনী হয়। এত বড় একটা সফলতা পর প্রসুন চক্রবর্তী একটা গ্রান্ড পার্টির আয়োজন করে।
এরমধ্যে ই চিত্রা ওর স্বামী ইন্দ্রনাথ কে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।
পার্টির দিনে ইন্ডাস্ট্রির অনেক নায়ক নায়িকা তাদের স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড সহ নিমন্ত্রণ করা এর মধ্যে কিরণ আর উমার কেও নিমন্ত্রণ পত্র পাঠায়।
আসলে প্রসুন জানত না যে চিত্রা আর কিরণের ঝামেলা চলছে।কিরণে বাড়িতে:
বরুণ দাদা তোমার একটা পার্সেল এসেছে দেখে তো মনে হচ্ছে বই জাতীয় কিছু হবে।
আজকাল আবার বই পড়া শুরু করলে না কি?
ধুর খুলে দেখ না কি আছে।
এতো নিমন্ত্রণ পত্র চিত্রা দি আর প্রসুন দা নতুন সিনেমা সেই জন্মের তুমি সিনেমার সফলতার পার্টির।
উফ্ আবার সেই চিত্রা
তুমি কিন্তু যাবে না বলে দিচ্ছি।
শোনো উমা এভাবে করলে না আমাকে আর কাজ করে খেতে হবে না।
ওখানে একা চিত্রা থাকবে না ওখানে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই থাকবে। পরিচালক প্রযোজক সবাই। গত ছয়মাসে কোনো কাজ পাই নি কারণ তুমি আমাকে কারোর সাথে যোগাযোগ করতে দাও নি।
এখন কাজ শুরু করতে হবে না হলে চলব কি করে। দশটা পাঁচটা চাকরির যে মাইনে তা দিয়ে তোমার চলবে।
আমি ও যাব তোমার সাথে। ঠিক আছে কিন্তু ওখানে গিয়ে কোনো সিনক্রিয়েট করবে না।পার্টির দিন সন্ধ্যায়:
কিরণ আর উমা যথারীতি পার্টি হলে পৌছে যায়।
একে একে সব নায়ক নায়িকা তাদের স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড সহ চলে আসে।
সব শেষে পার্টির বিশেষ আকর্ষণ চিত্রা আর প্রসুন ও আসে।
পার্টির উপস্থাপক:
আপনারা সবাই ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে প্রসুন চক্রবর্তী ও চিত্রা সেন এর নতুন সিনেমা সেই জন্মের তুমি শুধু ব্লকবাস্টার নয় পুরো একশ দিন প্রদর্শনী সাকসেস ফুল ভাবে চলেছে এই জন্যেই আজকের পার্টি।
প্রসুন দা কিছু বলুন
আমি চিত্রা কয়েকটা কাজ দেখেছি। মেয়েটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো কাজ করে এত সুন্দর ভাবে চরিত্রে ভেতর ঢুকে যায়। আমাদের এই পথ চলার কেবল শুরু।
আজকের এই বিশেষ দিনে আরো একটি ঘোষণা করতে চাই আমাদের নতুন সিনেমা যে ছিল আমার এর ঘোষণা করতে যাচ্ছি।
সবাই হাত তালি দেয়।
চিত্রা দি আপনি কিছু বলুন।
আমার জীবনে এ ঘটনার পর ও যে আমি আবার কাজ পাবে তাও আবার প্রসুন চক্রবর্তী মত এত বড় মাপের একজন অভিনেতার সঙ্গে কখনো ভাবিনি। ওনার সাথে কাজ করা প্রতিটা শিল্পীর স্বপ্ন। এই সাফল্যের পুরো ক্রেডিট ওনার। ধন্যবাদ
আর বেশি কিছু বলে সময় নষ্ট করব না আপনারা সবাই আনন্দ করুন।
পার্টি হলে বেজে ওঠে সেই জন্মের তুমি সিনেমার গান
অবশ্যই।🎵 সেই জন্মের তুমি
[অন্তরা ১]
চেনা চেনা এই পথ কেন,
অচেনা লাগে শহর,
তোমায় দেখলেই মনে হয়,
হারিয়েছি তোমায় কত বছর।চোখের ভাষায় কী যেন বলো,
মনে পড়ে সেই দিন,
কোন জন্মের কোন গল্প তুমি,
কেন এত আপন আজও তুমি?[কোরাস]
তুমি সেই জন্মের তুমি,
হারিয়েও যাকে হারাইনি,
সময় পেরিয়ে জন্ম বদলেছে,
তবু তোমায় ভুলিনি।তুমি সেই জন্মের তুমি,
আমার অসমাপ্ত গান,
একবার যদি হাতটা ধরো,
ফিরে পাবো হারানো প্রাণ।[অন্তরা ২]
নদীর ধারে সন্ধ্যা নামে,
বাঁশির সুরে মন কাঁদে,
মনে হয় এই ঘাটেই যেন,
তোমায় হারিয়েছিলাম আগে।কোন অদৃশ্য টানে তুমি,
বারবার ফিরে আসো,
হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝে,
শুধু আমাকেই খুঁজে পাও।[কোরাস]
তুমি সেই জন্মের তুমি,
হারিয়েও যাকে হারাইনি,
সময় পেরিয়ে জন্ম বদলেছে,
তবু তোমায় ভুলিনি।[ব্রিজ]
যদি আবার জন্ম হয়,
যদি আবার দেখা হয়,
এইবার তোমায় হারাবো না,
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পাশে রয়।[শেষ]
তুমি সেই জন্মের তুমি,
এই জন্মেও আমার,
জন্ম পেরিয়ে ভালোবাসা,
থাকুক অনন্তকাল।এদিকে প্রসুন আর চিত্রা কে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেছে। একে পর এক উত্তর দিচ্ছে সাথে ছবি।
মাঝে মাঝে সবার সাথে কথা ও বলছে।
হঠাৎ চিত্রা আর কিরণের চোখাচোখি হয়। চিত্রা প্রসুন চক্রবর্তী কে জিজ্ঞেস করে কিরণ কেও নিমন্ত্রণ করেছ।
হ্যাঁ কেন কোনো সমস্যা
ভাবছি ওকে আমার ছবিতে একটা অংশে রাখব।
সরি টু সে তাহলে আমি কাজ করব না
কিন্তু কেনো?
ওর স্ত্রী উমা জঘন্য একজন মহিলা। উমা আমাকে যা নয় তাই বলে অপমান করেছে অভিশাপ দিয়েছে এরপর আর ওর সাথে কাজ করার ইচ্ছা নেই আমার।
আমি আসলে ব্যাপারটা জানতাম না। জানলে ওকে কখনো নিমন্ত্রণ করতাম না।
অন্যদিকে কিরণ এবং উমা নিজে থেকে প্রসূণের সাথে কথা বলতে যায়।
প্রণাম স্যার
কেমন আছেন।
ভালো। তুমি ভালো তো
দাদা আপনি তো অনেকেই কাজের সুযোগ দেন যদি আমাকে একটা
দেখো টু বি অনেস্ট অনেক দিন হলো দুই নায়ক একসাথে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছি।
তবে হ্যাঁ তুমি আমার পরিচালনায় সিনেমা করতে পারো তবে আগে নতুন সিনেমা শেষ করি।
প্রসুন কে ওর এসিস্ট্যান্ট সাইডে ডেকে বলে দাদা আপনি না বললেন আপনার নতুন সিনেমা তে কিরণ স্যার থাকবেন। রাখতে তো চেয়েছিলাম কিন্তুচলবে
7 Comments-
-
Rifat Humu, চিত্রার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা পড়ে বেশ ভালো লাগল।
“কিছু ভালোবাসা মৃত্যুতে শেষ হয় না, শুধু জন্ম বদলায়”—লেখার এই লাইনটা সত্যিই ভীষণ গভীর এবং সুন্দর। আপনি কি মনে করেন চিত্রা নিজের ক্যারিয়ারের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত কিরণের সাথে কোনো প্রজেক্টে কাজ করবে?
-
আপনার লেখনীতে চিত্রা ও কিরণের মধ্যকার টানাপোড়েন এবং সিনেমার পেছনের আবেগগুলো দারুণভাবে ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার মুহূর্তটি বেশ হৃদয়স্পর্শী হয়েছে। আপনি নিয়মিত এই গ্রুপে অন্যদের লেখায় ভালোবাসা ও মন্তব্য জানিয়ে সক্রিয় থাকলে আমাদের এই পথচলা আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
-
Friends
Mamun Azad
@mamunazad
Mishau Marma
@mishaumarma
Sujon Barua
@sujonbarua
রওনক নাহার "রুনু"
@rodela-dupor
আসাদুজ্জামান মানিক
@asadujjamanmanik
এস এম সামিউল ইসলাম রাতুল
@ratulsamiulislamgmail-com
সজল চন্দ
@sajalchanda
Jannatul Ferdus Samira
@jannatulferdussamira
Anju Manara Begum
@anjumanarabegum


সিনেমার মতই দৃশ্যগুলো মনের ক্যানভাসে দেখতে পাচ্ছি যেন! খুব ভালো লাগছে পড়তে!