-
গল্পঃ শতবর্ষেও তুমি
লেখাঃ মোঃ কামরান চৌধুরীদুপুর তিনটার দিকে চিরকুমার সংঘের অফিস থেকে মিটিং শেষ করে রমনা পার্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটছিলাম।আজ হাতে আমার তেমন কোনো কাজ নেই,আজ অফিসও ছুটি।চিরকুমার সংঘের অফিসে সুযোগ পেলেই আমার যাওয়া আসা হয়। বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই।তবুও,মন সাড়া দেয় বিয়ে করার কিন্তু মনের কথা আমি শুনতে নারাজ।
এতো সময় নেই শোনার!!
হাত ঘড়িতে সেই পৌনে তিনটা বেজেই থমকে আছে,টাইম কত হয়েছে জানতেও পারছিনা।আজ ভুলে স্মার্টফোনটাও বাসায় রেখে এসেছি।কিন্তু তবুও আমার টাইম দেখা লাগবেই।কারন,বিকাল চারটার দিকে রমনা পার্কে আমার সাথে একজনের দেখা করার কথা।ইস!এখন কয়টা বেজেছে কে জানে?এদিকে মাত্র বেইলি রোডটা ক্রস করেছি।আরো জোরে পা চালাতে হবে।
দীর্ঘক্ষন হাঁটার পর অবশেষে রমনা পার্কের কাছেই চলে আসলাম।তারপর জামান মিয়ার কাছ থেকে এক ঠোঙ্গা বাদাম নিলাম।বাদামের দাম দেয়ার জন্য প্যান্টের পেছনে হাত দিতেই হঠাৎ মনে পড়ে আজ তো আমি মানিব্যাগটাও আনিনি! তাড়াহুড়ো জিনিসটাই বড্ড উদ্ভট!তারপর,জামান মিয়াকে বাদামগুলো ফেরত দিতেই জামান হেসে বলে উঠলো,”স্যার,আফনে আমার রেগুলার কাস্টমার,দাম আজকে না দিলেও চলবো,পরের বার আইস্যা দিয়া যাইন”
এটি শুনে আমি মনে মনে বলতে লাগলাম” ব্যাটা একদিনের জন্য বাদাম ফ্রি দিতে পারলো না!দিন চলে যাবে তবুও টাকা সে নিবেই নিবে!”
আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে পার্কের একদম ভিতরে গিয়ে একটি গাছের নীচের সীটে গিয়ে বসলাম।আমি এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম।
-“কি তুমি এসেছো?” এটি শুনে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি সে এসেছে।
“হ্যাঁ, এসেছি।খুব গরম পড়ছে।”
-“রুমাল দিয়ে ঘাম মুছে ফেলো, নাকি আজ সেটিও আনোনি?”
আমি হেসে বললাম,” হ্যাঁ,এটি এনেছি”
-“তুমি প্রায় সময় কিছু না কিছু ভুলে যাও,এতো মনভোলা কেনো তুমি?আমি একটা মেয়ে হয়েও এতোকিছু ভুলি না।আর তুমি ভুলে যাও!!”
– ” কি করবো বলো? তাড়াহুড়ো করে বের হলেই এই সমস্যাটা হয়ে যায়”
– “আজ তুমি তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে গেলেও,তুমি কিছু ভুলে যেতে পারতে না! প্লিজ এখনও সময় আছে একটা ভালো মেয়ে দেখে একটা বিয়ে করে ফেলো।”
এটি শুনে আমি অট্টহাসি দিয়ে বললাম,”শুনুন,আমি এখন চিরকুমার সংঘের সাধারন সম্পাদক।যখন চিরকুমার ছিলাম না,তখন একটা মেয়েকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম এবং সেটা আপনিই ”
-” হ্যাঁ,আমিই।কিন্তু আমি তো এখন এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। কেনো? আত্মা বিয়ে করবা নাকি? হা হা হা ”
” সুযোগ পেলে তো সেটাই করতাম।তবে না,আমি এখন বিয়ে নিয়ে আর চিন্তাও করছি না।কিছুদিন আগে চিন্তা করার অনেক সময় ছিলো,কিন্তু এখন আর নেই!”
-“দেখো সাফিন,তোমার বয়স এখন চল্লিশ হয়ে গেছে, তবুও তোমাকে দেখে বুঝা যায় না।দেখে মনে হয় তোমার বয়স মাত্র সাতাশ বছর!এখনও তোমাকে দেখলে অনেক মেয়েই ক্রাশ খায়।”
“খেলে খেতে থাকুক, ডুবে মরুক তারা। আমি বিয়ে আর করছি না,ব্যস করছি না! এটি নিয়ে আর একটি কথাও নয় অতশী!”
-“ঠিক আছে,আর বলছি না।তুমি থাকো তোমার চিরকুমার সংঘ নিয়ে।যেখানে দশ বছর আগেও আমার কথা তুমি শুনোনি যখন এই পৃথিবীতে জীবিত ছিলাম,সেখানে আমার এই আত্মার কথাগুলোও তুমি কীভাবে শুনবে? ঠিকআছে তুমি থাকে তোমার মতো, আমি গেলাম।আর ফিরছি না”
এটি বলে অতশী হঠাৎ করে বাতাসের সাথে মিলিয়ে গেলো।আমি অনেক খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না।ইস! বড্ড বেশিই বলে ফেললাম,তাই রাগ করে চলে গেছে। অবশ্য তার রাগ কমে গেলে সে ঠিকই ফিরবে,আসলে ভুলটা কি আমার ছিলো?নাকি আমারই ছিলো। দশ বছর আগে অতশী আমাকে অনেক বলেছিলো, তাকে বিয়ে করে ফেলতে। কিন্তু আমি তখন পাত্তা দিই নি।আসলে,আমার সেদিন বিয়ে করার প্রতি এতোটা ইচ্ছে ছিলে না,বিয়ের বিকল্প হিসেবে আমি শুধু সম্পর্কটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছিলাম।বিয়ে করার জন্য মন সায় দিচ্ছিলো না।অতশীর কথা আমি শুনলাম না,একটা সময় অতশীর পরিবার আমার চাইতেও সুদর্শন এক ছেলের সাথে তার বিয়ে দেয়।অতশীর মনে তখনও আমি ছিলাম ঠিকই,কিন্তু তার চোখের কোনে জল আসার কারনও আমিই ছিলাম।আজ অতশী বেঁচে থাকলে তার সংসারটি হয়তো অনেক সুন্দর হতো।কিন্তু বছর দশেক আগে সে এবং তার স্বামী কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়।
তারপর থেকে আমি মানুষটাকে পৃথিবীতে থেকেও নেই এমন মনে হয়।আতশীর কথা প্রায় সময় মনে আমার পড়ে,এখনও তাকে অনেক বেশি ফিল করি, মিস করি। হয়তো তাকে এখনও অনেক বেশিই ভালোবাসি।
এখনও সম্পর্কের জন্য ভালোবাসা??
হা হা হা, মোটেও না। ভালোবাসার জন্যই ভালোবাসি।এখন,আমার অনেক আফসোস হয়।তার চেয়েও বেশি আফসোস হয় অতশীর মৃত্যুর সঙ্গীটাও হতে পারলাম না আমি!
কিন্তু ভাগ্যটাও কি, আমি যখন বুঝতে পারলাম, আমি অতশীকে সত্যিকারের মতো ভালোবাসি।ঠিক তখনি অতশীর আত্মা আমার সাথে এসে কথা বলে।তাই তাকে মিস করবো বলে আমি ইচ্ছা করেই চিরকুমার সংঘের সদস্য হয়ে গেলাম। অতশী আমাকে অনেকবার বলেছে একটা বিয়ে করে ফেলতে,কিন্তু আমি প্রায় সময় তার কথাটিকে এড়িয়ে চলি। কারন,অতশী আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি। শতবর্ষেও তোমাকেই ভালোবাসবো।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এবার আমার বাসায় ফিরতে হবে।অতশী মেয়েটার কথা না শুনলেই সে এভাবে রাগ করে চলে যায়। মন ভালো হলে আবার ফিরে আসে। কাল,শুক্রবার। কাল আবার এই পার্কে আসবো।অতশীকে “সরি” বলতে হবে,যেভাবেই হোক তার রাগ কমাতে হবে প্রতিবারের মতো।
কী ব্যাপার আমি কি এতক্ষন ঘামাচ্ছিলাম?চোখ জল কেনো আমার? কী জানি মনে হয় কপাল বেয়ে ঘাম চোখে পড়লো। যাইহোক,এবার বাসায় ফিরতে হবে। আবারও হাঁটা শুরু করলাম। কাল ঠিকই সবকিছু মনে করে আনতে হবে, নয়তো অতশী আরো রাগ করবে..!
(সমাপ্ত)-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 06 December 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 13 September 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 15 June 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 27 March 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 20 April 2026 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
Friends
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
সৃষ্টি
@premdevota
Abu Taher
@abu-taher
Kobi Alom
@kobi-jahangir-alom
মো দানিয়াল আরাফাত (প্রমিস)
@md-daniel-araphat-promice
তিমিরে আসক্ত
@mp3010
Md. Nur Alam (এইচ. এম নুর আলম)
@nuralam
Zahidul Jamy
@zahidul
রাসেল আদিত্য
@raseladitta


ভাল লিখেছেন। আপনাকে অভিনন্দন।