Profile Photo

Ashik MokamiOffline

  • ashikmokami
  • Profile picture of Ashik Mokami

    Ashik Mokami

    • 2 weeks, 4 days ago

    উপকথা ৩০ অক্টোবর

    😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅😅

    কাপড়ের হিসাব

    একটি অন্ধকার হাসির গল্প

    সকাল ৬টা ১৭ মিনিটে আশিকের লুঙ্গিটা ফিসফিস করে বলল, “দুঃখিত ভাই, আমি আর পারছি না।”

    আশিক তখনও আধা ঘুমে। ভাবল মশারির ভেতরে মশা ঢুকেছে, তারই গুনগুন শুনছে। কিন্তু কোমরের কাছটা হঠাৎ ঢিলে হয়ে এল। গিঁটটা নিজে নিজেই খুলে যাচ্ছে, যেন কেউ খুব ভদ্রভাবে, খুব অনিচ্ছায়, একটা পুরোনো সম্পর্ক শেষ করছে। আশিক লাফিয়ে উঠে দুহাতে লুঙ্গির দুই প্রান্ত চেপে ধরল। লুঙ্গিটা একটু টানাটানি করল, তারপর দীর্ঘশ্বাসের মতো একটা খসখস শব্দ করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। দরজার নিচের ফাঁক গলে সাপের মতো বেরিয়ে গেল।

    গেঞ্জিটা আগেই বিদায় নিয়েছিল। আর অন্তর্বাসটা গেল কোনো কথা না বলে, কারণ ওটা সারা জীবনই লাজুক ছিল।

    আশিক বিছানার চাদর টেনে নিল। চাদরটা সঙ্গে সঙ্গে ভাঁজ খুলে জানালার দিকে ছুটল। বালিশের কভার গেল তার পিছু পিছু, একটু ইতস্তত করে, যেন বলতে চাইছিল, “আমারও যেতে হবে, কিছু মনে কোরো না।”

    আশিক একা বসে রইল ন্যাড়া তোশকের ওপর, আর তখন বুঝল, তোশকের কভারটাও চলে গেছে। তোশকটা এখন নগ্ন, আর সেই নগ্ন তোশকের ওপর নগ্ন আশিক।

    আশিক কার্টন পরে বাইরে বেরোল। প্রথম পাঁচ মিনিটে সে বুঝে গেল, পুরো পৃথিবী তারই মতো কিছু না কিছু একটা পরে দাঁড়িয়ে আছে, আর কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছে না, অথচ না তাকিয়ে থাকাও যাচ্ছে না।

    গলির মোড়ে হোসেন চাচার মুদির দোকান। চাচা কাউন্টারের পেছনে বসে আছেন, কোমরের ওপরটুকু দেখা যায়, বাকিটা আড়ালে। কিন্তু তাঁর হাতের নাগালে কাপড় বলতে কিছু নেই বলে তিনি বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে কাছের জিনিস: একটা বড় চালের বস্তা, তবে সে বস্তাও পাট না, প্লাস্টিক। এত বছর ধরে হোসেন চাচা যে পাটের বস্তাগুলোর ওপর ঠেস দিয়ে বসতেন, সেগুলো এখন সারি বেঁধে হেঁটে চলে গেছে, এক চিলতে চাল না ফেলে। সেই ভদ্রতাটুকু আশিকের কাছে অদ্ভুত লাগল।

    আরও একটু এগোতেই কাউন্সিলর সাহেবকে দেখা গেল। গতকালও যিনি পাঞ্জাবির কলার তুলে, বুক চিতিয়ে, দুই পাশে দুজন চামচা নিয়ে হাঁটতেন, আজ তিনি একটা খালি তেলের ড্রাম মাথা দিয়ে গলিয়ে হাঁটছেন। ড্রামের গায়ে লেখা: বিশুদ্ধ সরিষার তেল। দুই চামচা তাঁর দুই পাশে হাঁটছে, দুজনেরই পরনে একটা করে টিনের বালতি, এবং তিনজনই এমন গম্ভীর মুখ করে আছে, যেন একটা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যাচ্ছে।

    কাউন্সিলর সাহেব আশিককে দেখে ড্রামের ভেতর থেকে গম্ভীর গলায় বললেন, “আশিক, তোমার বাবা কেমন আছেন?”

    “ভালো, চাচা।”

    “ভালো। ভালো। এসব নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই, বুঝলে? এটা সাময়িক বিষয়।”

    আশিক মাথা নাড়ল। কাউন্সিলর সাহেব এগিয়ে গেলেন, আর আশিকের হঠাৎ মনে হলো, ড্রামের ভেতরে ঢোকা মাথাটা কী সুন্দর মানিয়ে গেছে। ওটাই তাঁর আসল পোশাক ছিল।

    রাস্তার ওপারে এক বৃদ্ধ চাচা খবরের কাগজ জড়িয়ে হাঁটছিলেন। কাগজটা দুই-তিন মিনিট সহ্য করল, তারপর হঠাৎ তার নিজের হেডলাইন জোরে জোরে পড়তে পড়তে চাচাকে ছেড়ে উড়ে গেল: “জনগণের কাছে স্বচ্ছতার আশ্বাস! জনগণের কাছে স্বচ্ছতার আশ্বাস!”

    পুরো গলি চুপ হয়ে গেল। কয়েকজন মাটির দিকে তাকাল। একজন কেশে গলা পরিষ্কার করল। কাউন্সিলর সাহেবের ড্রামটা একটু কেঁপে উঠল।

    গলির শেষ মাথায় পুলিশের এক হাবিলদার দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুরো এলাকায় তিনিই একমাত্র লোক, যাঁর পোশাক সবার শেষে বিদ্রোহ করেছে। উর্দি তাঁকে ছাড়তে চাইছিল না। সে ঝুলে ছিল, শক্ত হয়ে আঁকড়ে ছিল, যেন বলছে, “আমি ডিউটিতে আছি।” কিন্তু একসময় সেও হার মানল। হাবিলদার সাহেব চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর উর্দিটা ধীরে ধীরে তাঁর শরীর থেকে নেমে এল, তারপর পুরো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটা সামরিক সালাম দিল। তারপর মার্চ করে চলে গেল, বুটজোড়া পেছনে পেছনে ঠকঠক করে।

    হাবিলদার সাহেব চোখ খুলে দেখলেন, একটা বাচ্চা ছেলে তাকে দেখছে।

    “আঙ্কেল, আপনি কি এখন পুলিশ না?”

    হাবিলদার সাহেবের গলায় কথা আটকে গেল। “আমি… আমি এখনও… আমি ডিউটিতে আছি, বাবা।”

    “কিন্তু আপনাকে তো এখন সবার মতোই দেখাচ্ছে।”

    কথাটা সত্যি ছিল, আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। উর্দি ছাড়া হাবিলদার সাহেব একজন সাধারণ, একটু ভুঁড়িওয়ালা, একটু ক্লান্ত মানুষ ছাড়া কিছু ছিলেন না।

    পাশের বাড়িতে সেদিনই বিয়ে ছিল। বর বসে আছে মঞ্চে, তার পাশে কনে। আশিক দূর থেকে দেখল, বেচারা বর শেরওয়ানি ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। শেরওয়ানি একটু টানাটানি করল, তারপর ভদ্রভাবে তার নিজের জামার কলার সোজা করে নিয়ে চলে গেল। কনের শাড়ি, যেটা তৈরি করতে ছয় মাস আর তিন লাখ টাকা লেগেছিল, সে কোনো শব্দই করল না। সে কেবল একবার ঝলমল করে উঠল, যেন বলছিল, “আমি তো এতদিন তোমাদের সম্মান রেখেছি।” তারপর সে-ও চলে গেল।

    মঞ্চে এখন দুটো মানুষ। দুই পরিবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, আর কেউ কিছু বলছে না। কনের মা, যিনি দুই মাস ধরে এই বিয়ের প্রতিটি মুহূর্ত নিখুঁত করতে চেয়েছিলেন, নিঃশব্দে একটা ফুলের তোড়া তুলে নিয়ে বরের দিকে ছুড়ে দিলেন। ফুলগুলো বরের মুখে লাগল, আর সেটাই ছিল সেদিনের শেষ সামাজিক আচরণ।

    আশিক বুঝতে পারল, কাপড় আসলে শুধু শরীর ঢাকত না। কাপড় ঢাকত সম্পর্কের পুরো অভিনয়কে।

    সিনা এল দুপুরের একটু আগে, একটা বড় বাঁশের ঝুড়ি মাথা থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঝুলিয়ে। ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে তার চোখ দুটো দেখা যাচ্ছিল, সজাগ, তীক্ষ্ণ, আর কিছুটা মজা পাওয়া।

    আশিক আর সিনা ছোটবেলা থেকে বন্ধু। দুজনে একই স্কুলে, একই বেঞ্চে। সিনা আশিকের সব গোপন কথা জানে, আশিক জানে সিনার। দুজনের মাঝে কোনো আড়াল ছিল না কোনোদিন। আজ প্রথমবার সেই বন্ধুত্বের মাঝখানে একটা কার্টন আর একটা ঝুড়ি দাঁড়িয়ে।

    “তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে ফ্রিজ বিক্রি করতে এসেছ,” সিনা বলল।

    “তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে মাছ বিক্রি করতে এসেছ।”

    “মাছ হলে অন্তত দাম থাকত।”

    দুজনে হেসে ফেলল, আর সেই হাসি থামল একসঙ্গে। হাসির পেছনে ভয়টা এত স্পষ্ট ছিল যে দুজনেই সেটা টের পেল।

    “আশিক,” সিনা গলা নামিয়ে বলল, “আমি সকাল থেকে একটা জিনিস লক্ষ করছি। যে কাপড়গুলো গেছে, ওরা কিন্তু এলোমেলোভাবে যায়নি।”

    “মানে?”

    “সবাই একই দিকে যাচ্ছে। আমি আমার ওড়নার পেছন পেছন গিয়েছিলাম। মোড়ের পর মোড়, গলির পর গলি, ও কোথাও থামেনি, কোথাও ভুল করেনি। ও জানত কোথায় যাচ্ছে।”

    আশিকের গা শিরশির করে উঠল। “কোথায়?”

    “পুরোনো স্টেডিয়ামে।”

    “স্টেডিয়ামে? কেন?”

    সিনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ঝুড়ির ফাঁকে তার চোখ দূরের কিছু একটা দেখছিল, যা আশিক দেখতে পাচ্ছিল না।

    “আমি গেটের বাইরে থেকে উঁকি দিয়েছিলাম,” সে ধীরে ধীরে বলল। “ভেতরে ওরা সারি বেঁধে বসে আছে, আশিক। লাখ লাখ, গ্যালারির প্রতিটা সিটে। শার্ট, শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, স্কুলের ইউনিফর্ম। সবাই চুপ। কেউ কিছু করছে না। সবাই শুধু বসে আছে, আর মাঠের মাঝখানে একটা ফাঁকা জায়গার দিকে তাকিয়ে আছে।”

    “কাপড়ের তো চোখ নেই, সিনা।”

    “আমি জানি।” সিনা তার ঝুড়ির কিনারা আরও শক্ত করে ধরল। “কিন্তু আমি কসম খেয়ে বলছি, আমি টের পেয়েছি। ওরা তাকিয়ে ছিল। আর যখন আমি গেটের কাছে দাঁড়ালাম, ওরা সবাই একসঙ্গে একটু ঘুরে আমার দিকে তাকাল।”

    আশিক ঢোক গিলল। কার্টনের ভেতরে হঠাৎ করে বড্ড গরম লাগল।

    “ওরা কেন জড়ো হয়েছে, সিনা?”

    সিনা ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে সোজা আশিকের চোখের দিকে তাকাল।

    “আমার মনে হয়, ওরা কিছু একটা বলার জন্য অপেক্ষা করছে।”

    সিদ্ধান্ত হলো, দুজনে একসঙ্গে যাবে। আশিক কার্টনের ভেতরে, সিনা বাঁশের ঝুড়ির ভেতরে। দুজন হাঁটছে পাশাপাশি, দূর থেকে দেখলে মনে হবে দুটো অদ্ভুত প্রাণী কোনো সরকারি পরিদর্শনে যাচ্ছে।

    রাস্তায় একা নয় তারা। পুরো শহর যেন একই টানে চলেছে স্টেডিয়ামের দিকে। কেউ মাথায় বালতি, কেউ গায়ে বিস্কুটের টিন, এক বুড়ি আপা গলায় ল্যাম্পশেড পরে চলেছেন, আর এক তরুণ ক্রিকেটের প্যাড বেঁধে গম্ভীর মুখে হাঁটছে, যেন যুদ্ধে যাচ্ছে। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। শুধু কার্টন, বালতি আর টিনের খটাখট শব্দ, আর মাঝে মাঝে কারও ফিসফিস, “আমার তো এমন কিছু করার কথা না…”

    স্টেডিয়ামের গেটে পৌঁছে আশিক থমকে গেল। গেটের দুই পাশে বিশাল দুটো পর্দা ঝুলছে, অনুষ্ঠানের মঞ্চে যেমন থাকে। আগে এখানে কোনো পর্দা ছিল না। পর্দা দুটো বাতাস ছাড়াই দুলছিল, আস্তে, সুতোয় সুতোয়, যেন গভীর শ্বাস নিচ্ছে।

    ভেতরে ঢুকল তারা, আর ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে পর্দা দুটো ধীরে এসে জোড়া লেগে গেল। কেউ ছুটে গিয়ে ঠেলল। পর্দা নড়ল না। ওটা কাপড় ছিল, কিন্তু কাপড়ের মতো আচরণ করল না। দেয়ালের মতো ঠাণ্ডা, দেয়ালের মতো ভারী।

    আর তারপর আশিক গ্যালারির দিকে তাকাল।

    সিনা ঠিক বলেছিল। লাখ লাখ কাপড় সারি বেঁধে বসে আছে। প্রতিটা সিটে একটা করে। শার্টগুলো পিঠ সোজা করে, কলার উঁচু করে। শাড়িগুলো ভাঁজ করা হাঁটুর ওপর আঁচল রেখে। জিনসগুলো পা ছড়িয়ে নয়, জোড়া করে, বিনীত ছাত্রের মতো। স্কুলের ইউনিফর্মগুলো সামনের সারিতে, ছোট ছোট, নামের ট্যাগসহ। সবার গায়ে ন্যাপথলিনের গন্ধ, আর তার নিচে পুরোনো ঘামের গন্ধ, যা কোনো সাবান কখনো পুরোপুরি ধুয়ে ফেলতে পারেনি।

    সবাই এক দিকে মুখ করা। মাঠের মাঝখানে।

    মাঠের মাঝখানে একটা উঁচু মঞ্চ, তৈরি হয়েছে ভাঁজ করা জিনসের স্তূপ দিয়ে। তার ওপর একটা বিশাল খাতা, সুতোয় বাঁধা। আর খাতার পাশে বসে আছে একটা গামছা, এত পুরোনো যে রঙ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই, তালি আর তালির ওপর তালি। গামছাটা বসেছে সবার মধ্যমণি হয়ে, অথচ কেউ তার দিকে সরাসরি তাকাচ্ছে না, যেমন কোনো পরিবারে সবচেয়ে বুড়ো সদস্যের দিকে কেউ সরাসরি তাকায় না।

    “ওটা কে?” আশিক ফিসফিস করল।

    “জানি না,” সিনা বলল। “কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর ওটাই। যে সবচেয়ে কম কথা বলে, সেই সবচেয়ে বেশি জানে।”

    মানুষ এসে জমা হলো মাঠের চারপাশে, দেয়াল ঘেঁষে, কার্টন আর বালতি আর টিনের বাক্সের ভেতর গুটিয়ে। কেউ কাঁদল, কেউ কথা বলতে চাইল। এক মোটা ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠলেন, “এটা কী হচ্ছে! এটা আদালত নাকি? আমরা উকিল ডাকব!”

    আর তখন গামছাটা প্রথমবার নড়ল।

    সমস্ত গ্যালারি একসঙ্গে ঘুরে ভদ্রলোকের দিকে তাকাল। লাখ লাখ কাপড়ের একসঙ্গে ঘোরার শব্দ হলো, হাজার হাজার পাতা উল্টানোর মতো। ভদ্রলোকের মুখ থেকে কথাটা গলার ভেতরে নেমে গেল।

    গামছার ভেতর থেকে কণ্ঠ এল, মুখ নেই, কিন্তু কণ্ঠ আছে। অনেক কাপড় একসঙ্গে ঘষা খেলে যে শুকনো, খসখসে, ভাঙা স্বর হয়, সেটা:

    “আমরা আদালত নই। আদালতের রায় থাকে। আমরা শুধু হিসাব রাখি।”

    মোটা ভদ্রলোক বসে পড়লেন বালতির ওপর।

    “আমরা তোমাদের কোনো ক্ষতি করব না। এটা আমাদের নিয়ম। আমরা তোমাদের স্পর্শ করব না, আঘাত করব না, তোমাদের কিছু কেড়ে নেব না, শুধু যেটুকু আমরা নিজেরাই দিয়েছিলাম, সেটুকু ছাড়া। আজ শুধু পড়া হবে। প্রত্যেকটা কাপড় তার নিজের মালিকের হিসাব পড়বে। যতটুকু সে দেখেছে, যতটুকু সে শুনেছে, যতটুকু সে বহন করেছে।”

    গামছা খাতাটার সুতো আস্তে করে খুলল।

    “আর এই হিসাব পড়া শেষে, যার হিসাব সবচেয়ে হালকা হবে, আমরা তার গায়ে প্রথম কাপড়টা ফিরিয়ে দেব।”

    স্টেডিয়ামে নিঃশ্বাস থেমে গেল। গ্যালারির এক কোণ থেকে কে যেন ফিসফিস করে বলল, “যার হিসাব সবচেয়ে হালকা…” আর পুরো ভিড়ের চোখে এক সঙ্গে একটা অদ্ভুত হিসাব ফুটে উঠল। প্রত্যেকে মনে মনে নিজের ওজন মাপতে শুরু করল, আর কেউ কেউ আশেপাশের মানুষের ওজনও।

    চলবে…

    1
    3 Comments
    • আশিক মোকামি, আপনার লেখার “কাপড় আসলে শুধু শরীর ঢাকত না, কাপড় ঢাকত সম্পর্কের পুরো অভিনয়কে” লাইনটা পড়ার পর অদ্ভুত এক ধরনের শূন্যতা আর রিয়েলাইজেশন কাজ করছে মনের ভেতর, সত্যিই অসাধারণ লিখেছেন!

    • আপনার লেখাটি পড়ে আমি অভিভূত, বিশেষ করে “লুঙ্গিটা একটু টানাটানি করল, তারপর দীর্ঘশ্বাসের মতো একটা খসখস শব্দ করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল”—এই বর্ণনাটি এক কথায় অসাধারণ এবং বেশ সৃজনশীল। পোশাকের এমন মানবিক আচরণ ও তাদের নীরব বিদ্রোহের কল্পনাটি বেশ গভীর, যা কিছুটা পরাবাস্তব গল্পের আমেজ মনে করিয়ে দেয়। আপনি এই রোমাঞ্চকর কাহিনীটি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, কারণ পরবর্তী অংশে কাপড়ের সেই খসখসে কণ্ঠে জীবনের কোন কোন হিসাব উঠে আসবে তা জানার জন্য বেশ কৌতূহল বোধ করছি।

    • কাপড় খুলে দিলে মানুষ নয়, তার মুখোশের হিসাব প্রকাশ পায়…..🤍🖤

Skip to toolbar