-
লেখাটা ১১ই জুন-২৬ এ প্রথম ফেসবুকে লিখেছিলাম। তুলটের বন্ধুদের জন্য কিছুটা সংস্কার করে আবার দিলাম।
দুনমেহ: বিশ্বজুড়ে খিলাফাহ পতনের গোপন কারিগর।
দুনমে বা দোনমেহ, একটি বিশেষ ইহুদী গোত্র। ইতিহাসে এরা ‘ক্রিপ্টো-জিউ’ (Crypto-Jews) বা ছদ্মবেশী ইহুদি হিসেবে পরিচিত। এই গোপন গোষ্ঠিটি মুসলিম ছদ্মবেশে থাকতো কিন্তু আদতে তারা ছিল ইহুদী। এরাই ইসলামী খিলাফাহর শেকড় ভেতর থেকে কেটে দিয়েছিল।তুর্কি ভাষায় ‘Dönmeh’ (দোনমে) শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো “যে ফিরে এসেছে” বা “ধর্মান্তরিত”। তবে উসমানীয় সমাজে এটি কিছুটা নেতিবাচক বা ‘দলত্যাগী/বিশ্বাসঘাতক’ অর্থেও ব্যবহৃত হতো। তারা প্রকাশ্যে নিজেদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিত, কিন্তু গোপনে তাদের আদি ইহুদি বিশ্বাস ও বিশেষ কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলত।
শভতাই জেভি (Shabbetai Tzevi) নামের এক ইহুদীরাব্বি ও কাবালা (ইহুদীদের গোপন আধ্যাত্মিক বিদ্যা) সাধক এর মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর সূত্রপাত ঘটে ১৭ শতকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইজমির (Izmir) নামক শহরে। সে সময় সংগঠনটি কেবলই একটি গোপন আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে মনে করা হতো। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রথমেই প্রকাশ করা হয়নি।
১৬৪৮ সালে শবতাই জেভি নিজেকে ইহুদিদের বহু প্রতীক্ষিত ‘মসীহ’ (Messiah) বা ত্রাণকর্তা হিসেবে ঘোষণা করেন। তৎকালীন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ ইহুদি তাকে সত্য মনে করে তার অনুসারী হয়ে ওঠে। ফলে অটোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। একটা সময় সংগঠনটিতে পর্যাপ্ত সদস্য হয়ে গেলে তারা উসমানী সালতানাতের বিভিন্ন আইন-কানুন অমান্য করতে শুরু করে। উসমানীয় খেলাফতে তারা শান্তিতে বসবাস করলেও ক্ষমতার লোভ এবং জন্মগত কূটিলতার কারণে এরা শান্তি বিনষ্ট করতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালায়।
বিষয়টি খলিফার দৃষ্টিগোচর হলে ১৬৬৬ সালে উসমানীয় সুলতান চতুর্থ মেহমেদ-এর দরবারে শবতাই জেভিকে গ্রেপ্তার করে হাজির করা হয়। সুলতান তাকে দুটি পথ দেন: হয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা, না হয় মৃত্যুদণ্ড।
নিজের জীবন বাঁচাতে শবতাই জেভি তখন খলিফার সামনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘আজিজ মেহমেদ এফেন্দি’। তার এই ধর্মান্তর দেখে সাধারণ ইহুদিরা স্তব্ধ হয়ে যায়, বহু ইহুদী তার অনুসরণ থেকে সরে যায়। কিন্তু তার একদল কট্টর অনুসারী ইহুদী বিশ্বাস করত যে, এটি মসীহের একটি গোপন ঐশ্বরিক কৌশল। ফলে ১৬৮৩ সালের দিকে প্রায় ৩০০টি ইহুদি পরিবার একসঙ্গে মনে ইহুদীবাদ রেখে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এরাই দোনমে গোষ্ঠীর জন্ম দেয়।
দোনমে গোষ্ঠী উসমানীয় সাম্রাজ্যের সিলোনিকা (Salonica)—যা বর্তমানে গ্রিসের থেসালোনিকি শহর—সেটিকে তাদের মূল কেন্দ্র বানায়। তাদের জীবনযাত্রা তারা কঠোর ভাবে গোপন রাখতো।
এদের প্রত্যেক সদস্যের দুটি করে নাম থাকত। একটি তুর্কি বা মুসলিম নাম (যা বাইরের দুনিয়া দেখত) এবং একটি হিব্রু নাম (যা কেবল নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর ব্যবহৃত হতো)। তারা প্রকাশ্যে মসজিদে যেত, রমজানের রোজা রাখত এবং হজেও যেত। কিন্তু ঘরের ভেতর তারা হিব্রু ভাষায় প্রার্থনা করত, সাবাথ (শনিবারের পবিত্র দিন) পালন করত এবং উসমানীয় সুফিবাদের (বিশেষ করে বেকতাশি তরিকা) সাথে ইহুদীবাদী কাবালা বিদ্যা মিশিয়ে তৈরি করা নিজস্ব কিছু আচার পালন করত।
মৃত্যুর আগে শবতাই জেভি দোনমেহ এর সদস্যদের জন্য ১৮টি গোপন আদেশ দিয়ে যান। যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে কোনো খাঁটি মুসলমান বা সাধারণ ইহুদি পরিবারে বিয়ে করতে পারবে না। আমি লেখার শেষে তাদের ১৮টি গোপন আদেশ লিখে দিয়েছি। তার আগে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখি।
১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের শুরুতে দোনমে সম্প্রদায়ের সদস্যরা শিক্ষা, ব্যবসা এবং রাজনীতিতে প্রচণ্ড প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
উসমানীয় সুলতান আব্দুল হামিদ (দ্বিতীয়)-কে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যে ‘কমিটি অব ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ বা ইয়ং তুর্কস আন্দোলন কাজ করেছিল, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বুদ্ধিজীবী এই দোনমে সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন। সুলতানকে হঠিয়ে তথাকথিত আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক গড়ার পেছনে তাদের বড় ভূমিকা ছিল। আজ যে আমরা কাউকে সাহসিকতার জন্য শাবাশ দিতে গিয়ে “তরুণ তুর্কী” বলি, এই শব্দবন্ধটি আসলে এখান থেকেই প্রচলিত। মুসলিম খেলাফতের দু:খজনক পরাজয় ও গাদ্দারীর সাক্ষী এই শব্দবন্ধ।
১৯০৯ সালে সুলতান ২য় আব্দুল হামিদকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করেছিল এই দোনমেরা, কারণ সুলতান ইহুদীদের জন্য ফিলিস্তিনের ভূমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এইসব দোনমেরা সিলোনিকার ইতালীয় ফ্রীম্যাসনারি লজ যেমন ম্যাকডোনিয়া রিসোর্ট এর মতো বিভিন্ন লজ বা রিসোর্টে এদের গোপন আস্তানা পেতেছিল। সেখানে তারা খেলাফতের উৎখাত এবং তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানানোর নামে ইহুদী কর্তৃত্ত্ব প্রতিষ্ঠার গোপন পরিকল্পনা করতো। আধুনিক তূর্কি জাতীয়তাবাদও তাদেরই সৃষ্টি। এই জাতীয়তাবাদের নামেই তারা খেলাফতকে ধ্বংস্ব করার ছক কষেছে।
পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে যখন গ্রিস খেলাফত শাসন থেকে বেরিয়ে যায় তখন গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে জনসংখ্যা বিনিময় (Population Exchange) হয়, সেসময় গ্রিসের সিলোনিকায় থাকা দোনমেদের ‘মুসলিম’ হিসেবে গণ্য করে ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা তখনও নিজেদের ইহুদী পরিচয় প্রকাশ করেনি।
বর্তমানে আধুনিক তুরস্কে দোনমেদের সংখ্যা খুবই সীমিত (ধারণা করা হয় কয়েক হাজার)। বহু বছর ধরে মূলধারার তুর্কি সমাজের সাথেমিশে যাওয়ার কারণে তাদের গোপন ধর্মীয় আচারগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং আধুনিক তুরস্কের উত্থানের পেছনে এই দোনমে বা ছদ্মবেশী ইহুদিদের ভূমিকা নিয়ে আজও ব্যাপক আলোচনা হয়। দোনমেরা এখন সংখ্যায় সীমিত হলেও তারা তাদের স্বার্থ ঠিকই হাসিল করে নিয়েছে। ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের নামে মুসলিম খেলাফতকে টুকরো টুকরো করার মিশনে এরা সফল। আফসোস হয়, আজও মুসলিমরা ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের নামে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ইহুদীদের জন্মগত কূটিলতা ও গাদ্দারীর কারণেই বিশ্বব্যাপি বিশৃঙ্খলা আজও চলমান।
১৯২৪ সালে খেলাফতের পতনের পর কামাল আতাতুর্ক বা তথাকথিত আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল পাশা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই যে সকল কাজ করেন (যেমন, আরবী ভাষা শিক্ষা, আরবী আযান, ইসলামী পোশাক ও হিজাব ইত্যাদি নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি) তা সহজেই তার দোনমে পরিচয় প্রকাশ করে দেয়। এই কামাল পাশা পড়াশুনা করেছিল সিলোনিকায় এবং তার শিক্ষক ছিল শামসুদ্দিন এফেন্দি, যিনি দোনমেদের মধ্যে সেরা শিক্ষক হিসেবে ইহুদীদের নিকট পরিচিত হয়েছিল। কামাল পাশার ইহুদী দোনমে পরিচয় প্রকাশের আগে সে একবার সুলতান ২য় আব্দুল হামিদের নিকট এসেছিল। তাকে রাস্তা দিয়ে আসতে দেখেই সুলতান আব্দুল হামিদ ২য় বলেছিলেন, “আমি তার চোখে এমন এক কালো আভা দেখতে পেয়েছি, যা অচিরেই সব কিছু তছনছ করে দিবে।” পরবর্তীতে ঠিক তাই হয়েছিল যা একটু আগে বললাম।
এখন আমি দোনমেদের ১৮টি গোপন আদেশ লিখে দিচ্ছি, বাহ্যিক ভাবে এই আদেশগুলোকে খুবই আলাভোলা টাইপ গোপনীয়তা রক্ষার আদেশ মনে হলেও এর ফলাফল কত ভয়ঙ্কর, তা আজ বিশ্বের সামনে পরিস্কার। ইতিহাসে এই আদেশগুলো দি এইটিন কমান্ডমেন্টস(The Eighteen Commandments) বা মিযভোট (Mitzvot) নামে পরিচিত। এই আদেশগুলোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল—কীভাবে প্রকাশ্যে একজন খাঁটি মুসলমানের ছদ্মবেশ বজায় রেখেও গোপনে ইহুদি কাবালাবাদী বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখা যায় এবং বিশ্বব্যাপি ইসলামের ক্ষতিসাধন করা যায়। নিচে ১
শবতাই জেভির ১৮টি আদেশ :১. এক ঈশ্বরে বিশ্বাস
আল্লাহ বা ঈশ্বর এক, এবং শবতাই জেভিই তাঁর প্রেরিত সত্য মসীহ (ত্রাণকর্তা)। এই দ্বৈত বিশ্বাসে অটল থাকতে হবে।২. ছদ্মবেশ ধারণ (পবিত্র কপটতা)
বাইরের জগতের সামনে নিজেদের মুসলিম হিসেবে প্রকাশ করতে হবে। মাথায় পাগড়ি বা তুর্কি টুপি (Fez) পরা, মসজিদে যাওয়া এবং ইসলামের বাহ্যিক আচারগুলো নিখুঁতভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। এগুলোকে তারা পবিত্র কপটতা হিসেবে বিবেচনা করত।৩. আল্লাহর নামের আড়ালে মসীহকে স্মরণ:
যখনই মুখে আল্লাহর নাম বা ইসলামের কোনো পবিত্র শব্দ উচ্চারণ করা হবে, মনে মনে তখন শবতাই জেভি এবং তাঁর গোপন ঐশ্বরিক সত্ত্বাকে স্মরণ করতে হবে।৪. ইহুদিদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা:
সাধারণ (সনাতনপন্থী) ইহুদিদের সাথে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাদের সাথে মেলামেশা করলে গোপন পরিচয় ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।৫. কোনো ইহুদিকে হত্যা না করা:
যদি কোনো ইহুদি দোনমেদের শত্রুও হয়, তবুও তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ তারা একই বংশের অবশিষ্টাংশ।৬. মুসলিমদের সাথে সামাজিক দূরত্ব:
তুর্কি বা সাধারণ মুসলমানদের সাথে ব্যবসায়িক ও সামাজিক সম্পর্ক রাখা যাবে, কিন্তু তাদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক বা গভীর আত্মিক যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ।৭. কঠোর অন্তর্বিবাহ (অনন্য সামাজিক নিয়ম):
দোনমে সম্প্রদায়ের বাইরে (কোনো সাধারণ মুসলিম বা সাধারণ ইহুদি পরিবারে) বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিজেদের রক্তধারা এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এটি ছিল সবচেয়ে কঠোর নিয়ম।৮. খতনা বা মুসলমানি প্রথা:
দোনমে পরিবারের প্রতিটি কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তানের ধর্মীয় শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে মুসলিমদের মতো করেই খতনা বা মুসলমানি করাতে হবে (যা ইহুদি ধর্মেও প্রচলিত)।৯. রমজানের রোজা ও কুরবানি:
প্রকাশ্যে মুসলমানদের মতো রমজান মাসের রোজা রাখতে হবে এবং ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি দিতে হবে। এটি ছিল সমাজে নিজেদের ‘খাঁটি মুসলমান’ প্রমাণ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।১০. হিব্রু ও তোরাহ্ চর্চা:
প্রকাশ্যে তুর্কি ভাষা বললেও, ঘরের ভেতরে গোপনে তোরাহ্ (Torah) অধ্যয়ন করতে হবে এবং হিব্রু ভাষায় প্রার্থনা সচল রাখতে হবে।১১. সাবাথ (শনিবার) পালন:
শনিবার বা সাবাথ (Sabbath) হলো ইহুদিদের পবিত্র দিন। মুসলমানদের দেখানোর জন্য শুক্রবার জুম্মার নামাজে অংশ নিলেও, শনিবার দিনটিকে গোপনে পবিত্র মনে করতে হবে এবং সম্ভব হলে গোপন আচারের মাধ্যমে তা উদযাপন করতে হবে।১২. মিথ্যা সাক্ষ্যের বৈধতা:
বাইরের জগতের কেউ যদি তাদের ধর্ম বা পরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তবে নিজেদের ও সম্প্রদায়ের সুরক্ষার্থে মিথ্যা বলা বা মিথ্যা কসম খাওয়া সম্পূর্ণ বৈধ (যাকে ইসলামের ‘তাকিয়া’ বা গোপন করার ধারণার সাথে মেলানো যায়)।১৩. মুসলিমদের গোপনীয়তা না ছড়ানো:
মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় গোপন বিষয় বা রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্য বাইরে পাচার করা যাবে না, যেন দোনমেরা উসমানীয় রাষ্ট্রের বিশ্বস্ত নাগরিক হিসেবে টিকে থাকতে পারে।১৪. পরনিন্দা ও হিংসা বর্জন:
নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতরে একে অপরের প্রতি হিংসা, পরনিন্দা বা শত্রুতা করা যাবে না। সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে।১৫. দাতব্য কাজ ও সাহায্য:
সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য পিছিয়ে পড়লে বা দরিদ্র হলে, অন্য ধনী সদস্যদের তাকে গোপনে সাহায্য করতে হবে। দোনমেদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাখার পেছনে এই নিয়মটি বড় ভূমিকা রেখেছিল।১৬. শবতাই জেভির জন্মদিন উদযাপন:
প্রতি বছর শবতাই জেভির জন্মদিন এবং তার জীবনের বিশেষ দিনগুলো (যেমন—১৬৬৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, যেদিন তিনি ধর্মান্তরিত হন) গোপনে উৎসবের মতো পালন করতে হবে।১৭. ব্যভিচার ও অনৈতিকতার বাহ্যিক বর্জন:
প্রকাশ্যে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ বা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া যাবে না, যা সমাজে তাদের মুসলিম পরিচয়কে কলঙ্কিত করতে পারে।১৮. ‘পবিত্র পাপ’ বা আধ্যাত্মিক স্বাধীনতার গোপন আচার:
ঘরের চার দেয়ালের ভেতর স্রষ্টার সাথে মিলনের উদ্দেশ্যে এমন কিছু গোপন রহস্যময় আচার (Mystical Rituals) পালন করা যাবে, যা সাধারণ শরিয়ত বা আইনে নিষিদ্ধ। (এই নিয়মটির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে দোনমেদের বিরুদ্ধে গোপনে সুফি ও কাবালা আচারের মিশ্রণে উৎসব করার বিষয় জানা যায়)।এখনো যে দুমনেদের কাজ থেমে গেছে আমার তা মনে হয় না। বিশ্বের অস্থিরতার দিকে তাকালে আমার সন্দেহ হয়, বিশ্বব্যাপী এখনো দোমনেদের কাজ চলমান।
রাকিবুল হাসান
১১ই জুন-২০২৬3 Comments-
রাকিবুল হাসান, আপনার লেখাটি পড়ে সুলতান আব্দুল হামিদের সেই উক্তিটি—“আমি তার চোখে এমন এক কালো আভা দেখতে পেয়েছি, যা অচিরেই সব কিছু তছনছ করে দিবে”—সত্যিই গা শিউরে ওঠার মতো এক ঐতিহাসিক সত্য মনে হলো; আচ্ছা, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতার পেছনে ঠিক কোন কোন ঘটনা দেখে আপনার দোনমেদের প্রভাব বা কার্যক্রম এখনো চলমান বলে মনে হয়?
Friends
Kazi Adam
@kaziadam
রেদোয়ান আসিফ রিসান
@redoanasifrisan
bithy 123 bithy
@bithy123bithy
Emon Rahman
@emonrahman
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
Fatima Sadia
@fatimasadia
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
মোঃ আরিফুল ইসলাম
@ammouriful
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron


ইতিহাসের বিভিন্ন জটিল বাঁকবদলের প্রেক্ষাপট নিয়ে আপনার এই সুগভীর বিশ্লেষণমূলক উপস্থাপনটি অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং সময়োপযোগী হয়েছে, যা পাঠকের সামনে ইতিহাসের একটি অজানা অধ্যায়কে বেশ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।