-
এক…
সালমান তার স্কুলের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। প্রত্যেক পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে মেধা তালিকয় উত্তীর্ন হয়। বড় বড় শিক্ষকদের নিকট সম্মানের পাত্র হয়ে উঠে। পুরো শহরে তার নাম খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
তার বাবা তার উপর খুব সন্তুষ্টি হলেও মা কোনো সন্তুষ্টি নাই। কারন, সে বাংলা ইংরেজিতে যেমন পাকা আরবীতে তেমন কাচা।সালমানের নানা মৃত্যুর আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ অসিয়ত করে যায়, তার কুরআন শিক্ষাটা যেন সঠিক মত করে নেয়। মা সেই অসিয়ত পূরনের বেশ চিন্তিত।
কি করবে?
কিভাবে কুরআন শিক্ষার কার্যক্রম চালাবে?
কি করে নানার অসিয়ত পূরন করবে?একদিন মা সালমানকে জোড় দিল। কুরআন শিখার জন্য। সে রাজি না।
মনই বসছিলনা। অনেক জোড়দার করার পর মান্য হল।মায়ের কথামতো কুরআন শিক্ষতে বাধ্য হল।ফজরের পর মসজিদে যায় সালমান হুজুরের কাছে কুরআন শিক্ষতে। কয়েকদিন খুব ভালোভাবে পড়াশোনা চলছিলো। বেশ দূর এগিয়ে যায়।
সালমানের হুজুর অনেক বৃদ্ধ। পড়াতে একটু সমস্যা হলেও পড়াতে কিন্তু পিছ পা হয় না। একটু কষ্ট হলেও চালিয়ে নেয়।
হঠাৎ একদিন সালমানের আসতে দেরি হয়। অনেক অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলো। সে এক পর্যায়ে আসে। হুজুরের প্রচুর রাগ উঠে তবুও রাগ থামিয়ে নিচু আওয়াজে সালমানকে বকাবোকি করে। সালমান কথাগুলো সহ্য করতে না পেরে হুজুরের সাথে বেয়াদবি করে বসে।সে আর মসজিদে আসে না। এভাবে কুরআন শিক্ষা আর হল না। তার মা এবং হুজুর অনেক কষ্ট পায়।সামনে পরীক্ষা। অনেক ভালো প্রস্তুতির সাথে পরীক্ষা শেষ করে। পরীক্ষার পর হাতে রেজাল্ট আসলো।সালমান অত্যন্ত আনন্দ। এবার পরীক্ষায় ফাস্ট হলে বাবা একটা ফোন কিনে দিবে। সালমান আনন্দ এবং ভালো প্রস্তুতি মতে তেমন রেজাল্ট হয়নি। যে ছাত্র প্রত্যেক পরীক্ষায় দ্বিতীয়তর নিচে পাওয়া যেত না, সে ছাত্র এই পরীক্ষায় আশ্চর্যমূলক ভাবে ফেল করেছে।
সালমান রেজাল্ট দেখে হতবাক।
পুরো স্কুল হতবাক।
এভাবে প্রত্যেক পরীক্ষায় কোনো না কনো বিষয়ে ফেল করে চলছে।দুই…
বড় হয়ে গেল।পড়াশোনাও শেষ হল। কিন্তু তেমন পর্যায়ে নয়। খুবই ডেম ক্লাসের দূর্বল ছাত্র হিসেবে। এখন চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হবে। ছুটেই চলছে ছুটেই চলছে তবে কোনো চাকরি তার ভাগ্যে মিলে না।
বিবাহ হয়ে গেল। এক সন্তানের পিতা। তখনও চাকরির কোনো খোজ নেই। উল্টো ঋনগ্রস্ত সে। শশুরের সাহায্যে নিয়ে তার কোম্পানিতে নিম্ন পদের কর্মকতায় কর্মরত আছে। সালমানের ছোট ভাই একজন বড় আলেম।তার নিকট এসব বিষয়ের
পরামর্শ চাইলো।–“আগে কেউর সাথে কোনো প্রকার বেয়াদবি হয়েছে??”
সালমানের তখনই স্মরন হলো সেই হুজুরের কথা। ওই দিনই ছুটলো গ্রামে।
কিন্তু কোনো লাভ হলো না,
বৃদ্ধ হুজুর চার পাঁচ বছর আগে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। হুজুরের কোনো খোঁজ পাওয়া গেলো না।
যাক যা হওয়ার হয়েছে এখন আর কিছু করার নেই।ছোট ভাই পরামর্শ দিলো তার নামে অধিক পরিমাণে দোয়া, দান সাদকা,করতে। সেই কত আগের ঘটনা হুজুরের সাথে বেয়াদবি করার কারনে আজও তার জীবন অশান্তির মুখে আবদ্ধ।সন্তানকে ঠিক মত জামা কাপড় দিতে পারছে না। পোকেটে এক টাকাও থাকে না।এইটাই তার জীবন।
মুহাম্মদ আহমাদুল্লাহ
2 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
সাইমূম ইভান
@syed-symoom-anjum-evan


Nice