-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১২সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বলে উঠল, তোর কোলে থাকা পুতুলটার বাবা কিন্তু আমার হওয়ার কথা ছিল?
নাওজুবিল্লাহ্ , কি সব কথাবার্তা ছিঃ।
লোকটার কথা শুনে বিরবির করে বলছিলাম এরমধ্যে সামনে থাকা লোকটা আবারও আমাকে বললেন,এই বিলাই কথা বলছিস না কেন?
চোখে দেখিস না ?নাকি ইচ্ছে করে না দেখার ভান করছিস?
যাতে আমার সাথে কথা বলতে না হয়?আমি লোকটার কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে বললাম,আসসালামু আলাইকুম মামা।
আপনাকে না চেনার কি আছে!
আর দয়াকরে আমাকে বিলাই বলবেন না।
আমি মানুষ কোন জীবজন্তু না।
তা মামা আপনি কেমন আছেন?
আমার মুখে মামা ডাক শুনে লোকটা বিরক্ত হয়ে বলেন,তুই আর শুধরালী না বিলাই!
আমি তোর কোন জন্মের মামা হয়?মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে লোকটার মুখে বিলাই শুনে।
আরে বাবা আমি মাছের মাথা খেতে পছন্দ করি দেখে আমাকে বিলাই বলতে হবে তার কোন মানে রয়েছে।
সেই ছোট থেকেই এই লোকটা আমাকে বিলাই বলে ক্ষ্যাপায় দূর ভালো লাগে না।
ও বারবার লোকটা বলছি কেন তার তো একটা নাম আছে।
তার নাম হচ্ছে , সোহেল সর্দার।
এই এলাকার নামকরা সর্দার বাড়ির সোহেল সর্দার হচ্ছে মেঝো ছেলে।
তার বড় ভাই লিটন সর্দার যাকে সবাই একনামে চিনেন।
আর চিনবে না কেন!
এলাকার মস্তান বলে কথা।
তবে সোহেল সর্দার তার ভাইয়ের মত মস্তান নয়।
তারা তিন ভাই এক বোন।
তার ছোট বোন আমার দুই বছরের ছোট।
আমার ১৯৮৮ তে জন্ম তার বোনের ১৯৯০ সালে।
তার বোন আমার সমবয়সী হওয়াতে আমাদের মধ্যে বান্ধবীর মতো সম্পর্ক ছিল।
সোহেল সর্দার হচ্ছে আমাদের আগের বাসার বাড়ি ওয়ালার ছেলে।
তাদের বাড়িতে আমরা চৌদ্দ বছর ভাড়া ছিলাম।
সেই সুত্রে তার এবং তার পরিবারের সম্পর্কে সবকিছু জানা।
তাছাড়া তাদের বাসা ছেড়ে এলেও তাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে ।
তাইতো আমরা অন্য বাসায় ভাড়া থাকলেও প্রতিদিন একবার হলেও সোহেল বা তার পরিবার আমার মায়ের সাথে দেখা করতে আসেন।
আমার পরিবার এখন যেখানে ভাড়া থাকেন সেখানে থেকে তাদের বাড়ির দুরত্ব তিন চার বাড়ি হবে ।
সোহেল এর গায়ের রং দেখতে হলদে ফর্সা ,যাকে বলে পাকা সুন্দর।
লম্বায় ৫”৯’ ইঞ্চি খাড়া নাক বড় বড় চোখ সিল্কি চুল।
সব দিক থেকেই ভালো।
যে কোন মেয়ের হৃদয় হনন করার ক্ষমতা রাখেন এই লোক।
তার সম্পর্কে এতো কথা বলার একটাই কারণ তা হচ্ছে তিনি আমাকে চার বছর ধরে ভালোবাসেন।
কিন্তু আমার মনে তার জন্য কোন অনুভূতি নেয়।
আচ্ছা অনূভুতি নেই না কখনো অনূভুতি সৃষ্টি হতেই দেয়নি?
আমার হৃদয় হনন করার কম চেষ্টা তো সে করেনি তবে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
বা বলতে হয় আমি তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছি।
আমি যখন কথাগুলো ভাবছি সে সময়ে সোহেল বলে উঠলেন,
তুই জানিস না আমি কেমন আছি?তার কথা শুনে আমি বললাম, আশ্চর্য আপনি কেমন আছেন তা আমি জানবো কেমনে?
আমার কথা শুনে সে ক্ষেপে বললেন, তোকে ছাড়া আমি ভালো নেয় ,তা জানবি কেন?
তুই তো একটা পাষাণ মহিলা।
আমার কষ্ট,ব্যথা শূন্যতা তোর চোখে আগেই কখন পড়েনি এখন তো আরও পড়বে না।
তার উল্টাপাল্টা কথা শুনে মেজাজ খারাপ হচ্ছে কিন্তু কিছু বলতেও পারছি না।
খুশি মনে মা বাবার কাছে এসেছি একদিন থাকবো বলে এই লোকের সাথে দেখা হওয়ার কী খুব দরকার ছিল ?
আমি যখন এই কথাটা ভাবছিলাম এরমধ্যে সোহেল সর্দার বললেন,
আজৌও এই হৃদয়ের একমাত্র শূন্যতা তুই।
শত চেষ্টা করেও তোকে ভুলতে পারছি না।
জানরে আমার কাছে ফিরে আয় না।
তোকে কখনো অযত্ন করবো না ,জান।
আমার হৃদয় দিয়ে তোকে আগলে রাখবো আজীবন ভর।
তোর কোলে থাকা পুতুলটার বাবা হতেও আমার আপত্তি নেয়।
আমার শুধু তোকে চাই
ফিরে আয় না সোনা।সোহেল সর্দার এর কথা শুনে রেগে বললাম,ছিঃ ছিঃ আপনি কি যা তা বলছেন!
একবার তা ভেবে দেখেছেন।
আমাকে পরকিয়া করতে বলছেন?
আপনার এতো নিচু মন মানসিকতা হয় কি করে!
এই আপনার ভালোবাসা?
তাছাড়া আপনি এসব ভাবলেন কোন সাহসে?
কান খুলে শুনুন,এই আমি মরে গেলেও আপনার কাছে যাবো না।
কখনোই না
কথাটা মনে রাখবেন।
আমার কথা শুনে তিনি বলেন,শুন ছিঃ ছিঃ করার মত আমি তো কিছু বলিনি।
যে তোকে ছিঃ বলতে হবে।
ভালোবাসার মানুষটিকে আপন করতে চাওয়া অপরাধ ?
আর আমিও না, কাকে ভালোবাসার কথা বলছি!
তুই তো একটা পাষাণ আমার ভালোবাসা,এই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ,কষ্ট কখনো বুঝিস নি।
চার বছর তোর পিছনে কুকুরের মত ঘুরে তোর হৃদয়কে জয় করতে পারিনি।
আর পারবো কিভাবে তোর বুকের ভিতরে তো হৃদয় নামক বস্তুটা নেয়।
সেখানে পাথর দিয়ে ঘেরা রয়েছে।
আমি তো ভুলেই গেছি যে পাথরের দয়া মায়া ভালোবাসা থাকে না।
তার কথা শুনে ক্ষেপে বললাম,পথ থেকে সরে দাঁড়ান আমি বাসায় যাব।
আপনার উল্টাপাল্টা কথা শুনার আমার ইচ্ছে নেই।
আমার কথা শুনে সে বলে উঠলো, পালিয়ে যাচ্ছিস?
যা যা তুই সেটাই ভালো পারিস।
আরে তুই তো সেই মেয়ে যে আমাকে ভালোবাসতে হবে সে ভয়ে পালিয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়েছিলি।
আপনি উল্টাপাল্টা কথা বললেই তো হবে না। কথাটা বলে মনে মনে ভাবছি, আজকে এখানে আসায় ভুল হয়েছে।এদিকে আমার কথা শুনে সোহেল বললেন, আচ্ছা সীমা বলতে পারিস আমার অপরাধটা কী?
কেন তুই আমাকে ভালোবাসতে পারলি না?
আমার মধ্যে এমন কি নেয় যার জন্য আমার ভালোবাসা বারবার ফিরিয়ে দিয়েছিস।সোহেল সর্দার এর কথা শুনে বললাম,দেখুন আপনাকে আমি কখনো সে নজরে কখনো দেখিনি।
আর আমার কাছে ভালোবাসাটা নাটক সিনেমায় দেখতে ভালো লাগলেও বাস্তবে তা পছন্দ নয়।
তা ছাড়া ছোট থেকে আমি আপনাকে মামা বলে এসেছি।
শুন তোর ভালোবাসা পছন্দ নয় তা না হয় বুঝলাম।
কিন্তু আমি তো তোকে বিয়েও করতে চেয়েছিলাম।
বিয়ে করতে রাজি তো হলি না বরং আমাকে হুমকি দিলি আমি তোকে জোর করে বিয়ে করলে আত্মহত্যা করবি।
আচ্ছা আমি মানুষটা কি এতোটাই খারাপ?
আমাকে একটু ভালোবাসা যেত না?
তার কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি।
তার কথার কি উত্তর দিব ভেবে পাচ্ছি না।
তাকে কি করে বলবো?
ঢাকার স্থানীয় ছেলে আমার মা বাবার কখনো পছন্দ ছিল না।
আর আমি তো আমার মা বাবার বাধ্য সন্তান।
তাই আমি কি করে তার ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিতে পারি?
কারো চার বছরের ভালোবাসার কথায় মুগ্ধ হয়ে বাবা মায়ের ১৪ বছরের শ্রম ভালোবাসা ভুলে তাদের মনে কষ্ট দিতে পারি না।
আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে সোহেল মামা বললেন, কিরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
আমি তার কথা শুনে,,,,চলবে
9 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


সুন্দর লিখা