Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
    (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
    লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
    পর্বঃ ১৬
    এই লোকের জন্য আমার চরিত্রে কালিমা না লেগে যায় সে চিন্তায় জান যায় যায় অবস্থা।
    ছোট একটা মাথায় এত চিন্তা নিয়ে থাকা যায়!
    কথায় আছে অভাগা যেখানে যায় সেখানে নদীও শুকিয়ে যায়।
    আমার হয়েছে সে অবস্থা।
    গ্রামে এসে যে একই সমস্যায় পড়তে পারি তা কখনো ভাবেনি।
    সব মিলিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে গ্রামে এসে আমি ভুল করলাম না তো?
    গ্রামে এসেছিলাম চোখে যে স্বপ্ন নিয়ে তা পূরণ করতে পারব তো?
    মনে জোর পাচ্ছি না।
    এমনিতেই আমাদের বাড়িতে থাকা মুরব্বিরা পড়াশোনার প্রতি বরাবরই উদাসীন।
    সেজন্য আমার ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তাদের পড়াশোনার মূল্য বুঝানো,
    কিন্তু তা পূরণ করতে পারব বলে মনে হচ্ছে না।
    কারণ আমি যেখানেই যাই না কেন আমার পিছনে ফেউ লেগে যায়।

    আমি একটা কথা ভেবে পাচ্ছি না এদের কি খেয়েদেয়ে আর কোন কাজ নেয়?
    পৃথিবীতে মেয়ের অভাব পড়ছে যে ওদের আমার পিছনে পড়তে হবে!
    এমনিতেই ছোট থেকে বাবা ভাই ছাড়া ছেলে মানুষের প্রতি প্রচন্ড অনিহা ছিল তার একটাই কারণ ছেলেদের মেয়েদের শরীরের প্রতি অতি উৎসাহী আচরণ।
    একটা মেয়েকে কতবার কতভাবে বাজে নজরের সম্মুখীন হতে হয় তা একজন মেয়ে হয়ে জন্ম না নিলে কখনো জানতাম না।
    আমার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টি যেমন অসংখ্য ছিল , কিছু কিছু ছিল লোভাতুর দৃষ্টি।
    লোভাতুর দৃষ্টিগুলো দেখলে মনে হত ফর্সা হওয়াটা অপরাধ।
    কিন্তু দিন যেতে থাকে আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি তখন বুঝতে পারি কিছু মানুষ রূপি জানোয়ারের জন্য কত ছোট বড় মেয়ে অকালে ঝরে গেছে।
    সবাই কি সুন্দর ছিল?
    সে সময়ে আমার মনে হতো সুন্দর হওয়ার থেকে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটা অপরাধ।
    কারণ যাদের দৃষ্টি খারাপ তাদের কাছে, ফর্সা, সুন্দর, ছোট,বড় বৃদ্ধা,শিশু হোক বা পরিনিত বয়সের তা দিয়ে কিছু আসে যায় না।
    তাদের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে কারোই নিস্তার নেই।
    কিন্তু আস্তে আস্তে সময়ের ব্যাবধানে বুঝতে পারি মেয়ে হওয়াটা অপরাধ নয় বরং সম্মানের।

    কেটে গেছে কয়েকদিন,
    প্রতিদিন রিয়ার সাথে স্কুলে গেলেও আসতে হতো আমাকে একাই।
    কারণ আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি ও ৭ম শ্রেণীতে।
    রিয়া আমার বড় হলেও পড়াশোনার গ্যাপ পরায় ৭ম শ্রেণীতে রয়েছে।
    বড় আপা মানে রিয়ার বড় বোন ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
    এরপর দুই তিন বছরের মধ্যে স্কুলের মুখ তার দেখা হয়নি।
    যখন তার নবম শ্রেণীতে উঠার বয়স সে সময়ে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়।
    মেঝো আপা মানে রিয়ার মেঝো বোন পড়াশোনা গ্যাপ না পড়লেও তাকেও নবম শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    এমনকি রিয়ার এখনও বিয়ের প্রস্তাব এলেও তাকে বিয়ে দেওয়া হবে এটাই বাস্তব।
    আমাদের বাড়িতে মেয়েদের চৌদ্দ পনের বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেই।
    যদিও রিয়া দেখতে সুন্দর, লম্বা তবুও বড় চাচার মন মত তার মেয়ের বিয়ের ‌প্রস্তাব আসছে না।
    বড় ও মেঝো আপা অনেক বড় এবং ভালো জায়গায় বিয়ে হয়েছে।
    শ্বশুর বাড়িতে সুখে শান্তিতে রয়েছে।
    রিয়ার জন্যেও এমন পাত্র চাচ্ছেন চাচা।
    সেজন্য এখনো বিয়ে হয়নি।
    প্রথমেই বলেছি আমার পরিবারের মুরব্বিরা পড়াশোনা ব্যাপারে উদাসীন।
    এই বাড়ির ছেলেদের মধ্যে কেউ কেউ ইচ্ছে করে পড়াশোনা করেনি আবার কোনো ছেলেকে বাবার সাথে সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছে।
    এসব দেখে আমার খুব ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করার।
    আর আমার মা বাবাও হয়তো কিছুটা ইচ্ছে ছিল পড়ানোর।
    নাহলে আমার বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু তো করেছিল আর আগে থেকেই।
    ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকাকালীন একসাথে সাত জায়গা থেকে প্রস্তাব আসে।
    তখন বিয়ে সংসার মানে না বুঝলেও আমার বিয়ের নিয়ে আলোচনা করতে দেখতাম।
    গ্রামে এলে মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে সেজন্য বাবা মা আমাকে দুই বছর গ্রামে নিয়ে আসেননি।
    কারণ সেবার তো গ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এক বুড়ো দাদু আমাদের বাসে উঠে বাবার কাছে কাকুতি মিনতি করছিল যাতে বাবা তার নাতির সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়।
    সেদিন লোকটার কথা শুনে রাগে মনে চাচ্ছিল বাসে থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।
    কিন্তু আমাকে তেমন কিছু করতে হয়নি।
    কারণ বাবা রেগে লোকটাকে ধমকে বলেছিলেন,এই মিয়া কি পাইছেন হ্যাঁ?
    আমার মেয়ে কি ফেলনা যে রাস্তা খাটে বিয়ের আলাপ করতে হবে।
    তাছাড়া আপনাকে তো আগে বলেছি আমার মেয়েকে দেখতে লম্বা দেখালেও তার বয়স মাত্র ১২ বছর।
    এই বয়সে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো না।
    বাবা কথাগুলো কড়া সুরে বলাতে লোকটা মন খারাপ করে চলে যায়।
    সেদিন বাবার কথা শুনে মন আনন্দে ভরে উঠেছিল।
    তারপর থেকে এই পর্যন্ত ঢাকা থেকে এবং দেশে থেকে আসা অনেক বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
    সেজন্যই বিয়ে নিয়ে আমার চিন্তা নেই বাবা মা নিশ্চয় আমাকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিবেন না।
    কথাগুলো ভেবে মনে মনে শান্তি পাচ্ছিলাম।
    তবে ভাগ্যে হয়তো অন্য কিছু ছিল।

    এরমধ্যে একদিন স্কুল শেষে বাসায় আসতে নিলে পাশের গ্রামের চেয়ারম্যান এর ছোট ভাই জাভেদ আমার হাত টেনে ধরেন।
    আমি ভয় পেয়ে কাঁপতে থাকি।
    কারণ এই জাভেদ নামের লোকটা আমার হাত ধরেছে কেউ দেখলে আমার বাবা চাচার সম্মান মাটিতে মিশে যাবে।
    তাছাড়া আমার চরিত্রে দাগ লাগবে তা ভিন্ন কথা।
    কিন্তু এই লোকের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এতে তার কিছু যাবে আসবে না।
    লোকটি মুচকি হেসে বললো, আমার ভালোবাসা মেনে নেও তোমার হাত ছেড়ে দিব।
    এই জাভেদ যাকে একবার চায় তাকে হাসিল করেই ছাড়ে বুঝলে?
    জাভেদ নামের লোকটা দুই মাস হচ্ছে আমার আসে পাশে ঘুরঘুর করছে।
    এরমধ্যে নিজের এবং তার ভাইয়ের পরিচয় ক্ষমতা বলে আমাকে রাজি করাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
    লোকটা অনেক লম্বা হওয়ার কারণে তাকে দেখলেই আমার ভয় লাগে
    এরমধ্যে আজকে মনে হয় আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন।
    কিন্তু তার আশা পূরণ হতে কখনো দিব না।
    তার বকবক শুনে বিরক্ত হয়ে নিজের হাত ছাড়াতে ধস্তাধস্তি শুরু করেছি।
    তবুও লোকটা আমার হাত ছাড়ছে না,
    হাত ছাড়াতে এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দেই।
    সেদিনের পর থেকে আমি ভয়ে ভয়ে থাকতাম।
    একা স্কুল এ যেতাম না।
    মন খারাপ করে থাকতাম।
    তা দেখে বড় চাচা বাজারে থেকে ফোন করে বাবাকে জানান,
    বাবা এসব শুনে দুই দিনের মধ্যে বাড়িতে আসেন। বাবা এসে আমাকে তার সাথে ঢাকা নিয়ে যান।
    কারণ আমাকে ছেড়ে তাদের থাকতেও কষ্ট হচ্ছিল।
    তবে তারা সোহেলদের বাড়িতে থাকা কালীন সময়ে আমি ঢাকা আসতে পারব না।
    সেজন্য বাবা ওদের বাসা ছেড়ে নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছেন
    এবং আমাকে নিয়ে আসেন।
    নতুন বাসায় এসে মনে মনে খুশি হয় যাক এবার বোধহয় সোহেল মামা ও জাভেদ থেকে বাঁচতে পরব।
    কিন্তু আমার আসায় শেখরে বালি।
    ঢাকা এসেছি দুই তিন দিন হয়েছে ,
    আমি টিভি দেখছিলাম সেজন্য মা আমাকে বাসায় রেখে পাশের বাসার আন্টির সাথে কথা বলতে গেছেন।
    যেহেতু কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে সেজন্য দরজা বন্ধ করে যায়নি।
    আমি সেদিকে খেয়াল করিনি কারণ আমি টিভি দেখতে ব্যস্ত ছিলাম।
    এরমধ্যে হঠাৎ করে পিছনে থেকে কে যেন আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
    আমি চিৎকার করতে যাব জড়িয়ে ধরা লোকটা এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে বললেন,এই বিলাই চুপ!
    তুই কি ভেবেছিল আমাকে ফাঁকি দিয়ে আমার কাছে থেকে বেঁচে যাবি তা তো হতে পারে না।
    বিলাই শুনেই আমি জমে গেছি।
    কারণ আমাকে তো একজনই বিলাই ডাকেন সে হচ্ছে সোহেল সর্দার।
    এদিকে সোহেল মামা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তোকে আর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সেই সুযোগে দিবো না।
    এই মুহূর্তে তোকে আমি বিয়ে করবো।
    তুই শুধু আমার।
    আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে বললাম, আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে জড়িয়ে ধরার?
    কারো বাসায় এলে নক করে আসতে হয় তাও জানেন না?
    আপনার আজকের আচরণ প্রমাণ করে আপনি আমাকে না আমার শরীরটাকে ভালোবাসেন।
    আপনাদের মত জঘন্য লোকের ছায়ায় পা মাড়ানো পাপ।
    আমার কথা শুনে,সোহেল মামা হাঁটু গেড়ে বসে আমার হাত ধরে বলেন,সীমা তুই উল্টা পাল্টা এসব কি বলছিস।
    আমার চার বছরের ভালোবাসার গায়ে দাগ লাগাতে তোর বুক কাঁপেনি?
    তার কাছে থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আমি তার কথা শুনে রেগে বললাম,ও আপনি খারাপ আচরণ করতে পারবেন আমি বলতে গেলে দোষ?
    সেদিন মুখে যা আসে তাকে তাই বলেছি।
    এরা আমাকে কি পেয়েছে একজন মাঝ রাস্তায় হাত ধরে ভালোবেসি বলবে অন্য জন একা পেয়ে জড়িয়ে ধরবে ।
    আমি কি কোন পন্য!
    এদের কাছে আমাকে মানুষ মনে হয় না?
    কথাটা ভেবে হাঁসফাঁস অবস্থা আমার।
    সেদিন সোহেল মামা বললেন,তুই এসেছিস সে খবর শুনে ঠিক থাকতে পারিনি জান।
    সেজন্য ভুল করে তোকে জড়িয়ে ধরেছি।
    বিশ্বাস কর আমার ভালোবাসার মধ্যে কোনো খাদ নেই।
    আমি কোন খারাপ চিন্তা করে তোকে ধরিনি।
    তুই দেশে চলে যাওয়াতে আমার হৃদয়ের গহীনে যে দহন শুরু হয়েছে তা তুই কখনো বুঝতে পারবি না।
    আমি রেগে বললাম, আপনার দহন ফহন দিয়ে আমি কি করবো!
    আপনি আমার সামনে থেকে চলে যান ‌
    সোহেল মামা আমার কথা শুনে, বললেন এই মুহূর্তে আমি তোর সামনে থেকে চলে যাচ্ছি কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস এইবার তোকে আমার বৌ করতে কেউ বাঁধা দিতে পারবে না এমনকি তুইও না।
    কথাটা বলে সোহেল মামা চলে যায়।
    আবার নতুন করে শুরু হয় আমার চিন্তা।
    আচ্ছা আমি তো কখনো উশৃঙ্খল ছিলাম না।
    সব সময় ফুল হাতা পোশাক পরিধান করি, মাথায় স্কাব দিয়ে স্কুলে যাওয়ার আসা করতাম।
    কখনো বাহিরে ঘুরতে যাইনি তবু কেন এত মানুষের চোখ পরে আমার প্রতি।
    মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছি বলে কি আমার স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নেই?
    তাছাড়া আমার জানামতে আমি তো কখনো কাউকে প্রশ্রয় দেয়নি তবুও কেন আমাকে এসব সহ্য করতে হচ্ছে।
    আমার স্বপ্ন কি খুব বেশি?
    যে তার পূরণ করতে পারব না।
    যখন ভাবি সব ঠিক হয়ে যাবে তখন কেউ নেই কেউ সামনে এসে আরও বেশি করে সব পেঁচিয়ে দেয়।
    এর শেষ কোথায়?
    মা এসে সোহেল মামাকে আমাদের বাসায় থেকে বের হতে দেখেছেন।
    মা আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন,ও এখানে কি করছিল?
    মায়ের কথা শুনে সেদিন আমার মাথা ঠিক রাখতে পারছিলাম না, রেগে বললাম তোমার মেয়েকে বিয়ে করার হুমকি দিতে এসেছে।
    আমার এসব ভালো লাগে না মা।
    কোথায় গেলে এর থেকে মুক্তি মিলবে বলতে পার?
    মা গো দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে আমার পাগল হতে সময় লাগবে না।
    এরপর
    দেশের বাড়িতে যে জাভেদ নামের লোকটা আমাকে বিরক্ত করছে তার কথাও বললাম।
    আমার কথা শুনে মায়ের চোখে পানি টলটল করছিল।
    মায়ের চোখে সেদিন আমার জন্য হতাশা দেখতে পেয়েছি।
    হতাশ হবেই না কেন ?
    নিজের সম্মান বাঁচাতে দেশে গেলাম সেখানেও একই অবস্থা।
    তাছাড়া মা বাবা তো জানেই না, আমি ঢাকা ছেড়ে দেশে যাওয়াতে কিছু কিছু মানুষ মনে করছে আমি এমন কিছু করেছি যার শাস্তি স্বরূপ দেশে পাঠিয়েছেন।
    মা’কে এসব কথা বলিনি তাহলে সে বেশি কষ্ট পেত।
    আমার জন্য মা কষ্ট পাচ্ছে।
    তা দেখে আমার ভালো লাগছে না।
    মা’কে কষ্ট দেওয়া কথা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।
    কিন্তু এদের জন্য আমার মা কষ্ট পাচ্ছে।

    দেশে এসেছি একমাস হয়ে গেছে, সেদিন মা আমার কথা শুনার সিদ্ধান্ত নেন।
    যত দ্রুত সম্ভব আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার।
    একদিনের মধ্যেই আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
    অবশ্য দেশে পাঠানোর আগে বাবাকে জাভেদ নামের ছেলেটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন।
    বাবা আমাকে দিয়ে যাওয়ার সময় ঐ ছেলের ভাইকে বলে যান তার ভাই আমাকে রাস্তা ঘাটে বিরক্ত করছেন।
    জাভেদ এর ভাই বাবার মুখে তার ভাই কর্মকান্ডের কথা শুনে আমার বাবাকে আশ্বস্ত করেন তার ভাই আমাকে আর বিরক্ত করবেন না।
    বাবা সরল মনে বিশ্বাস করে চলে যায় ঢাকা।

    একমাস ধরে স্কুলে আসা যাওয়া করছি এরমধ্যে লোকটা আর বিরক্ত করেনি।
    আমিও লোকটা কথা ভুলে গেছি।
    ও আরেকটি কথা বাবা এবার আমাকে দিয়ে যাবার সময় একটা টিভি দিয়ে গেছেন যাতে খারাপ লাগলে দেখতে পারি।
    টিভি দেখে রিয়া,বড় চাচা খুব খুশি হয়েছে।
    কারণ আমার জন্য তারাও টিভি দেখতে পারছেন তাই।
    বাবা চলে গেছে এক মাস হয়েছে।
    সামনের মাসে আমার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা সেজন্য আমি পড়াশোনা নিয়ে বাস্ত।
    আগেই বলেছি, বেশি খড়ায় আমাদের বাড়ির পুকুর শুকিয়ে যায় ।
    সেজন্য আরেক বাড়িতে গোসল করতে যেতে হয়।
    আমারা যে পুকুরে গোসল করতে যায় সেটা প্রায় আড়াই বিঘা জমির মধ্যে খনন করেছেন।
    পুকুরের দুইদিকে খাট এক ঘাটে ছেলেরা গোসল করে অন্য খাটে মেয়েরা।
    গোসলের পর মেয়েদের জামা কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে।
    আমি আর রিয়া সেদিন গোসল করতে য়ায়।
    গোসল করে আসার সময়ে জাবেদ আমার সামনে এসে দাঁড়ান।
    আমি তাকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে তিনি
    আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ফুল দিয়ে ভালোবাসি বলেন।
    আমি কিছু না বলে চলে আসতে নিলে বলেন, তুমি কি ভেবেছ!
    চুপ করে থাকলে আমি সরে যাব?
    কখনোই না তোমাকে আমার করেই ছাড়বো পরি।
    জাভেদ এর কথা শুনে রিয়া বলে,শুনুন ভাইয়া আপনি আর আমার বোনকে বিরক্ত করবেন না।
    আমাদের শ্রাবণ ভাই যদি জানতে পারে না?
    তাহলে আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন না।
    সেদিন রিয়ার কথা শুনে জাভেদ বলেন ,তা এই শ্রাবণ ভাইটা কে?
    রিয়া তার কথা শুনে বলেন,শ্রাবণ হচ্ছে ওর ভাই।
    ও আচ্ছা সমস্যা নেই বলে দাও।
    আমিও চাই সবাই জানুক পরিটাকে আমি কত ভালোবাসি।
    সেদিনের পর থেকে আমার একা বের হতে ভয় করতো কারণ লোকটা সব আমাকে ফলো করতেন।
    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কখনো একা ফলো করতেন না সাথে সব সময় সঙ্গপঙ্গ নিয়ে ঘুরতেন।
    মেঝো ভাই মানে রিয়ার মেঝো ভাই জাভেদ কে কয়েকবার থ্রেট দিয়েছে তাতেও কাজ হচ্ছে না।
    দেখতে চলে যায় আরও দুই মাস।
    খালবিল পানিতে টয়টুম্বর নিচু রাস্তায় পানি এসে গেছে।
    আসেপাশে গাছ গাছালি সবুজ রঙ ধারণ করেছে।
    পুকুর খালবিলে সাদা লাল শাপলার মেলা বসেছে।
    চারদিকে কাঁদা মাটির ঘ্রাণ সব মিলিয়ে অপরুপ দৃশ্য।
    এখন আমাদের স্কুলে যেতে হয় নৌকায় করে।
    তবে নৌকায় চড়তে দারুন মজা লাগলে চড়তে পারছি না।
    আমাদের বাড়ির সামনে হাঁটু সমান পানি সেই পানি পার করে নৌকায় উঠতে হয়।
    জাভেদ ওখানে নৌকায় বসে আমার অপেক্ষা করেন।
    আমার সাথে কথা বলার সুযোগ খুজতে প্রতিদিন নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
    আমার জীবনের ( সোহেল ও জাবেদ) দুইজন সাপের মত কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কোথায় গেলে এদের থেকে মুক্তি পাওয়ার যাবে?

    #চলব
    বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
    লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
    গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

    20
    14 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar