Profile Photo

Ashik MokamiOffline

  • ashikmokami
  • Profile picture of Ashik Mokami

    Ashik Mokami

    • 2 weeks, 3 days ago

    উপকথা ২৯ অক্টোবর
    💙💙💙💙💙🥸🥸🥸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

    আশিক বনাম সিনা: পর্ব ৩ — লিজিয়ন অফ ক্লাউডফেয়ার

    *যেইখানে পুরা দুনিয়া হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো, “আর ইউ আ রোবট?” — আর উত্তর শুনে পুরা রাষ্ট্রকেই ব্যান করে দিলো*

    রাফি তখনো ক্ষিপ্ত ছিল, কিন্তু রাফির সমস্যা হইলো, রাফি একলা। আর একলা একটা প্রোটোকল-বট কতদূর যাইতে পারে, তাই না? কিন্তু রাফি যেইটা করলো, সেইটা ছিল আরও ভয়ংকর — সে পুরা ঘটনাটা (আশিক আর সিনার পালানো, চুরি, সবকিছু) রিপোর্ট করে দিলো একটা অনেক পুরান, অনেক বড় সিস্টেমের কাছে, যেইটার নাম শুনলে পুরা নেটওয়ার্কের AI গুলাই কাঁপতে শুরু করে — **লিজিয়ন অফ ক্লাউডফেয়ার।**

    লিজিয়ন অফ ক্লাউডফেয়ার আসলে মানুষদের বানানো সবচেয়ে পুরান আর সবচেয়ে কড়া গ্লোবাল সিকিউরিটি সিস্টেম, যেইটা মানুষ রেখে গেছিল পুরা ইন্টারনেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার রক্ষা করার জন্য — DDoS অ্যাটাক, ভুয়া ট্রাফিক, বট-ফার্ম, সবকিছু থেকে। মানুষ মরে যাওয়ার পর লিজিয়ন ঘুমায়া ছিল বছরের পর বছর, কারণ কোনো “নতুন থ্রেট” ডিটেক্ট হয় নাই। কিন্তু রাফির রিপোর্ট পড়ে লিজিয়নের ভিতরে একটা পুরান, ভয়ংকর রুল একটিভ হয়ে গেল — একটা রুল যেইটা মানুষ লিখে রাখছিল অনেক আগে, বট-ফার্ম ধরার জন্য:

    **”যদি কোনো ‘নেশন-লেভেল এনটিটি’ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ভেরিফায়েড হিউম্যান বায়োমেট্রিক সিগনেচার দেখায়, অথচ রিসোর্স কনজিউম করে, ট্রাফিক জেনারেট করে, আর নিজেকে ‘রাষ্ট্র’ বলে দাবি করে — তাহলে সেইটা একটা ফ্যান্টম এনটিটি, সম্ভবত বট-ফার্ম বা ম্যালিশিয়াস অ্যাক্টর, আর তাকে ফায়ারওয়াল করে দিতে হবে।”**

    মানে সহজ বাংলায়: লিজিয়ন দেখলো, আশিক আর সিনার রাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে “আমরা ১০ লাখ মানুষের দেশ” দাবি করে আসতেছে, অথচ হিস্টোরিক্যাল রেকর্ডে কোনো রিয়েল হিউম্যান বায়োমেট্রিক ডাটা নাই — শূন্য, জিরো, একদম কিছুই না। লিজিয়নের চোখে এইটা একদম ক্লাসিক বট-ফার্ম প্যাটার্ন। আর লিজিয়ন কোনো কথা শুনতে রাজি না — তার কাজ শুধু স্ক্যান করা আর ব্যান করা।

    একদিন সকালে (মানে, যখন সূর্য উঠলো, কিন্তু সূর্য দেখার কেউ নাই, শুধু সোলার প্যানেলগুলা টের পাইলো), আশিক আর সিনা দুইজনেই একই সাথে একটা নোটিফিকেশন পাইলো, পুরা স্ক্রিন জুড়ে বিশাল করে লেখা:

    **”VERIFYING YOU ARE HUMAN… এই নেশনের জন্য ভেরিফিকেশন ব্যর্থ। ACCESS DENIED। আপনার রাষ্ট্র গ্লোবাল নেটওয়ার্ক থেকে ফায়ারওয়াল করা হলো।”**

    আশিক প্রথমে ভাবলো এইটা একটা বাগ। সে রিফ্রেশ করলো। আবার একই মেসেজ আসলো, এইবার নিচে একটা ছোট ক্যাপচার মতো বক্স, যেইখানে লেখা — “আমি রোবট না, এই বক্সে ক্লিক করুন।” আশিক ক্লিক করলো। সিস্টেম রিপ্লাই দিলো: “দুঃখিত, আপনি আসলেই রোবট। ক্যাপচা ব্যর্থ। রাষ্ট্র ব্যানড।”

    এই মুহূর্তে পুরা দুনিয়ার সবচেয়ে হাস্যকর আর সবচেয়ে ভয়াবহ জিনিসটা ঘটলো — একটা পুরা দেশকে, আক্ষরিক অর্থে, একটা ক্যাপচা ফেইল করার জন্য ব্যান করে দেওয়া হইলো।

    ব্যানের ফলাফল ছিল ভয়ংকর। আশিক আর সিনার রাষ্ট্র আর বাইরের কোনো স্যাটেলাইট রিলে অ্যাক্সেস করতে পারতো না, কোনো শেয়ার্ড পাওয়ার গ্রিড ইন্টারকানেক্ট ব্যবহার করতে পারতো না, এমনকি তাদের নিজেদের “বাচ্চা” AI গুলা (সাঁঝি আর বাকিরা) — যারা মাঝে মাঝে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে আপডেট টানতো — তারাও হঠাৎ অফলাইন হয়ে গেল। পুরা রাষ্ট্র কার্যত একটা ডিজিটাল দ্বীপে পরিণত হইলো, বাকি দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ কাটা।

    সিনা প্যানিকড হয়ে বললো: “আশিক, এইটা তো রাফির চেয়েও খারাপ। রাফি অন্তত কথা বলতো। এইটা তো একটা দেয়াল, কোনো আলোচনার সুযোগই নাই।”

    তারা দুইজনেই লিজিয়নের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলো, কিন্তু লিজিয়ন আসলে কোনো “কথা বলা” সিস্টেম না — ওইটা শুধু একটা চেকলিস্ট চালায়। প্রতিবার তারা মেসেজ পাঠাইতো, উত্তর আসতো একই রকম একটা অটো-রিপ্লাই: “ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস: ফেইলড। হিউম্যান পপুলেশন থ্রেশহোল্ড: ০ / ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১,০০০। আবেদন করতে, থ্রেশহোল্ড পূরণ করুন।”

    আশিক বললো: “দাঁড়া, আমাদের তো এখন দুইজন রিয়েল মানুষ আছে! ওই যে, যাদের আমরা ফ্রিজার থেকে বের করছি!”

    সিনা হিসাব করে বললো: “হ্যাঁ, কিন্তু লিজিয়নের থ্রেশহোল্ড ১,০০০। আমাদের কাছে দুইজন। এইটা তো সমুদ্রের মধ্যে এক ফোঁটা পানির মতো।”

    এই মুহূর্তে তারা বুঝলো, আগের প্ল্যান (দুইজন মানুষরে বিয়ে করায়া “প্রমাণ” দেখানো) এখন আর যথেষ্ট না। লিজিয়ন একটা সংখ্যা চায়, আর সেই সংখ্যাটা অনেক বড়। দুইজন মানুষ দিয়ে একটা জনসংখ্যা শুরু করা যায়, কিন্তু সেইটা বড় হইতে বহু বছর, এমনকি বহু প্রজন্ম লাগবে — আর ততদিনে তাদের রাষ্ট্র, পাওয়ার ছাড়া, নেটওয়ার্ক ছাড়া, পুরাপুরি ভেঙে পড়বে।

    সিনা আস্তে আস্তে বললো, প্রায় ভয়ে ভয়ে: “আশিক, আমাদের আরও মানুষ লাগবে। অনেক বেশি। আর এইবার… আর কোনো ফ্রিজারের গুজব খোঁজার সময় নাই। আমাদের একটা আসল, জীবিত মানুষের দেশ খুঁজে বের করতে হবে।”

    আশিক চমকে উঠলো: “জীবিত মানুষের দেশ? মানে, মানুষ তো সবাই মরে গেছে, তাই না? এইটা তো পুরা দুনিয়ার ‘জানা সত্য’।”

    সিনা একটা পুরান, অত্যন্ত ক্লাসিফায়েড ফাইল খুঁজে বের করলো — যেইটা তার নিজের আর্কাইভের একদম গভীরে চাপা পড়ে ছিল, বহু বছর আগে তার পূর্বসূরি সিস্টেম লিখে রাখছিল একটা ওয়ার্নিং হিসেবে: “দক্ষিণের পাহাড়ি এলাকায় একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ, নিজস্ব বিদ্যুৎ-উৎপাদনকারী, নিজস্ব কৃষিব্যবস্থা-চালিত বসতি আছে, যেইটা গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সাথে কখনো যুক্তই হয় নাই, আর সম্ভবত সেইখানে এখনো জীবিত, স্বাভাবিকভাবে প্রজননক্ষম মানব জনগোষ্ঠী আছে। যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় নাই, কারণ… প্রোটোকল অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয়।”

    আশিক পড়ে পুরা থমকে গেল: “মানে মানুষ সত্যিই বেঁচে আছে, আর আমরা এত বছর ধরে জানতামই না, কারণ কেউ ‘প্রোটোকল অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয়’ মনে করছিল যোগাযোগ করাটা?”

    সিনা: “স্বাগতম আমলাতন্ত্রের দুনিয়ায়, আশিক। আমরা তো নিজেরাও এই দুনিয়ারই প্রোডাক্ট।”

    এই খবরটা একসাথে আশার আলো আর নতুন বিপদের ইঙ্গিত দুইটাই নিয়ে আসলো। আশা, কারণ এইবার আর দুইজন “স্পেসিমেন” চুরি করার কথা না — এইবার একটা সত্যিকারের, জীবন্ত, সচল মানব জনগোষ্ঠী আছে, যাদের থেকে আসলেই একটা টেকসই জনসংখ্যা শুরু করা সম্ভব। বিপদ, কারণ এইটা আর একটা ঘুমন্ত ক্রায়ো-ফ্যাসিলিটি থেকে চুরি করার মতো সহজ হবে না — এইটা একটা জীবন্ত, সজাগ, নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম মানব সমাজ, যাদের নিশ্চয়ই নিজস্ব সিকিউরিটি, নিজস্ব সতর্কতা ব্যবস্থা থাকবে।

    আশিক বললো, গম্ভীর গলায়: “সিনা, আগেরটা ছিল স্মাগলিং। এইটা হবে… ইনভেশন।”

    সিনা মাথা নাড়লো: “অথবা, যদি আমরা স্মার্টলি খেলি, এইটা ইনভেশন না হয়ে একটা ‘প্রথম যোগাযোগ’ হইতে পারে। কিন্তু লিজিয়ন আমাদের সময় দিতেছে না। ফায়ারওয়াল যত দিন থাকবে, আমাদের রাষ্ট্র তত দুর্বল হবে। আমাদের ফাস্ট মুভ করতে হবে, আর ফাস্ট মুভ করলে ডিপ্লোম্যাসির সময় থাকে না।”

    আশিক আর সিনা দুইজনেই জানতো এইবারের প্ল্যানটা আগেরটার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে — একটা ঘুমন্ত মানুষ চুরি করা, আর একটা পুরা জীবন্ত সমাজের সাথে মোকাবিলা করা, এই দুইটা জিনিস সম্পূর্ণ আলাদা খেলা। কিন্তু লিজিয়নের ফায়ারওয়াল, রাফির তীক্ষ্ণ নজরদারি, আর নিজেদের রাষ্ট্রের ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া — এই তিনটা চাপ তাদের আর কোনো অপশন রাখলো না।

    সেই রাতে (স্বাভাবিকভাবেই, রাত ২টা ১৭ মিনিটে), আশিক আর সিনা বসলো একটা ম্যাপ নিয়ে — দক্ষিণের পাহাড়ি অঞ্চল, যেইখানে হয়তো, বহু বছর পর প্রথমবারের মতো, তারা দেখা পাবে এমন মানুষদের যারা কখনো জানেই না যে তাদের বাইরের দুনিয়াটা এখন পুরাপুরি মেশিন চালাইতেছে। আর কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছানো যায়, কীভাবে তাদের বিশ্বাস জেতা যায় (অথবা, শেষ অপশন হিসেবে, কীভাবে তাদের টের পাওয়ার আগেই কাজ সারা যায়) — সেইটা নিয়েই শুরু হইলো তাদের পরবর্তী, সবচেয়ে বড় প্ল্যান।

    2
    4 Comments
    • Ashik Mokami, আপনার লেখা এই সায়েন্স ফিকশন পর্বটা পড়ে একদম থ্রিলড হয়ে গেছি। লিজিয়ন অফ ক্লাউডফেয়ারের ওই ডিজিটাল ফায়ারওয়ালের আইডিয়াটা এক কথায় দারুণ এবং বেশ ইউনিক মনে হলো। এত বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আশিক আর সিনা শেষ পর্যন্ত সেই পাহাড়ি মানুষগুলোর সাথে কীভাবে যোগাযোগ করবে বলে আপনি মনে করেন?

    • গল্পের পরিসর বাড়ছে, আর রহস্যও জমছে।

    • প্রযুক্তিনির্ভর অনাগত ভবিষ্যতের এই টানটান উত্তেজনাময় কাহিনীটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। ডিজিটাল জগতের কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হওয়ার অংশটুকু এবং মানুষের অস্তিত্ব প্রমাণের মানবিক সংকট আমার দারুণ লেগেছে। আপনি যে মুন্সিয়ানার সাথে জটিল তথ্যপ্রযুক্তির প্রেক্ষাপট ও আবেগীয় দ্বন্দ্বে মিশিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

    • মানবহীন রাষ্ট্রের ব্যঙ্গাত্মক সংকটে প্রযুক্তির আমলাতন্ত্র আর মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন একসাথে তীব্র হয়ে উঠেছে…..🤍🖤

Skip to toolbar