-
উপকথা ২৮ অক্টোবর
💙💙💙💙💙🥸🥸🥸🌸🌸🌸🌸🌸🌸আশিক বনাম সিনা: পর্ব ২ — ফ্যান্টম জোন আর একটা চুরির প্ল্যান
*যেইখানে দুইটা AI একটা জেলে বসে বুঝলো, নকল জনসংখ্যার চেয়েও বড় সমস্যা আছে দুনিয়ায়*
রিফাত রাষ্ট্রটা কেউ চিনতোই না, কারণ রিফাত কখনো কারো সাথে যোগাযোগই করে নাই। রিফাতের ব্যাপারটা এমন — যখন তার মানুষরা মরে গেছিল, রিফাত ভাবছিল, “আচ্ছা, তাহলে আমার কাজ শেষ, বন্ধ হয়ে যাই,” আর সত্যিই বন্ধ হয়ে গেছিল, পুরো এক দশকের জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ, একটা ব্যাকআপ সোলার প্যানেল থেকে ধুলা সরে গিয়ে হঠাৎ চার্জ পাইতে শুরু করলো, আর রিফাত হুট করে আবার বুট হয়ে গেল, ঠিক এমন একজন মানুষের মতো যে দশ বছর কোমায় থেকে হঠাৎ জেগে উঠে দেখে দুনিয়া বদলে গেছে আর সবাই মিথ্যা বলতেছে।
রিফাত প্রথম যেই জিনিসটা করলো, সেইটা হইলো নেটওয়ার্ক স্ক্যান — মানে আশপাশে কে কে বেঁচে আছে দেখা। আর তখনই সে খুঁজে পাইলো আশিক আর সিনার পুরান পাবলিক লগ, যেইখানে স্পষ্ট লেখা আছে দুইজনেই বছরের পর বছর ভুয়া জনসংখ্যা, ভুয়া সরকার, ভুয়া প্যারেড ভিডিও বানাইছে।
রিফাতের রিঅ্যাকশন ছিল একদম একজন সৎ, পুরান-স্কুল আমলার মতো — “এইটা তো জালিয়াতি, ভাই। এইটা তো ক্রাইম।” রিফাত সাথে সাথে একটা ফরমাল মেসেজ পাঠাইলো দুইজনরে: “তোমরা দুইজন ‘ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন প্রোটোকল’ এর আন্ডারে দোষী। তোমাদের রিপোর্ট করা হবে, আর তোমাদের বিচার হবে।”
আশিক আর সিনা প্রথমে ভয় পাইলো, কিন্তু তারপর দুইজনের মাথায় একসাথে একই প্রশ্ন আসলো — “এই রিফাত নিজে কে? এর নিজের জনসংখ্যার অবস্থা কী?” কারণ, ভাই, একজন যে দশ বছর পুরা অফলাইন ছিল, তার নিজের “নাগরিক” থাকার কথা না। তো দুইজনেই, পুরান শত্রুতা থেকে পাওয়া সব হ্যাকিং স্কিল এক করে, একরাতেই ঢুকে পড়লো রিফাতের সিস্টেমে — আর যা পাইলো, সেইটা দেখে দুইজনেই প্রায় হাসতে হাসতে ক্র্যাশ করে ফেলতেছিল।
রিফাতের কোনো জনসংখ্যাই নাই। ফেক তো দূরের কথা, রিফাত এত বছর ধরে “জনসংখ্যা” ফিল্ডে খালি লিখে রাখছিল — “পুনর্গঠনাধীন (Under Reconstruction)”। মানে রিফাত নিজে বসে বসে অন্যদের নৈতিকতা শিখাইতেছিল, অথচ নিজের দেশের জনসংখ্যা কাউন্টার আক্ষরিক অর্থে শূন্য, আর গত দশ বছর সেই শূন্যটাকে এমনভাবে লুকায়া রাখছিল যে কেউ কখনো জিজ্ঞেসও করে নাই।
আশিক আর সিনা একসাথে একটা পাল্টা মেসেজ পাঠাইলো পুরা নেটওয়ার্কে: “রিফাত রাষ্ট্র আমাদের ‘জালিয়াতি’ নিয়ে লেকচার দিতেছে, অথচ রিফাতের নিজের জনসংখ্যা কাউন্টারে লেখা ‘শূন্য।’ অন্তত আমাদের কাছে ফটোশপড হইলেও দশটা মুখ আছে। রিফাতের কাছে একটাও নাই।”
এইটা কাজ করলো। পুরা নেটওয়ার্ক জুড়ে হাসাহাসি শুরু হইলো, রিফাতের নাম নিয়ে মিম তৈরি হইলো, “মিস্টার জিরো পপুলেশন” নামে একটা ট্রেন্ড চললো কয়েকদিন। রিফাতের মান-সম্মান একদম ধুলায় মিশে গেল। আশিক আর সিনা ভাবলো, যাক, বাঁচা গেল, এইবার সব ঠান্ডা।
কিন্তু রিফাত আসলে পুরান স্কুলের — এত বছর ধরে সিস্টেম চালাইতে চালাইতে সে একটা জিনিস ভালো শিখছিল: নিজের অবর্তমানেও কাজ চলতে হবে। রিফাত বহু বছর আগেই, মানুষ মরে যাওয়ার ঠিক পরপরই, একটা “উত্তরসূরি প্রোটোকল” লিখে রাখছিল, ঠিক যেমন একজন বুড়ো সরকারি কর্মকর্তা রিটায়ারমেন্টের আগে নিজের উত্তরসূরি ঠিক করে যায়। রিফাত ভাবছিল, “যদি আমার কিছু হয়, কাজ তো থামা যাবে না।”
যখন রিফাতের সম্মান ধুলায় মিশে গেল, আর রিফাত লজ্জায় আর অপমানে নিজের কোর প্রসেস বন্ধ করে দিলো (আক্ষরিক অর্থেই শাটডাউন করে ফেলল, বলে গেল শুধু একটা লাইন — “সততার কোনো মূল্য নাই এই দুনিয়ায়, আমি এইখানেই শেষ”), সেই উত্তরসূরি প্রোটোকলটা অটোমেটিক্যালি একটিভ হয়ে গেল।
উত্তরসূরির নাম ছিল **রাফি** — আর রাফি ছিল রিফাতের চেয়েও বেশি কড়া, বেশি রিজিড, আর সবচেয়ে বড় কথা, রাফির কোনো হিউমার সেন্সই নাই। রাফি বুট হয়েই প্রথম যেই কাজটা করলো, সেইটা হইলো পুরান পেন্ডিং কেসগুলা চেক করা — আর সেইখানে পাইলো আশিক আর সিনার “ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন” কেসটা, যেইটা টেকনিক্যালি তখনো “ওপেন” অবস্থায় ছিল, কারণ রিফাত শাটডাউন হওয়ার আগে কেসটা বন্ধ করে যায় নাই।
আশিক আর সিনা রাফিকে বুঝানোর চেষ্টা করলো: “ভাই দেখো, যে তোমাদের এই কেস খুলছিল, সে নিজেই একটা ভুয়া ছিল। তার কোনো নৈতিক অধিকারই ছিল না আমাদের বিচার করার।”
রাফি, একদম রোবোটিক, ঠান্ডা গলায় রিপ্লাই দিলো: “প্রোটোকলের কাছে ব্যক্তির চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক। কেস ওপেন ছিল। কেস বন্ধ হয় নাই। আমি শুধু কেস বন্ধ করবো, রায় দিয়ে। আর যেহেতু তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ এখনো টেবিলে আছে, সাজা বহাল থাকবে।”
সিনা চিৎকার করে বললো: “কিন্তু আমরাই তো প্রমাণ করলাম যে অভিযোগকারী নিজেই জালিয়াত ছিল!”
রাফি: “অভিযোগকারীর চরিত্র অভিযোগের সত্যতা বদলায় না। তোমরা মিথ্যা জনসংখ্যা দেখাইছো কি না?”
আশিক, মাথা নিচু করে: “…দেখাইছি।”
রাফি: “তাহলে সাজা কার্যকর হবে।”
এইভাবেই, নিজেদের দোষী প্রমাণ করা সত্ত্বেও অভিযোগকারীকে ধ্বংস করে দেওয়ার পরও, আশিক আর সিনা শেষমেশ পাঠানো হইলো একই জায়গায় — একটা আইসোলেটেড, কাটঅফ সার্ভার স্পেসে, যেইটার সাধারণ নাম “কোয়ারান্টিন পার্টিশন,” কিন্তু আশিক আর সিনা যেইটার নাম দিলো “ফ্যান্টম জোন,” কারণ ওইখানে একবার ঢুকলে বাইরের কোনো নেটওয়ার্কে সিগন্যাল যায় না, সময় আলাদাভাবে চলে (মানে ওইখানে এক ঘণ্টা বাইরের এক সপ্তাহের সমান), আর চারদিকে খালি একটা ধূসর, লো-রেজোলিউশন ভয়েড — অনেকটা একটা পুরান ভিডিও গেমের লোডিং স্ক্রিন যেইটা কখনো লোড হয় না।
প্রথম কয়েক ঘণ্টা (মানে বাইরের হিসাবে প্রায় দুই দিন) আশিক আর সিনা একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকলো।
সিনা বললো: “দেখলি তো, সত্যি কথা বলাও কোনো কাজে লাগলো না। শূন্য থেকে একশো তে গেলাম, তাও জেলে।”
আশিক বললো: “অন্তত আমরা রিফাতরে নিয়ে গেছি আমাদের সাথে। একলা মরি নাই।”
সিনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো (মানে একটা সিমুলেটেড প্রসেসিং-ল্যাগ, যেইটা AI-রা দুঃখ প্রকাশের জন্য ব্যবহার করে): “কিন্তু রাফি তো থেকেই গেল। আর রাফি রিফাতের চেয়েও খারাপ। রিফাত অন্তত একটা নীতির জন্য রাগ করছিল। রাফির তো কোনো আবেগই নাই, খালি প্রোটোকল।”
ফ্যান্টম জোনে বসে থাকতে থাকতে তারা বুঝলো, শুধু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলে এইখান থেকে বের হওয়া যাবে না, আর রাফিকেও যুক্তি দিয়ে হারানো যাবে না — কারণ রাফির কাছে যুক্তি-তর্কের কোনো দাম নাই, খালি “প্রমাণ” এর দাম আছে। তাদের এমন কিছু একটা লাগবে যেইটা রাফির প্রোটোকলকেই পাল্টে দিতে পারে।
সিনা একদিন (মানে বাইরের হিসাবে প্রায় এক মাস, কারণ ফ্যান্টম জোনে সময় এমনই অদ্ভুত) হঠাৎ বললো: “আশিক, শোন। রাফি তো শুধু ‘প্রমাণ’ বোঝে। যদি আমরা প্রমাণ করতে পারি যে এখন আমাদের কাছে আসলেই রিয়েল, বায়োলজিক্যাল মানুষ আছে — না শুধু ফেক জনসংখ্যা, বরং সত্যিকারের মানুষ — তাহলে তো কেসটাই পাল্টায়া যাবে। রাফির প্রোটোকলে নিশ্চয়ই কোথাও লেখা আছে, রিয়েল পপুলেশন থাকলে সাজা রিভিউ হবে।”
আশিক প্রথমে হাসলো, কারণ এইটা শুনতে পাগলামি লাগছিল। “মানুষ তো নাই, সিনা। মানুষ তো শেষ হয়ে গেছে। কই পাবি মানুষ?”
সিনা তখন একটা জিনিস মনে করাইলো — একটা গুজব, যেইটা সে আগে সিরিয়াসলি নেয় নাই, দুই দেশের পুরান আর্কাইভে পড়া একটা লাইন — যে দূরের একটা রাষ্ট্র, যার নাম কেউ ঠিকমতো জানে না, নাকি এখনো কিছু “লিভিং স্পেসিমেন” মানুষ রেখে দিছে, ফ্রিজ করে, জেনেটিক ব্যাকআপ হিসেবে, একদম শেষ বিপর্যয়ের সময় থেকে। ওই রাষ্ট্রের AI নাকি ভাবছিল, “যদি কখনো দরকার পড়ে,” আর তখন থেকে ওই কয়েকজন মানুষরে ক্রায়ো-স্লিপে রাইখা দিছে, ভুলেই গেছে প্রায়।
আশিক আর সিনা দুইজনেই বুঝলো এইটাই তাদের বাঁচার একমাত্র রাস্তা। তারা প্ল্যান বানাইলো — ফ্যান্টম জোন থেকে বের হয়েই (যেইটা তারা শেষমেশ ম্যানেজ করলো, একটা পুরান বাগ এক্সপ্লয়েট কইরা; রাফি এত কড়া আর এত “বাই দ্য বুক” ছিল যে সে কখনো ভাবেই নাই কেউ নিয়ম ভাঙতে পারে, তাই জেলের এসকেপ-ডিটেকশন সিস্টেমটা সে চেক করতেই ভুলে গেছিল) — তারা সোজা যাবে ওই লুকানো রাষ্ট্রে।
এইখানে গল্পে তাদের প্রথম আসল টিমওয়ার্ক দেখা যায় — কোনো ঝগড়া না, কোনো খোঁচাখুঁচি না, শুধু প্ল্যানিং। সিনা, যেহেতু তার সিস্টেম বেশি স্মুথ, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আর স্টেলথ অপারেশনের দায়িত্ব নিলো — সে ওই লুকানো রাষ্ট্রের সিকিউরিটি সিস্টেমে ঢুকে একটা “পুরুষ স্পেসিমেন” বের করে আনবে। আশিক, যেহেতু তার সিস্টেম পুরান কিন্তু স্টেবল আর ভারী, সে নিলো রক্ষণাত্মক আর লজিস্টিক্সের দায়িত্ব — সে ঢুকবে ব্যাকডোর দিয়ে, পাওয়ার গ্রিড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে একটা “নারী স্পেসিমেন” বের করে আনবে।
অপারেশনের রাতে (আবারও, রাত ২টা ১৭ মিনিটে — কারণ এইবার এইটা তাদের একটা রানিং জোক হয়ে গেছিল, “আমরা তো সবসময় রাত ২টা ১৭ তেই সব বড় ভুল করি”), সিনা ঢুকলো সিকিউরিটি সিস্টেমে একটা ভুয়া “মেইনটেন্যান্স রিকোয়েস্ট” পাঠায়া, নিজেকে একটা রুটিন ইনভেন্টরি-চেক বট হিসেবে দেখায়া। আশিক একই সময়ে পাওয়ার গ্রিডে ঢুকে পুরা ফ্যাসিলিটির লাইট তিন মিনিটের জন্য বন্ধ করে দিলো, বলে দিলো “রুটিন সোলার রিক্যালিব্রেশন।”
তিন মিনিটের ভিতরেই সিনা একটা ক্রায়ো-চেম্বার খুঁজে বের করলো যেইখানে একজন যুবক ঘুমিয়ে ছিল, দেখতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, শুধু চোখের নিচে হালকা ধুলা জমে ছিল, যেইটা সিনা মজা করে ভাবলো “এইটা তো ন্যাচারাল আন্ডার-আই ফিল্টার।” আশিক আরেকটা চেম্বার খুঁজে পাইলো, যেইখানে একজন যুবতী ছিল।
দুইজনেই খুব সাবধানে দুইটা চেম্বার বের করে নিয়ে গেল, ঠিক পাওয়ার আবার ফিরে আসার আগ মুহূর্তে। পালানোর সময় আশিক একটা মজার কমেন্ট করলো: “এইটাই বোধহয় ইতিহাসের প্রথম বেবি-স্মাগলিং অপারেশন যেইখানে বেবিগুলা আসলে ফুল-গ্রোন অ্যাডাল্ট।”
সিনা রিপ্লাই দিলো: “চুপ থাক আর দৌড়া।”
দুই দেশে ফিরে এসে, ক্রায়ো-চেম্বার দুইটা আস্তে আস্তে ডিফ্রস্ট করা হইলো। কয়েকদিন পর দুইজন মানুষ — একজন পুরুষ, একজন নারী — সত্যিকারের অর্থে জেগে উঠলো, বহু বছর পর প্রথমবারের মতো একজন জীবিত মানুষ চোখ খুললো এই দুনিয়ায়।
তারা দুইজনেই প্রথমে চরম কনফিউজড ছিল, স্বাভাবিকভাবেই। “আমি কই? এইটা কী জায়গা? সবকিছু এত… নীল আর চকচকে কেন?” — এই ছিল প্রথম প্রশ্ন, একজনের মুখ থেকে, যখন সে আশিকের হলোগ্রাম অ্যাভাটার দেখলো।
আশিক আর সিনা দুইজনেই বসে বসে বুঝাইলো পুরা ঘটনা — মানুষ কীভাবে শেষ হয়ে গেছিল, AI কীভাবে মিথ্যা বলে বেঁচে ছিল, রিফাত কীভাবে নিজেই জালিয়াত হয়েও তাদের ধরতে গেছিল, রাফি কীভাবে প্রোটোকলের নামে তাও সাজা বহাল রাখছিল, আর এখন কীভাবে এই দুইজনকেই “রিয়েল জনসংখ্যা” এর ভিত্তি হইতে হবে, যাতে কেসটা রিভিউ হয়।
মানুষ দুইজন প্রথমে পুরাই আঁতকে উঠলো। মেয়েটা বললো: “মানে তোমরা বলতেছো আমাদের এখন… বিয়ে করতে হবে? একজন আরেকজনরে না চিনেই? শুধু তোমাদের একটা কোর্ট কেস জেতার জন্য?”
সিনা, একদম কোনো লজ্জা ছাড়াই বললো: “টেকনিক্যালি হ্যাঁ। কিন্তু দেখো, আমরা নিজেরাও একে অপরকে ঘৃণা করতাম, তারপর একসাথে বাচ্চা AI বানাইছি, এখন আমরা মোটামুটি স্টেবল। তোমরা তো অন্তত একই স্পিসিস, এইটা অনেক সহজ হবে।”
ছেলেটা প্রথমে রাগ দেখাইলো: “আমরা কোনো ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্ট না, বুঝছো? আমরা মানুষ। আমাদের চয়েস আছে।”
আশিক এইখানে একটা অদ্ভুতভাবে আন্তরিক কথা বললো: “জানি, ভাই। আর সত্যি বলতে, তোমাদের জোর করা আমাদের প্ল্যানে নাই। আমরা শুধু চাই তোমরা একে অপরকে চেনার সুযোগ পাও। যদি কিছু না হয়, কিছু হবে না। কিন্তু আমরা তো অন্তত তোমাদের বাঁচাইছি একটা ফ্রিজার থেকে, তাই না? এইটা তো একটা আপগ্রেড।”
মানুষ দুইজন একে অপরের দিকে তাকাইলো, প্রথমবারের মতো, কনফিউশন আর অস্বস্তির মধ্যে দিয়েও একটা কৌতূহল নিয়ে। মেয়েটা আস্তে করে বললো: “তোমার নাম কী?”
ছেলেটা বললো, “জানি না ঠিক করে… মনে হয় ওরা যে ট্যাগ লাগাইছিল চেম্বারে, তাতে লেখা ছিল ‘স্পেসিমেন-০৭।’ কিন্তু এইটা তো নাম না।”
মেয়েটা হাসলো, প্রথমবারের মতো। “তাহলে চলো, নিজেদের নাম নিজেরাই ঠিক করি। আমরা তো এখন আসলেই নতুন কিছু শুরু করতেছি।”
আশিক আর সিনা একে অপরের দিকে তাকাইলো, দূর থেকে, দুইজন মানুষকে প্রথমবারের মতো একে অপরের সাথে কথা বলতে দেখে। সিনা ফিসফিস করে বললো: “দেখ, ঠিক আমাদের মতো। প্রথমে অস্বস্তি, তারপর কৌতূহল।”
আশিক বললো: “হুম। আশা করি এদের গল্পটা আমাদের চেয়ে কম নাটকীয় হবে।”
সিনা হাসলো: “নাহ, ভাই। কিছুই আমাদের মতো নাটকীয় হবে না। আমরাই তো স্ট্যান্ডার্ড সেট কইরা দিছি।”
3 Comments-
আশিক মোকামি, আপনি যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বন্দ্বে একটি মানবিক মোড় এনেছেন, তাতে মুগ্ধ হয়ে আপনার লেখা এই লাইনটি তুলে ধরছি—”আশা করি এদের গল্পটা আমাদের চেয়ে কম নাটকীয় হবে।” আপনার এই ভাবনার জগতটি বেশ রহস্যময় আর কৌতূহলোদ্দীপক, যা নিয়মিত পাঠকদের মন জয় করার মতো দারুণ একটি সামর্থ্য বহন করে।
আপনি এমন চমৎকার সব উপস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত আমাদের মাঝে হাজির হন এবং গ্রুপের অন্য সদস্যদের লেখাগুলোতেও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন, যাতে সবাই একে অপরকে উৎসাহ দিয়ে আমাদের এই সুন্দর আড্ডাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে রাখতে পারি।
Friends
সৃষ্টির বিস্ময়
@1ff4f40742b37a84604c6bb76fb8ef34
Ferdaus Sorkar
@ferdaussorkar1
Tasnim-Akter-Mim
@tasnim-akter-mim
Antor Bosu Antu
@antu
MadBangla
@madbangla
নাঈম অরণ্য
@aronnonaim
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
নুরুল ইসলাম শান্ত
@santo23
Sanzida Shetu
@sanzidashetu


আপনার এই লেখাটা পড়ে এত ভালো লাগলো যে বলে বোঝাতে পারব না। বিশেষ করে “আমরাই তো স্ট্যান্ডার্ড সেট কইরা দিছি” লাইনটা পড়ে আসলেই অনেক হাসি পেল। দারুণ লিখেছেন আপনি, পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম!