-
শক্তি নিয়ে মিথ্যাচার🙄
যেদিন থেকেই বিজ্ঞান শিখছি,পড়ে আসছি বড় বড় হেড লাইনে লিখা “শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি”। আর বিস্তারিত বলতে বললে উত্তর পাই ” শক্তি সৃষ্টি ও হয় না ধ্বংস ও হয় না মহাবিশ্বে মোট শক্তির পরিমাণ ধ্রুবক”। বুকে হাত দিয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন তো কখনো এই উক্তির সত্যতা কত টুকু জানতে চেয়েছেন কিনা। কখনো কি মনে হয় নি উক্তিটি ভুল হতে পারে কিনা বা সত্যই যদি হয় কেন তা সত্য?
আসল কথা হচ্ছে, শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যে উক্তিটি করা হয়েছে তা ডাহা মিথ্যা কথা। মানুন কি না মানুন,
**শক্তি সব সময় সংরক্ষিত থাকে না।
** এটির সৃষ্টি সম্ভব, ধ্বংস ও সম্ভব।
চলুন পয়েন্ট দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
১) জেনে রাখুন মহাবিশ্বের নীতি গুলো মৌলিক নয়।এগুলোর প্রতিটির পেছনে থাকে একটি করে symmetry ।যদি সেই symmetry বা প্রতিসাম্যতা লঙ্ঘিত হয় তবে নীতিটিও ভেঙ্গে পড়বে। এই symmetry গুলো কেমন? ধরুন একটি সমতল মরুভূমি।দূরে যত খানিকটা চোখ যায় শুধু সমতলের উপর বালি আর বালি।নেই কোন উঁচু নিচু ঢাল। তাহলে আমরা সেই মরুভূমি কে বলতে পারবো space symmetric । যেখানে space এর প্রতিটি পয়েন্ট দেখতে একই রকম। এমন অবস্থায় “Conservation of Linear momentum” নামক law এর উদ্ভব হবে।উঁচু নিচু জায়গায় এই নীতি খাটবে না। ঠিক তেমনি ভাবে Symmetry of time এর জন্য “Conservation of Energy” র উদ্ভব হয়। কোন সিস্টেম এর সকল ভেরিয়েবলের মান গুলো যদি time এর দারুণ effected না হয় সিস্টেম এর নিজের interaction এর দরুণ হয় আমরা ওই সিস্টেম কে Time symmetric বলতে পারি। সমস্যা হচ্ছে মহাবিশ্ব এর বড় স্কেলে time symmetric নয়। এখন পুরো মহাবিশ্ব দেখতে যেমন ১ সেকেন্ড আগে তা তেমনি ছিল না(Large scale এ)।গ্রহ নক্ষত্র স্থান পরিবর্তন করার সাথে সাথে মহাবিশ্বের নিজের মধ্যেও পরিবর্তন আসে।নতুন স্থান তৈরী করছে এটি। কিন্তু ছোট খাটো দূরত্বতে মহাবিশ্ব একই রকম থাকে গ্রহ নক্ষত্র স্থান পরিবর্তন করলেও। এখন আপনিই বুঝতে পারবেন কেন দৈনন্দিন জীবনে শক্তি সংরক্ষিত থাকে।কিন্তু বড় স্কেলে তা হয় না।উদাহরণ সরূপঃ
মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং তার যোগান দিচ্ছে Space এর constant energy density। যাকে আমরা Dark Energy ও বলি।মহাবিশ্বর সম্প্রসারণ এর পরও এই Energy density সমান ই থাকছে। আয়তনের বৃদ্ধির সাথে সাথে Energy Density সমান রাখতে লাগবে নতুন Energy। কিন্তু এই Energy কোথা থেকে আসছে তা কেউ জানেনা।বিস্তারিত জানতে সার্চ করতে পারেন “Noether’s Theorem”
২)শক্তি সৃষ্টি সম্ভব আর আমরা তা অহরহ করে থাকি।আর আমার এই কথার কড়া Supporter হচ্ছে E=mc^2। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে প্রতিনিয়ত ভর থেকে শক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। পার্রটিক্যাল এক্সেলেটরের মধ্যে শক্তি থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভরযুক্ত নয়ত ভরহীন কণা তৈরী করা হচ্ছে। এতে মোট শক্তির হের ফের হচ্ছেই।
তাই শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি বলতে আমরা যা বুঝি তাতে পরিবর্তন আনতে হবে।একে আমাদের সংঙ্গায়িত করতে হবে নতুন ভাবে।তা হতে পারে অনেকটা এমনঃ
“বৃহৎ স্কেলে শক্তি সংরক্ষিত থাকে না এবং ক্ষুদ্র স্কেলে মহাবিশ্বের মোট শক্তি ও ভরের যোগফল সবসময় সমান”
1 Comment
Friends
Mohammad Hossain
@mohammad-hossain
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot



বিজ্ঞানকে যুক্তি দিয়ে গ্রহন করতে হয়; বিশ্বাস দিয়ে নয়।