-
দিন দিন মানুষর হিংস্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন?
সারসংক্ষেপ
মানবসভ্যতার বিকাশের ইতিহাসে শারীরিক শক্তি, অভিযোজনক্ষমতা, প্রতিযোগিতা, হিংস্রতা এবং বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদিম মানবজীবনে খাদ্য সংগ্রহ ও আত্মরক্ষার জন্য শারীরিক সক্ষমতা ও শিকার করার দক্ষতা ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মানুষ ক্রমে বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু এই বুদ্ধিমত্তাই একদিকে সভ্যতার উন্নতি ঘটালেও অন্যদিকে মানুষকে ব্যাপক ধ্বংসক্ষম অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য দিয়েছে। ফলে মানববুদ্ধির অগ্রগতি একই সঙ্গে মানবজাতির সম্ভাবনা ও অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
মূল শব্দ : হিংস্রতা, বুদ্ধিমত্তা, বিলুপ্ত, জিন, বংশবিস্তার।
ভূমিকা
আদিম যুগে মানুষ প্রকৃতির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা সবই ছিল শারীরিক শক্তি, সাহসী তথা হিংস্রতা ও বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীল। লক্ষ লক্ষ বছর এভাবে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে করতে এক সময় অপেক্ষাকৃত দূর্বল মানুষগুলো পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় এবং হিংস্র ও বুদ্ধিমান মানুষগুলোর বংশধরেরাই বেঁচে আছে।
মূল প্রবন্ধ :
এ কথা সর্বজন স্বীকৃত, আদিম কালে সকল মানুষ গুহায় বাস করতো এবং পশু পাখি শিকার করে কাঁচা চিবিয়ে খেতো। পশু শিকারে প্রয়োজন ছিল শারীরিক শক্তি, হিংস্রতা এবং বুদ্ধিমত্তা। তখনকার মানুষগুলোর মধ্যে যারা তুলনা মূলক কম শক্তিশালী, কম হিংস্র ও কম বুদ্ধিমান ছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই পশু শিকারে গিয়ে আহত হয়ে বা বেশি শক্তিশালীদের দয়ায় প্রদত্ত সামান্য খাবার খেয়ে অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে মারা যেতো। ফলে তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী হিংস্র ও বুদ্ধিমান মানুষগুলোই টিকে থাকতো। এভাবে লক্ষ লক্ষ বছর চলতে চলতে পৃথিবীতে অপেক্ষাকৃত দূর্বল মানুষগুলোর বংশধর বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আর শক্তিশালী হিংস্র ও বুদ্ধিমান মানুষগুলোই টিকে আছে এবং বংশ বিস্তার করে চলছে। বর্তমানে কাল পর্যন্ত মানুষ যেমন হিংস্রতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছে তেমনি জ্ঞান বিজ্ঞানেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছে। ফলশ্রুতিতে, জিনগত হিংস্রতার করণে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মরণাস্র তৈরি ও ব্যবহার করছে। এর সাথে সাথে জিনগত বুদ্ধিমত্তার কারণে জ্ঞান বিজ্ঞানেও উন্নতির শিখরে আরোহন করছে। এ ধারাবাহিকতায় মানব জাতি দিন দিন আরও হিংস্রতা ও বুদ্ধিমত্তার চরম শিখরে আরোহন করবে এবং এক সময় প্রকৃতির প্রতিশোধে হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবে।
উপসংহার : কালের পরিক্রমায় আদিম কাল থেকে আজ পর্যন্ত মেধা, শক্তি ও সাহস তথা হিংস্রতা দিয়ে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বংশ পরমপরায় যে মানুষগুলো টিকে আছে, তাদের জিনে ঐ বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই সক্রিয়। ফলে জিনগত কারণেই দিনে দিনে মানুষের মধ্যে হানাহানি যুদ্ধ-বিগ্রহ বাড়তেই থাকবে। এক সময় মানুষই মানব জাতি ধ্বংসের কারণ হবে।
3 Comments-
আপনার লেখায় ‘এ ধারাবাহিকতায় মানব জাতি দিন দিন আরও হিংস্রতা ও বুদ্ধিমত্তার চরম শিখরে আরোহন করবে’—এই অংশটি আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে দারুণভাবে তুলে ধরেছে। মানুষের বিবর্তনের সাথে হিংস্রতার এই সম্পর্ক নিয়ে আপনার এমন গভীর বিশ্লেষণ সত্যিই ভাবনার খোরাক জোগায়, তাই আপনি নিশ্চিন্তে নিয়মিত আপনার ভাবনাগুলো লিখে যেতে পারেন।
Friends
নাজমুল হাসান সাকিব
@publiconline
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
tamim yeasin
@tamimyeasin
নাহিদ হাসান নয়ন
@nahid-hasan-noyon
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia
ফরিদুল ইসলাম
@dailychandpursomoy
Eqbal Hossain
@eqbalhossain
আব্দুর রাজ্জাক শেখ
@arazzak
S Ahmed Tusher
@sahmedtusher


আপনার লেখাটা পড়ে সত্যি অনেক কিছু ভাবার সুযোগ পেলাম, বিষয়টা আসলেই অনেক গভীর।