-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ৭
আল্লাহ্ তায়ালা এই মুহূর্তে তার কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে।
হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে এই আসায় বুক বেঁধে রয়েছে।কিছু কিছু সময় কষ্টগুলো সহ্যের সীমা অতিক্রম করে কিন্তু তা কাউকে দেখানো যায় না।
সুমনার হয়েছে সে অবস্থা।
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তা সহ্য করতে পারছে না আবার এই সংসার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে হোক বা চাঁদনী বানুর কথা ভেবেই হোক তাকে মুখ বুজে সব সহ্য করতে হচ্ছে।
মুখে সব সময় একটা মিথ্যা হাঁসি ঝুলিয়ে শ্বাশুড়িকে বোঝাতে হয় সে কতটা সুখী।
অন্যদিকে ভিতরে স্বামীর বিরহের দহনে বুকের মধ্যে ছারখার হয়ে যাচ্ছে।
একজন স্ত্রী কখনো স্বামীর সাথে অন্য মেয়েকে সহ্য করতে পারে না।
সেখানে তার স্বামী দিনের পর দিন সতীনের কাছে যাচ্ছেন সুমনা সেই কথা জেনেও সহ্য করছেন।
কতটা মনের শক্তি হলে এই সব অনাচার সহ্য করার ক্ষমতা রাখে।
এক বাড়িতে থেকে যখন সকালে বড় জা এবং ভাসুর এর খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখে ।
তখন কষ্টগুলো বেশি মাথা চাড়া দেয়।
তারও তো এমন খুনসুটিতে দিন কাটানোর কথা ছিল।
কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল।
তবে সুমনা তার স্বামী শাহেদকে দোষ দিতেও পারছে না।
লোকটার মাথা ঠিক নেয় কি থেকে কি করছে তার ঠিক নেয়।
তাইতো প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় স্বামীর জন্য বদদোয়া না দিয়ে তার হেদায়েত এর জন্য দোয়া করেন।
এভাবে চলছে দিনের পর দিন,
কেটে যায় কয়েকমাস।
এরমধ্যে
হঠাৎ একদিন চাঁদনী বানু লক্ষ্য করেন ছেলের পরিবর্তন।
কারণ তার ছেলে আজকাল বাড়ি থেকে দূরে দূরে থাকছে।
তার ছেলে তো এমন ছিল না।
তাছাড়া আজকাল বেশ রাত করে ঘরে ফিরে শাহেদ।
চাঁদনী বানু ছেলের এমন পরিবর্তন দেখে মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে।
এই পরিবর্তন তো আর একদিন বা দুইদিন এ হয়নি।
নিশ্চয় অনেক দিন হয়ে গেছে।
ছেলের পরিবর্তন সম্পর্কে কেন তিনি আগে অবগত থাকলেন না?
সেজন্য নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে।
তার আরও আগে এদিকে নজর দেওয়া দরকার ছিল।
তবে এভাবে তো চলতে পারে না।
কথাটা ভেবে চাঁদনী বানু আজকে অপেক্ষা করছেন ছেলে ঘরে ফেরার।
কারণ ইদানিং তিনি ঘুমানোর পর শাহেদ ঘরে আসেন।
যেখানে তার ছেলে আগে সব সময় রাতে মায়ের খোঁজ খবর না নিয়ে ঘুমাতেন না।
এখন সেই ছেলে কিনা রাতে এসে মায়ের সাথে দেখা করছে না।
আদৌও তার ছেলেটা ঠিক আছে তো?
চাঁদনী বানু রাতে সব সময় ছেলেদের জন্য অপেক্ষা করতেন।
কিন্তু সাইদুর মারা যাওয়ার পর থেকে শরীর ভালো যাচ্ছিল না।
সেজন্য শাহেদ বেপারি তার মা’কে ভাইয়ের সাথে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়তে বলেছিলেন।
তাছাড়া শাহেদ শহরের ঘন ঘন যাওয়া আসা করতেন।
সেজন্য
শাহেদ এর বাড়িতে আসতে দেরি হয় সেজন্য রাশেদ তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে রাতের খাবার খান।
চাঁদনী বানু পরে খাবে বললেও কাজ হয় না।
আজকে শাহেদ শহরে যায়নি ওকে তো বাড়িতে ফিরতে হবে ।
তাই চাঁদনী বানু চালাকি করে ,আজকে বড় ছেলের বৌকে বলেছেন রাতে সে খাবে না।
সে এখন ঘুমাতে যাচ্ছে তাকে যেন রাতে আর ডাকা না হয়।
কারণ চাঁদনী বানু যানে রাশেদ যদি যানে তার মা ঘুমিয়ে গেছে তাহলে সে বিরক্ত করবে না।
চাঁদনী বানু চুপচাপ শুয়ে রয়েছে।
রাশেদ বাড়িতে এসে বৌয়ের কাছ থেকে ঘরে মায়ের খোঁজ খবর নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লেন।
অন্যদিকে
চাঁদনী বানু চোখ বুজে তসবিহ পড়ছেন আর ছোট ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন।
এদিকে
সুমনা ভেবেছিল তার শ্বাশুড়ি ঘুমিয়ে গেছে সেজন্য নিশ্চিন্তে শাহেদ বেপারির জন্য অপেক্ষা করছিল।
রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বা একটা হবে।
সবার এক ঘুম হয়ে গেছে শুধু সুমনা ছাড়া।
তবে সুমনা তো জানে না আজকে তার সঙ্গী হিসেবে শ্বাশুড়ি মাও জেগে রয়েছেন।
সুমনা তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে আর ঠোঙা তৈরি করছিল।
দোকানের মালপত্র দেওয়ার জন্য বাশ কাগজ ও আটা দিয়ে আঠা বানিয়ে ঠৌঙা তৈরি করছেন।
অবশ্য এর মাঝে তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়ে নিয়েছেন।
সুমনা একমনে ঠোঙা তৈরি করছিল সে সময় হঠাৎ দরজায় টোকার আওয়াজ শুনে!সুমনা তড়িগড়ি করে হাতে থাকা কাগজগুলো সরিয়ে দরজার কাছে গিয়ে আস্তে করে বললো,কে?
এই সময়ে কে আসে তা জানো না?
দরজা খোল বদমাইশ মহিলা।
শাহেদ বেপারি রেগে যায় সুমনা কে জিজ্ঞেস করাতে।
সুমনা শাহেদ বেপারির রাগী কন্ঠ শুনে বুঝতে বাকি থাকে না তার স্বামী এসেছেন।
সুমনা তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলে দেয়।
শাহেদ বেপারি হেলেদুলে ঘরের মধ্যে ঢুকে সুমনা কে ধমক দিতে নেয়।
এরমধ্যে পিছনে চাঁদনী বানুকে দেখে চমকে যায়!
মা’কে দেখে শাহেদ বেপারি মুখে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।
চাঁদনী বানু ছেলের দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেলেন।
বৌমা ওকে তোমাদের ঘরে নিয়ে যাও
আর আমার কাছে বিষয়টি গোপন করে তুমি ভালো করনি।
অন্যায় করা যেমন অপরাধ অন্যায় সহ্য করাও তেমন অপরাধ।
আগের নিজের গোয়ালের গরু ঠিক করি।
তারপর তোমাকে দেখছি।
আর কালকে সকালে ওর নেশা কাটলে কথা বলবো তার আগে না।
নিজের ঘরে যাওয়ার আগে চাঁদনী বানু সুমনা কে কথাগুলো বলতে ভুললেন না,
এদিকে
সুমনা তার শ্বাশুড়ির কথা শুনে ভয়ে জমে গেছে।
কি হবে সকালে তা ভেবে অস্থির হয়ে গেছে।
শাহেদ বেপারি সুমনাকে থাপ্পর দিয়ে রাগে হিসহিসিয়ে বলে, সকাল হতে দে।
তারপর তোর ব্যাবস্থা করছি।#চলবে।
বিঃদ্রঃঃ লেখার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
লেখাটা ভালো লাগলে আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাবেন।
পরের পর্ব আমি সুস্থ থাকলে আগামী কাল রাতে পাবেন ইনশাআল্লাহ।আগের পর্বের লিংক
https://www.facebook.com/groups/371586494563129/permalink/396615475393564/
5 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian



সীমার জন্য অসীম শুভ কামনা।