-
অবশেষে সারাদিনের অফিস ক্লান্তির পর বাসায় ফিরলেন সায়মন সাহেব। ডোরবেল বাজালেন।
সন্ধ্যা ৭ টা বাজে।
দরজা খুলে দিল প্রাণপ্রিয় স্ত্রী, হাসিমুখে তার ডান হাতটি ধরে ঘর্মাক্ত ডান ঘাড়ে মাথা রেখে একসাথেই হাটতে হাটতে ঘরে ঢুকল।খটকা লাগল তার, টানা ১০ বছরের প্রেমের পর করা বিয়ে। তারপরও প্রায় ৪ বছর হয়ে গেল। এর মাঝে স্ত্রীর এমন উচ্ছল হাসিমাখা মুখ ঠিক কবে দেখেছে মনে করতে পারলেন না।
ও হ্যা মনে পড়েছে, প্রেমের শুরুতে এভাবেই হাসত। খিলখিল করে হাসত সামান্য কিছু ব্যাপারেও। আর আজ?এইতো সেদিন ২৪ ক্যারেটের সোনার নেকলেস উপহার দিয়েছিলেন তার স্ত্রী কে। ভেবেছিলেন কতই না খুশি হবে। কিন্ত কি হয়েছিল?
উলটো মুখ আগের চেয়েও কালো করে বিদঘুটে আহলাদের সুরে বলে, “মাত্র এই নেকলেস?”
পাশের বাসার ভাবী তো হীরের দুল, নাকফুল পড়ে। তুমি কবে হীরের গহনা এনে দেবে??এসব ঝ্যানঝ্যানানিতে ইদানীং কেন যেন মনে হয়, স্ত্রীকে মেরে ফেলে। তার মত আপদ বিদায় না করলে জীবনে এক দন্ড শান্তি পাওয়া যাবে কি?
অথচ আজকের ব্যাপারটা ভিন্ন। স্ত্রীর হাসিমুখ দেখেই কেন যেন অফিসের ক্লান্তিটা নাই হয়ে গেল।
এরপর স্ত্রী যখন হাতে হাত রেখে ঘাড়ে মাথা রেখে পাশে পাশে হাটছিল, তার শরীরের স্নিগ্ধ ঘ্রান বিয়ের আগের সেই প্রেমিকা থাকার সময়ের মত রোমাঞ্চ জাগিয়ে দিয়েছিল মনে।অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, ঘরে ঢোকার পর স্ত্রী সামনাসামনি দাড়িয়ে মিটমিট করে হাসছেন আর টাইয়ের নট খুলে দেবার চেষ্টা করছেন, এরপর শার্টের বোতাম, জুতো….
মনের মাঝে জমে থাকা এতোদিনের ক্লেষ নিমিষেই যেন হাওয়া হয়ে গেল। অথচ একে কিনা মনে মনে মেরেই ফেলতে চেয়েছে কতবার!
ভাবনার জগৎ যেন স্ত্রীর সুরেলা কন্ঠে চমকিত হয়ে উঠল। সে দেখল, স্ত্রী তার কাজ শেষ করে বিছানায় বসে পড়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে, চোখে উষ্ণ আমন্ত্রণ। বলল, “যাও, আগে ফ্রেশ হয়ে এসো, আমি অপেক্ষা করছি। এরপর দুজনে একসাথে নাস্তা খেতে বসব। তোমার জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি!”
সায়মন সাহেব লক্ষ্য করলেন তার শরীরের শার্ট, পায়ের জুতো খুলে নিয়েছে স্ত্রী। শুধু প্যান্ট পরনে। সেটিও খুলে ফেললেন, এবার একটা শর্টস রয়েছে পরনে। স্ত্রী কি একটা ইঙ্গিত করেই খিল খিল করে হেসে উঠল। সায়মন সাহেবের সারা গা যেন ঝিনঝিন করে উঠল! রোমাঞ্চের কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া কি এটি? হতে পারে।ছুট লাগালেন ওয়াশরুমের দিকে। দীর্ঘদিন পর আজ নিজেকে ফুরফুরে লাগছে। কত দীর্ঘ অপেক্ষা, অশান্তির পর উপরওয়ালা তার ছোট্ট সংসারে হঠাৎ এতো সুখের ফোয়ারা দিবেন তা ভাবতেও পারেন নি।
লাইটের সুইচ অন করে ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই হকচকিয়ে গেলেন। গোটা ওয়াশরুমের মেঝে লাল রঙে যেন প্লাবিত! জমাট রঙ, থক থকে!
তার মাঝে হাটু ভাঙ্গা দ এর মত করে কে যেন পড়ে রয়েছে! নিথর হয়ে পরে থস্কস দেহটা একটা মেয়ের বোঝা যাচ্ছে।
গলা দিয়ে একটা চিৎকার বেরিয়ে আসল তার।
তার চিৎকারে কেউ আসল না পাশে। ভেবেছিল স্ত্রী আসব। কিন্ত না।
সায়মন সাহেব দৌড়ে গেলেন ঘরের দিকে। ঘরে কাউকে দেখতে পেলেন না। তার স্ত্রীকেও না।
কই গেল?
ভাবার সময় পেলেন না, কি মনে করে আবার ছুটে আসলেন ওয়াশরুমের দিকে। কি একটা খটকা লাগছে তার!
হ্যা, ঠিক ধরেছেন তিনি, মেঝেতে শুয়ে থাকা মেয়েটা তো তারই স্ত্রী! ঐতো লাল রক্তের মাঝেও পরিস্কার চেনা যাচ্ছে হাতের ব্রেসলেট, যা গত মাসেই কিনে দিয়েছিলেন তিনি।
বুকে সাহস এনে এক পা ভিতরে দিয়ে পায়ের আঙ্গুলে ভর করে হাতের তর্জনি আঙ্গুল দিয়ে দেহকে সোজা করার চেষ্টা করলেন। দেহ জমে শক্ত হয়ে রয়েছে বকে মনে হল তার।
মাথার এলোমেলো হয়ে থাকা চুলের এক গোছা ধরে মুখটা দেখে আরেকটু শিউর হবার চেষ্টা করলেন তিনি।
চুল ধরে হালকা টানার সাথে সাথেই মুখটা ঘুরে আসল, চোখ দুটো আধবোজা, নিস্প্রাণ! আর! আর! গলাটা একেবারেই দুফাক করে ফেলা!!তাহলে অফিস থেকে ফেরার পর থেকে এতোক্ষণ ধরে যা যা ঘটল? যে তার পোষাক খুলে দিল, চাউনিতে উষ্ণ আমন্ত্রণ কার ছিল তবে?
গলার নিচে কি যেন একটা দলা পাকিয়ে উঠছে। আর কিছু ভাবতে পারলেন না।
লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসলেন ওয়াশরুম থেকে। গলা ফেটে চিৎকার করে উঠে ওয়াশরুমের সামনেই উপুর হয়ে পড়ে গেলেন তিনি! আর নড়াচড়ার শক্তিও পেলেন না।
শুধু শুনতে পেলেন কে বা কারা তার বাসার ভিতরে ঢুকছে, পুলিশ কি? নাকি প্রতিবেশিরা? তার প্রথম চিৎকার শুনেই চলে এসেছে দেখার জন্য? ভিতরে ঢুকল কি করে?তখুনি মনে পড়ে গেল, অফিস থেকে ফিরে বাসায় ঢোকার সময় ঐ হাসিমুখের খপ্পরে পরে তো আর মেইন দরজা লাগানোই হয় নি!
আর ভাবতে পারলেন না কিছু, অতিরিক্ত আতঙ্ক, আর ভয়ের চাপে অজ্ঞান হয়ে নিকষ কালো অন্ধকারে হারিয়ে গেল সায়মন সাহেবের চিন্তাক্ষমতাটুকুও…..
এ ঘটনার ব্যাখ্যা কি হতে পারে??
আমার প্রথম নিবেদন তুলটে আসার পর। খুব নবীন আমি, মাত্র এক দিন বয়স এখানে। আপনাদের ভালবাসা কাম্য।
4 Comments
Friends
Farhana whab promi
@farhana
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
মো: মাসুম মিয়া
@mashum007



সুন্দর লেখা। অভিনন্দন।