Profile Photo

Umme HabibaOffline

  • ummeminju
  • Profile picture of Umme Habiba

    Umme Habiba

    4 years, 9 months ago

    শিরোনামঃ ‘তবে আসো,আরেকবার স্বাধীন হই’!
    প্রতিবেদকের নামঃউম্মে হাবিবা।
    স্থানঃযাত্রাবাড়ি ঢাকা।
    তারিখঃ৩০-০৮-২১
    “যে মেয়েটা ভোর না হতেই
    মায়ের সাথে যাচ্ছে কাজে,
    যে মেয়েটা পড়ের বাড়ি
    কাপড় কাচে,বাসন মাজে,
    যে মেয়েটা গোবর কুড়োয়
    ঘুটেও দেয় কয়ল বাছে
    যে মেয়েরা সারা জীবন
    পায়না আদর কারো কাছে!
    ওদের কাছে প্রশ্ন করো,ওরা কি কেউ সত্যি জানে,
    স্বাধীনতা দেখতে কেমন? স্বাধীনতার সঠিক মানে!
    পরাধীনতার শেকল ভেঙে স্বাধীন সূর্য পানে আমাদের পদযাত্রা শুরু হয় আজ থেকে ৫০ বছর আগেই। তবে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পেরিয়েও কি আমরা বলতে পারি,’আমরা প্রকৃত স্বাধীন ‘?
    উত্তরটা যদি “হ্যা” হয়, তাহলে কেনো বাল্যবিবাহের শিকার স্কুলপড়ুয়া মেয়েগুলো শিক্ষার স্বাধীনতা পায় না? ১৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ- তরুণী কেন ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বা উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্ধারণের স্বাধীনতা রাখে না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রী কেনো রাস্তা দিয়ে নির্ভয়ে হাটার স্বাধীনতা পায় না? ৭-৮ বছরের যে বাচ্চাগুলোর ব্যাগ কাধে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, একটি স্বাধীন দেশে বাস করে খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক অধিকার পূরনের জন্য তাদেরকে কেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুল কিংবা খবরের কাগজ বিক্রি করতে হচ্ছে?
    ২০ বছর জীবনটা যদি ছোট হয়, তাহলে এই ছোট্ট জীবনে অনেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। আর সেই অভিজ্ঞতাগুলো বিবেকের কাছে প্রশ্ন হয়ে ধরা দিয়েছে, যার উত্তর আজও পাই নি।
    আজকাল ফুটপাতের সেই রাবেয়ার কথা ভীষণ মনে পড়ে। টিফিনের টাকা দিয়ে যাকে ‘অ,আ,ক,খ’ এর বই কিনে দিয়েছিলাম আর পৃথিবীর সব সুখ যেন হাসি হয়ে তার মুখে ফুটে উঠেছিল। পৃথিবীতে কাউকে খুশি করতে পারার আনন্দের থেকে বড় আনন্দ আর কিছুতে নেই।রাবেয়া আমাকে বইয়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে থকতে দেখে বলেছিল, ‘ একটা বই কিনা দিবেন, ‘পড়মু’! সেদিন মনে মনে ভেবেছিলাম, যদি কোনোদিন আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দেয় তাহলে রাস্তায় থাকা ছেলেমেয়েগুলোর পড়াশোনার দায়িত্ব নেবো।
    আর বেগুনবাড়ি বস্তির সেই ফুলি,যার খুশির আনন্দে নিজেই কেদে ফেলেছিলাম।
    করোনার কঠিন সময়ে আমরা সেচ্ছাসেবকরা ঠিক করলাম, আমাদের সংস্থা থেকে ঢাকার কিছু বস্তিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করবো।সেরকমই একদিন যখন বেগুনবাড়ি নামের একটা বস্তিতে গেলাম,সেখানে গিয়ে দেখলাম একটা ৭-৮ বছরের বাচ্চা মেয়ে ঘরের বাইরে দাড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। কাছে গিয়ে যখন জানতে চাইলাম তখন সে বলল,তার বাবা-মায়ের ভীষণ জ্বর কিন্তু আশেপাশের কেউই তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইছে না।কারন হলো,ফুলির বাবা- মাকে ছুলে তাদের করোনা হয়ে যাবে।আজকাল মনে হয় ” বিবেক আর মনুষ্যত্ব” ব্যাপার দুটি উঠেই গিয়েছে মানুষের মন থেকে। নাহলে কেউ এরকম কাজ করতে পারে না।
    আমরা সেচ্ছাসেবকরা যখন ফুলির বাবা মাকে জাসপাতালে নিয়ে গেলাম তখন ফুলিও খুশি হয়েছিলো ঠিক যেরকম খুশি রাবেয়া একদিন হয়েছিল।
    আমি এমন একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে থাকবে না কোনো পরাধীনতার শেকল। থাকবে না ধনী-দরীদ্রের বৈষম্য। রাস্তায় বেরোলে যাদের ফুল-খবরের কাগজ বিক্রি করতে দেখা যায়,তাদেরকে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে দেখা যাবে।বস্তিতে থাকা রাবেয়ার অসহায়ত্বের সুযোব না নিয়ে, মনুষ্যত্বের পরিচয় দিয়ে সকলে এসে রাবেয়ার পাশে দাড়াবে।
    খুব বেশি কিছু না।শুধু এটুকুই তো চাওয়া!
    “স্বাধীনতার সঠিক মানে কজন স্বজন সত্যি জানে?
    স্বাধীনতার সংঙ্গা খুঁজো, শেকল ছেঁড়া পাখির গানে।”
    জয় হোক প্রজন্মের এবং স্বাধীনতা নামের পাখিটি নিঃশঙ্ক চিত্তে ডানা মেলুক সম্ভাবনার আকাশে।

    8
    3 Comments
Skip to toolbar