-
চা চুমুক
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ।
আজ শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় ফ্লাইট। কিছুটা সাশ্রয়ী খরচে ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই প্লান করা ছিলো বাংলাদেশ বিমানে যাবো।সহধমির্ণী স্ত্রী আমার –
তার যে কি রকমের উচ্ছ্বাস সমস্ত শরীরে বয়ে যাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়! আজকে সকাল হতেই সাজুগুজুর প্রচুর ব্যস্ততায় তার সময়টা কেটে যাচ্ছে।একমাত্র সন্তান আরাফের দিকে তার কোন মনোযোগই যেন নেই। কোন মতে খাইয়ে দাইয়ে ছেলেকে রেডি করে বসিয়ে রেখেছে। একটু পর পর ছেলের ডিস্ট্রাবে তার সাজসজ্জায় ব্যাঘাত ঘটছে। মাথায় স্টাইলিশ মডেলে হিজাব পড়বে সেটা লাগাতেও মোটামুটি অর্ধঘন্টা অলরেডি গত হয়ে গেছে –
আহ !
এই রকম সাজসজ্জা বউ আমার যদি সব সময় সেজেগুজে থাকতো আমার জন্য, মনে মনে এমন অসাড় ভাবনায় বেড রুমের জানালা ধরে নীল আকাশের পানে তাকিয়ে শুধু শুধুই মিছে ভাবছি..
মনে হচ্ছে দুপুরে আজকে বাহিরে খেতে হবে। যা ভাবসাব তার চুলোর উপর কিছুই দেখা যাচ্ছে না, প্লেট বাটি আর পাতিল কড়াই নাড়ানাড়ি এর কোনটাতেই সে তার গুণী রাধুনী হাত নাকি লাগাবে না।মন্ত্রমুগ্ধর মত আমি শুধু তার দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে আছি যেন করুনা করে হলেও তার ভালোবাসার পরম পাত্র যেন আমি অধম হতে পারি। তার ঢেউ তরঙ্গ চোখ টিপুনি, ছ্যাকা দেওয়া অবহেলার মুচকি হাসি আর দু’গালে টোল পড়া হৃদয়ক্ষত বাঁকা চোখের চাউনি এর সবই অন্ধ প্রেমিক পথিকের ন্যায় শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখছি –
একটু যে তার পাশ দিয়ে যেয়ে ঘ্রাণ নিবো সেটারও উপায় নেই, একদম সাফ কথা তার কোন কিছুই হবে না। মেকাপ সুন্দরী আজ নাকি সে শুধুই তার জন্য, শুধুই তার –
দারোয়ানের মত তার আভিজাত্য লেডিস ব্যাগ ও ছেলেকে নিয়ে সোজা সিএনজি ঠিক করে উঠে বসে পড়লাম। পাঁচটায় প্লেন ছাড়ার সময় থাকলেও আগে থেকেই আমরা চলে এসেছি এয়ারপোর্টে –প্রাথমিক চেকআপ ও টিকেট প্রদর্শণ স্বাপেক্ষে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। কয়েক কদম এগুতেই একদম কাছ থেকে জীবনে প্রথম প্লেনগুলোকে দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন গন্তব্যে লাইন ধরে ধরে সবাই যার যার নির্ধারিত প্লেনে উঠার জন্য অপেক্ষায় আছে –
বাংলাদেশ বিমান হওয়ায় আমাদের লাইনে লোকজনের ভীড় তুলনামূলকভাবে কম, ঠিক যেভাবে আমি সবকিছু সহ্য করে এখনও অবধি বলতে গেলে পেটে দানা পানি তেমন কিছু গলাধঃকরণ জমা করা হয়নি।
অগত্যা রুপসী এয়ার হোস্টেসকে জিজ্ঞাসা করলাম – এক কাপ চা হবে? কড়া এক কাপ লিকার চা..
কি মিষ্টি হাসি রে বাবা !
তিন পঞ্চাশে দেড়শো টাকার টিকেটে কেটেছেন! তাও আবার এখানে কড়া লিকারের চা চাচ্ছেন –আহ্ রে – বাংলাদেশ বিমান
এটা কি সত্যিই আগারগাঁও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর ?না পেলাম ঘরের চা
না পেলাম বলাকার চা..8 Comments-
-
মো: নাজমুল আখতার, আপনার এই সুন্দর বর্ণনাটিতে পারিবারিক মুহূর্তের সাথে শেষ মুহূর্তের অদ্ভুত পরিস্থিতির যে দারুণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন তা বেশ উপভোগ্য, এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন কোনো অভিজ্ঞতার গল্পে এমন রসবোধ বজায় রাখলে লেখাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
-
লেখাটা পড়ে বেশ মজা পেলাম, এয়ারপোর্টের ওই শেষ মুহূর্তের অভিজ্ঞতাগুলো দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি। সত্যি বলতে, শেষে এসে আপনার এই টুইস্টটা আমি একদমই আশা করিনি। বেশ চমৎকার একটা গল্প লিখেছেন, খুব ভালো লাগলো আপনার লেখার হাত!
-
-
Friends
রুনা জাহান
@runajahan
wajibad
@wajibad
ashraf ali
@ashrafali1
Md Shakhawat Hossen
@mdshakhawathossen
দেবজীৎ ঘোষ প্রীতম
@debojit
FAM Farhad
@fmfarhad71gmail-com
দীপান্বিতা পালিত
@dipannitachowdhury669gmail-com
Md. Kamrul Hasan
@md-kamrulhasan
kabir suhel
@kabirsuhel


দৈনন্দিন একটা ঘটোনাই খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পড়তে পড়তে এক ফাঁকে কেন যেন মনে পড়ছিল জীবনানন্দের সেই লাইন “সকল লোকের মাঝে ব’সে / আমার নিজের মুদ্রাদোষে / আমি একা হতেছি আলাদা?” – এই রকম একটা বিষন্নতার সুর আছে। যদিও দৃশ্যগুলি আনন্দদায়ক …