-
Name: Nushrat Jahan Mohima
Class: honours 1st year” গোয়েন্দা ভূয়সী ”
কলিংবেল বেজে চলছে। শব্দটা মিসেস রহমানের কানে যন্ত্রণা সৃষ্টি করছে। কেউ কি নেই গিয়ে দরজা খুলবে? হাঁটতে না পারায় নিজেই গিয়ে খুলতেও পারছে না।
আসল মিস্টার নিরব, লিপি বললো। এত ব্যস্ত হবেন না। আমি ঠিক আছি। আপনার মা মিসেস রহমান কই? তার সাথে আমি দেখা করতে এসেছি মা তো ভিতরে আছে। চলুন আপনাকে মায়ের ঘরটি দেখিয়ে দেই, লিপি বললো।
ঘরে বসে প্রত্যেকটি কথাই মিসেস রহমান শুনলেন। লিপির বাবার বন্ধুর ছেলে এসেছে। মাঝে মাঝেই এসে তার সাথে দেখা করে যায় এ আর নতুন কি! খালাম্মা অনেকটা বিপদে পরেই আপনার কাছে এসেছি। ঘরে ঢুকে সালাম না দিয়েই মিস্টার নিরব কথাগুলো বলে ফেলল।
একটু ঠান্ডা হয়ে তারপর বল বাবা কি হয়েছে? সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি বলো? কবে থেকে ওনাকে পাওয়া যাচ্ছে না? এই কাল সকাল থেকে। বললো কি একটা কাজ আছে গিয়ে দুপুরের মধ্যে আসবে। আজকে বিকেল হয়ে গেছে এখনো বাড়ি ফিরেন নি।
পুলিশকে জানিয়েছে ঘটনাটা? মিসিং ডায়েরি করেছ?
হ্যাঁ জানিয়েছি। কিন্তু তারা বলেছে ৪৮ ঘণ্টা পার না হলে তারা মিসিং ডায়েরি নিবে না। তাহলে আমার কাছে এসেছ কেন? আমি কি করতে পারি এ ব্যাপারে?
খালুর সাথে বাবার তো অনেক বছরের সম্পর্ক। একসাথে কত আলাপ করতো। এমন কারো কথা কি বলেছে খালুকে যে বাবা কে আটকে রাখতে পারে?
এমন কোন কথা তো তিনি আমাকে বলেননি। সব সময় বলতো তোমার বাবা অনেক ভালো মানুষ। তার কোন শত্রু নেই। তাহলে কে তোমার বাবা কে আটকে রাখতে পারে বলে তোমার মনে হচ্ছে?
” আমার জানা নেই, খালাম্মা।”
চা হাতে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব কথালিপি শুনে ফেলল। পড়াশুনা শেষ করে সবে চাকরিতে জয়েন করেছে সে। মিস্টার ও মিসেস রহমানের বড় আদরের মেয়ে।
এই নিন আপনার চা, লিপি মিস্টার নিরব কে বলল, এসবের কি দরকার ছিল।
খেয়ে নাও বাবা।
লিপি কিছুটা আনন্দিত হয়ে বলল,” আমার এক বান্ধবী আছে। সে আপনার বাবাকে খুঁজে দিতে পারবে। এর আগে অনেক কেস সমাধান করেছে সে।”
সত্যিই! প্রায় কেঁদে ফেললেন মিস্টার নিরব বলল, তার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার আমাকে দিন।
লিপির কাছে থেকে সকল তথ্য নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল সে। হয়তো লিপির বান্ধবী নিপার কাছে গেছে।
প্রায় একদিন মিস্টার নিরবের পাবার কোন খবর পাওয়া গেল না।
সন্ধ্যেবেলা মিসেস রহমান একটু শুয়ে বিশ্রাম করছেন এমন সময় মোবাইলটা বেজে উঠল।
হ্যালো, খালাম্মা। আমার বাবা আর বেঁচে নেই।
কি বল? কখন এমন হলো?
কে যেন বাবাকে খুন করেছে। কথা শেষ না করেই ফোন টায় কেটে দিল।
মিসেস রহমান আর স্থির থাকতে পারলেন না। মেয়েকে ডেকে বললেন আমাকে এক্ষুনি নীরব দের বাসায় নিয়ে যা।
একটা ভ্যানগাড়িতে তাতে মাকে নিয়ে রওনা দিল লিপি।
পুরো বাড়ি মানুষ ভর্তি। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছে, কেউ আবার সান্ত্বনা দিচ্ছে। মিস্টার নিরব এক কোণে বসে কাঁদছে। হঠাৎ একটা হাত লিপির ঘারে পড়ল। পিছনে দেখে নিব আর হাত।
” নিপা তুই এসেছিস। কিন্তু বুঝতে পারছিস কি আংকেল কে কে মেরেছে?” নিপা বলল।
নারে। এত তাড়াতাড়ি বোঝা সম্ভব নয়। আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসুক তারপর আগাবো।
ঠিক আছে। দেখ তুই। দোষী যেন সঠিক শাস্তি পায়।
দুইদিন পর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলো। পটাশিয়াম সায়ানাইড নামক বিষাক্ত বিষের মৃত। খবর চলে গেল নিপার কাছে। সে ছুটে এল নীরব দের বাসায়।
” আমি আপনার বাবার শোবার ঘরটি দেখতে চাই,” মিস্টার নিরব।
হ্যাঁ, আসুন। এই দিকে বাবার ঘর।
ধন্যবাদ। আপনি আসুন এখন। আমি একা দেখে নিব।
পুরনো হালফ্যাশনের জুয়ার বাদ দিয়ে ঘর সাজানো চোখে সুন্দর লাগানোর মত আলাদা করে কিছু নেই। লেখালেখির খাতা পড়ে আছে নিপা সেটা তার ব্যাগে নিল। পাশেই অসুবিধা আর খবরের কাগজ পড়ে আছে। ওষুধ গুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখে সেটি টেস্ট করতে পাঠানোর ব্যবস্থা করল। বাইরে এসে বলল,” কেউ যেন এই শহর ছেড়ে কোথাও না যায়।” স্টাডি রুম মিস্টার নিরব কিছুটা ব্যাকুল কন্ঠে বলল,” আপনি কি কাউকে সন্দেহ করছেন?” এখন কিছু বলতে পারব না। আপনার মা ও বোনকে ডাকুন।
কাঁনতে কাঁনতে পাশের ঘর থেকে এক ভদ্রমহিলা এসে বলল,” বল মা কী জানতে চাও?”
” গত কয়েকদিন যাবৎ আপনার কি আপনার স্বামীর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছেন?” নিপা জিজ্ঞাসা করল।
না। তবে যেদিন উনি হারিয়ে গেল সেদিন দেওয়ার আগে বলল শরীরটা কেমন জানি করতেছে। তারপর কিছু বলার আগেই কাজ আছে বলে চলে গেল।
অসুস্থতার কথা কি কেবল সেইদিনই বলেছিলেন?
হ্যাঁ।
” ঔষধ খাওয়ার আগে না পরে তার শরীর খারাপ হয়েছিল?” ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,” ওষুধ খাওয়ার পর।”
এরইমধ্যে ঘরে মিস্টার নিরব এর ছোট বোন এসেছে। সেটা লক্ষ্য করে বলল, খালাম্মা আপনাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করবো না। পরে দরকার হলে আসবো।
” তোমার বাবা কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন?” নীপা বললো।
বাবা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। কখনোই কা গায়ে হাত তুলতেন না। সবাইকে সমান ভালোবাসতেন।
উনার কোন শত্রু আছে বলে তুমি জানো বা অনেক বছরের পুরনো শত্রুতা? না বাবার কোন শত্রু ছিলনা। মা আর ভাইয়া বলবে এই এক কথা।
গোয়েন্দা এসেছে, গোয়েন্দা! বাবার জন্মে এমন শুনিনাই মেয়েমানুষ খুনি ধরে। ৪-৫ পাতা বিদ্যে দিয়ে সবাইকে প্রশ্ন করে বেড়াচ্ছে।
হঠাৎ এই কথাগুলো পাশের ঘর থেকে ভেসে এল। “কথা গুলো কে বলছে, মিনি?” নিপা বলল। ছোট ফুফু বলছে। উনি একটু সেকেলে মানুষ তো। তুমি কিছু মনে করিও না তার কথায়।
আমি কিছু মনে করিনি। উনি কি তোমাদের সাথেই থাকে?
হ্যাঁ। ফুফা মারা যাওয়ার পর থেকে উনি আমাদের সাথে থাকে।
কেন? উনার ছেলে মেয়ে নেই?
আছে। ওরা খুবই ব্যস্ত মানুষ। এক ছেলে তো দেশেই থাকেনা। আমি মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে থাকে।
ক্রমশই রহস্যের জট পাকিয়ে যাচ্ছে। জট খুলতে অনেক দূর যেতে হবে। যেভাবেই হোক এই সেকেলে ভদ্রমহিলার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
নিপা বলল, “তোমার সাথে একটু কথা বলা যাবে?”
এখন উনি গোসল করবেন | তারপর নামাজ পড়বেন সবমিলে ঘন্টা দুয়েক দেরি | আমি বরং কাল আসবো | “সেটা ভালো হবে,” মিনি বললেন |
ফেরার পথে লিপির ফোন | রুপা রাস্তাটা পার হয়ে ফোনটা রিসিভ করল |
” হ্যালো, নিপা | কেসের কি খবর?”
বেশীদুর আগায়নি | বাসায় ফিরে তোকে কল দিবা এখন রাখি |
বাসায় ফিরে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে নিল নিপা | সন্ধ্যেবেলা একবার যাবে ওই বাড়িতে | কালকে যাবে বলে এসেও কিছুতে মন কে স্থির রাখতে পারছেনা | বিকেলের দিকে ওষুধের চলে আসবে | এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে নিপা একটু ঘুমিয়ে নিল |
বিকেলের ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙলো নিপার | “হ্যালো |” ঘুম জড়ানো কণ্ঠে নিপা বলল | ওষুধের মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড পাওয়া গেছে । আর এক সেকেন্ড দেরি না করে মিস্টার নিরব দের বাসার দিকে রওনা দিলো । সকলে বাসায় ছিল । নিপা মিস্টার নীরবে ছোট ফুফুর সাথে কথা বলতে চাইল ।
” বল কি জানতে চাও,” ছোট ফুপু বলল । আপনার স্বামী মারা যাওয়ার পর আপনি আপনার ছেলে-মেয়েদের সাথে থাকলেন না কেন ?
আমার ছেলেরা খুব ব্যস্ত । এক ছেলে ডাক্তার, এক ছেলের ওষুধের দোকান আর একজন বিদেশে থাকে। ছোট মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে গিয়ে থাকতে মানে হয়না।
নিপা বলল,” ছেলেরা কখনো আপনাকে তাদের সাথে থাকতে বলেনি?” বলেছে, কিন্তু আমি ওদের ব্যস্ততার মাঝে গিয়ে উঠতে চাইনি।
নিপা কথা বলার ফাঁকে ভদ্রমহিলা ভালো করে লক্ষ্য করলো। খুব ভালো মানুষ। প্রচুর ওষুধ খায়। একপাশে কিছু ওষুধ পড়ে আছে। চুপ করে সেটি হাত নিয়ে দেখল নিপা।
ঘর থেকে বের হয়ে এসে সবাইকে বলল খুনিকে প্রায় শনাক্ত করে ফেলেছি। কিছু হিসাবে ধরে ফেলব। কেউ আজকেই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবেন না প্লিজ।
নিপা বাসায় গেল। অনেক জায়গায় ফোন করল। সব ঘটনা পরপর সাজিয়ে রহস্যের জট খুলল। সারারাত না ঘুমিয়ে সকাল-সকাল নিরব দের বাসায় গেল। সকালে এসে খুব বিরক্ত করলাম, তাই না। বিরক্ত কেন হবে? আপনার জন্যই অপেক্ষা করতেছিলাম, মিনি বললেন। বাকিদের ডাকুন, প্লিজ।
সকলে আসলেও ছোট ফুপু আসলো না। কি ব্যাপার? তোমার ছোট ফুফু কই? নিপা বলল।
ফুফুর শরীরটা আজকে ভালো নেই। ঘরে শুয়ে আছে।
ভালো নেই! নাকি রে খারাপ করা হয়েছে।
তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারতেছি না।
তুমি আমাকে উনার ঘরে নিয়ে চলো। বাকিদের বলো আসতে।
আপনার শরীর এখন কেমন আছে, খালাম্মা? নিপা বলল।
একটু চমকে উঠে বললো, তুমি! তুমি আবার এসেছো এখানে। এখনই বেরিয়ে যাও।
আরে খালাম্মা এত উত্তেজিত হলে শরীর আরো খারাপ হবে। হোক খারাপ। তুমি যাও তো এখন।
এত তাড়া কিসের? খুনিকে আগে ধরি। মিস্টার নিরব বলল, বলুন নিপা কে খুন করেছে আমার বাবাকে।
এটা তো আমার চেয়ে আপনি ভাল বলতে পারবেন খালাম্মা।
ছোট ফুপু এবার রেগে গেলে বললেন, কি যা তা বলছ? আমি কেমনে জানব? তাহলে আমি বলি। আপনি খুন করেছেন আপনার ভাইকে।
দুই ছেলে সাহায্য নিয়ে। তার ওষুধের মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড নামক বিষ রেখেছেন।
তুমি পাগল হয়ে গেছো। ওকে এখনই ধাক্কা মেরে বের করে দাও। ছোট ফুপু বলল।
আপনি চাননি উনি বেঁচে থাকুক। স্বামী নেই, ছেলেরা ব্যস্ত এই সুযোগে ভাইয়ের বাড়িতে নিজের জায়গা করে নিলেন। তারপর ডাক্তারের পরামর্শ আর অন্য ছেলে দোকানে বিষ কিনে তারপর সেটি সুযোগ বুঝে ভাইয়ের ওষুধের প্যাকেট রেখে আবার প্যাকেট ই আগের মতো করে রাখলেন।
মিলি বললো, তাহলে প্যাকেটটি একদম নতুন কেমনে দেখালো?
ছেলে বলে দিয়েছিল, মা প্যাকেটটি হাত দিয়ে না খুলে মোম দিয়ে বোতল খোলা। এতে ওষুধ পরিবর্তন কেউ বুঝতে পারবে না।
কিন্তু ফুফুর বাবাকে মারার কারণটা কি? টাকার লোভ। তিন ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে এসব ভোগ করতে চেয়ে ছিলেন। আপনি বুঝলেন কিভাবে ফুফুর খুনটা করেছে? প্রথমে বুঝতে পারিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আর ওষুধ শেষ করার পর বুঝতে পারি বাড়ির লোকের কাজ।
সেই মানুষটি যে ছোট ফুপু এটা কেমনে বুঝলেন?
প্রথম দিন উনি আমাকে দেখে রেগে কিছু কথা বলে ফেলল। মিনির কাছে শুনলাম উনার ওখানে থাকার কারণ। উনি নিজেই সোনা ছেলেরা কি করে জানালেন। তারপর উনার রুমে ওষুধের গুঁড়ো থাকা।
সব মিথ্যে কথা। ছোট ফুপু বলল।
সব সত্য। পরে ওই গুঁড়ো টেস্ট করে পটাশিয়াম সায়ানাইড পাওয়া গেছে। আপনার ছেলেরাও যে অবৈধ কাজ করে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তোমার টাকার দরকার ছিল আমাকে বলতে কিন্তু বাবাকে মারার কি দরকার ছিল? মিস্টার নিরব বলল।
আসলে উনি টাকার লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ বাইরে অপেক্ষা করছে। নীপা বললো।কাকুতি-মিনতি ভাব এনে ছোট ফুফু বলল, আমাকে ক্ষমা করে দাও সবাই। টাকা আর সম্পত্তির লোভ আমাকে খুনি বানিয়ে দিলো।
উনাকে নিয়ে যান অফিসার, মিস্টার নিরবের মা বলল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, নিপা। আমি এখন আসি, খালাম্মা। আপনারা ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।‘ সমাপ্তি ‘
4 Comments
Friends
মোহাম্মদ আফজাল হোসেন মাসুম
@afjalhossain
মীর অনাবিল
@miranabil
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
কাজী জহির আহমেদ
@kazizahirahmed
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com


সুন্দর গদ্য। অভিনন্দন।