-
একটি অলিখিত ডাক
…সিরাজুল ইসলাম
সবাই তো খবর নেয় কাজের, হিসেবের,
দিনশেষে কতটুকু বাঁচা হলো কার,
কতটা বাড়লো দেনা, কতটা সঞ্চয়—
অথচ কেউ আর সন্তর্পণে দরজায় দাঁড়িয়ে
চোখ নামিয়ে বলে না,
“কিছু মুখে দিবি না বাবা?এই শহরের নিয়ন বাতিগুলো বড় নিষ্ঠুর,
তারা কেবল কাজের সময়টুকু মেপে রাখে।
অফিসের কাঁচঘেরা টেবিলে,
হাজারো মেকি হাসির ভিড়ে
ক্লান্তির ভাঁজ কেউ চিনে নিতে পারে না।
একমুঠো ভাত কিংবা একটু উষ্ণ জলের মতো
সহজ কোনো মায়া আর নেমে আসে না বুকে।ছোটবেলার সেই থালা ঢাকা রাখা আঁচল,
আর অপেক্ষা করে থাকা দুটো ভেজা চোখ—
সময়ের দীর্ঘ টানে তারা কবে যেন স্মৃতি হয়ে গেল।
এখন খাবার টেবিলে ধোঁয়া ওঠে ঠিকই,
প্লেটে সাজানো থাকে রূপোর চামচ,
তবু এক অদ্ভুত শূন্যতা গলার কাছে দলা পাকিয়ে থাকে।মানুষের সবকিছু থাকে—
সাফল্য, অট্টালিকা, ব্যস্ততম দিনরাত্রি;
থাকে শুধু না সেই একটি কোমল স্বর,
যা কেবল অধিকার খাটিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারত:
“তুই খেয়েছিস তো?”
ক্ষিদে তো আসলে শুধু পেটের হয় না,
ক্ষিদে জমে থাকে অন্তরের গভীরেও—একটু স্নেহের, এক ফোঁটা পরম যত্নের।
সেই যত্নহীন বিশাল শহরে
আমি আজও পথ চলি,
আর বাতাসে কান পেতে খুঁজি—
কেউ কি এখনো চুপিচুপি জানতে চায়,
“কিছু খেয়ে যাবিনা বাবা?”3 Comments
Friends
মৈনাক
@mainak
মো: নাজমুল আখতার
@faith
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat1
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat1
নাজমুল হাসান সাকিব
@publiconline
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
আর্য্য সপ্ত দর্শী
@nandini
জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ
@jalalshah
Drako Shajib
@drako

সিরাজুল ইসলাম, আপনার লেখাটা পড়ে একদম বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল, আমাদের যান্ত্রিক এই শহরে দিনশেষে এমন একটু মায়ার ডাক কি আসলে সত্যিই খুব বেশি পাওয়া যায়?