Profile Photo

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/ কবি মিজান বিএসসি)Offline

  • mohammedmizanurrahman
  • বকুল তলার দিনগুলো
    কবি মিজান পঞ্চায়েত

    শোয়ার ঘরের জানালার অনতি দূরে
    শ্যাওলা জমা পুকুরের ঈশান কোনে
    বকুল গাছটা ।
    ভাইয়ের যতনে গড়া গাছটাকে
    বেশ বড় না বললেও, বড় বলা যায়।
    তিনি এখন শহরে কর্ম ব্যস্ত,
    গাছটির কথা ভুলেই গেছেন হয়তো।
    যৌবনের উচ্ছ্বাসে ফুলের মোহ
    এখন আমারই ।
    তাই গাছটির তদারকির ভার নিয়েছি।

    পাশের বাড়ির ননী গোপালের মা,
    বুড়ির সাথে হররোজ দেখা।
    ফুল তুলতে আসে, পূজার ফুল।
    বেশ কদিন দেখছি না বুড়িকে।
    খবর নিয়ে জানলাম,
    বুড়ি বাতে অচল।

    হঠাৎ একদিন দেখি
    একটি মেয়ে ফুল তুলছে।
    ভারী সুন্দর মেয়েটি!
    বাঙ্গালী মেয়ের এত রূপ!
    কিন্ত কে এই পরী ?
    ভাবনার অবকাশে
    কাজ সেরে চলে গেল সে।
    আমার মনে তার যাওয়ার ঘন্টা
    বাজেনি তখনও।
    বাকি দিনের কল্পনায়,
    সারা রাতের স্বপ্নে,
    শুধু সে, শুধুই সে।

    কালের পরিক্রমায় সকাল হলে
    আবারও সে ফুল তুলতে আসে।
    মনের অজান্তেই কাছে চলে গেলাম,
    কিন্তু কিছুই বলতে পারলাম না।
    পরদিন সাহস সঞ্চয় করে কথা বললাম, নাম নলিনী দত্ত,
    বুড়ির সেবায় এ নাতনীর আগমন।
    তখন থেকে আমিও ফুল তুলি
    সুন্দরীর পূজারী বনে যাই।
    সারা ধরনীর রং রূপ!
    সারা জীবনের চাওয়া পাওয়া,
    যেন গাছটির নিচেই পেয়ে গেলাম।

    একদিন বন্ধূরা এসে হাজির,
    মাস খানেক দেখছে না তাই।
    বিদায়বেলা কত অসহ্য কথা তাদের,
    নীরবে সহ্য ছাড়া উপায় কি ?

    প্রেমের আকাশে আমরা দুজন রঙিন ঘুড়ি হয়ে উড়ছি,
    আনন্দে পুলকিত মনে, মাসকে দিনের মতই মনে হচ্ছে।
    একদিন দমকা হাওয়ায় ভর করে
    এক জরুরী বার্তা এলো।
    অগত্যা নলিনী বাড়ি গেল ।
    কথা ছিল সপ্তাহান্তে ফিরে আসবে।
    এক পক্ষকাল পর সে ফিরে এলো, তবে বোবা হয়ে!
    শুধুই চেয়ে রইল, এভাবে অনেকক্ষণ।
    তারপর দুহাতে কান্না চেপে
    সকরুন দৃষ্টি নামিয়ে চলে গেল।
    আমিতো কিংকর্তব্য বিমূঢ়!
    অবশেযে জানলাম-
    তার কপালে সিদূর উঠেছে। পরিবারের চাপে সে আত্ম সমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে।
    এবার আমাকেই কান্না চাপাতে হলো!

    4
    4 Comments
    • বকুলতলার সেই সোনালি দিনগুলোই থেকে যায় কান্না চাপা পড়ে অসমাপ্ত প্রেমের ছায়ায়…..🤍🖤

    • আপনার লেখাটা পড়ে একদম হারিয়ে গিয়েছিলাম, কী দারুণ একটা প্রেমের গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন! নলিনীর কথাগুলো পড়ে সত্যিই মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।

    • মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/ কবি মিজান বিএসসি), বকুলতলার ছায়ায় ঘেরা আপনার এই আবেগময় বর্ণনায় ননী গোপালের মায়ের অসুস্থতা ও নলিনীর আগমনী বার্তা খুব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। আপনার শব্দ চয়নে বিরহের যে গভীরতা পাওয়া যায়, তা পাঠকের হৃদয়ে অনায়াসেই দাগ কেটে যায়; সুতরাং আপনার কলম নিয়মিত এভাবেই চলতে থাকুক।

    • পুরাই গল্পের মধ্যে ঢুকে গেলাম
      বকুল গাছের পাশে ভালোবাসাটা এত স্বাভাবিকভাবে শুরু হইলো
      নলিনী বোবা হয়ে ফিরে আসার দৃশ্যটায় বুকটা ধক করে উঠলো😯

Skip to toolbar