Profile Photo

হাবিবুল্লাহOffline

  • Habibulla
  • Profile picture of হাবিবুল্লাহ

    হাবিবুল্লাহ

    4 years, 8 months ago

    সেদিন স্বাক্ষী ছিল বৃষ্টি !
    “তাড়াতাড়ি ভাত দাও তো! আজ মাঠে অনেক কাজ করতে হবে”- হাত-মুখ মুছতে মুছতে বলল বাদল।
    “তুমি টেবিলে গিয়ে বস, আমি এখনই ভাত বেড়ে দিচ্ছি” বলল তার স্ত্রী নাজমা।
    বাদল আর নাজমার সংসার প্রায় দুই বৎসর হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের মুহব্বতে কোন ভাটা পড়েনি। আজকের যুগে স্বামী স্ত্রীর এমন বন্ধন প্রায় দেখাই যায় না। তাই তো তাদের দুজনের ভালোবাসা দেখে গ্রামের অনেকেই ঈর্ষা করে। কিন্তু কথায় আছে না- ‘এই দুনিয়ায় কেউ চিরসুখী হতে পারে না, কোন না কোন দিক দিয়ে অপূর্ণ থেকেই যায়’। তেমনি একটি দুঃখ তাদের রয়েই গেছে। এখনও তারা সন্তানের মুখ দেখতে পারেনি। চেষ্টাও কম করা হয়নি। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা না থাকলে চেষ্টায় কি আর সব হয়? তারপরও তারা বেশ সুখেই আছে।
    বাদল লেখাপড়ায় মন বসাতে পারেনি। তাই সে ছোট থেকেই বাবার গৃহস্থের কাজ কর্ম দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছে। পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণও বেশ ভালই। তাই গৃহস্থ করেও বেশ সুখেই দিনগুলো পার হয়ে যাচ্ছে।
    গত পাঁচ-সাতদিন যাবত বৃষ্টির দেখা নেই। তাই আজ সবগুলো ফসলের জমিতে পানি দিতে হবে। তাই সে আজ খুব সকাল সকাল খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ার জন্যই স্ত্রীকে তাড়া দিচ্ছে।
    বাদল হাত-মুখ মুছে টেবিলে বসতেই তার স্ত্রী ভাত ও তরকারির ডিস নিয়ে, প্লেটে ভাত ও তরকারি উঠিয়ে দিচ্ছে। বাদল ভাত খাওয়া আরম্ভ করতেই দেখাগেলো রোদ কেমন ফিকে হয়ে আসছে। তারপর দেখতে দেখতে ঝকঝকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ক্রমেই চারদিকে অন্ধকার নেমে এলো। বাদলের খাবার শেষ হতে না হতেই ঝুম ঝুম করে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। এই দৃশ্য দেখে বাদল প্রশান্ত মনে বলে উঠলো- ভালোই হলো! অনেক খাটুনি থেকে রেহাই পেয়ে গেলাম। চেয়ারটা দরজার কাছে এনে সে বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগলো। তার স্ত্রী হাত-মুখ ধুয়ে তার পাশে এসে বসল।
    বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাদল আনমনা হয়ে গেলো, যেন গভীর চিন্তায় নিমগ্ন। এই বৃষ্টি শুরু হলে মানুষের মনে কত ভাবনারই না উদয় হয়! সেও হারিয়ে গেলো ছোটবেলার হাজারও স্মৃতির পাতায়। হাঠাৎ কি এক কথা মনে করে মনের অজান্তেই হো হো করে হেসে উঠলো। নাজমা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। বাদলের হাসিতে তার তন্দ্রা ভেঙে গেলো।
    : “এভাবে হেসে উঠলে কেন?”
    : “ইয়ে মানে, এমনিতেই”- এই বলে বাদল কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা করছে।
    নাজমা আরও সন্দিহায় হয়ে উঠলো, সে ভাবলো হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পাড়ায় তার চেহারা বিকৃত হয়ে পড়েছিল অথবা কাপড় চোপড় হয়তো অসাবধান হয়ে পড়েছিল, আর তা দেখেই বোধহয় বাদল হেসে উঠেছে। তাই নাজমা তাকে আরও ভালো করে জেরা শরু করলো।
    “কি এমন হয়েছে যে, এত শব্দ করে হেসে উঠলে, এমনিতেই কি মানুষ হাসে? আমাকে বলো না প্লিজ…
    কিন্তু বাদলের কোন উত্তর নেই।
    “এই তুমি এখনো চুপ করে আছো কেন? হ্যা! কি হয়েছে..
    বাদল আর চুপ থাকতে পারলো না। সে আর বলো না, এই বৃষ্টি দেখতে দেখতে অতীতের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো।
    কি ঘটনা? বলো তো একটু শুনি: অনুনয় ঝড়ে পড়লো নাজমার গলায়।
    বুঝতেই তো পারছো, ঘটনাটা বলতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু যেহেতু তুমি খুব করে বায়না করছো তাই বলছি। তবে সাবধান! এই কথা আর কারো সাথে শেয়ার করবে না, বলে দিলাম।
    … সম্পূর্ণ গল্পটি এই লিংক থেকে পড়তে পারবেন… https://cutt.ly/REWbuPB

    12
    15 Comments

Friends

Skip to toolbar