Profile Photo

A.N.M.SolaymanOffline

  • 000A999@888
  • Profile picture of A.N.M.Solayman

    A.N.M.Solayman

    4 years, 9 months ago

    প্রত্যাবর্তন
    আবু নাঈম
    সকাল হতে শুরু করেছে, সূর্যটা আড়মোড়া ভেঙ্গে মাত্র উঠবে উঠবে করছে।আমার দুচোখের পাতায় ঘুমের মাদকতা ভর করতে শুরু করেছে। বিছানায় নিজেকে ছেড়ে দিয়েছি সবে। ঠিক এমন মুহুর্তে দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। এই সময়টা কারো আসার ক্ষেত্রে খুব অসময় বলেই মনে হলো আমার কাছে। তবুও একরাশ বিরক্তিকে সঙ্গে করে নিজেকে এগিয়ে নিলাম দরজার কাছে। ঘুরে দাড়ালাম ফিরবো বলে, আসলে এই সময়ে দরজা খুলে কাউকে স্বাগত জানানো সম্ভব নয় আমার পক্ষে। অবশ্য তেমন বিশেষ কেউ নেই যাকে এতটা সকালে ঘুম ত্যাগ করে সম্ভাষণ জানাবো আমি। যে এসেছে আসুক, একটুখানি বসুক। এমন একটা ভাব নিয়ে দরজা খুলে দিয়ে আমি বিছানায় ফিরছিলাম। কিন্তু থমকে দাড়ালাম পিছুডাক শুনে। এভাবে দরজা খুলে কেউ যায়? অন্তত নিশ্চিত তো হয়ে যাওয়া যায় কে এসেছ! আমি ফিরে দাড়ালাম, ঘুম শুধু চোখ কেন হয়তো রাজ্য ছেড়েই পালিয়েছে। দুচোখে এখন ভর করেছে একরাশ বিষ্ময় আর অবিশ্বাস। অরুনিমা….! নামটা যেন স্বগতোক্তি হয়েই বের হলো আমার ঠোটের ফাঁকে। বিষ্মিত আমাকে ঘোরের মাঝে রেখে ধীর কিন্তু নিঃসঙ্কোচে ঘরে এলো অরুনিমা। তারপর টেবিলে রাখা জগের থেকে ঢগ ঢগ করে পানি খেয়ে নিলো অনেকটা। আমি ধপ করে সোফায় বসে পড়লাম, মাথায় কিছু ধরছেনা। অরুনিমা হঠাৎ কেন! কি কারনে সে আবার ফিরে এল? এই কি সেই অরুনিমা, যে পাঁচ বছর আগে আমাকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গিয়েছিল! কতটা সময় হাতড়ে ফিরেছি আমি। কতটা পথ ওর অপেক্ষায় একাকি চলেছি। কত অব্যক্ত যন্ত্রণায় নীল হতে হতে আমি আজ কূলে ভিড়েছি। সেদিন কোন দায় চাপিয়ে দেয়নি সে, মেলে ধরেনি কোন অভিযোগের পসরা।শুধু বলেছিল আমাদের একপথে পায়ে পায়ে চলা সম্ভব নয়, আজ থেকে তোমার আমার পথ আলাদা। ওকে খুব ভালোবাসতাম বলেই সেদিন পথ আগলে দাড়াইনি। বলিনি একটা বার থেকে যাওনা হতটা ধরে। আমরা নাহয় পায়ে পায়ে চলতে পারবো না কিন্তু স্বপ্নেরা ঠিক উড়োউড়ি করবে। কিন্তু বলিনি, যে যেতে চায় তাকে ধরে রাখা দায়। নিজের অসহায়ত্বকে মিষ্টি হাসিতে আড়াল করে সেদিন ওকে এগিয়ে দিয়েছিলাম। সেদিন আমি চাইনি আমার পরম যত্নে আগলে রাখা ভালোবাসা কারো পদতলে পিষ্ট হয়ে যাক। যেখানে ভালোবাসা মূল্য হারায় সেখানে অশ্রুরা শুধু উপহাস পায়। সেদিন অরুনিমার চোখে আমি কোন মায়া বা ভালোবাসা দেখিনি। দেখেছি শুধু একরাশ স্বপ্ন, নতুন জীবনের স্বপ্ন। তাইতো কাঁটার চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে হাসির ফোয়ারা মেলে যেতে দিয়েছিলাম ওকে। সময় গড়িয়ে গিয়েছে আপন গতিতে, আমিও নিজেকে ছেড়ে দিয়েছি সময়ের স্রোতে। স্মৃতিগুলো পিছনে ফেলে আমি এগিয়ে গেছি কালের খেয়ায় চড়ে। পিছনের সৈকতে বালিচাপা পড়ে রয়ে গেলো হাজারো স্মৃতি। হয়তো কিছুটা পেয়েছে সলিল সমাধি। আমি পথ চলি স্বপ্নহীন এক মরুপথে। মরীচিকাও কখনো কখনো উপহাস করে বসে। আমার পথে যেন দিগন্ত পেরিয়ে আরো দূর বহুদূরে। এমন আবেশী সময়ে মরুর বুকে হঠাৎ বৃষ্টির মতো শুভমিতার আবির্ভাব হলো। সমগ্র নারীসত্তা দিয়ে ভালোবাসলো শুভমিতা। নারীত্বের এক নতুন মুর্তি দেখেছি আমি শুভমিতার মাঝে। কি সকাল আর কি সাঁঝে,মোহময়ী শুভমিতা আমার পাশে। এলোমেলো আর উদাসীন এই পথিকের মনে একটু একটু করে মায়ার মেঘ জমালো এই মায়াবতী। আমি নিজের অজান্তেই একদিন নিজেকে সঁপে দেই শুভমিতার কাছে। কাল ছিল আমার বিয়ে। আর আজই অরুনিমার ফিরে আসতে হলো! আমার ক্রমশ আশঙ্কা হতে শুরু করলো। শুভমিতা ঠিক কিভাবে নিবে অরুনিমার এই প্রত্যাবর্তন।

    3
    3 Comments
Skip to toolbar